উত্তর বঙ্গের আলু চাষী কৃষকদের আলু স্টোর করতে বিড়ম্বনা
আমি @riyadx2 বাংলাদেশ থেকে
সোমবার, ১০ ই মার্চ ২০২৫ ইং
আমাদের দেশ কৃষি প্রধান দেশ। এদেশের বেশিরভাগ মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। ধীরে ধীরে মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। অনেকেই তাদের ছোট ছোট চাকরি গুলো ছেড়ে দিয়ে কৃষি খাতের দিকে ঝুঁকে পড়ছেন। বর্তমান সময়ে কৃষকেরা যে কোন ধরনের ফসল চাষ করে অনেক বেশি লাভবান হতে পারছে। অতীতের তুলনায় এখন কৃষি কাজ অনেক বেশি সহজ হয়ে গিয়েছে। অতীতে যেমন কৃষি কাজ করার জন্য অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হতো, কিন্তু বর্তমান সময়ে আর এতো বেশি পরিশ্রম করতে হয় না। এবছর আমাদের উত্তর বঙ্গের মানুষ এতো বেশি আলু চাষ করেছেন, এটা একেবারেই একটি নতুন রেকর্ড তৈরি করেছেন তারা। এর আগে কখনো এতো বেশি পরিমাণে আলুর চাষ করা হয়নি।
যে কোন ধরনের জিনিস অতিরিক্ত হয়ে গেলে সেখানে খারাপ কোন কিছু ইফেক্ট করে। ঠিক অনুরুপ ভাবে এবছর আমাদের উত্তর বঙ্গের মানুষ আলু চাষে অনেকটাই ভেঙে পড়েছেন। এবছর আমাদের উত্তর প্রতিটি কৃষক সহ শুরু করে অনেক চাকরিজীবী পর্যন্ত আলু চাষ করেছিলেন। কিন্তু অন্যান্য সব বছরে এতো বেশি আলুর চাষ হয়েছিল না। তখন কৃষকেরা তাদের আলু চাষে অনেক বেশি লাভবান হয়েছিল।আর এবছর আমাদের উত্তর বঙ্গের বেশিরভাগ কৃষক আলু চাষে অনেক বেশি লসের সম্মুখীন হয়েছেন। অতিরিক্ত আলু চাষের ফলে আলুর ন্যায্য মূল্য নেই।আলু চাষে যে পরিমাণ টাকা খরচ হয়েছে, কিন্তু আলু বিক্রি করার পর তার অর্ধেক ও উঠেছে না।
প্রতি বছর আমাদের উত্তর বঙ্গের মানুষ কিছু পরিমাণ আলু বিক্রি করে তাদের খরচ টুকু তুলে নেয় এবং বাকি টুকু আলু স্টোরের মধ্যে ঢুকিয়ে রাখে। কিন্তু এবছর তারা আর এটি করতে পারছেন না। অনেক কৃষক তাদের আলু লস করে বিক্রি করছেন, আবার বাকি টুকু আলু যখন স্টোরে রাখতে যাচ্ছেন, তখন বিভিন্ন রকম সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন এবার। এবছর আমাদের উত্তর বঙ্গের স্টোর গুলো চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যেই লোড হয়ে গিয়েছে। এটা আসলেই আমাদের কৃষকদের জন্য খুবই দুর্ভাগ্যজনক একটি ব্যাপার। কেননা, অনেক কৃষক তাদের আবাদকৃত আলু গুলো স্টোর করতে পারছেন না। অনেক কৃষক টাকা লোন করে নিয়ে অনেক আশা করে আলু আবাদ করেছিলেন।
তাদের আশা এবং সকল ধরনের স্বপ্ন ধুলিসাৎ হয়ে গিয়েছে। আমরা নিজেরাই এবছর আলু চাষ করে অনেক টা লসের সম্মুখীন হয়েছি। এরকম হাজারো কৃষক লসের সম্মুখীন হয়েছিলেন।গত দুই দিন আগে আমি আমাদের এলাকার আলু স্টোরের মধ্যে গিয়েছিলাম। গিয়ে দেখতে পারলাম আলু স্টোরের চারপাশের প্রায় দুই তিন কিলোমিটার দূর থেকে জ্যাম লেগে গিয়েছে। এরকম পরিস্থিতি অন্যান্য সব বছরে হয়নি।আর প্রতিটি আলু স্টোরের মধ্যে একটি লিমিটেড আলু বস্তা ধারন ক্ষমতা রয়েছে।এটি পূরণ হয়ে গেলে স্টোর বন্ধ করে দেয়া হয়। এবছর দুই চার দিনের মধ্যেই স্টোর বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এখানে স্টোর কতৃপক্ষের পক্ষ থেকে করার কিছু নেই।
এমনটা এবছর হবে, তা কখনোই আমাদের উত্তর বঙ্গের কৃষকেরা ভাবতে পারেনি। অনেক কৃষক তাদের বীজ আলু পর্যন্ত রাখতে পারেনি স্টোরের মধ্যে। বিশেষ করে আমাদের উত্তর বঙ্গের দিনাজপুর জেলা এবং রংপুর জেলার কৃষকেরা একটু বেশি লসের সম্মুখীন হয়েছেন আলু চাষে। আমাদের সরকারের উচিত আলু চাষী ভাইদের দিকে তাকিয়ে কোল্ড স্টোরেজ বৃদ্ধি করা। তাহলে আমাদের দেশের কৃষকদের ভোগান্তি দূর হবে।
সবাই কে অনেক অনেক ধন্যবাদ।
Vote@bangla.witness as witness
https://x.com/Riyadx2P/status/1898986769837924687?t=MfB20R1XwUlyRyqsyJZMWw&s=19
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
উত্তরবঙ্গের কৃষকদের আলু চাষে এমন বিপর্যয় সত্যিই দুঃখজনক। অতিরিক্ত উৎপাদন হলেও ন্যায্য মূল্য ও সংরক্ষণের অভাব তাদের কঠিন অবস্থায় ফেলেছে। সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি কোল্ড স্টোরেজ বৃদ্ধি ও বাজার ব্যবস্থাপনায় উদ্যোগ নেয়, তাহলে কৃষকেরা ন্যায্য মূল্য পাবে এবং ভবিষ্যতে এমন ক্ষতির মুখে পড়তে হবে না। সময় থাকতে এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।