" *খুশির*- বিয়ের দিনের গল্প "
![]()
|
---|
Hello,
Everyone,
দিনটি ছিল ১৩ ই ফেব্রুয়ারি। একদিকে ছিল আমার ননদের জন্মদিন। আর অন্যদিকে ছিল খুব কাছের একটি বোনের বিয়ের দিন। তখনকার লেখা কোনো একটা দিনলিপিতে আমি জানিয়েছিলাম যে, বাপের বাড়ির ওখানে একটি বিয়ের নিমন্ত্রণ পেয়েছি, তবে যাওয়ার তেমন কোনো প্রস্তুতি না থাকলেও, শেষ মুহূর্তে সেখানে যাওয়া হয়েছিলো।
তবে আপনাদের সাথে তখনকার তোলা ছবিগুলো শেয়ার করা হয়নি। আজ ফোনের গ্যালারি ঘাটতে ঘাটতে পুরনো ছবিগুলো চোখের সামনে এলো। আসলে আপনারা সকলেই কমবেশি জানেন, গত প্রায় 20 দিনেরও বেশি সময় ধরে হসপিটালে যাতায়াত, বাড়ির থেকে দূরে থাকা, কমিউনিটির কাজ, এই সবকিছু মিলিয়ে মোটামুটি হ য ব র ল অবস্থা।
যাইহোক আজ ভাবলাম সেই দিনের কিছু স্মৃতি ও কথা আপনাদের সাথে এই পোস্টের মাধ্যমে শেয়ার করবো চলুন তাহলে শুরু করি।
![]()
|
---|
বিয়েটা ছিলো আমার বাবার একদম ছোটবেলার বন্ধু অর্থাৎ আমার কাকুর নাতনির। কাকুর একটি মাত্র ছেলে, তারই বড় মেয়ের বিয়ে ছিলো সেদিন। সত্যি বলতে ওর ভালো নাম কি সেটা আজও জানি না, তবে আমরা ছোটবেলা থেকে ওকে খুশি নামেই ডাকি।
কাকুর সাথে আমাদের সম্পর্কের গভীরতা যেকোনো রক্তের সম্পর্কের থেকে বেশি। আসলে তৎকালীন বন্ধুত্বগুলো এতটাই পারিবারিক হতো যে, সেখানে আপন-পরের মধ্যে পার্থক্য করা একটা কঠিন বিষয় ছিলো।
ছোটবেলাতে বাড়িতে কোনো পারিবারিক বিষয় হোক, বা আমার দিদিদের বিয়ের ক্ষেত্রে হোক, অথবা আমার পড়াশোনার ক্ষেত্রে হোক, যে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বাবা ও মাকে দেখতাম কাকুর সাথে সেই বিষয়ে আলোচনা করতে।
তবে আজকালকার দিনে মানুষ নিজের লোকের সাথেই আলোচনা করে কোন সিদ্ধান্ত নেন না, সেখানে তো বাবার বন্ধুর সাথে আলোচনা করার কথা ভাবাটাও ভুল।
বিয়ের আগে দেখেছি আমাদের বাড়ির ছোট বড় আয়োজনে কাকুর ভূমিকা ছিল মুখ্য। তবে সেটা যে বিয়ের পর আর থাকেনি এমনটাও নয়। দিদিদের বিয়ে, মায়ের অসুস্থতা, মায়ের মৃত্যুর পর সকল শ্রাদ্ধানুষ্ঠান, বাৎসরিক কাজ, আমার বিয়ে, ঠাকুরমার অসুস্থতা, ঠাকুমার শ্রাদ্ধানুষ্ঠান এই প্রতিটি কাজেই কাকুর অংশগ্রহণ ছিল সবথেকে বেশি।
![]()
|
---|
সেই কাকুর নাতনির বিয়ে ছিল ১৩ ই ফেব্রুয়ারি। ফোন করে বাড়িতে নিমন্ত্রণ করেছিলো, কারণ স্বল্প সময়ের মধ্যেই হঠাৎ বিয়ের ঠিক হয়েছিল, তাই ঐ মুহুর্তে সকলের বাড়িতে গিয়ে নিমন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। শ্বশুরমশাইয়ের কারণে শাশুড়ি মায়ের যাওয়া অসম্ভব ছিলো।
অন্যদিকে আমার বোনের মেয়ের অন্নপ্রাশনের শুভ ছুটি নিয়েছিলো, তাই বিয়ের দিনও অফিস থেকে ছুটি নিতে পারেনি। প্রথমে ভাবিনি আমিও যেতে পারবো, তবে শেষ পর্যন্ত আমার দিদির সাথে আমিও রওনা হয়েছিলাম বিয়ে বাড়িতে যোগদানের উদ্দেশ্যে।
