ছোটকালের স্মৃতিচারণ।
হ্যালো বন্ধুরা
হ্যালো বন্ধুরা সবাই কেমন আছেন। আশা করি আল্লাহর রহমতে সবাই ভাল আছেন। আলহামদুলিল্লাহ আমিও আল্লাহর রহমতে ভালো আছি। আমি এখন সব সময় ভিন্ন ভিন্ন পোস্ট করার চেষ্টা করি। সেক্ষেত্রে লেখালেখির পোস্টগুলো লিখতে ভীষণ ভালো লাগে। ইতিমধ্যে সবার লেখার পোস্ট পড়ে অনেক বেশি উৎসাহ পেয়েছি। তেমনি আজকে আপনাদের সাথে একটি বিষয় শেয়ার করব।
আজকে আমি আপনাদের মাঝে শেয়ার করব আমার ছোটকালের স্মৃতিচারণ পোস্ট। আমি যখন ছোট ছিলাম তখন আমার মা-বাবা আমাকে মাদ্রাসায় ভর্তি করালো। তবে মাদ্রাসাটি আমাদের বাড়ি থেকে মোটামুটি অনেক দূর। মাদ্রাসাটির দাগনভূঞা বাজারের পাশে ছিল। সকালবেলা যখন আমি মাদ্রাসা যাব তখন আমার বাবা নয়তোবা আমার বড় দুলাভাই নিয়ে যেতেন। কারণ আমার বড় দুলাভাই বাজারে ব্যবসা করে। এই কারণে সকালবেলা তার সাথে বেশি যাওয়া হতো। আর আমার বাবা যখন ফ্রি থাকতেন তখন সেও গিয়ে মাদ্রাসা দিয়ে আসতেন। ওই সময় আমার বয়স মোটামুটি ৯-১০ বছর হয়ে গেল। এমনকি ওই সময় আমি চতুর্থ শ্রেণীতে পড়ালেখা করতাম। যদিও তার আগে আমি বাড়ির সামনে প্রাইমারি স্কুলের লেখাপড়া করেছিলাম।
তৃতীয় শ্রেণি থাকা অবস্থায় আমাকে দাগনভূঞা মাদ্রাসায় ভর্তি করানো। মাদ্রাসাটি যখন আমাদের বাড়ি থেকে দূর তখন যাওয়ার সময় আমাকে টাকা দেওয়া হতো। কারণ মাদ্রাসা আমাদের বাড়ি থেকে প্রায় দুই থেকে তিন কিলোমিটার দূর হবে। এবং বাড়িতে আসার জন্য গাড়ি ভাড়া দেওয়া হত। বিশেষ করে আমার মা নাস্তা করার জন্য টাকা বেশি দিতেন। কারণ আমি পরিবারের ছোট মেয়ে। এই কারণে আমাকে অনেক আদর করত সবাই। আবার আমার বাবা আসার জন্য ডেইলি গাড়ি ভাড়া দিতেন। মজার বিষয় হচ্ছে আমাদের মাদ্রাসার সামনে দোকান ছিল এবং কিছু ঝাল মুড়ি আচার বিক্রি করার লোক এসে অনেক কিছু বিক্রি করতেন। এই কারণে আমার টাকাগুলো দিয়ে আমি মাদ্রাসার সামনে থেকে অনেক কিছু খেতাম। তবে বিভিন্ন ধরনের আচার ও ঝাল মুড়ি খেতে অনেক ভালো লাগতো।
তবে অনেক সময় আমি গাড়ি ভাড়া গুলো খেয়ে ফেলতাম। আমাকে যে গাড়ি ভাড়া গুলো দেওয়া হতো সেগুলো দিয়ে আমি আচার বা অন্যান্য জিনিস খেতাম। কারণ মাদ্রাসার সামনে থেকে গাড়িতে উঠলে আমাদের বাড়ির সামনে নামিয়ে দিতেন । অনেক সময় আমার দুলাভাইয়ের দোকানে গেলে সেই আমাকে টাকা দিতেন কিছু খাওয়ার জন্য। আবার গাড়ি করে বাড়িতে আসার জন্য টাকা দিতেন। তবে একদিন যখন আমি টাকাগুলো খেয়ে ফেলেছি। তখন আমার দুলাভাইয়ের দোকানে গেলাম। মাদ্রাসার পাশে আমার দুলাভাইয়ের দোকান ছিল। যখন দোকানে গেলাম তখন দোকানটি বন্ধ ছিল। আর আমার কাছে কোন টাকাও ছিল না। পরে আমি মাদ্রাসা থেকে বাড়ি পর্যন্ত হেঁটে আসা চিন্তা করলাম। এবং যে রাস্তা দিয়ে আসব বাড়িতে সেটি বড় রোড।
