রেসিপিঃ ঝাল ঝাল চিকেন কষা 🥘

in আমার বাংলা ব্লগ6 days ago

হ্যালো",

আমার বাংলা ব্লগ বাসি, সবাই কেমন আছেন? আশা করছি সবাই ভালো আছেন এবং সুস্থ আছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় এবং আল্লাহর রহমতে ভালো আছি। সবার সময় ভালো কাটুক এই কামনাই করছি।

সবাইকে আমার নতুন একটি রেসিপি পোস্টে স্বাগতম। আজ আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করবো ঝাল ঝাল চিকেন কষা রেসিপি। চিকেন আমার বাসার সবার খুব পছন্দের। তবে আমার ছেলে চিকেন খেতে বেশি পছন্দ করে।সত্যি বলতে অনেক দিন পর রান্না করলাম। যেহেতু গ্রামে থাকি তাই মা বেশিরভাগ সময় রান্না করেন। আর যখন একটু স্পেশাল রান্না হয় কিংবা আপনাদের ভাইয়া আমার হাতে রান্না খেতে চায় তখন রান্না করি। বাবু এত পরিমানে বিরক্ত করে রান্না কেন কোন কাজই ঠিক মতো করতে পারিনা।

আমার মা বলছিলেন ঝাল ঝাল করে চিকেন কষা খাবেন। অপরদিকে চাহিদা ছিল আমার ছোট বোন রোস্ট খাবে কিন্তু আমার মা রোস্ট খেতে একদমই পছন্দ করেন না। তাই রমজানে মায়ের ইচ্ছে পূরণ করতে ঝাল ঝাল এই চিকেন কষা বানিয়েছিলাম। আর সেই রেসিপিই আপনাদের সাথে শেয়ার করছি। আশা করছি রেসিপিটি আপনাদের কাছে ভালো লাগবে।

1000038867.jpg

1000015079.png

উপকরণ
চিকেন
পেঁয়াজ কুচি
আদা রসুন বাটা
জিরার গুঁড়া
হলুদ গুঁড়া
মরিচ গুঁড়া
সাদা এলাচ
দারচিনি
তেজপাতা
লবণ
তেল

1000038865.jpg

1000000122.png

ধাপ-১

প্রথমেই সব উপকরণ কেটে ধুয়ে রেডি করে নিয়েছি। এবং রান্নার জন্য চুলাই একটি কড়াই বসিয়েছি এবং কড়াইয়ে দিয়েছি পরিমাণ মতো তেল। তেল গরম হয়ে গেলে ফোড়নে দিয়েছি সাদা এলাচ, দারচিনি এবং তেজপাতা।

1000038864.jpg

ধাপ-২

এবার পেঁয়াজকুচি দিয়ে হালকা বাদামী করে পেঁয়াজগুলো ভেজে নিয়েছি।

1000038863.jpg

ধাপ-৩

এবার একে একে গুঁড়া মশলাগুলো দিয়ে সামান্য একটু পানি দিয়ে মশলাটা ভালোভাবে কিছুক্ষণ কষিয়ে নিয়েছি।

1000038862.jpg

ধাপ-৪

মসলা কষানো হয়ে গেলে উপর দিয়ে তেল ছেড়ে দিলে ধুয়ে রাখা চিকেনগুলো দিয়ে নেড়েচেড়ে মসলার সাথে মিশিয়ে নিয়েছি।

1000038861.jpg

ধাপ-৫

এ পর্যায়ে ঢাকনা দিয়ে ঢেকে মাঝে মাঝে ঢাকনা সরিয়ে নেড়ে চেড়ে বেশ অনেকক্ষণ কষিয়ে রান্না করে নিয়েছি।

1000038860.jpg

ধাপ-৬

বেশ খানিকক্ষণ কষানোর পর পরিমাণ মতো পানি দিয়ে ঢাকনা দিয়ে ঢেকে রান্না করতে হবে।ঝোল যখন একদম গায়ে মাখা হয়ে গেছে তখন আমি রান্নাটি নামিয়ে নিয়েছি।

