Better Life with Steem|| The Diary Game|| 13th March 2025||ঘুরে এলাম প্রিয় বিদ্যাপীঠ।

in Incredible India14 days ago
1000001078.jpg

নমস্কার বন্ধুরা,
দিন বাদে একটু ঘোরাঘুরি তবে পূর্ব থেকে কোনো প্রস্তুতি ছিল না। জীবন চলার পথে কিছু কিছু স্থান এতোটাই স্মৃতিময় হয় যেন সেইটার মায়া ই আমরা কাটিয়ে উঠতে পারি না। ঠিক তেমনি একটি স্থান এই মহাবিদ্যালয়।

আমার কাছে শুধু মাত্র বিদ্যালয় না বরং অধ্যয়নকালীন এই মহাবিদ্যালয় ও হৃদয় স্থান পাওয়া একটি প্রতিষ্ঠান। এখানে আমার জীবনের দুইটা বছর অতিবাহিত করেছি। যাইহোক, তাহলে চলুন আমরা মূল লেখাতে চলে যাই।

Morning

ঐ যে সকালটা আমার বিগত দিনের মতো বিলম্ব করেই শুরু হয়েছিল। তবে আমার ভাগ্নির চেঁচামেচিতে আজকে সৌভাগ্যবশত সকাল নয়টায় ঘুম ভেঙ্গেছিল। পুচকুকে বাড়ি রেখে যেতে হবে তাই আমি যেতে চাচ্ছিলাম না। কিন্তু আমার বোনের পরীক্ষার ফি রেজিস্ট্রেশন করতে হবে তাই ইচ্ছে না থাকা সত্ত্বেও রেডি হলাম।

1000001020.jpg
1000001021.jpg

কি ব্যাপার? ফয়লা বাজার পৌঁছেই দেখলাম কিছু দোকানে সাটার টেনে বন্ধ করছে। প্রথমে কিছু বুঝতে পারলাম না। তবে পাশেই বাজার কমিটির লোকজনের সোরগোল, বলাবলি করছে ম্যাজিস্ট্রেট এসেছে আর দোকান সার্চ করছে। এই ছোট স্থানের মধ্যে এটা অনেক বড় একটা বাজার যে কারণে মেইন রাস্তায় ঢোকা মাত্রই অন্যরা চালাকি করে দোকান বন্ধ করে ফেলছে।

আমার বোনের হাজবেন্ডের দোকানে যেতে হবে এবং সেখানে পৌঁছেই দেখলে উল্টো পাশে পুলিশ এবং সাথে ম্যাজিস্ট্রেট। একদমই জায়গা মতো ঢুকে পড়েছে - ওষুধের ফার্মেসিতে। আমি কিছুক্ষণ দেখলাম, এমনি ফার্মেসির লোকটি ছিলেন আমার বন্ধুর বড় ভাই নিশ্চয়ই কোনো সমস্যা হয়েছে। অর্থাৎ মুখটা মলিন দেখাচ্ছিল। প্রকৃতপক্ষে ফার্মেসির অসতর্কতার জন্য অনেক প্রাণ অকালে ঝরে যায়, এই ধরনের অভিযান মাঝেমধ্যে খুব প্রয়োজন। এমনকি এই বাজারে ইতিপূর্বে মেয়াদ ছাড়া ওষুধের জন্য শিশুর মৃত্যু পর্যন্ত হয়েছে।

1000001023.jpg

সারিবদ্ধভাবে মাহেন্দ্র করে মিছিল আসছিলাম, কারণ ফয়লা বাজার আজ বিশাল রাজনৈতিক সমাবেশ। আমিও বোন একটা অটোতে করে কলেজের দিকে যাচ্ছিলাম। পথের দূরত্ব কম তাই আর বাসের জন্য অপেক্ষা করে সময় নষ্ট করলাম না।

