ভরপেট খাওয়া দাওয়া

in Incredible India4 days ago (edited)

নমস্কার বন্ধুরা, আশা করছি সকলে সুস্থ আছেন। বেশ অনেকদিন পরে আজকে আমি আপনাদের সকলের সাথে আরও একটি দুর্দান্ত পোস্ট শেয়ার করতে চলেছি। যেখানে খাবার থাকে সেখানে আমরা নিজেদের সামলাতে পারি না। কারণ খাবার দেখলে আমাদের নিজেদের কাউকে আমরা আটকে রাখতে পারি না।

20250323_212709.jpg

মানুষ আর কিছু না পছন্দ করুক ,অন্তত খেতে ভালোবাসে। না খেয়ে কারোর পক্ষে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। তবে আমরা সকলেই মাঝেমধ্যে বাড়ির খাবার খেয়ে ক্লান্ত হয়ে যাই,প্রত্যেকদিন একই রকম টেস্টের খাবার খেতে খেতে একটা টাইম পরে মনে হয় যদি একটু ওয়েদার টা চেঞ্জ করে বাইরে কোথাও খেতে যাওয়া যেত।

IMG-20250323-WA0074.jpg

আমাদের বাড়িতে এই ঘটনাটা প্রায় হয়ে থাকে, আমি কোনরকম কিছু চাহিদা করার আগেই বাবার কাজের সূত্রে অথবা বাড়িতে এত পরিমানে লোকজন আসা লেগে থাকে, আমাদের নানাভাবে এদিক-ওদিক খাওয়া হয়ে যায়। যেমন আমার কখনো জেঠিনদের বাড়িতে খাওয়া-দাওয়া লেগে থাকে। বন্ধুদের বাড়িতে খাওয়া দেওয়া লেগে থাকে। তারাও আমাদের বাড়িতে আসে। এরকম ভাবে চলতে থাকে ।তার সাথে মাঝেমধ্যে আমরা রাতের দিকে যখন ঘুরতে বের হই।তখন আমাদের কিছু প্রিয় রেস্টুরেন্ট আছে ,সেখানে আমরা খাওয়া-দাওয়া করতে যাই।

বাবা আর রাজু কাকা
IMG-20250323-WA0052.jpg

মাঝে মামার বাড়ি যাওয়া হয়েছিল ,তারপর যখন ফিরে আসলাম একদিন হঠাৎ করেই বাবা প্ল্যান করল যে রেস্টুরেন্টে নিয়ে যাবে। তবে যাবো শুধু - আমি ,বাবা আর বাবার বন্ধুর দুই মেয়ে। ওদের নাম নেহা এবং পূজা। আসলে ওদের বাড়িতে আমরা অনেক খাওয়া-দাওয়া করেছি। তবে ওদেরকে নিয়ে কখনো সেরকম ভাবে রেস্টুরেন্টে যাওয়া হয় না। পূজা, নেহা দুজনেই কলকাতাতে থাকে পড়াশোনা সূত্রে ।মাঝেমধ্যে এখানে আসে ।আর যখনই আসে আমাদের সাথে দেখা হয় এবং আমাদের দুই ফ্যামিলির মধ্যে খুব ভালো বন্ডিং আছে। ওরা দুজনাই আমার থেকে ছোট ।আমার বোনের মতন।

পূজা আর নেহার সাথে
20250330_211318.jpg

যাইহোক এই কারণে হঠাৎ করে প্ল্যান করে ওদেরকে ফোন করে রেডি হতে বললাম। আর তারপরে গাড়ি নিয়ে চলে গেলাম আমাদের পছন্দের একটা রেস্টুরেন্ট এ।গাড়িতে আমাদের ড্রাইভার কাকু ছিল ,সাথে ছিল বাবা। বাবা আসলে গাড়িটা ড্রাইভ করে নিয়ে গিয়েছিল। ফাঁকা রাস্তায় ড্রাইভ করাতে বাবার কিছুটা ড্রাইভিং প্র্যাকটিসও হয়ে যায়। রাজু কাকা পাশে থাকায় বাবা একটু মনের জোর পায়।

