তোমাকে ছোঁয়ার সাধ্য আমার নেই' ত্রয়োদশ গল্পের পর্ব।

in আমার বাংলা ব্লগ8 days ago

হ্যালো বন্ধুরা,

আপনারা সবাই কেমন আছেন? আশা করি, আপনারা সবাই ভাল আছেন সুস্থ আছেন। আজ আমি আপনাদের মাঝে 'তোমাকে ছোঁয়ার সাধ্য আমার নেই' গল্পের ত্রয়োদশ পর্ব উপস্থাপন করছি। আশা করি, গল্পের ত্রয়োদশ পর্বটি আপনাদের সবার ভালো লাগবে। তাই বিলম্ব না করে আমার পোস্ট লেখাটি শুরু করছি।

pexels-vjapratama-935824.jpg
সোর্স


মেঘা এসে রাজু এবং সৃষ্টি কে বলল, এখন তো সব ঠিকঠাক হয়ে গিয়েছে কিন্তু আমাদের একটা কাজ করতে হবে। রাজু বলে, কি কাজ? মেঘা বলে, সৃষ্টিকে জীবনের সাথে চলতে শেখাতে হবে। রাজু বলে, মেঘা তুই ঠিক বলেছিস। আমিও মনে মনে সেটাই চেষ্টা করছিলাম। কাল থেকে সৃষ্টিকে একটি নতুন স্কুলে ভর্তি করাবো। তখন সৃষ্টি বলে, এসবের কি দরকার তোমরা তো রয়েছো আমার কাছে। রাজু বলে, আমরা রয়েছি তোমার পাশে সব সময়। কিন্তু আমি চাই কেউ তোমাকে অসম্মান না করুক। সৃষ্টি বলে, আমি এসব কিছু পারবো না। মেঘা বলে, সৃষ্টি তোর যে পারতেই হবে।তোকে যে দেখিয়ে দিতে হবে এই সমাজকে। তুই এই সমাজের বোঝা নয়। রাজু বলে, মেঘা ঠিকই বলেছে তোমাকে পারতেই হবে সৃষ্টি। সৃষ্টি বলে, আমার খুব ভয় করছে। রাজু বলে, ভয়ের কিছু নেই সৃষ্টি তোমার মতন আরও অনেকে ওখানে লেখাপড়া শিখছে। আর আমার বিশ্বাস তুমি খুব সহজে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারবে সবার সঙ্গে।


এরপর সৃষ্টিকে রাজু বাড়িতে পৌঁছে দেয়। পরের দিন সকালে মেঘা ও রাজু সৃষ্টি দের বাড়িতে যায়। তারা দুজনে সৃষ্টির মা-বাবাকে সবটা বুঝিয়ে বলে। রাজু ও মেঘার কথা শুনে সৃষ্টির মা-বাবা রাজি হয়। তার মা-বাবা তাদেরকে বলে অনেক ভাগ্য করে তোমাদের মতন বন্ধু পেয়েছে সৃষ্টি। তোমরা যেভাবে সৃষ্টির পাশে এসে দাঁড়িয়েছ আমরা মা-বাবা হয়েও সেটি করতে পারিনি।রাজু ও মেঘা সৃষ্টির মা-বাবার কাছে আশীর্বাদ নিয়ে সৃষ্টিকে নিয়ে রওনা দেয় স্কুলের উদ্দেশ্যে। এরপর সৃষ্টিকে স্কুলে ভর্তি করে তারা। স্কুলে আরো ছাত্র-ছাত্রী ছিল যারা সৃষ্টির মতন অন্ধ। সৃষ্টিকে পেয়ে স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা তাকে আপন করে নিল। বেশ ভালই কাটছিল সৃষ্টির দিনগুলো। সৃষ্টি খুব মেধাবী ছাত্রী ছিল যার জন্য অল্প সময়ের মধ্যে সে সবকিছু আয়ত্ত করে ফেলে। সৃষ্টি একদিন তার মাকে বলে রাজুকে ফোন দিতে। রাজু সৃষ্টির ফোন পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে কোনটি রিসিভ করে। রিসিভ করতেই সৃষ্টি রাজুকে বলে, আমার খুব ঘুরতে যেতে ইচ্ছা করছে আমাকে একটু ঘুরতে নিয়ে যাবে? রাজু বলে, অবশ্যই তোমাকে ঘুরতে নিয়ে যাব তুমি তৈরি হয়ে থাকো আমি আসছি তোমাকে নিতে।


