লাইলাতুল কদর। || by @kazi-raihan

in আমার বাংলা ব্লগ3 days ago

আসসালামু আলাইকুম


হ্যালো..!!
আমার প্রিয় বন্ধুরা,
আমি@kazi-raihan বাংলাদেশের নাগরিক।

আজ - ১৩ই চৈত্র | ১৪৩১ বঙ্গাব্দ | বৃহস্পতিবার | বসন্তকাল |


আমি কাজী রায়হান,আমার ইউজার নাম @kazi-raihan।আমি বাংলাদেশ থেকে। আশা করি আপনারা সবাই ভালো আছেন।মাতৃভাষা বাংলা ব্লগিং এর একমাত্র কমিউনিটি [আমার বাংলা ব্লগ] ভারতীয় এবং বাংলাদেশী সদস্যগণ, সবাইকে অভিনন্দন।



1000116048.png

Canva দিয়ে তৈরি



লাইলাতুল কদর বা শবে কদর এই রাতটি পুরো মুসলিম জাতির প্রতি আল্লাহ তায়ালা এক বিশেষ রহমত হিসেবে রেখেছেন। অন্যান্য রাতের তুলনায় এই রাতকে বিশেষ মর্যাদা দান করেছেন। রাসুল সাঃ রমজানের শেষ দশকে লাইলাতুল কদর অনুসন্ধানের নির্দেশ দিয়েছেন মূলত রমজান মাসের শেষ ১০ দিনের বেজোড় রাত গুলোর মধ্য একটি রাতকে শবে কদরের রাত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে তবে সেটা নির্দিষ্ট নয়। অর্থাৎ ২১ রমজান থেকে শুরু করে ২৯ রমজান পর্যন্ত যেকোনো একটি বিজয়ের রাতকে আল্লাহ তাআলা লাইলাতুল কদরের মর্যাদা দিবেন। তাই মুসলিম বিশ্বের সকল মুমিন মুসলমানরা এই বেজর রাতগুলোতে নফল ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহতালার নৈকট্য লাভ করার চেষ্টা করে। কেননা হাদিসে বর্ণিত এসেছে এই কদরের রাত হাজার রাতের চেয়ে উত্তম।

আজকে ২৭ রমজানের তারাবি শেষ করে মসজিদে সবাই নফল ইবাদত করছিল। সাধারণত অনেকেই মনে করেন এই ২৭ রমজানের রাতকেই লাইলাতুল কদর হিসেবে উল্লেখ আছে কিন্তু হাদিসে এমন কোন নির্দিষ্ট বর্ণনা এখন পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাই রমজান মাসের শেষের ১০ দিনের বেজোড় রাতগুলোকে কদরের রাত হিসেবেই বিবেচনা করা হয়। লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান এর অর্থ হল আল্লাহ তাআলার দরবারে এই রাতের ফজিলত অনুসারে আল্লাহর কাছে নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে নফল ইবাদত করা। নিজের ভুল ত্রুটির জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে ক্ষমা চাওয়া। তাছাড়া মানুষের অপূর্ণা ইচ্ছা মানুষের চাওয়া পাওয়া সবকিছুই এই রাতে আল্লাহ তায়ালার কাছে চাওয়া হয় কেননা এই রাতের আলাদা বরকত রয়েছে এ রাতের আলাদা ফজিলত রয়েছে।



রমজান মাসের শেষের ১০ দিনের ২৭ তারাবির দিনে তুলনামূলক মসজিদে বেশি মুসল্লী লক্ষ্য করা যায় যদিও ঈদুল ফিতরের ছুটি পাওয়ার পরে সবাই গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয় সেক্ষেত্রে যারা বাইরে থেকে নিজেদের জীবন পরিচালনা করে তারা এলাকায় এসে সবাই একসাথে দলবদ্ধ ভাবে কদরের রাতের সন্ধানে মসজিদে এবাদতে মগ্ন থাকে। ছোট থেকেই যখন মসজিদে যেতাম এই ২৭ তারাবির শেষে মসজিদে কিছু তবারকের ব্যবস্থা রাখা হতো। মনে আছে টুপি খুলে মিষ্টি জাতীয় তবারক গুলো গ্ৰহণ করতাম যেমন জিলাপি, বাতাসা এগুলো টুপির মধ্য করে নিয়ে অনেক রাত্রে বাড়িতে ফিরতাম। তখন মনটা অনেক পরিস্কার ছিল তবে এখন অনেক কাজের চাপের কারণে সেই অনুভূতিটা আর আগের মত পাওয়া যায় না।



