ঈশ্বরের নিজের দেশ কেরালা -পর্ব ৬ (ভারকালা বিচ)

in আমার বাংলা ব্লগ11 days ago

প্রিয় আমার বাংলা ব্লগের বন্ধুরা,


সমস্ত ভারতবাসী এবং বাংলাদেশের বাঙালি সহযাত্রীদের আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।


Onulipi_01_23_08_17_40.jpg






আশা করি আপনারা ঈশ্বরের কৃপায় সুস্থ আছেন, সব দিক থেকে ভালোও আছেন। আপনাদের সবার ভালো থাকা কামনা করে শুরু করছি আজকের ব্লগ।



পর্ব ৫ এ আপনাদের সাথে শেয়ার করেছিলাম থিরুভানান্থাপুরাম ঘোরার গল্প। আর সেদিন ছিল ২৫শে ডিসেম্বর। ২৬-শে ডিসেম্বর আমাদের থিরুভানান্থাপুরামের চার তারা হোটেল ছেড়ে দেওয়ার কথা। ট্রেনের টিকিট থাকা সত্ত্বেও নিজেদের মধ্যে কথার ওপরনিচের ফলে আমাদের চোদ্দ জনের টিম দুটি ভাগে বিভক্ত হল। কারণ আমি ভিন্ন অন্য একটি দল যারা কেবল মাত্র বীচ ঘুরতে চায় আমি তাদের দলে ভিড়তে চাইনি। আমি বীচও ঘুরব সাথে অন্য জায়গাও দেখব। কিন্তু সকলের সাথে আমার মতামত মিলবে কেন? তাই কথা না বাড়িয়ে নিজের মতো ট্যুর সাজালাম। টিকিট যেহেতু কাটা আছে ভারকালা বীচে আমরা যেতে বাধ্য৷ এদিকে আগের দিন এরো স্পেশ মিউজিয়াম দেখা হয়নি। আবার বাকিদের সাথে না বুঝে তাল দিতে গিয়ে কনফার্ম ট্রেনের টিকিটও ক্যান্সিল করা হয়ে গেছে। এমত অবস্থায় কি হবে?

ac65d0dd-9ea6-40e8-b63d-fad056f39da7_20250317_225758_0000.jpg

সকাল সকাল ব্রেকফাস্ট সেরে একটি উবের(ক্যাব বুকিং অ্যাপ) বুক করে আমরা ছয় জন বেরিয়ে পড়লাম। প্রথমে গেলাম স্পেশ মিউজিয়াম দেখতে। সেখানে মিউজিয়াম দেখতে টিকিট লাগে না তবে নিজেদের ইমেল দিয়ে এবং কোন একটি পরিচয়পত্র দেখিয়ে মিউজিয়াম দেখার অনুমতি নিতে হয়। এসব করেই শার্টেল বাসে করে মিউজিয়াম এরিয়ার ভেতরে চলে গেলাম। একটি পরিত্যক্ত চার্চকে মিউজিয়াম বানিয়েছে। তবে বাইরে থেকে বিশাল কিছু মনে না হলেও ভেতরে গিয়ে দেখলাম অনেক কিছুই রয়েছে। মঙ্গলযান, চন্দ্রযান ওয়ান ও চন্দ্রযান থ্রিয়ের রেপ্লিকা মডেল। যা নিতান্তই ছোট না৷ সাথে আদিত্য এল ওয়ান। এছাড়াও ছিল পি এস এল ভি, জি এস এল ভি ইত্যাদি রকেটের ছোট ভারশন। এখানে ভিডিও তে দেখানো হচ্ছে কিভাবে স্যাটেলাইট পৃথিবীর চারপাশে ঘুরছে এবং অন্যান্য উপগ্রহগুলোও যে ঘুরছে তাও দেখানো হচ্ছে৷ স্পেশ স্যুট রয়েছে। এবং সব কিছুরই বিস্তৃত বর্ণনা। যা দেখে এবং পড়ে খুবই ভালো লাগলো। এই মিউজিয়ামের ভেতরে কোনভাবেই আমরা মোবাইল ফোন বা ক্যামেরা কোন কিছুই নিয়ে যেতে পারিনি সবকিছুই বাইরে যেখানে পারমিশন বুক করেছিলাম সেখানে জমা দিয়ে যেতে হয়েছিল। ফলে আমার কাছে কোনো রকম কোনো ছবি নেই আপনাদের সাথে শেয়ার করে নেই জন্য।

