আখের রস।
আমার বাংলা ব্লগে,সবাইকে স্বাগতম।
আমি @emon42.
বাংলাদেশ🇧🇩 থেকে
রমজান মাস এর এক সপ্তাহ প্রায় অতিবাহিত হয়ে গেল। তবে রমজান মাস হলেও আমাদের ক্লাস অব্যাহত রয়েছে। কারণ আমাদের সেমিষ্টার চারমাসের। করোনার ঐ ঘাটতি এখনো পূরণ করে যাচ্ছি। তবে রোজা থেকে ক্লাস করতে আমার ভালোই লাগছে। সময় টা বেশ দারুন কেটে যায়। গতকাল কলেজ থেকে এসেছ দেড়টার দিকে। বাড়িতে এসে গোসল করে শুয়ে ছিলাম। এমন সময় আমার বন্ধু লিখন ম্যাসেজ দেয় এবং বলে চল বের হয়। আমি বললাম ঠিক আছে চল। আমরা চার টার দিকে বের হয় যেন ইফতারের আগেই ফিরে আসতে পারি। আমরা সাধারণত গ্রামের দিকটাই বেশি ঘুরতে যায়। এইদিনও তাই গেছিলাম। তবে এইদিন আমাদের অন্য একটা উদ্দেশ্য ছিল। সেটা হলো আখের রস কেনা। অনেকদিন হলো আখের রস খাওয়া হয় না। এই রমজান মাসে সারাদিন রোজা রাখার পর আখের রস বেশ উপকারী একটা জিনিস।।
অনেক টা ঘুরলাম বিভিন্ন গ্রামের মধ্যে দিয়ে। জানি ওদিকে খুব একটা পাওয়া যাবে না। সেজন্য আমি এবং লিখন কুমারখালী বাজারের দিকে চলে আসলাম। কিন্তু কোথাও পাচ্ছিলাম না। পরে লিখন বলল ওর জানা একটা জায়গা আছে। ওখানে আখের রস বিক্রি করে। সেই মতো সেখানে গেলাম। অনেকদিন হলো আখের রস খাই না। শেষ যেবার খেয়েছিলাম তখন দাম ছিল ঐ ৪০ টাকা লিটার বা ১০ টাকা গ্লাস। লিখন প্রথমে যেখানে নিয়ে গেল গিয়ে দাম জিজ্ঞেস করতেই বলে ৭০ টাকা লিটার। কথাটা শুনে একটু কেমন লেগেছিল। ৭০ টাকা লিটার অনেক বেশি চাচ্ছে। লিখন শুনে বলে এখান থেকে নিব না। আরেকটা জায়গা আছে ওখানে গেলে নিশ্চিত পাব। তারপর আবার গন্তব্য শুরু হলো লিখনের পেছনে আমি।
আখ বাংলাদেশের অন্যতম একটা প্রধান ফসল। আখ থেকে গুড়, চিনি তৈরি হয়। আখের ছোবলা থেকে নাকী কাগজও তৈরি হয়। এবং আখ থেকে আরেকটা প্রধান উপাদন তৈরি হয় সেটা হলো অ্যালকোহল। বলে রাখি বাংলাদেশের একমাএ লাইসেন্সপ্রাপ্ত মদ তৈরির কারখানা চুয়াডাঙ্গাতে কেরু এন্ড কোং। এখানে মদ তৈরির প্রধান উপাদন হলো আখ। যাইহোক সেসব বাদ দেয়। সেখানে যেতেই দেখি হ্যা একজন আখের রস বিক্রি করছে। জিজ্ঞেস করলাম কত করে লিটার। উনি বললেন ৫০ টাকা লিটার। অথচ আগের জন চেয়েছিল ৭০ টাকা লিটার। একমাত্র এক কিলোমিটারের ব্যবধান কিন্তু ২০ টাকার পার্থক্য লিটারে। যাইহোক পরে লিখন এক লিটার নিলো আমি আমি এক লিটার নিলাম। আখের রসটা দেখে বেশ ভালো মনে হচ্ছিল। তার উপর লিখন বলল ও নাকী প্রতিনিয়ত এখান থেকে রস খাই।।
