বাইক এক্সিডেন্ট
আসসালামু আলাইকুম
আমি @sajjadsohan from 🇧🇩.
১২ই ফেব্রুয়ারি, বুধবার।
হ্যালো ইনক্রেটেবল ইন্ডিয়াবাসী। আশা করি সবাই ভাল আছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় ভাল আছি, আজকে নিজের কিছু মনের কথায় লিখে দেয়ার চেষ্টা করব, নিজের অনুভূতি প্রকাশ করার চেষ্টা করব।
বাইক এক্সিডেন্ট
টাইটেল দেখে আতঙ্ক হওয়ার কিছু নেই আলহামদুলিল্লাহ আমি ভালো আছি। কারোরই তেমন ক্ষতি হয়নি, মূলত বাইকের কিছু জিনিস আপডেট করার জন্য মিরপুর বাইক পট্টি এরিয়াতে যাচ্ছিলাম। মিরপুর একটা গলি আছে সেই গলির নাম বাইকের নামেই রাখা হয়েছে। কারণ অতটুকু এরিয়ার মধ্যে বাইকের যাবতীয় জিনিসপত্র পাওয়া যায়। কোন জিনিসের প্রয়োজন হলে সেই পুরান ঢাকা যেতে হয়, তাই মিরপুরেও এরকম একটা এরিয়া ঢাকাতে বেশ ভালো হয়েছে।
আমি সিকিউরিটির জন্য আমার পুরো লক সেট পরিবর্তন করার চিন্তা করলাম, বাইকের মধ্যে তিনটি জায়গায় লক থাকে। আমার লকটা বেশ অনেক ব্যবহার হয়েছে মনে হচ্ছিল চোর চাইলেই একটু চেষ্টা করলে বাইক স্টার্ট করতে পারবে বিষয়টা রাতের বেলা অনেক বড় ভাই বলল। সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠেই আমি আর আমার এক বন্ধু চলে গেলাম এটা পরিবর্তন করতে।
ঢাকা মিরপুর ঢোকার একটু আগে রাস্তার একটা মোড় ছিল। অনেক জ্যাম থাকার কারণে মোড় ঘুরে দাঁড়িয়ে আছি। পেছন থেকে বাস এসে কন্ট্রোল করতে পারব না, বাইকের সাথে হালকা একটু টাচে লাগলো। তেমন জোরে ধাক্কা লাগে নি আমরা স্বাভাবিকভাবেই বসে আছি, কিন্তু অল্প একটু টাচেই পিছনের ব্যাক লাইটের কভার টা ভেঙে গেল।
বাস ড্রাইভার বেচারা অনেকটাই ভয় পেয়েছে, কিন্তু কেন যেন তাকে আর কিছু বলতে ইচ্ছে করলো না। শখের জিনিসটা ভেঙে গেল এটা দেখে আমার মন এত পরিমাণ খারাপ হয়ে গেল আমি আর কিছু বললাম না, এরপর ড্রাইভার এর ভয় পাওয়া দেখে তাকে আবার কিছু বলতে ইচ্ছে করল না। মাফ করে দিলাম যদিও আশেপাশের মানুষ বকাঝকা করছিল, তাদেরকে বকাঝকা করতে না করলাম মানুষ ইচ্ছে করে এক্সিডেন্ট করে না।
এটা কিছু জিনিস আপডেট করতে যাব, মাঝপথে আরও একটা কাজ যুক্ত হয়ে গেল মনটাই খারাপ হয়ে গেল। ভেবেছিলাম কভারটা খুব বেশি একটা দাম হবে না, তারপরেও কভারের দাম ৩০০ টাকা ছোট একটা প্লাস্টিকের টুকরা। অল্প কিছু সময় ঘোরাঘুরি করার পর লক সেট তো পেয়ে গেলাম, কিন্তু লাইটের কভার টা আর খুঁজে পাচ্ছি না।
এমনিতেই অ্যাক্সিডেন্টের কারণে মনটা খারাপ, শখের একটা জিনিসের মধ্যে ছোট একটা দাগ লাগলেই অনেক খারাপ লাগে। অবশেষে একটা পেলাম এবং কিছু জিনিস ঝালাই করা প্রয়োজন ছিল। এখানে এত পরিমাণ ভিড় এত পরিমাণ মানুষ এখানকার মেকানিকদের অনেক ডিমান্ড। একটা কাজ শেষ করে অন্য একটা কাজের জন্য আর সময় পেলাম না, তাই কি আর করার কভারটুকু হাতে নিয়ে বাসায় চলে আসলাম।
বাসায় এসে কোনরকম লাগাতে পেরেছি ঠিকই কিন্তু ঠিকভাবে হয়নি, আবার একদিন সময় করে যেতে হবে এই ছোট্ট একটা কাজের জন্য। কিছু জিনিস আপডেট করতে গিয়ে উল্টো একটা জরিমানা খেয়ে আসলাম, তারপরেও যদি ঠিক করতে পারতাম, কি আর করা আল্লাহ যা করে ভালোর জন্যই করে, এর থেকে আরো বড় কোনো ক্ষতি হতে পারতো সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে নিজের মনকে সান্ত্বনা দিলাম।
সত্যিই তো সেই মোড় ক্রস করে জ্যামের মধ্যে ছিলাম, বাস ড্রাইভার যদি আরেকটু পরে ব্রেক করত শুধু লাইট নয় আমরাও পড়ে যেতাম। আরও সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে, সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞ, সকলের দোয়ায় খুব বেশি একটা ক্ষতি হয়নি।
আপনার অভিজ্ঞতাটি সত্যিই জীবনযাত্রার এক অসাধারণ প্রতিচ্ছবি। বাইক এক্সিডেন্টের মতো ঘটনাগুলো আমাদের অনেক কিছু শিখিয়ে দেয়, যেমন ধৈর্য এবং সাবধানে চলার প্রয়োজনীয়তা। আপনি যা বলছেন, তা ঠিক, অনেক সময় ছোট ছোট জিনিসের ক্ষতি আমাদের মন খারাপ করে তোলে, তবে বড় ক্ষতির তুলনায় এটি কিছুই নয়। আপনি সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সত্যিই সুন্দরভাবে এটি মোকাবিলা করেছেন আপনে। ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন, আপনার জন্য সব সময় দোয়া রইল।
আপনার পোস্টটি পড়ে সত্যিই অনেক খারাপ লাগলো। অল্পতেই যেহেতু রক্ষা পেয়েছেন আলহামদুলিল্লাহ। দুর্ঘটনা কখনো ইচ্ছাকৃত হয় না, তবে সতর্কতা সব সময় জরুরী। শখের জিনিস নষ্ট হলে মন খারাপ হওয়া স্বাভাবিক।,কিন্তু বড় কোন ক্ষতি না হয় এটাকে ভাগ্যর ভালো দিক হিসেবেই দেখতে পারেন। সামনে আরো সচেতন থাকবেন।