1000038859.jpg

1000038866.jpg

এই ছিল আমার আজকের রেসিপি। রেসিপিটি আপনাদের কাছে ভালো লাগলে অবশ্যই আপনাদের সুন্দর মতামতের মাধ্যমে জানাবেন। আর রান্নাটি খেতে খুবই মজার হয়েছিল। আমার মা এবং আমার পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা খুবই পছন্দ করেছে এবং খুব মজা করে খেয়েছে। সারাদিন রোজা রাখার পর এমন ঝাল ঝাল চিকেন কষা খেতে বেশ ভালোই লেগেছিল। আপনারাও বানিয়ে ফেলতে পারেন আপনাদের ইফতারে কিংবা সেহরিতে খাওয়ার জন্য। আজ এখানেই বিদায় নিচ্ছি। দেখা হবে পরবর্তীতে নতুন কিছু নিয়ে। সবাই ভালো থাকবেন এবং সুস্থ থাকবেন। ধন্যবাদ সবাইকে।

❤️আমার পরিচয়❤️

আমি হাবিবা সুলতানা হীরা । জাতীয়তাঃ বাংলাদেশী। পেশাঃ গৃহিণী। শখঃ নতুন নতুন রেসিপি বানাতে ভালো লাগে। তাছাড়া গান গাওয়া, আর্ট করা, ফটোগ্রাফি করা ও বাগান করতে আমি বেশ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। আমি স্টিমিটে ২০২০ সালের নভেম্বর মাসে যুক্ত হই।

1000000117.png

1000000119.gif

1000000118.png

Sort:  

Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.

 5 days ago 

ঝাল ঝাল যে কোন কিছু খেতে ভালো লাগে।আপনি চমৎকার সুন্দর ঝাল ঝাল মুরগির মাংস রান্না করেছেন যা খুবই লোভনীয় হয়েছে। ধাপে ধাপে রন্ধন প্রনালী চমৎকার সুন্দর করে আমদের সাথে ভাগ করে নিয়েছেন জন্য ধন্যবাদ আপনাকে।

 5 days ago 

আপনি তো দেখছি আজকে আমার খুব পছন্দের একটা রেসিপি তৈরি করেছেন। এই খাবারটা আমার খেতে অনেক ভালো লাগে। আপনি তো দেখছি অনেক মজাদার ভাবে রেসিপিটা তৈরি করলেন। নিশ্চয়ই অনেক বেশি সুস্বাদু হয়েছিল আর খেতেও খুব ভালো লেগেছিল। আমার তো আপনার তৈরি করা রেসিপিটা দেখে অনেক লোভ লেগেছে।

 5 days ago 

আরে আপনি তো দেখছি আজ আমার ফেভারিট রেসিপিটা তৈরি করলেন। রেসিপিটা দেখে ইচ্ছে করছে এখনই খেয়ে ফেলি। আসলে পছন্দের রেসিপি দেখলে লোভ সামলানো যায় না। এত মজাদার ভাবে রেসিপিটা তৈরি করেছেন দেখেই ভালো লাগছে। যে কেউ কিন্তু সহজে এই রেসিপিটা তৈরি করে নিতে পারবে আপনার উপস্থাপনা দেখে। কারণ তৈরি করার পদ্ধতি আপনি সুন্দর করে শেয়ার করেছেন। দেখে বুঝতে পেরেছি মজা করে খাওয়া হয়েছে এই খাবারটা।

 5 days ago 

আপনি আজকে ঝাল ঝাল চিকেন কষা রেসিপি আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন। আপনার রেসিপিটি দেখে লোভ লাগছে। দেখে মনে হচ্ছে খেতে হবে সুস্বাদু হয়েছে। কালারটাও দারুন এসেছে। এরকম ঝাল ঝাল চিকেন কষা খেতে আমার কাছে খুবই ভালো লাগে। মজাদার একটি রেসিপি শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।

 5 days ago 

এরকম ঝাল ঝাল চিকেন কষা কে না পছন্দ করে!
এরকম চিকেন কষা শুধু শুধু খেতে দারুণ লাগে। কি দেখালেন আপু দেখে তো লোভ সামলাতে পারছি না। দেখে দুর্দান্ত লাগছে। কালার টা তো দারুন এসেছে। রান্না করা সম্পূর্ণ প্রসেস দারুন ভাবে উপস্থাপন করেছেন। দেখেই ভালো লাগলো আপু। চমৎকার রেসিপিটি শেয়ার করে নেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানাই।