ইকোলজি এবং পরিবেশ বিজ্ঞান
হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি। |
---|
Image Created by OpenAI
আজকে আপনাদের সাথে ইকোলজি আর পরিবেশ বিজ্ঞানের উপরে কিছু আলোচনা করবো। ইকোলজি আর পরিবেশ বিজ্ঞান-এই দুটি খুবই প্রয়োজন, এটিই একমাত্র পৃথিবীকে টিকিয়ে রাখার আসল চাবিকাঠি। এই দুইটি যদি নষ্ট হয়ে যেতে লাগে, তাহলে ঘোর বিপদ সামনে। আর আসলে পরিস্থিতির দিকে বিবেচনা করলে এটাই দেখতে পাবো যে, সবকিছুই ধংসের দিকে চলে যাচ্ছে। অর্থাৎ এক কথায় বলতে গেলে পৃথিবীর তার নিজস্ব প্রাকৃতিক ভারসাম্য ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, তার প্রমান আমরা দেখতেও পাচ্ছি ধীরে ধীরে। ইকোলজি বিষয়টা হলো জীবজগত ও তাদের পরিবেশের মধ্যে পারস্পারিক সম্পর্ক বজায় রাখার মতো একটা পর্যায়।
অর্থাৎ কিভাবে এই জীবকুল ও তাদের আশেপাশের পরিবেশ একে অপরের উপর নির্ভরশীল এবং পরিবেশের যে পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়, তা কিভাবে জীবনের উপরে প্রভাব বিস্তার করে। ইকোলজি ব্যাপারটাকে আরো ভালোভাবে জানার জন্য একে ৪ টি প্রধান স্তরে ভাগ করা হয়েছে আর এদের প্রত্যেকটির নির্দিষ্ট একটা ব্যাখ্যা আছে। তবে আমি শুধু নামগুলো উল্লেখ করছি, নামগুলো দেখলে আপনারাও বুঝতে পারবেন, কারণ সাধারণ ব্যাখ্যা দেওয়া আছে বিষয়গুলোর উপরে। এই ৪ টি ভাগ হলো- অর্গানিজম, জনসংখ্যা, সম্প্রদায় এবং বাস্তুতন্ত্র। আর পরিবেশ বিজ্ঞানের গুরুত্ব কতটা সেটা দেখবো।
পরিবেশ বিজ্ঞান মূলত এমন একটি পর্যায় বা শাখা, যা পৃথিবীর প্রাকৃতিক সম্পদ, জলবায়ুর পরিবর্তন, জীববৈচিত্র সংরক্ষণ এবং বিশেষ করে দূষণের প্রভাব এর উপরেই বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু বর্তমানে এই সবকিছুই সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে আছে। যেমন- বিগত কয়েক বছর ধরে আমাদের পৃথিবীতে গরমের তাপমাত্রাটা অত্যাধিক পরিমানে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এটি ধীরে ধীরে বছরের পর বছর বেড়েই চলেছে। এই বিশ্ব উষ্মায়ন এর কারণে পৃথিবীতে বরফ গলা শুরু হয়েছে আর এর ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতাও দিন দিন বেড়েই চলেছে। আর সেই সাথে জলবায়ুর চরম পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।
এটি মূলত হয়ে থাকে গ্রিনহাউস গ্যাসের অতিরিক্ত নির্গমনের ফলে। কিন্তু এটা কেন হচ্ছে, তার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা একটাই যে, প্রাকৃতিক ভারসাম্য যত নষ্ট হবে, পৃথিবীতে এই জলবায়ুর পরিবর্তন তত বেড়েই যাবে। গরমের তাপমাত্রা এমন একটি পর্যায়ে গিয়ে দাঁড়াবে যে, সমস্ত প্রানিকুলের অস্তিত্ব টিকে থাকা মুশকিল হয়ে দাঁড়াবে। আর এইগুলোর কারণ মানব সমাজই। এছাড়া আরো একটি বিষয়ে যাই, যেটা এই প্রাকৃতিক ভারসাম্যের সাথে ভীষণভাবে জড়িত। বন উজাড়- বর্তমানে এটি একটা মানুষের পেশা হয়ে দাঁড়িয়েছে, প্রতিদিন টন টন গাছ কেটে বনভূমি ধংস করে ফেলছে। যার প্রভাব এই প্রাকৃতিক ভারসাম্যের উপরে সোজা এসে পড়ছে।
বন ধংস করার কারণে এক দিকে যেমন প্রানিকুলের আবাসস্থল নষ্ট হচ্ছে, তেমনি মাটির ক্ষয়ও বাড়ছে। আর সেই সাথে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাইঅক্সাইড এর পরিমাণও বাড়ছে। জল দূষণ আরো একটি প্রধান কারণ। আমরা প্রতিনিয়ত সেটা দেখতেও পাচ্ছি যে, চোখের সামনে কলকারখানার বিষাক্ত পদার্থ , তারপর যদি দেখি আমাদের মনিব সমাজের এমন কিছু মানুষ আছে, যারা যাবতীয় বর্জ পদার্থ নির্দিষ্ট জায়গায় না ফেলে জলে টান মেরে ফেলে দিচ্ছে। এইসবের কারণে জলও বিষাক্ত হয়ে উঠছে। আর এতে করে জলে থাকা প্রাণীকুলের জন্যও একটা ভয়াবহ বিপদের সংকেত।
এছাড়া সেই সাথে একই ধাপে বায়ুও দূষণ হচ্ছে নানা ভাবে। আর এর কারণেই এখন বর্তমানে মানুষের স্বাসকষ্টের পরিমান বেশি বেড়েই চলেছে। এই হলো সমস্যা, তবে এইসব সমস্যা ইচ্ছা করলে আমরাই মানব সমাজ আবারো পরিবর্তন করতে পারি। এইসব গাছ কাটা বন্ধ করে বেশি পরিমানে গাছ লাগিয়ে প্রাকৃতিক যে ভারসাম্য নষ্টের ফলে তাপমাত্রা বাড়ছে, সেটা কমিয়ে আনতে পারি। তারপর এইরকম বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে এইসবের পরিবর্তন করা যায়। এইসবের ক্ষেত্রে এখন থেকেই পদক্ষেপ না নিলে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য এই পৃথিবী আর বসবাসের জন্য উপযুক্ত থাকবে না।
শুভেচ্ছান্তে, @winkles
250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |




Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব। বন উজাড়, জলবায়ু পরিবর্তন, দূষণ এসব আমাদের ভবিষ্যৎকে হুমকির মুখে ফেলছে। সচেতনতা আর কার্যকর পদক্ষেপই পারে এই সংকট মোকাবিলা করতে। বেশি গাছ লাগানো, দূষণ কমানো এবং টেকসই জীবনযাত্রার দিকে মনোযোগ দেওয়া এখন সময়ের দাবী। এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর লেখার জন্য ধন্যবাদ দাদা।
একেবারে যথার্থ বলেছেন দাদা। দিনদিন আসলেই মানুষের শ্বাসকষ্টের পরিমাণ বেড়েই চলেছে। আসলে প্রয়োজনে কিংবা অপ্রয়োজনে গাছপালা কেটে এবং বন উজাড় করে পরিবেশের বারোটা আমরা বাজিয়ে দিয়েছি। আর এই মুহূর্তে আমরা যদি প্রচুর পরিমাণে গাছ না লাগাই,তাহলে সামনে আমাদের আরও বেশি সমস্যা হবে। যাইহোক এতো চমৎকার একটি পোস্ট আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ দাদা।