20250323_203238.jpg

প্রথমেই রেডি হয়ে পূজা আর নেহার বাড়িতে চলে গেলাম। ওদের ওখান থেকে তুলে নিয়ে তারপরে চলে গেলাম রেস্টুরেন্টে। রেস্টুরেন্টটা নবদ্বীপ আমঘাটা লাইনে ।জায়গাটার নাম যতদূর জানি - চামটা। তবে এই রেস্টুরেন্টের সাথে আপনাদের এর আগেও একবার পরিচয় করিয়েছিলাম। এই রেস্টুরেন্টটা শহর থেকে একটু অফ সাইডে হওয়ার কারণে রেস্টুরেন্টটা একটু হালকা থাকে ,মানে লোকজনের ভিড় কম এবং রেস্টুরেন্টের পরিবেশ মনোমুগ্ধকর।

20250323_203209.jpg

রেস্টুরেন্ট এর নাম NTM.ওখানে পৌঁছেই আমি, নেহা, পূজা মিলে প্রথমে হালকা কিছু অর্ডার করে নিলাম। পূজার আইডিয়ার মত একটা ফিসের আইটেম এবং একটা চিকেন আইটেম অর্ডার করতে হলো। আমার নামগুলো মনে না থাকলেও একটা ছিল ফিশ ফিঙ্গার এর মতন আইটেম। আরেকটা চিকেন সসেজ টাইপের কিছু ছিল। ছবিটা দেখেই আশা করি আপনাদেরও লোভ লাগছে। ডিস টা যেমন দেখতে লাগছে, তার থেকেও অসাধারণ খেতে ছিল।

20250323_210139.jpg

হালকা এই আইটেমগুলো খেতে খেতে আমরা মেইন কোর্সের অর্ডার করে দিলাম। অর্ডার করেছিলাম বাটার নান। বাটার নান গুলো একটা কে তিন পিস করে ভাগ করে দেয়া হয়। দুটো বাটার নান অর্থাৎ ছটা পিস ছিল। ছিল একটা কুলচা ।আমি মাসালা কূলচা অর্ডার করেছিলাম। একটা কুলচাতে চারটে পিস থাকে। এর সাথে অর্ডার করেছিলাম বাসন্তী পোলাও, মিক্স ফ্রাইড রাইস , চিকেন রারা, চিকেন স্পাইসি লেগ, আর চিকেন ভর্তা। এর সাথে ছিল মাসালা কোক আর ভার্জিন মোজিত। বাবার রুটিও খেয়েছিল।

20250330_211626.jpg

আমি বুঝতে পারিনি কার কতটা লাগবে, আসলে খাবার কম হলে অসুবিধা হয় ।তাই একটু বেশি করেই অর্ডার করা হয়েছিল।। তবে এত খাবার কি খাওয়া যায়! চিকেনের লেগ গুলো এতটাই বড় ছিল যে, তারপরে আর কোন কিছুই খাওয়া যাচ্ছিল না।। চিকেন ভর্তা আর কুলচা আমার অসাধারণ খেতে লেগেছে।

20250330_211658.jpg

রেস্টুরেন্টে প্রত্যেকটা আইটেম রিজিনেবল ছিল। সেদিনকে সবমিলিয়ে মোটামুটি ২৫০০ টাকা বিল হয়েছিল। অর্থাৎ ২২৭ স্টিম। আমরা টোটাল পাঁচজন ছিলাম। কিন্তু আমরা অত আইটেম খেতে পারিনি। যেগুলো খেতে পারি নি ,সেগুলো প্যাক করে নিয়েছিলাম।