4df58145-ea6f-4a69-ad86-8aacb0af3a9c_20250317_225412_0000.jpg

দেখে বেরিয়ে আমরা আর কোথাও অপেক্ষা না করে সরাসরি চলে গেছিলাম ভারকালা বীচে৷ পুরো রাস্তাটাই সমুদ্রের ধার দিয়ে নিজে ফলে আমরা দেখলাম বেশিরভাগ ক্রিশ্চান এবং মুসলিম জাতির লোকেরা এখানে মাছ ধরার পেশার সাথে যুক্ত। তাদের বড় বড় জাল এবং মাছগুলো ধরে নিয়ে শুকনো করার জমি একের পর এক লম্বা লাইন করে রয়েছে। এই অঞ্চলে প্রত্যেকেরই নিজস্ব ঘরবাড়ি রয়েছে যা দেখতে অপূর্ব। ভারকালা বীচে যখন পৌঁছলাম তখন ঘড়িতে প্রায় দুপুরে একটা বা দুটো। পেটে খিদে প্রচন্ড তাই আগে থেকে বুক করে রাখা হোটেলে কোনরকমে ব্যাগ পত্র রেখেই আমরা ছুটে দিয়েছিলাম খাবার খেতে। এখানে আমরা খুব ভালো খাবার দাবার পাইনি ঠিকই তবে খুব খারাপ খাওয়ারও জোটেনি। মোটামুটি যারা পেয়েছিলাম তাতে পেট ভরে গিয়েছিল।

7fcae465-7851-4b19-9e3f-a68e6fa1605e_20250317_225048_0000.jpg

খাওয়ার পরে স্নান করবো এই ভেবে যখন হোটেলে এলাম তখন ভেবে দেখলাম যে এরপরে আর আমাদের কোন বীচ বাকি থাকছে না। অগত্যা মেয়েটিকে একবার স্নান করাতে নিয়ে যেতেই হয়। তাড়াতাড়ি করে জামা কাপড় চেঞ্জ করে সবাই বেরিয়ে পড়লাম। বীচের ধারে গিয়ে তো অবাক। কারণ বীচে নামতে হলে অনেকগুলো সিঁড়ি ভেঙে নামতে হবে৷ প্রায় উনআশিটা আর প্রতিটা সিঁড়ি অনেকটা করে উঁচু। সাইডের ধার ধরে ধরে নেমে গিয়েছিলাম। বেশ কিছুক্ষণ স্নান করলাম ও টুকটাক ফটোগ্রাফি করলাম। দিয়ে ফিরে এলাম। বাড়িতে এসে যথারীতি মায়েদের সাথে গল্প আড্ডা ইত্যাদি সেরে সন্ধ্যের দিক করে আবারো বীচে গেলাম। আর ঠিক সেই সময় সূর্যাস্ত হচ্ছে৷ কী যে অপূর্ব লাগছিল দেখতে। উফফ দু একটা ছবি তুলেছিলাম। আসলে ভালো কিছু দেখলে আমি আগে সেটা কি উপভোগ করি। ছবি তোলার কথা মাথা থেকে বেরিয়ে যায়।

2f1c328a-93ad-4da0-8eba-b527fcce68f6_20250317_225255_0000.jpg

যাইহোক, ভারকালার একটি বিশেষত্ব হল এখানে হেলিপ্যাড রয়েছে। সন্ধ্যা বেলায় গিয়ে সেই হেলপ্যাডটি আমরা দেখেছিলাম। খুবই ছোট্ট জায়গা। সমুদ্রের ধারটাও যে বিরাট বড় এমন নয়। কিন্তু দোকানদারের কোন অভাব নেই বিশেষ করে রেস্টুরেন্ট। এখানে নাইট লাইফ বেশ জমজমাট। সন্ধ্যেবেলাতেই দেখলাম প্রচুর বিদেশীরা রয়েছে দোকানে দোকানে। পরিবেশটা অনেকখানি পাবের মত। আমরা যেহেতু এই সবে খুব একটা আসক্ত নই তাই উপর থেকেই বসে বসে সমুদ্র উপভোগ করলাম এবং রাত্রিবেলায় অল্প খাবার সাথে করে নিয়ে হোটেলে ফিরলাম।