কিছুক্ষণ পর রাজু সৃষ্টির বাড়ির সামনে এসে বাইকে হন দেয়। সৃষ্টি বাইকের হন শুনে বুঝতে পারে রাজু এসেছে। সঙ্গে সঙ্গে সে বেরিয়ে পড়ে ঘর থেকে। রাজু সৃষ্টিকে দেখে সে বাইক থেকে নেমে সৃষ্টিকে আনতে যায়। তখন সৃষ্টি রাজুকে বলে, তুমি বাইকে বসো আমি একাই তোমার কাছে আসছি। কথাটি শুনে রাজু অবাক হয়ে যায়। রাজু অবাক চোখে সৃষ্টির দিকে তাকিয়ে ছিল। সৃষ্টি রাজুর কাছে এসে রাজুকে বলে, তুমি কি অবাক হয়ে গিয়েছো? রাজু বলে, আমি তো কল্পনাও করতে পারিনি যে এত অল্প সময়ে এতটা পরিবর্তন তোমাকে দেখতে পাবো। সৃষ্টি বলে, পরিবর্তনটা তোমার আর মেঘার জন্যই হয়েছে।তোমরা যদি আজ আমার পাশে এসে না দাঁড়াতে তাহলে আজ হয়তো অন্যের সাহায্য নিয়ে আমার চলতে হতো। তোমাদের দুজনের ঋণ আমি কোনদিনও শোধ করতে পারব না। রাজু হেসে দিয়ে বলে, তোমার ঋণ শোধ করতে হবে না এখন বসো বাইকে। এরপর রাজু সৃষ্টির পছন্দের জায়গাতে নিয়ে যায়। সেখানে যে তাদের ভেতর অনেক কথোপকথন হতে থাকে।


কথা বলতে বলতে রাজু সৃষ্টিকে বলে, সৃষ্টি আমি তোমাকে কিছু কথা বলতে চাই? সৃষ্টি বলে, কি কথা বলো। রাজু বলে, তুমি জানো আমি তোমাকে ভালোবাসি তুমি আমাকে ভালোবাসো আজ সময় এসেছে আমাদের দুজনের এক হবার। সৃষ্টি বলে, আমরা তো একে অপরের পাশে আছি। রাজু বলে, হ্যাঁ আমরা অবশ্যই একে অপরের পাশে আছি কিন্তু আমি যেটা বলতে চাচ্ছি সেটা একটু আলাদা। সৃষ্টি বলে,তাহলে তুমি কি বলতে চাচ্ছ? রাজু বলে, আমি তোমাকে বিবাহ করতে চাই। কথাটি শোনার পর মেঘা চুপচাপ হয়ে যায়। তখন রাজু আবার বলে, সৃষ্টি তুমি কিছু বলছো না যে? সৃষ্টি বলে, রাজু আমি মানছি আমরা একে অপরকে খুব ভালোবাসি। কিন্তু আমার মনে হয় আমাকে তোমার বিবাহ করাটা উচিত নয়। রাজু বলে, কেন এমন কথা বলছো? সৃষ্টি বলে, তুমি তো জানো আমার বিষয়ে সবটা। বিবাহের আগের জীবনটা এক বিবাহের পরের জীবনটা আরেক। আজ আমি একা একা চলতে পারছি কিন্তু বিবাহের পর অনেক দায়িত্ব বেড়ে যাবে। তোমার বাবা মাকে সেবা করা তোমাকে সেবা করা পরবর্তীতে সন্তানকে লালন পালন করা। এত দায়িত্ব আমার পক্ষে সম্ভব নয়। রাজু বলে, সবই সম্ভব তুমি শুধু বিয়ের জন্য রাজি হও। সৃষ্টি বলে, বিবাহ করার আগে তোমার মা-বাবার সঙ্গে একটু আলোচনা করে নাও। রাজু বলে, আমি মা-বাবাকে সবটা জানিয়েছি তারা রাজি আছে। সব কথা শুনে সৃষ্টি বলে, আমাকে একটু সময় দাও? রাজু বলে, ঠিক আছে। আমি তোমাকে সময় দিচ্ছি কিন্তু আমি আশা করব পজিটিভ কিছু বলবে।

আজ গল্পের পর্বটি এখানে শেষ করছি। সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন সৃষ্টিকর্তার কাছে এটাই প্রার্থনা করি।

Sort:  
 7 days ago 

অনেক সুন্দর করে আপনি গল্পটার ত্রয়োদশ পর্ব শেয়ার করেছেন। আমার কাছে এই গল্পের আজকের পর্ব টা অনেক বেশি ভালো লেগেছে পড়তে। রাজু দেখছি সৃষ্টিকে এখন বিয়ের প্রপোজাল দিয়েছে। এখন দেখা যাক সৃষ্টি কি বলে। অপেক্ষায় থাকলাম এই গল্পের পরবর্তী পর্বের জন্য।