এই রোড দিয়ে বড় বড় গাড়ি যাতায়াত করে। যখন আমার কাছে টাকা ছিল না তখন আমি হেঁটে হেঁটে বাড়ির দিকে আসতে লাগলাম। তবে মাদ্রাসা থেকে আমাদের বাড়ি পর্যন্ত আসতে প্রায় দুই ঘন্টা সময় লেগে গেল আমার। এবং বাড়িতে আসতে আসতে আমি অনেক হাঁপিয়ে গেলাম। তখন আমার মা জিজ্ঞেস করল মাদ্রাসা থেকে এত দেরি কেন হলো। তখন আমি বললাম আজকে মাদ্রাসায় একটু দেরিতে ছুটি দেওয়া হয়েছে। এই কারণে মাদ্রাসা থেকে আসতে আমার একটু দেরি হয়েছে। এই কথা বলে ঐদিন আমার মাকে আমি বুঝ দিলাম। এর কিছুদিন পর আবারো আমি গাড়ি ভাড়া এবং টিফিনের সব টাকা খেয়ে ফেলেছিলাম। মূলত সেই দিন আমি মাদ্রাসার সামনে থেকে আচার ও অন্যান্য জিনিস খেলাম। ঐদিনও আমি যখন বাড়ির দিকে হেঁটে হেঁটে আসতে লাগলাম।
তখন আমার বড় দুলাভাই দেখলো। দেখার পর সেই তাড়াতাড়ি আমার কাছে গেলেন এবং জিজ্ঞেস করল কেন হেঁটে হেঁটে বাড়ি যাচ্ছি। তখন আমি বললাম এমনিতে হেঁটে হেঁটে যাচ্ছিলাম। পরে আমার দুলাভাই বাড়িতে আসার জন্য একটা রিক্সা ঠিক করে দিলেন। এবং আমাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দিলেন। রাত্রেবেলা আমার বড় দুলাভাই আমার মা ও বড় বোনকে বললেন। এতদুর মাদ্রাসা থেকে সেই হেঁটে হেঁটে বাড়িতে আসতে লাগলো। এবং দাগনভূঞা থেকে ফেনী যাওয়ার মেইন রোডের পাশ দিয়ে হেঁটে হেঁটে আসতে লাগলো। তাকে গাড়ি ভাড়া বা টিফিনের টাকা দেওয়া হয় নাই। তখন আমার মা বলল গাড়িভাড়া এবং টিফিনের টাকা দেওয়া হয়েছে। পরে যখন আমাকে কিছু মারধর দিল তখন আমি বলে দিলাম।
আমি গাড়ি ভাড়া এবং টিফিনের টাকাগুলো ওইখানের দোকানের সামনে থেকে আচার এবং অন্যান্য জিনিস খেয়ে ফেলি। এই কারণে আমি হেঁটে হেঁটে বাড়িতে আসি। এর পরের দিন থেকে আমাদের বাড়ির পাশে একজন রিকশাওয়ালাকে বলল। দুপুরবেলা মাদ্রাসা থেকে নিয়ে আসার জন্য। তারপর থেকে আমি দুপুরবেলা তার রিক্সায় করে বাড়িতে আসতাম। সকালবেলা তো দুলাভাই নয়তো বা আমার বাবা নিয়ে যেতে মাদ্রাসাতে। এই হচ্ছে আমার মাদ্রাসা জীবনের ছোট্ট একটা স্মৃতিচারণ।
আমার নাম আকলিমা আক্তার মুনিয়া। আর আমার ইউজারনাম@bdwomen আমি বাংলাদেশে বসবাস করি। বাংলা ভাষা হল আমাদের মাতৃভাষা আর আমি মাতৃভাষা বলতে পারি বলেই অনেক গর্বিত। আমি বিভিন্ন ধরনের ছবি এবং পেইন্টিং আঁকতে খুবই পছন্দ করি। তার পাশাপাশি কবিতা আর গল্প লিখতেও আমার অনেক ভালো লাগে। আমি প্রায় সময় বিভিন্ন ধরনের পেইন্টিং এঁকে থাকি। আবার রঙিন পেপার এবং বিভিন্ন রকমের জিনিস দিয়ে নানা ধরনের কারুকাজ তৈরি করতে আমার খুবই ভালো লাগে। আবার নিজের বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে ছবি তুলতে খুবই ভালো লাগে। আমি চেষ্টা করি সব ধরনের জিনিস কখনো না কখনো একবার করে করার জন্য। আবার বিভিন্ন ধরনের আইডিয়া মাথায় আসলে সেগুলো ও করার চেষ্টা করি।
https://x.com/bdwomen2/status/1903769931331887605?t=P68QCvZ0d7wBn2Wp9bPV7A&s=19
https://x.com/bdwomen2/status/1903771491595894983?t=INL9vvMSWSa_96F9dWc4ug&s=19
https://x.com/bdwomen2/status/1903773029282541667?t=uSYXR8zSahivY1ktT-BnKw&s=19