5b701bfd-fb8e-486f-ac54-b8fd7143020c_20250317_225834_0000.jpg

এক দিনের জন্য বা অর্ধেক দিন বলা যায় তার জন্য এতখানি যার নেই আমার ঠিক পছন্দ ছিল না। যেহেতু আগে থেকে প্ল্যান করে ফেলেছিল তাই আস্তে একপ্রকার বাধ্য। এই সমস্ত জায়গায় দু থেকে তিন দিন থাকলে পুরো জায়গাটা ভালো করে ঘুরে দেখা যায়। এদিকে পরের দিন আমাদের কোচিতে যাওয়ার ট্রেন। তাও ভোত ছ'টায়।

IMG-20250317-WA0050.jpg

IMG-20250317-WA0051.jpg

তাই সমস্ত ব্যাগ গুছিয়ে নিয়ে আমরা শুয়ে পড়েছিলাম। ভারকালাতে জমজমাট সমুদ্রের ধার হলেও এদিকের বাসস্থানের অংশগুলি অতটা জমজমাট নয়৷ অনেক বাড়িই আছে তবে সন্ধেটা যেন তাড়াতাড়ি নামে তাই রাত্রিও তাড়াতাড়ি হয়। এবং সন্ধ্যের পর খুব একটা বেশি মানুষজন দেখতে পাওয়া যায় না।

IMG-20250317-WA0048.jpg

ভারকালা বীচের গল্প এটুকুই ছিল। আপনাদের কেমন লাগল অবশ্যই জানাবেন। আজ তবে আসি?

টাটা

1000205476.png


1000216462.png

পোস্টের ধরণভ্রমণ ব্লগ
ছবিওয়ালানীলম সামন্ত
মাধ্যমআইফোন ১৪
লোকেশন
অ্যাপক্যানভা, অনুলিপি


1000216466.jpg


১০% বেনেফিশিয়ারি লাজুকখ্যাঁককে


1000192865.png


~লেখক পরিচিতি~

1000162998.jpg

আমি নীলম সামন্ত। বেশ কিছু বছর কবিতা যাপনের পর মুক্তগদ্য, মুক্তপদ্য, পত্রসাহিত্য ইত্যাদিতে মনোনিবেশ করেছি৷ বর্তমানে 'কবিতার আলো' নামক ট্যাবলয়েডের ব্লগজিন ও প্রিন্টেড উভয় জায়গাতেই সহসম্পাদনার কাজে নিজের শাখা-প্রশাখা মেলে ধরেছি। কিছু গবেষণাধর্মী প্রবন্ধেরও কাজ করছি। পশ্চিমবঙ্গের নানান লিটিল ম্যাগাজিনে লিখে কবিতা জীবন এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি৷ ভারতবর্ষের পুনে-তে থাকি৷ যেখানে বাংলার কোন ছোঁয়াই নেই৷ তাও মনে প্রাণে বাংলাকে ধরে আনন্দেই বাঁচি৷ আমার প্রকাশিত একক কাব্যগ্রন্থ হল মোমবাতির কার্ণিশইক্যুয়াল টু অ্যাপল আর প্রকাশিত গদ্য সিরিজ জোনাক সভ্যতা



কমিউনিটি : আমার বাংলা ব্লগ

আমার বাংলা ব্লগ পরিবারের সব্বাইকে আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন৷ ভালো থাকুন বন্ধুরা। সৃষ্টিতে থাকুন।

🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾


1000205458.png

C3TZR1g81UNaPs7vzNXHueW5ZM76DSHWEY7onmfLxcK2iNq11oNEiVHeYi1dFPZdD9DtfDnLSeGtLw3tXF7pNDf1KxPvxfffo2xboPm7wR8jPkKYie3LXrW.png

5q1knatRafuz9XwMuuEKUktArqLQpY9ERHvTUkr4H3M7EJa5zmYjd88Mgg7ucDLaoRyBbuk6ZDoBxSEqGcM8f9gtL5ff3dELA5FFXhfdJMy3CLVqCeBiUcuHt1GpdcrweUGxxxmGTC4nBtUhD1QWuxAAkWX8iy55cDyLQMmixxBjRCHLY6iMvDqgWQXyeinoLTe3.png

1000205505.png

Sort:  
 11 days ago 

1000415649.jpg

1000415645.jpg

 11 days ago 

Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.