আকর্ষিক ম্যাচ পাকিস্তানের বিপক্ষে ভারতের!
হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি। |
---|
Image Created by OpenAI
আজকে আপনাদের সাথে খেলাধুলা বিষয়ে একটি পোস্ট শেয়ার করে নেবো। গতকাল আরো একটা জমজমাট খেলা হলো চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে। ভারত আর পাকিস্তানের এটা মিলিয়ে দুটি ম্যাচ ছিল। এই খেলাটিও দুবাইয়ের সেই একই পিচে খেলা হয়েছে, যেটাতে ভারত আর বাংলাদেশেরও খেলা হয়েছিল। এই পিচটা আসলে একটু জটিল ধরণের পিচ। না এটা বলবো না যে, এটা বোলিং পিচ বা ব্যাটিং পিচ। এটা মূলত কোনো ব্যাটিং বা বোলিং পিচের সমস্যা না। পুরোটাই পিচের স্লোয়ার কন্ডিশন নিয়ে প্রব্লেম। হিসেবে এই পিচে খেলতে গেলে ফায়দা একমাত্র আগে ব্যাটিং করা টিমদের হয়ে থাকে। আর তার জন্য টসে জেতাটা অনেক প্রয়োজন হয়।
কিন্তু ভারত এই দুটি ম্যাচেই একইভাবে টসে হেরে যায়। আর বিপক্ষ টিম ব্যাটিং বেছে নেয়। এখানে পাকিস্তানের সাথে একটাই ভয়ের কারণ ছিল যে, কোনোমতে এই পিচে ২৫০+ রান না করে বসে, কারণ এই পিচে ২৫০ রান করা মানে ৩০০ রানের সমান। আর চেজ করা সত্যি অনেক ডিফিকাল্ট এই পিচে। গতদিনের ম্যাচটি নিয়ে বলেছিলাম যে, আসলে এই পিচে শুরুতে একটু ঠিকঠাক থাকলেও ধীরে ধীরে এতটাই স্লো হয়ে যায় যে, বাউন্ডারি বের করা অনেক কঠিন পর্যায়ে চলে যায়। এই পিচে পাকিস্তানের প্রথম ব্যাটিং পর্যায়ে বিবেচনা করলে দেখবেন প্রথম ১০ ওভারে রান রেট ঠিকঠাক থাকলেও অর্থাৎ ৬ এর মতো ছিল, কিন্তু যখন পরের ১১-২০ ওভারের বিষয়টা দেখা হয়, তখন রান অনেক ধীরে হতে থাকে।
এটা আসলে শুধু এক টিমের ক্ষেত্রে নয়, প্রায় সব টিমের ক্ষেত্রেই এই একই বিষয়টা দেখা যায় এই ধরণের স্লোয়ার পিচগুলোর ক্ষেত্রে। আর এই পিচে সব থেকে বেশি ঝামেলা ব্যাটসম্যানদের করে থাকে স্পিন বল, এটাকে কাট করা অনেক কঠিন হয়ে যায়, যদি না বুঝে কিছু করা হয়। পাকিস্তান মাঝে খারাপ খেললেও কিন্তু লাস্টে ভালোই মারছিলো, ভয় ছিল রান না বেশি করে বসে, তাহলে ভারতের এই পিচে চেজ করা কঠিন হবে। কারণ বাংলাদেশের সাথেও এই সমস্যাটা তৈরি হয়েছিল। ২৩০ এর মধ্যে থাকলেও একটা বিষয়। কিন্তু এই ম্যাচটাতে আসলে শামি অনেক খারাপ বল করে ফেলেছে প্রথম থেকেই, কারণ প্রথম ওভার থেকেই অগণিত ওয়াইড বল করেছে।
যদিও কিছু একটা সমস্যা হচ্ছিলো তার , এইরকমই একটা আভাস পাওয়া গিয়েছিলো। পরে দেখা গেলো ছোট ইনজুরির সমস্যা হয়েছে, ফলে তাকে বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। এখানে আবার একটা সমস্যা ছিল যে, শামির মতো একজন গুড লেন্থ বলার এর ঘাটতি না ভারতীয় টিমের সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যদিও পরে ব্যাক করেছিল। তবে এই ম্যাচে তেমন কিছু না করতে পারলেও কুলদীপ ধরা দিয়েছিলো এইবার। ভারতের আসলে কেউ না কেউ ধরে দেবেই, প্রত্যেকেই যেন একটা চ্যালেঞ্জ নিয়ে খেলা শুরু করে দেয়। তবে খুশদিলকে আউট না করলে রান আরো হয়ে যেত, কারণ ওই একজনই ছিল যে, মারছিলো প্রত্যেক বলে। তবে এইটা ভালো ছিল যে, সঠিক সময়ে কামব্যাক করতে পেরেছিলো, ৫০ ওভারের আগেই তাদের অলআউট করে দিয়েছিলো।
