সম্পর্কগুলো ভালোবাসার নাকি ব্যবসায়িক!
প্রিয় আমার বাংলা ব্লগের বন্ধুরা,
সমস্ত ভারতবাসী এবং বাংলাদেশের বাঙালি সহযাত্রীদের আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
[সোর্স](Meta AI)


আশা করি আপনারা ঈশ্বরের কৃপায় সুস্থ আছেন, সব দিক থেকে ভালোও আছেন। আপনাদের সবার ভালো থাকা কামনা করে শুরু করছি আজকের ব্লগ।
অনেকদিন আপনাদের সাথে এরকম কোন বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করিনি। কয়েকদিন ধরেই ভাবছিলাম কিছু একটা বিষয়ে লিখব৷ কিন্তু এখানে তো অনেকেই লেখেন৷ তাই আমি ঠিক বিষয় পাই না৷ অথচ জীবনে নানান বিষয় রয়েছে৷ তাই ভাবলাম আজ আপনাদের সাথে বর্তমান সমাজের একটি মানসিকতা পরিবর্তনের বিষয়ের উপর কিছু লিখি।
আমার আজকের নির্বাচিত বিষয়টি হল সম্পর্কগুলো ভালোবাসার ব্যবসায়িক।
এমন কথা কেন বলছি সেটাই আলোচনা করব আজকের ব্লগে।
আমরা সম্পর্ক বলতে সাধারনত প্রেমিক-প্রেমিকা বুঝি। কিন্তু বাবা-মায়ের সাথে বা ভাই-বোনের সাথে কিংবা অন্য যেকোনো আত্মীয়-স্বজন, বন্ধুবান্ধব সবার সাথেই আমাদের কোন না কোন সম্পর্ক রয়েছে এবং সব সম্পর্কেরই একটা নাম আচ্ছে। এখন কথা হচ্ছে আমরা সম্পর্কগুলো কখন এবং কেন বজায় রাখি।
গত হ্যাংআউটে আমরা যখন ডিসকভার্ডে গল্প করছিলাম তখন হাফিজ ভাই একটা কথা বলেছিলেন যে এখন আর কেউ আনন্দে লেখে না ইনকামের জন্য লিখে। অর্থাৎ লেখার জন্য একটা চরম স্বার্থ আমাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে। সেই কথাটা থেকেই আমি ভাবলাম আমাদের জীবনে কোন এমন একটা জিনিস রয়েছে যার সাথে আমাদের চাওয়া আশা-আকাঙ্ক্ষা ইত্যাদি কোন কিছুই জড়িয়ে নেই। একটু ভেবে দেখুন আমরা যখন রাস্তায় বের হই আমাদের পাশ দিয়ে যে মানুষটা যায় তার প্রতিও একটা আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয় যেন সে আমাকে কোনরকম খারাপ আচরণ না করে বা ধাক্কা না দেয়। যদি ভুলবশত ধাক্কা দিয়েও ফেলেন তাহলে সাথে সাথেই আমরা প্রতিবাদী আঙুল উঁচিয়ে তেড়ে যাই। এর জন্য যে আমরাই দায়ী তা কিন্তু নয়। দীর্ঘদিনের পরিস্থিতি মানুষকে একটু একটু করে বদলাতে বদলাতে এই জায়গায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
একটা মানুষের সব থেকে বেশি আত্মিক সম্পর্ক থাকে তার বাবা-মায়ের সাথে এবং সন্তানের সাথে।