Noon

1000001025.jpg
1000001029.jpg
1000001027.jpg
1000001026.jpg

মহাবিদ্যালয়ের সদর দরজা দিয়ে প্রবেশ করেই যেন একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লাম। স্থানটা পরিবর্তন হয়নি কিন্তু আগের সেই পরিবেশ আর নেই। নতুন নতুন ভবন তৈরি হয়েছে চেনা মুখ গুলো নেই। প্রতিটটি কক্ষ এবং মাঠের প্রতিটি ঘাসের সাথে মিশে আছে অনেক স্মৃতি। বোনকে অপেক্ষা করতে বলে আমি হোস্টেল সুপার ম্যামের কক্ষের সামনে গিয়েছিলাম।

ম্যাম অধ্যক্ষ স্যারের কক্ষে, তাই সেখান থেকে ফিরে এলাম। তবে মাঝপথে দক্ষিণ পাশের বকুল গাছে এখন বকুলের ফল দেখা যাচ্ছে। আমাদের সময় এই গাছটা অনেক ছোট ছিল এখন দেখে চেনাই যায় না। এই নির্দিষ্ট স্থানের চেহারাটাই যেন পাল্টে গিয়েছে।

1000001035.jpg

অফিস কক্ষে গিয়ে সকল কাজ শেষ করে প্রিয় অধ্যাপক ও প্রভাষক উপস্থিত সকলের সাথে কুশল বিনিময় করলাম। তবে এতেই শান্তি যে এতো শিক্ষার্থী আসা যাওয়ার এই প্রতিষ্ঠান কিন্তু আমার প্রিয় অধ্যাপক ও প্রভাষকগণ যাদের সকলের কাছেই আমি আগের সেই শিক্ষার্থী। এখনো হোস্টেল সুপার ম্যাম তাঁর দেওয়া নামটা ভোলেননি।

Afternoon

1000001033.jpg

ভাগ্নি বাড়ি তাই বোনকে কাজ শেষ হতেই বললাম বাড়ি ফিরে যেতে। কারণ হঠাৎ করেই মা কল করছ মাংস ক্রয়ের কথা বলেছে। তাই আমাকে আবার দিগরাজ বাজারে যেতে হবে।

1000001036.jpg
1000001042.jpg

অনেক সময় অপেক্ষা করেও কোনো গাড়ি পেলাম না। হঠাৎ দেখলাম একটা ইজিবাইক যেটাতে উঠে পড়লাম। সত্যি বলতে এই রাস্তাটা খুব বিপদজনক। আপনারা যাঁরা নিয়মিত নিউজ দেখেন রামপাল -মোংলা সড়ক দুর্ঘটনার খবর হয়তো প্রায়ই দেখতে পান।

1000001044.jpg
1000001046.jpg

এই সেই রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে প্রবেশের দ্বার। আমি চলতি গাড়িতে বসে ছবিটা তুলেছি তাই অস্পষ্ট মনে হতে পারে। তবে একটা ছবি জুম করলেই দেখবেন ইঁটের ভাটার মতো ধোঁয়া বের হওয়ার একটা লম্বা বড় পাইপ দেখা যাচ্ছে।

1000001047.jpg

মাংস কেনার পরে অটোতে করে ভাগা বাজারে এসে আবার ফল নিয়েছিলাম। অবস্থা গরমে একদমই নাজেহাল, তাই বিলম্ব না করে বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে পা বাড়ালাম।

1000001048.jpg

সিকির নদীপথে বাড়িতে ফিরে এসেছিলাম। এখানে এখনো ব্রিজের কাজ শেষ হয়নি, তাহলে হয়তো অর্থ এবং সময় উভয়ই কিছুটা সাশ্রয় হতো। বাড়িতে ফিরতে ফিরতেই গোধূলি লগ্ন।

এভাবেই আমি সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সময় অতিবাহিত করেছিলাম। আমার আজকের লেখাটি এখানেই সমাপ্ত করছি। সকলে ভালো থাকুন, সুস্থ্য থাকুন।

Sort:  
Loading...


We support quality posts and good comments Published in any community and any tag.
Curated by : edgargonzalez

 13 days ago 

Thank you so much 🙏