ভারত এই রান চেজে পাকিস্তানের বিপক্ষে এমন ভাবে নেমেছিল যেন, এই রান ২৫ ওভারে শেষ করে দেবে। সত্যি বলতে পাকিস্তানের সাথে খেলা হলে, ভারতীয় টিম আলাদা মেজাজে থাকে, সবাই যেন আগুন্তুক হয়ে ওঠে মাঠে। রোহিত তো এসে মারা শুরু করে দিলো, রোহিত আসলে কোনো ম্যাচে তেমন ডিফেন্স খেলে না, সব বলেই একটা আলাদা ইনটেনশন নিয়ে শর্ট খেলে থাকে। তবে খেলছিল ভালো, কিন্তু আউট হয়ে যায়। গিল আজকেও ভালো খেলছিল, তবে আসলে ওর আউটটা কোনোমতেই মেনে নেওয়া যাচ্ছিলো না যেন, মাত্র ৪ রান বাকি ছিল হাফ সেঞ্চুরি থেকে। ওর আউটটাও ছিল মারাত্মক ডেঞ্জারাস, স্পিন ছিল কি, কেউই বুঝতে পারেনি যে উইকেট হিট করবে। কোহলিও এই মাথায় দাঁড়িয়ে অবাক হয়ে গেলো যে, কি হলো! আসলে আমিও বুঝতে পারেনি, কি হলো। মনে হলো যেন পিছন থেকে স্টাম্পিং করলো।
গিলও বুঝে উঠতে পারেনি ওই বলটা ঘুরে ওইভাবে উইকেটে গিয়ে লাগবে। এমনিতেও আবরার ভালো বল করে দিয়েছে ওদের। ওর ১০ ওভার খেলতেই পারেনি। পাকিস্তানের স্পিনার বেশি ছিল না, এটাই মঙ্গল হয়েছে, স্পিন বেশি থাকলে অন্যরকম বিষয় হয়ে দাঁড়াতো। তবে খেলায় বেশ রোমাঞ্চকর মুহূর্ত ঘটেছে, কোহলি যেখানে ৪-৫ মাস ধরে কোনো ফরমেই নেই, সে আজকে কিভাবে এতো ভালো খেললো। এটাই হলো মেইন বিষয়, যখন পাকিস্তানের সাথে খেলা হয়, তখন জ্বলে ওঠে কোহলি, বরাবরই ভালো খেলে। আজকের ম্যাচটাও একাই শেষ পর্যন্ত টেনে নিয়ে গিয়েছে। তবে ভারত যে মেজাজে তাদের সাথে খেলেছে, তাতে এটা মনে হয়নি যে, এটা স্লোয়ার পিচ। একটা বিষয় আবারো প্রমান করে দিলো যে, সামনে বোলিং পিচ হোক বা স্লোয়ার পিচ হোক, কোনো যায় আসে না।
সবখানেই সব পরিস্থিতিতেই জেতার সক্ষমতা আছে। এই পিচে অনেক কঠিন ব্যাপার চেজ করা। কিন্তু ৪৪ ওভারের মধ্যেই ম্যাচ একদম হাতের মুঠোয়। কন্ট্রোল বিষয়টা বেশ ভালো করেছিল। কারণ এই স্লোয়ার পিচে কেমন খেলতে হবে, তা সবারই প্রায় অনুভব আছে। সব থেকে মজার বিষয় হচ্ছিলো লাস্টের মুহূর্তে, কারণ কোহলির এদিকে সেঞ্চুরির জন্য ১২ রান দরকার আবার জেতার জন্যও ১২ রান দরকার। এদিকে অক্ষয় তো কোহিলিকে বলেই দিলো একটা সিঙ্গেল নিয়ে যে, বাকিটা তুমিই খেলো। বাকি ১২ রান তো ঠিক আছে, কিন্তু বাউন্ডারি আর বের হচ্ছিলো না হা হা। শেষে ৪ রান বাকি সেঞ্চুরি আর জেতার জন্য ২ রান বাকি, মেরেই দিলো ৪ যা হয় হোক হা হা, তাছাড়া সেঞ্চুরি করার আর কোনো উপায় ছিল না। যাইহোক, ইন্ডিয়া সেমিফাইনাল এর জায়গা করে নিয়েছে। বেশ ভালো একটা খেলা হয়েছে।
শুভেচ্ছান্তে, @winkles
250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |




Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারত প্রত্যাশিত একটি দারুণ সুন্দর জয় পেল। বিরাট কোহলি দুর্দান্তভাবে ফর্মে ফিরে এসে সেঞ্চুরি করে দলকে জেতালো। আপনি দারুন সুন্দর ভুল করেছেন সম্পূর্ণ খেলাটির। এই খেলা দেখে খুব আনন্দ পেয়েছি আমরা সকলে। অবশেষে ভারত এভাবে জিতল বলে একটা আলাদা আনন্দের অনুভূতি তো ছিলই।
আসলে ভারত পাকিস্তান ম্যাচ মানেই বাড়তি উত্তেজনা। এই ম্যাচটা বেশ উপভোগ করেছি। বিশেষ করে ভারতের গিল এবং কোহলির ব্যাটিং দারুণ লেগেছে। গিল যে বোল্ড আউট হলো আবরার এর বলে,সেই বলটা গিল একেবারেই বুঝতে পারেনি। এককথায় দুর্দান্ত একটি ডেলিভারি ছিলো সেটা। যাইহোক এই ম্যাচের রিভিউ আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ দাদা।
সত্যিই আমাদের ভারত সবকিছুতেই অনবদ্য দাদা।সব পরিস্থিতি মোকাবেলা করার মতো ক্ষমতা রাখে।তেমনি এই ভারত ও পাকিস্তানের ম্যাচটি ছিল দেখার মতো।কোহিলি উপযুক্ত জবাব দিয়েছে, ধন্যবাদ দাদা সুন্দর রিভিউ দিয়েছেন।