আমাদের বাবা-মায়েরা যখন আমাদের বড় করেছেন কেউই ভাবেননি আমরা কি চাই বা আমরা এই জিনিসটা পারছি না। সবকিছু উনারা ঠিক করেছেন। যদিও ওনারা অভিজ্ঞ তাই আমাদের জন্য খারাপ কিছুই ঠিক করতে পারেন না বলে আমরা প্রতিটা সন্তান এমনটাই বিশ্বাস করি। আবার দেখুন ওনাদের ঠিক করে দেওয়া পথে চলতে গিয়ে যদি হোঁচট খাই বা না পেরে উঠি তখন নিজেদের হতাশার সাথে সাথে ওনাদেরও চরম হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়াই। অর্থাৎ সন্তান মানুষ করার সাথে সাথে প্রতিটা বাবা-মায়ের সন্তানকে ঘিরে আশা-আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়। এবং কেউই চায়না সেই আশা-আকাঙ্ক্ষা গুলো ভেঙে যাক। আসলে ভাঙ্গন সহ্য করার মতো উদারতা বর্তমান যদি মানুষের মধ্যে একেবারেই নেই। একটা বাচ্চা স্কুলে খারাপ রেজাল্ট করলেই বাবা মায়েরা থাকে বকাঝকা করে বা প্রথম হতেই হবে এইদিকে ক্রমশ ঠেলে দেয়। হয়তো বাচ্চাদের ছবি আঁকায় বেশি মন। কিন্তু বাবা মা জানেন বা বোঝেন ছবি এঁকে কোন কিছু হওয়া যাবে না। অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে সন্তান জন্ম দেওয়া এবং তাকে বড় করা এ যেন বাবা মারই আশ পূরণ৷
একইভাবে যদি আমরা উল্টো দিক থেকে সন্তানের চোখ দিয়ে বাবা মাকে দেখি তাহলেও বিষয়টা খানিকটা এমন দাঁড়ায়। প্রতিটা সন্তানের বাবা মার প্রতি অধিকারবোধ এবং চাহিদার কোন অন্ত নেই। বেশিরভাগই ভাবে তারা যা চাইবে বাবা-মা বাবা-মা হওয়ার তাগিদে আজন্মকাল দিয়ে যাবে৷
তাহলে সত্যিই কি নিঃস্বার্থ সম্পর্ক নাকি দেওয়া এবং নেওয়া হঠাৎ বিনিময় প্রথার সম্পর্ক।
যারা প্রণয়ের সম্পর্কে আছে, তাদেরও নানান আশ৷ বহু বহু ক্ষেত্রে শুনেছি দেখেছি তারা একে অপরের প্রতি মারাত্মক পজেসিভনেস দেখায়। অধিকার বোধ দেখায়। এমনও দেখেছি, ছেলেটির বা মেয়েটির কথাতেই তাদের সমস্ত কাজ করতে হবে! কী আশ্চর্য! ভালোবাসা মানে কি? নিজেকে সঁপে দেওয়া? নাকি ভালো থাকা? ক্রমশ নিজের সিদ্ধান্ত অন্যের ওপর চাপাতে চাপাতে কেউই এটা ভাবে না যে বোঝা হয়ে যাচ্ছে৷ উলটে এমন ভাবে যে আমাকে ভালোবাসে বলে আমার রঙে সেজে থাকবে তার জীবন৷
আমার এক দিদির একদা একটি প্রেমিক ছিল, সে বলত, বাবা মা পরিবার পরিজন সবই বেকার ফালতু। জীবন তো আমার সাথে কাটাবে। আমার কথাই শোনো। ভাগ্যিস প্রেমিক স্বামী হয়নি! অন্যের কথায় চলতে চলতে আমার দিদিটি তার নিজের পছন্দ অপছন্দ সবই ভুলে যেত।
মনে হয় না! জোর খাটানোর জন্য বা নিজের কথা প্রতিষ্ঠিত করার জন্য একটি মানুষ দরকার তাই ভালোবাসার সম্পর্কে আবদ্ধ হওয়া!
