ভিন্ন জগতের বন্ধু

in আমার বাংলা ব্লগ19 days ago
হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি।

DALL·E 2025-03-16 01.11.27 - A mysterious night scene where a young boy, around 14 years old, stands near his bedroom window, looking outside with curiosity. In his backyard, a gl.webp

Image Created by OpenAI

আজকে আপনাদের সাথে একটি গল্প শেয়ার করে নেবো। এই গল্পের সম্পর্কটা একটা ভিন্ন জগতের সাথে। অরুন নামের একটি ছেলে, যার বয়স ১০-১১ বছর হবে। একদিন রাতে, তখন প্রায় ১১ টার মতো বাজে। অরুন ছেলেটার ঘুমে তখন প্রায় চোখ ঢলমল করছে, কিন্তু সে ঘুম পড়তে পারছে না। কারণ তার মনে সবসময় একটা বিষয় উঁকি দিচ্ছে যে, তার মধ্যে এমন কি নেই যে তার সাথে কেউ মিশতে চায় না। অরুন স্কুলে গেলে তার কোনো সহপাঠী কথা বলে না, তার কাছেও বসে না। এমনকি খেলাতেও তাকে ডাকে না, নিজে থেকে গেলেও তাকে নেয় না। এই ঘটনায় সে সবসময় মন মরা এক বিষন্ন অবস্থায় থাকে। একদিন ওই রাতেই জানালার বাইরে কাউকে দেখতে পায়, বাগানে একটা ছায়ামূর্তি মতো কেউ যেন দাঁড়িয়ে আছে।

অরুন তার কাছে যায়, কিন্তু সে সাধারণ মানুষের থেকে আলাদা, তার চোখ দুটো আলাদা ধরণের। প্রথমত তো যেতেই চাইনি ভয়ে, কিন্তু তাও তার মনে বারবার দেখতে যেতে ইচ্ছা হয়। এরপর অরুন তাকে জিজ্ঞাসা করলে বলে, আমি ডেভিড! এরপর সে কথা থেকে এসেছে বললে বলে, আমি অন্য আরেকটি জগত থেকে এসেছি। কিন্তু আমরা দুইজন ভিন্ন ভিন্ন জগতের হলেও আমাদের দুইজনের সমস্যা এক অর্থাৎ সবার থেকে আলাদা এবং অন্যরকম। অরুন প্রথমে অবাক হয়ে যায় তাকে দেখে আর তার কথা শুনতে শুনতে। অরুন ভাবলো, এই প্রথমবারের মতো মনে হয় কেউ একজন আমার মনের অনুভূতিগুলো বুঝতে পেরেছে।

এইভাবে রাতের বেলা তাদের দুইজনের বেশ কিছুদিন ধরে দেখা হতে থাকে, কথা হতে থাকে। তবে ডেভিড একমাত্র অরুনের সাথেই দেখা করতো, কথা বলতো। আর অরুন ছাড়া তাকে আর কেউ দেখতে পেতো না। এইভাবে তাদের মধ্যে কথা চলতে চলতে একটা গভীর বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। তারা তাদের দুইজনের দুঃখ-কষ্টগুলো একজন আরেকজনের সাথে ভাগ করে নিতো। এইসব চলতে চলতে ডেভিড অরুনকে শিখিয়ে গিয়েছিলো যে, কিভাবে অন্যদের থেকে আলাদা করে নিজেকে ভালোবাসতে হয় এবং নিজের বিশেষত্বকে গ্রহণ করতে হয়। অরুন যেমন প্রতিদিন তার এই ভিন্ন জগতের বন্ধুর জন্য রাতের বেলা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতো, তেমনি একদিন অনেক্ষন ধরে অপেক্ষা করার পরেও সে আর আসলো না।

অরুন একটু চিন্তায় পড়ে গেলো, কারণ কয়েকদিন থেকে সে আর আসছে না। এরপর সে বুঝতে পারলো বা অনুধাবন করতে পারলো যে, ডেভিড আর আসবে না। কিন্তু তার জীবনে একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় শিখিয়ে দিয়ে গিয়েছে। নিজের উপর বিশ্বাস রাখাটা অনেক জরুরি। এরপর থেকে অরুন আর নিজেকে কখনো একাকিত্ব অনুভব করে না, সবসময় হাসিখুশি ভাবে থাকে। কারণ ডেভিড তাকে বুঝতে শিখিয়েছিলো যে, সে যেমন, তেমনভাবেই মূল্যবান।


শুভেচ্ছান্তে, @winkles


Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power

250 SP500 SP1000 SP2000 SP5000 SP

Heroism_3rd.png



Sort:  

Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.

 18 days ago 

প্রতিটি মানুষ যেমন আলাদা।তেমনি আলাদা আলাদা মানুষের আলাদা আলাদা গুন নিয়ে জন্মগ্রহণ করে থাকেন।কোন মানুষ ই গুন ছাড়া নয়।তবে নিজের মধ্যে থাকা নিজস্ব গুন নিয়ে মানুষ কে ভালো থাকতে শিখতে হয়।ডেভিড এই বিষয় গুলোই অরুনের মধ্যে বুঝিয়ে দিয়ে গিয়েছে।ভালো লাগলো গল্পটি পড়ে।

 18 days ago 

আসলে প্রতিটি মানুষ কিন্তু সত্যিই মূল্যবান। তাই কোনো অবস্থাতেই নিজেকে ছোট মনে করা উচিত নয়। বরং নিজেকে ভালোবাসতে হবে এবং প্রাধান্য দিতে হবে। যাইহোক ডেভিড অরুণকে সত্যিই খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় শিখিয়ে গিয়েছে। পোস্টটি আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।