শান্তিনিকেতন ভ্রমণ ( পর্ব ৫ )
হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি। |
---|
![]() |
---|
Photo by @winkles
![]() |
---|
Photo by @winkles
![]() |
---|
Photo by @winkles
আজকে আপনাদের সাথে শান্তিনিকেতন ভ্রমণ এর কিছু আলোকচিত্র শেয়ার করে নেবো। গত পর্বে আপনাদের সাথে কিছু ভাস্কর্য সহ আলোকচিত্র তুলে ধরেছিলাম। তবে এই পর্বেও বেশ কিছু ভাস্কর্যের দৃশ্য থাকবে। প্রথমত আপনারা একটি আদিবাসী ভাস্কর্য বা মূর্তি দেখতে পাবেন। এই মূর্তিটি হলো তিলকা মাঝির। এই তিলকা মাঝি ছিলেন আদিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রথম নেতা, যিনি ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন। সাঁওতাল বিদ্রোহের মধ্যে অন্যতম প্রধান ব্যক্তি হিসেবে তিনি পরিচিত ছিলেন। এছাড়া লক্ষ্মণ নায়েক ছিলেন এই আদিবাসী লোকের মধ্যে একজন সাহসী নেতা। যিনি ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামে অনেক অবদান রেখেছিলেন।
![]() |
---|
Photo by @winkles
![]() |
---|
Photo by @winkles
তিনি ওড়িশার যত আদিবাসী সম্প্রদায় ছিল, তাদের নিয়ে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ডাক দিয়েছিলেন। এরপর আরেকজন হলো- বিরসা মুন্ডা। এই ব্যক্তি সাধারণত তাদের মুন্ডা সম্প্রদায়ের বিদ্রোহের নেতা ছিলেন। একমাত্র তারই নেতৃত্বে সেখানকার সম্প্রদায়ের লোকজন ব্রিটিশদের শোষণ, নিপীড়ণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল। তবে এই বিরসা মুন্ডা তার এই সাহসিকতার জন্য "ধরতি আবা" অর্থাৎ পৃথিবীর জনক উপাধি পেয়েছিলেন। এরপরে হলেন-তিরোত সিং। এই ব্যক্তি ছিলেন মেঘালয়ের খাসি সম্প্রদায়ের নেতা। প্রায় ১৮২৯-১৮৩৩ সালের দিকে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছিলেন। এরপরে হলেন সিধু কানু। এই ব্যক্তি প্রকৃতপক্ষে সাঁওতাল বিদ্রোহের নেতা ছিলেন।
![]() |
---|
Photo by @winkles
![]() |
---|
Photo by @winkles
এরা তাদের সমস্ত সাঁওতাল সম্প্রদায়কে এক জায়গায় সংগঠিত করেছিলেন এবং ঐক্যবদ্ধ ভাবে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছিলেন। এই যে যত ব্যক্তির কথা বললাম, সবাই ব্রিটিশ আমলে তাদের শোষণ-নিপিড়নের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য সবাই বিশেষ অবদান রেখেছিলো এবং তারা তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিল। এরা সবাই এক একজন মহান বীরের সাথে লড়াই করে ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছেন। যাইহোক, এরপরে আপনারা কিছু ভাস্কর্য দেখতে পাবেন, যেগুলো এই সৃজনী শিল্পগ্রামের ঐতিহ্যকে অনেক সৌন্দর্যমন্ডিত করে তুলেছিল। এখানে প্রথমে একটি গণেশের ভাস্কর্য রয়েছে, যেটা সাধারণত একটি শিলার উপরে খোদাইকৃত অবস্থায় আছে।
![]() |
---|
Photo by @winkles
![]() |
---|
Photo by @winkles
এছাড়া এই শিলার নিচের দিকে সাধারণত বেদি উপজাতীয় শৈলীতে অলংকৃত। এরপরে আরো বেশ কিছু মূর্তি দেখতে পাবেন, যেগুলোতে নারী নৃত্যশিল্পের ভঙ্গিতে খোদাই করা আছে। এইসব ভাস্কর্য সব শিলায় খোদাই করা এবং বহু পুরানো। এই নৃত্যের মাধমে যেসব মূর্তি খোদাই করা, তা ভারতীয় একপ্রকার ভারতীয় মন্দির শিল্পের ঐতিহ্যকে বহন করে। এই মূর্তিগুলো দেখে সাধারণত একপ্রকার অপ্সরার মতো বা দেবী মূর্তির প্রতীক হিসেবে মনে হবে। এইসব সৌন্দর্যগুলো লোকশিল্পীদের অভাবনীয় প্রতিভার পরিচয় বহন করে থাকে। শান্তিনিকেতন এর এইসব শিল্পকর্ম বা ঐতিহ্য প্রধান সৌন্দর্যের কারণ, আর বাংলার ঐতিহ্যকে আরো সমুন্নত রাখে।
শুভেচ্ছান্তে, @winkles
250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |




Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
শান্তিনিকেতন জায়গাটার নাম শুনেছি অনেক। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর অনেক লেখায় এই নাম উচ্চারণ করেছেন। কিন্তু আজকে আপনার জন্য জায়গাটার বেশ কিছু দৃশ্য দেখার সুযোগ পেলাম। অনেক ভালো লাগলো দাদা সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছেন দেখে। আশা করি আরো ভ্রমণ পোস্ট দেখতে পারব।
শান্তিনিকেতন ভ্রমণের পঞ্চম পর্বটা আমার কাছে খুব ভালো লেগেছে। অনেক সুন্দর করে আপনি আজকের পর্বটা সবার মাঝে শেয়ার করেছেন। এই পর্বের মাধ্যমে আরো অনেক সুন্দর কিছু আলোকচিত্র দেখতে পেলাম। আপনি আপনার প্রতিটা পর্ব অনেক সুন্দর করে শেয়ার করছেন। একে একে পাঁচটা পর্ব শেষ হয়ে গেল। অনেক বেশি দারুন লাগলো দাদা এই পর্বটি। অনেক ধন্যবাদ আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
ভাস্কর্য গুলো কতো নিখুঁতভাবে তৈরি করা হয়েছে। এতো পুরনো হওয়ার পরেও ভাস্কর্য গুলো একেবারে অক্ষত অবস্থায় রয়েছে। ভাস্কর্য গুলো দেখে সত্যিই খুব ভালো লাগলো। তাছাড়া আপনি ফটোগ্রাফি গুলো দারুণভাবে ক্যাপচার করেছেন দাদা। যাইহোক শান্তিনিকেতন ভ্রমণ করে সত্যিই দারুণ সময় কাটিয়েছেন আপনারা। এতো চমৎকার একটি পোস্ট আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।