ভালোবেসেছি যখন আমার কথা শুনবে না কেন? ভালোবেসেছে মানুষটা। নিজেকে বিক্রি করে দেয়নি। যে আরেকজনের কথায় উঠতে বসতে হবে। ভালোবাসা কোন ব্যবসায়িক প্লার্টফর্ম নয়।
আবার দেখুব ভাই বোন বা বোন বোন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় বড় যারা হয় তারা আজন্মকাল বাড়ির নানান দায়িত্ব বইছে। কেন না সে বড়। তাই ছোট বোনকে পড়াতে হবে, বিয়ে দিতে হবে কিংবা ভাইকে দেখতে হবে। বড় ছেলে বা মেয়ের প্রতি নির্দ্বিধায় সমাজ সংসার কেবল স্যাক্রিফাইসটাই চাপিয়ে দেয়৷ যেন বড় ছেলে বা মেয়ে সমাজের ফুরান সিস্টেম। বা চৈত্রসেল। তাদের কাছে গিয়ে দাঁড়ালেই হয় সব ফ্রী নয় সহজলভ্য।
আমি পাচ্ছি তাই আমি দিচ্ছি। আমি দিচ্ছি কেন না আমি পাচ্ছি।
সংযোগসুত্র পাচ্ছেন?
আমি তো পাই। প্রতি নিয়ত পাই।
হয়তো আমি একটু বেশিই স্বাধীনচেতা, তাই আমার বেশি বেশি মনে হয়। কিন্তু আমি অনেক গভীরে ভেবে দেখেছি, কোন একটা সম্পর্ক বিনা কারণে কিংবা চাহিদায় বেঁচে আছে এমন দুর্লভ। নেই বললেই চলে।
আমরা তো পৃথিবীর মাটি জল বাতাস আলো সবই স্বার্থান্বেষী মহলের শিরোমণি হিসেবে ব্যবহার করি। সম্পর্ক তো কোন তুচ্ছ৷
ভুল বললাম?
তাহলে বন্ধুরা, আজ এ পর্যন্তই থাক। আবার আসব আগামীকাল অন্য কোন লেখা নিয়ে৷
টা টা

পোস্টের ধরণ | জেনারেল রাইটিং |
---|---|
কলমওয়ালা | নীলম সামন্ত |
মাধ্যম | স্যামসাং এফ৫৪ |
লোকেশন | পুণে,মহারাষ্ট্র |
ব্যবহৃত অ্যাপ | ক্যানভা, অনুলিপি |
১০% বেনেফিশিয়ারি লাজুকখ্যাঁককে
~লেখক পরিচিতি~
আমি নীলম সামন্ত। বেশ কিছু বছর কবিতা যাপনের পর মুক্তগদ্য, মুক্তপদ্য, পত্রসাহিত্য ইত্যাদিতে মনোনিবেশ করেছি৷ বর্তমানে 'কবিতার আলো' নামক ট্যাবলয়েডের ব্লগজিন ও প্রিন্টেড উভয় জায়গাতেই সহসম্পাদনার কাজে নিজের শাখা-প্রশাখা মেলে ধরেছি। কিছু গবেষণাধর্মী প্রবন্ধেরও কাজ করছি। পশ্চিমবঙ্গের নানান লিটিল ম্যাগাজিনে লিখে কবিতা জীবন এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি৷ ভারতবর্ষের পুনে-তে থাকি৷ যেখানে বাংলার কোন ছোঁয়াই নেই৷ তাও মনে প্রাণে বাংলাকে ধরে আনন্দেই বাঁচি৷ আমার প্রকাশিত একক কাব্যগ্রন্থ হল মোমবাতির কার্ণিশ ও ইক্যুয়াল টু অ্যাপল আর প্রকাশিত গদ্য সিরিজ জোনাক সভ্যতা।
কমিউনিটি : আমার বাংলা ব্লগ
আমার বাংলা ব্লগ পরিবারের সব্বাইকে আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন৷ ভালো থাকুন বন্ধুরা। সৃষ্টিতে থাকুন।
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
https://x.com/neelamsama92551/status/1902748645101064417?t=-USqJlz9vC80NyPOmBLnLA&s=19