প্রথমেই আমরা আমার বড়দির শশুর বাড়িতে গিয়েছিলাম। সেখানে ব্যাংকের কিছু কাজ ছিলো আমার, তাই বড় জামাইবাবুকে সাথে নিয়ে সেটা শেষ করে আসার পর, রেডি হয়ে তিন বোন একসাথে গিয়েছিলাম বিয়ে বাড়িতে। সেদিন যদি শুভ থাকতো তাহলে আমাদের পারিবারিক ছবিটা একেবারে কমপ্লিট হতো। কারণ বাবাও আমাদের সাথে ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিল।
![]()
|
---|
রাতে ফিরে আসার প্ল্যান ছিলো, তাই খুব বেশি দেরি করিনি। বিয়ে বাড়িতে গিয়ে সব থেকে বেশি আনন্দ করেছিল তিতলি ও তাতান। দুই ভাই বোন মন ঘুরে ঘুরে চিকেন পকোড়া, কফি, ফুচকা সব খেয়েছিলো। ফলতো ভাত খাওয়ার আর কোনো প্রশ্নই ছিল না।
শুধু ওরা নয় আমরাও অল্প চিকেন পকোড়া খেয়ে, কয়েকটা ফুচকা খেয়ে, একটু তাড়াতাড়ি খাবার খেতে বসেছিলাম।আয়োজন ছিল খুবই সাদামাটা, তবে রান্না ছিল ভীষণ সুস্বাদু। যেরকম বিয়ে বাড়িতে খেতে আমি ব্যক্তিগতভাবে পছন্দ করি, আয়োজন গুলো ঠিক তেমনি ছিল।
না ছিল বিরিয়ানি, আর না ছিল পোলাও, সাদামাটা বাঙালি খাবার। আসলে অনেকদিন বাদে এরম একটা বিয়ে বাড়িতে নিমন্ত্রণ পেয়েছিলাম, যেখানে পরিবারের সকলে মিলে অনেক সুন্দর কিছু মুহূর্ত কাটিয়েছিলাম।
ও খুশির কথা তো আপনাদের সাথে শেয়ার করা হয়নি। যদিও বয়সে আমার থেকে অনেক ছোটো, কিন্তু ছবি দেখে আশা করি বুঝতে পারছেন সে অনেক বড়। কি যে মিষ্টি লাগছিল ওকে বিয়ের সাজে, তা আপনারা হয়তো ছবি দেখে খানিকটা আন্দাজ করতে পারবেন।
![]()
|
---|
তাড়াতাড়ি গিয়েছিলাম তাই খুব বেশি ভিড় তখনো বিয়ে বাড়িতে হয়নি। তাই ফাঁকা দেখে বেশ কয়েকটি ছবি তুলে নিলাম খুশির সাথে। তবে দুঃখের বিষয় আমার সাথে ওর কোনো ছবি নেই। হ্যাঁ ওদের যে ক্যামেরাম্যান ছিলো তার কাছে আছে বটে, কিন্তু আমার ফোনে ওর সাথে তোলা কোনো ছবি নেই। তোলার খুব বেশি প্রয়োজনবোধ করিনি, কারণ যাদের ছবি ধারণ করতে চেয়েছিলাম তাদেরকে একত্রে পেয়েছিলাম, এর থেকে আর বেশি কি চাই বলুন?
আর কোথাও না কোথাও সেদিন তিতলি ও তাতানকে সামলানোর দায়িত্ব আমার দিদির থেকেও বেশি ছিল আমার উপরে। আসলে চাকরির সূত্রে সকলের সাথে ওর খুব বেশি দেখা হয় না, বরং তার থেকে বেশি আমার সাথে দেখা হয় যখন আমি গ্রামের বাড়িতে যাই। তাই যেই দেখছিল সেই ওর সাথে কথা বলছিলো। তাই ওর ব্যস্ততা একটু ভিন্ন ছিলো বলে ছেলে মেয়ের দায়িত্বটা আমিই নিয়েছিলাম।
যাইহোক শেষমেষ খেতে বসেছিলাম, যদিও পকোড়া এবং ফুচকা খেয়ে পেটটা মোটামুটি ভরাই ছিলো। তারপরেও সবকটা আইটেমই টেস্ট করেছিলাম। এই কারণেই বলতে পারলাম প্রত্যেকটা রান্না খুব ভালো হয়েছিল।
![]()
|
---|
খাওয়া-দাওয়া শেষ হওয়ার পর তিতলি ও তাতানের বায়না হল তারা নাকি নাচ করবে। তবে ওদের সাথে আমাদের অংশগ্রহণও বাধ্যতামূলক ছিলো। না হলে নাকি নাচ করবে না। তাই অগত্যা আমি ও কাকু ওদের সাথে যোগ দিলাম। সেই মুহূর্তের ছবি ধারণ করা হয়নি, তবে ভিডিও তুলেছিলো দিদি। সেখানকার স্ক্রিনশট আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম।
![]()
|
---|
![]()
|
---|