যখন ছোট ছিলাম তখন কদরের রাতে মসজিদে যেতাম শুধু তবারক খাবার আশায় কিন্তু এখন মসজিদে যাই সৃষ্টিকর্তার কাছে কিছু চাইবো বলে। ছোটবেলার আরো কিছু মজার ঘটনা আছে মূলত এলাকার কিছু মুরব্বিরা বা আত্মীয়-স্বজন যারা মসজিদে এতেকাফ এ বসতো তারা মিলাদ শেষে যে তবারক পেতো সেটা ছোটদের মাঝে বিলিয়ে দিত। যাই হোক এই কথাগুলো উল্লেখ করলাম কারন আজকে মসজিদে যখন তবারক বিতরণ হচ্ছিল তখন ছোট্ট বাচ্চারা পেছন থেকে তাড়াহুড়ো করে জিলাপি আর বাতাসা নেওয়ার জন্য ছুটে আসছিল তখন তাদের এই দৃশ্যটা দেখে আমারও ছোটবেলার কিছু কথা মনে পড়ে গিয়েছিল। আর ব্যস্ততার কথা বললাম এই কারণেই কেননা সারাদিনের কাজ শেষে মসজিদে তারাবির নামাজ শেষ করে আবার কমিউনিটিতে পোস্ট করার জন্য আলাদা একটা চিন্তাধারা মাথায় রেখে বাসায় ফিরতে হয়।



যাইহোক অনেক কথাই বলেছি যারা পড়েছেন তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই আর যদি আমার লেখায় কোনো ভুল ত্রুটি থাকে তাহলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। আর এ সম্পর্কে বিস্তারিত খুব একটা বলার কিছু নেই কারণ আমরা যারা মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছি তারা সবাই লাইলাতুল কদর সম্পর্কে অবগত আছি বাট বর্তমান ইন্টারনেটের যুগে যদি আপনি গুগলে বা youtube এ লাইলাতুল কদর সম্পর্কে জানতে চান তাহলে সেখান থেকেই বিস্তারিত সব তথ্য আপনাকে জানিয়ে দিবে। কদরের রাতে সৃষ্টিকর্তার কাছে বেশি বেশি এবাদতের মাধ্যমে নিজের স্বপ্নগুলো পূরণ করার চেষ্টা করুন আর সৃষ্টিকর্তা সবার মনের আশা পূরণ করুক আমিন।



🔚সমাপ্তি🔚


এই ছিল আমার আজকের আয়োজনে।
ভুল ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।
ভালো থাকবেন সবাই , আল্লাহ হাফেজ👋।

সবাই ভালোবাসা নিবেন 💚🌹
ইতি,
@kazi-raihan



আমার পরিচয়


IMG_2373 (1).HEIC

আমি কাজী রায়হান। আমি একজন ছাত্র। আমি বাংলাদেশে বাস করি। আমি কুষ্টিয়া সরকারি কলেজে লেখাপড়া করছি। আমি ফটোগ্রাফি করতে, গল্প লিখতে ও বাইক নিয়ে ঘুরতে খুবই ভালোবাসি। মনের অনুভূতির ডাকে সাড়া দিয়ে কবিতা লিখতে পছন্দ করি। সেই সাথে যে কোনো নতুন বিষয় সম্পর্কে জানতে পছন্দ করি। আমি ভালোবাসি স্টিমিট প্লাটফর্মে কাজ করতে।



break .png

Banner.png

Sort:  

Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.

Loading...