ডি ককের নায়কোচিত ইনিংসে কলকাতার দুর্দান্ত জয়!

in আমার বাংলা ব্লগ8 days ago
হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি।

DALL·E 2025-03-27 02.30.24 - A thrilling IPL cricket match scene between Kolkata Knight Riders and Rajasthan Royals in a large stadium. The image captures a key moment_ a batsman .webp

Image Created by OpenAI

আজকে আপনাদের সাথে খেলাধুলা বিষয়ে একটি পোস্ট শেয়ার করে নেবো। গতকাল কলকাতা আর রাজস্থান একটি ম্যাচ ছিল গুয়াহাটিতে। মোটামুটি এর আগের ম্যাচে হেরে এই দুটি টিমই নেট রান রেটে মাইনাসে চলে গিয়েছে। ফলে এই ম্যাচটি তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। যদিও এটি দ্বিতীয় ম্যাচ, কিন্তু এখানে গুরুত্ব না দিলে নেট রান রেট এমন জায়গায় গিয়ে ঠেকবে যে, শেষে অনেক রান করাও লাগবে আর উইকেট কম হারিয়ে ম্যাচ জিততে হবে। তবে এই গুয়াহাটির যে পিচে খেলা হয়েছে সেটাও আবার স্লোয়ার পিচ ছিল। তাও কলকাতা টসে জিতে আগে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তবে স্লোয়ার বলতে ওই স্পিন ছাড়া তেমন একটা কাজ করবে না। তো সেই হিসেবে প্রথমের দিকে পাওয়ার প্লেতে রাজস্থান শুরুটা করেছিল ভালোই।

যাইস্বল আর স্যামসন শুরুটা বেশ ভালো করে দেয়। কিন্তু যাইস্বল খেললেও স্যামসন বোল্ড আউট হয়ে যায়। যদিও ওখানে তার ওই শর্টটা না খেললেও চলতো। তো যাইহোক, আসলে শুরু করলেও সেভাবে আসলে ধরে খেলতে পারেনি সবাই ঠিকঠাক। সবাই মোটামুটি শর্ট খেলতে গিয়ে আউট হয়েছে। এই ম্যাচে আবার নারিন খেলেনি, তার পরিবর্তে মঈন আলী খেলেছে। মঈন আলী নিঃসন্দেহে একজন ভালো স্পিনার। তবে তাদের একটা জায়গায় ঘাটতি থেকে গিয়েছিলো অলরাউন্ডার হিসেবে। কারণ মঈন আলী ভালো বল করতে পারলেও ব্যাটিং অতটা ভালো না। সে জায়গায় নারিন ওপেনার হিসেবে ঘাটতিটা অধিকাংশ সময়ে পূরণ করতে পারে।

তো যাইহোক, রাজস্থান সেভাবে কায়দা করতে পারেনি। অনেকেই ভালো ব্যাটসম্যান ছিল তাদের, কিন্তু কেউ সেভাবে খেলতে পারেনি। ধ্রুব জুড়েল মোটামুটি লাস্ট পর্যায়ের দিকে একটু খেলেছিল, তাছাড়া আর কারো ব্যাট থেকে রান আসেনি, টেনেটুনে দেড়শো রানের মতো হয়েছিল। তবে কলকাতার এই ম্যাচে একটা পরিকল্পনা ছিল যে, ম্যাচ জেতা+নেট রান রেটটা বাড়ানো। সেক্ষেত্রে তাদের একদিকে যেমন উইকেট বাঁচাতে হবে আবার অন্যদিকে ২০ ওভারের আগেই ম্যাচ শেষ করতে হবে। যত দ্রুত ইম্প্রুভ করা যায়, তত ভালো আর কি। কলকাতা স্টার্টিং ভালো করতে পারেনি, কারণ মঈন আলী কে পাঠিয়েছে ওপেনে, সেক্ষেত্রে কক এর সাথে তার বন্ডিং একদমই যায় না। আর একদিকে কক একাই প্রেসার নিয়ে খেলে যাচ্ছে, কিন্তু মঈন আলী কোনো ব্যাট-বল কানেক্ট করতেই পারছিলো না।

শুধু শুধু বল খাচ্ছিলো, যেন টেস্ট ম্যাচের মতো এক প্রকার। তবে একদিক থেকে ভালো হয়েছিল যে, দ্রুত আউট হয়ে গিয়েছিলো, নাহলে আরো বিপাকে পড়তে হতো বল ডট গেলে। এমনিতেও কোনো কিছুতে তাল মিল করতে পারছিলো না। পাছে পরে রাহানে এসেছিলো, এসে খেলছিল ভালোই। পার্টনারশীপ গেইনও হচ্ছিলো, কিন্তু ভুল শর্ট, আর আউট। যদিও অনেকবার রাহানে আউট এর হাতথেকে বেঁচে গিয়েছিলো। তবে কৃতিত্ব সবটাই ডি কক এর। ম্যাচ একাই টেনে বের করে নিয়ে গেছিলো। যদিও উইকেট পড়েনি তেমন, কিন্তু খেলেছে একাই ১৫০+ স্ট্রাইক রেট নিয়ে। রঘুবংশী ছেলেটা এসে ভালোই খেলেছে তার সাথে। ডি কক কে সেঞ্চুরি করার একটা সুযোগও তৈরি করে দিয়েছিলো শেষ পর্যায়ে।

কারণ ও লাস্টে শর্ট না খেলে প্রায় বল ওকেই খেলতে দিয়েছে। কিন্তু জোফরা ইচ্ছা করেই তাকে সেঞ্চুরি করতে দেয়নি। একটা ইচ্ছা করেই বাই চার গেলো। বাকি আরেকটা ওয়াইড বল এবং পরেরটাও ওয়াইড বল। শেষে দুটো ছয় মারলেও সেঞ্চুরি হয়ে যেত। কিন্তু ইচ্ছা করেই ওয়াইড দিয়ে দিয়ে রান কমিয়ে ৫ এ নিয়ে আসে। কিন্তু তারপরেও ও ইচ্ছা করলে একটা চার মেরে পরেরটা ৬ মারতে পারতো। কিন্তু যেহেতু এখানে দ্রুত ম্যাচ শেষ করে নেট রান রেট বাড়াতে হবে, সেই হিসেবে সেঞ্চুরির কথা আর চিন্তা না করে ছয় মেরেই ম্যাচটাকে জিতিয়ে দিলো। নেট রান রেটে যদিও অনেকটা উপরে উঠে এসেছে ৬ নম্বরের মধ্যে। কিন্তু আরো একটা ম্যাচ ভালোভাবে জিততে পারলে প্লাস পয়েন্ট অর্জন করতে পারবে। বেশ ভালো ছিল ম্যাচের মুহূর্তটা।


শুভেচ্ছান্তে, @winkles


Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power

250 SP500 SP1000 SP2000 SP5000 SP

Heroism_3rd.png



Sort:  

Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.