যাইহোক ইফতারের পর রসটা ট্রাই করি। অনেকদিন পর এইরকম আখের রস খেলাম। বেশ ভালো ছিল রসটা। বেশ মিষ্টিও ছিল। ছোটবেলা থেকে গ্রামে বড় হয়েছি। আগে আমাদের এলাকায় প্রচুর পরিমাণ আখ চাষ করা হতো। আমার মনে আছে ছোটবেলা বন্ধুদের সঙ্গে মাঠে গিয়ে আখ ভেঙে খেতাম। আবার আখ মাড়াই এর স্থানে গিয়ে রস খেতাম। সেই দিনগুলো হারিয়ে গেছে। এখন আমাদের এলাকায় আর কেউ আখ চাষ করে না। কারণ এক আখ হতে যে সময় নেয় ঐসময়ে তিনটা ফসল চাষ করা যায়। সেজন্য ক্রমেই কমে গেছে আখ চাষ। বাংলাদেশের একটা সম্ভাবনাময় ফসল ছিল আখ। ক্রমেই আখ চাষ কমে যাওয়াই বাংলাদেশের চিনি,গুড় উৎপাদন কমছে। ফলে এগুলোর আমদানি বাড়ছে যার ফলে দামও বাড়ছে। যাইহোক আজ এই পযর্ন্তই। সবাই ভালো থাকবেন।।
------- | ------ |
---|---|
ফটোগ্রাফার | @emon42 |
ডিভাইস | VIVO Y91C |
সময় | মার্চ ,২০২৩ |
সবাইকে ধন্যবাদ💖💖💖।
অনন্ত মহাকালে মোর যাএা অসীম মহাকাশের অন্তে। যারা আমাদের পাশে আছে তারা একটা সময় চলে যাবেই, এটা তাদের দোষ না। আমাদের জীবনে তাদের পার্ট ওইটুকুই। আমাদের প্রকৃত চিরশখা আমরা নিজেই, তাই নিজেই যদি নিজের বন্ধু হতে পারেন, তাহলে দেখবেন জীবন অনেক মধুর।তখন আর একা হয়ে যাওয়ার ভয় থাকবে না।
আখের রস খেতে ভীষণ ভালো লাগে। তবে বাইরে তেমন একটা খাওয়া হয়না। ভাইয়া আপনার লেখা পড়ে আখ সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পারলাম। ধন্যবাদ আপনাকে ভাইয়া।
রোজা রেখে ক্লাস করলে সময়টা খুব দ্রুত কেটে যায়। যাই হোক পড়াশোনার পাশাপাশি রোজাটাও হয়ে যাচ্ছে আর কি। আখের রস যদিও খুব একটা খাওয়া হয়নি। তবে আখের রস দিয়ে তৈরি করা গুড় খেতে অনেক ভালো লাগে। আখের রস শরীরের জন্য সত্যি অনেক উপকারী। ইফতারিতে খেলে সত্যি ভালো হবে।
সেমিষ্টার এখন চার মাসে নিয়ে আসছে 🙄
যাক তাহলে তো তাড়াতাড়ি কোর্স শেষ হবে মনে হচ্ছে।
আখের রস সংগ্রহের ঘটনাটা পড়ে ভালো লাগলো। এটা বাংলাদেশ এখানে সব সম্ভব, কিলোমিটারের ব্যাবধানে দাম কমা বাড়া করে 😄
আর কেরু এন্ড কোং সম্পর্কে তথ্য ভালো ছিল, এটা সত্যিই জানতাম না।
ধন্যবাদ চমৎকার পোস্ট আমাদের সাথে ভাগ করে নেয়ার জন্য।
আখ একটা সময়ে বাংলাদেশের অন্যতম রপ্তানী শিল্প ছিল ৷ কিন্তু অনেকটা কালের ক্রমে পরিবর্তন ৷ আগের মতো তেমন আর হয় না ৷ আখের রস দিয়ে চিনি ,গুড় এছাড়াও বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হয় ৷ যা হোক বন্ধু লিখন সহ ঘুড়তে কুমারখালি বাজারে আখের রস খাওয়ার অনুভুতি টা সত্যি দারুন ছিল ৷
আর শুনে ভাল লাগলো সামনে আপনার সেমিস্টার শুভকামনা রইল ভাই ৷