সবশেষে স্টেশনের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম কারণ, আমাদের ট্রেন ছিল রাত ৯.০৫ মিনিটে। কাকুদের বাড়ির পাশের একটি টোটো কাকু নিজেই ঠিক করে রেখেছিলো। আর আমাদেরও রিটার্ন টিকিট কাটা ছিলো। ফলতো খুব একটা অসুবিধা হয়নি ট্রেনটা পেতে। স্টেশনে উঠতেই তিতলির বায়না-" মিমি আমার সাথে প্লিজ একটা সেলফি তোলো।" একদমই ইচ্ছে ছিল না, কিন্তু কি করবো বাধ্য হয়ে তুললাম।।
![]()
|
---|
সেদিন ভীষণ ঠান্ডা ছিলো এমনটা নয়, তবে রাতের দিকে তখন ভালোই ঠান্ডা পড়তো। আর ট্রেন যেহেতু একেবারেই ফাঁকা ছিলো তাই ট্রেনে উঠলে হাওয়া লাগবে, এটা ভেবে বড়দি একটা চাদর দিয়ে দিয়েছিলো। ভাগ্যিস দিয়েছিল যে কারণে গোটা চাদর দিদিরা গায়ে জড়িয়ে বসতে পেরেছিল। দেখতে বেশ মজা লাগছিলো বলে আমি দুষ্টুমি করে সেই মুহূর্তেরও একটা ছবি তুলেছি।
![]()
|
---|
আমার প্ল্যাটফর্ম আগে ছিলো, তাই শুভকে আগেই ফোন করে দিয়েছিলাম। ও স্টেশনে অপেক্ষা করছিলো আমার জন্য। এরপর আমার প্ল্যাটফর্ম আসলে আমি দিদি ও দাদাদের থেকে বিদায় নিয়ে গেটের সামনে এসে দাঁড়ালাম। হঠাৎ পেছনের দিকে তাকিয়ে দেখি বাবা আমার পেছনটাতে দাঁড়িয়ে।
উঠে এলে কেন? - জিজ্ঞেস করতেই বলল,- তুই নেমে যা, তারপর আমি আবার গিয়ে বসছি।
এটাই বোধহয় সব বাবারা করে থাকেন। যদিও জানে আমি একাই চলাফেরা করতে পারি, তবুও ট্রেন থেকে নামার আগের মুহূর্তে গেটের সামনে এসে দাঁড়ালো, যাতে আমি ঠিক ভাবে নেমেছি কিনা সেটা দেখতে পারে।
মুহূর্তটা খুবই ছোট্ট, খুবই সাধারণ। কিন্তু এক অসাধারণ অনুভূতি সেদিন অনুভব করেছিলাম। ভালো থাকুক পৃথিবীর সব বাবারা।
শুভরাত্রি।
সর্বপ্রথম আমি বলব আসলে আমাদের মোবাইলে ধারণ করা কিছু ছবি যেগুলো আমাদের অনেক পুরনো দিনে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পারে। ঠিক যেমনটা এখান থেকে বেশ কিছু দিন আগে আপনি একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন তার কিছু মুহূর্ত আমাদের মাঝে তুলে ধরেছেন। ছবি গুলো ধারণ করা ছিলো বলে আপনি সেই পুরনো দিনে আবারো ফিরে যেতে পেরেছেন। তাদের দাম্পত্য জীবনের জন্য মন থেকে শুভকামনা রইল প্রার্থনা রইলো।
বিয়ের অনুষ্ঠান মানে একটি আনন্দ মহল বিশেষ করে আপনাদের ধর্মীয় বিয়ে গুলো অনেক বেশি আনন্দ উপভোগ করা যায় বলে আমার মনে হয় । কারণ আপনাদের এই বিয়ের অনুষ্ঠান গুলো অনেক দিন চলতে থাকে। যাইহোক ভালো লাগলো আপনার বোনের বিয়ের কিছু মুহূর্ত দেখতে পেয়ে শুভকামনা রইল আপনার জন্য।
বিয়ের অনুষ্ঠান মানেই হচ্ছে সবাই মিলে একটু আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়া আপনারা সবাই মিলে অনেক সুন্দর ভাবে সময় কাটিয়েছেন যেটা দেখে বেশ ভালো লাগলো আসলে মা ছাড়া পরিবারটা অসম্পূর্ণই থাকে সেটা আমিও বুঝতে পারি তবে কিছুই করার নেই তবে সবাই মিলে খুব সুন্দর মুহূর্ত পার করেছেন এটাই হচ্ছে সবচাইতে বড় কথা ধন্যবাদ বিয়ের অনুষ্ঠানের বিষয়টা আমাদের সাথে তুলে ধরার জন্য ভালো থাকবেন।