রোজা রেখে ক্লাস করতে আপনার ভালো লাগছে জেনে খুবই ভালো লাগলো। এক কিলোমিটার এর ব্যবধানে ২০ টাকা কম এক লিটারে জেনে সত্যি একটু অবাক হলাম। এরকম আখের রস খেতে সত্যিই খুব ভালো লাগে। রোজা রেখে এরকম মিষ্টি একগ্লাস আখের রস খেলে প্রাণটা জুড়িয়ে যায়। আখ দিয়ে যে মদ তৈরি করা হয় এটা আমার জানা ছিল না পোষ্টের মাধ্যমে জানলাম। আপনার পোস্টটা পড়ে সত্যিই খুব ভালো লাগলো ধন্যবাদ ভাইয়া এত সুন্দর একটি পোস্ট আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য
ঠিক বলেছেন ভাই আপনি রমজান মাসে ক্লাস করতে বেশ ভালই লাগে। কারণ সময় গুলো খুব সুন্দরভাবে অতিবাহিত হয়। তবে আপনি আজকে আমাদের মাঝে আখের রস শেয়ার করেছেন। আসলে আখের রস খেতে আমি খুব পছন্দ করি। এটা আমাদের শরীরের জন্য বেশ উপকারী। আমি কুষ্টিয়াতে আসার পরেও বেশ কয়েকদিন কিনে খেয়েছি। ধন্যবাদ ভাই এত সুন্দর একটি পোস্ট শেয়ার করার জন্য।
গরম পড়তে না পড়তে ভাই দেখছি জাতীয় পানীয় নিয়ে হাজির হয়ে গেছেন। আমাদের এখানে অনেকেই আছে যারা দোকানে দাঁড়িয়ে আখের রস খেতে পছন্দ করে না। কারণ একই কাঁচের গ্লাসে সবাই মিলে খাওয়া আর কোন রকমে সেই জল দিয়ে গ্লাস গুলোকে ধুয়ে ফেলা বিষয়টা ভীষণ আনহাইজেনিক। সাথে অত মাছি উড়ে বেড়ায়। আমার যদি কখনো আখের রস খেতে ইচ্ছে করে, এভাবেই বোতলে ভরে এনে খাই।অন্তত তুলনামূলক একটু হাইজেনিক খাবার খাওয়া যাবে।আর সত্যি বলতে এই গরমে আখের রস শরীরের পক্ষে ভীষণ ভালো।
ভাইয়া, আমাদের সেমিষ্টার ছয়মাসের কিন্তু আমরাও আপনাদের মতোই চারমাস সময় পাই।যাইহোক গরমের দিনে আখের রস আমাদের তৃপ্তি মেটায়। মদ তৈরির প্রধান উপাদন হলো আখ এটা প্রথম জানলাম।তাছাড়া এই আখের রসের কালারটি এতটা কালচে নীল কেন?ধন্যবাদ ভাইয়া।
রমজান মাসে আখের রস খেতে অনেক বেশি সুস্বাদু লাগে বিশেষ করে অসময়ে যেকোনো ধরনের রেসিপি খেতে খুবই ভালো লাগে। বন্ধুর সঙ্গে ঘোরাঘুরি করতে বের হয়েছিলেন জেনে খুবই ভালো লাগলো আসলে গ্রামের মাঝে ঘোরাঘুরি করতে পছন্দ করে না এরকম মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না। আসলে বর্তমান সময়ে প্রায় সকল জায়গাতেই আখ চাষ অনেকটাই কমে গিয়েছে।
অনেক রোদ উঠলে আখের রস খেতে আমার খুব ভালো লাগে। তবে এখন বাহিরে আখের রস খেতে ইচ্ছে করে না। কারণ অনেকের মুখ থেকেই শুনি তারা নাকি আখের সাথে ভালো পানি ব্যবহার করে না। তবে আখের রস আমাদের শরীরের জন্য খুবই উপকারী। যাইহোক ভালো লাগলো আপনার পোস্টটি পড়ে। শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।