20250330_211806.jpg

বাড়ির জন্য আর কাকিমাদের বাড়ির জন্য নান আর চিকেনের একটা আইটেম নিয়ে নিয়েছিলাম বলে টাকাটা এতটা বেশি লেগেছিল। তবে আমি অল্প অল্প করে সব আইটেম ট্রাই করেছি ।আশা করি আমার ছবিতেই আপনারা বুঝতে পারছেন।

খাওয়া দাওয়া করে পেটটা বেশ ভালই বোঝাই হল ।আসলে সেদিনকে আবার সকালে যা আমি টিফিন করেছি, তারপরে দুপুরবেলায় খাওয়া-দাওয়া করিনি। তাই পেটটাও খালি ছিল, তাই যখনই বাবা প্ল্যান করলো, আমি এক কথায় রাজি হয়ে গিয়েছিলাম। সবাই মিলে বেশ মজা হল। আনন্দ হল। খাওয়া-দাওয়া হল। রেস্টুরেন্টের হলুদ আলোতে আমরা সকলে মিলে সুন্দর সুন্দর ছবি তুললাম।পূজা আর নেহা আমাকে কিছু ভালো ছবি তুলে দিল।

মাসালা কোক আর ভার্জিন মোজিত
1000223058.jpg

রেস্টুরেন্ট পরিষ্কার হলে, তার পরিবেশ ভালো হলে এবং খাওয়া-দাওয়ার কোয়ালিটি ভালো হলে ,তবেই রেস্টুরেন্ট বেশি চলে ।বিগত কিছু মাস হল এই রেস্টুরেন্ট অসম্ভব ভালো চলছে। আমার মোটামুটি এই রেস্টুরেন্টে চার থেকে পাঁচ বার যাওয়া হয়ে গেছে। একদিন দিনের বেলায় যাওয়ার খুব ইচ্ছা আছে। আর ওদের থালি ট্রাই করার ইচ্ছা আছে।

IMG-20250323-WA0014.jpg

20250323_215805.jpg

যাইহোক,আশা করছি আমার আজকের পোস্ট আপনাদের সকলের ভালো লেগেছে। সকলে ভালো থাকবেন। আজ এখানেই শেষ করছি।

রেস্টুরেন্টের লোকেশন

Sort:  
Loading...
 4 days ago 

তুমি খেতে ভীষণ ভালোবাসো, এটা তো আমি ভালো করেই জানি। তবে তোমার খাওয়াটা যে খেয়াল খুশি সেটাও জানি। তোমাদের বাড়িতে বলতে গেলে প্রায় প্রত্যেক দিনই লোকজন আসা যাওয়া করে আর এটা ওটা খাবার তো লেগেই থাকে। বন্ধুদের সাথে অনেক খাবার-দাবার অর্ডার দিয়েছিলে। সকলে মিলে খুব আনন্দ সহকারে খাওয়া-দাওয়া করেছ। বন্ধুদের সাথে সুন্দর সুন্দর খাবার মুহূর্ত শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

Loading...

TEAM 7 ¡Congratulations! This post has been voted through steemcurator09. We support quality posts, good comments anywhere and any tags.

1000098952.png

Curated By: @vivigibelis
 3 days ago 

এই রেস্টুরেন্টটার নাম অনেক শুনেছি তবে কোনো দিন যাওয়া হয়নি। তবে তোর এই পোস্টটা দেখে এখানে যাওয়ার ইচ্ছেটা আরো বেড়ে গেল। আর খাবারগুলো খুবই লোভনীয় দেখতে লাগছে।

আর একটা খুব ভালো সন্ধ্যা কাটিয়েছিস সেটা পোস্ট পড়েই বুঝতে পারছি। পোস্টটা অনেক ভালো লাগলো।

 2 days ago 

আসলে হঠাৎ করে করা প্ল্যানগুলো কিন্তু অনেক ভালো হয়ে থাকে যেমন আপনি হঠাৎ করেই রেস্টুরেন্টে খাওয়া-দাওয়া করার একটা প্ল্যান করেছেন সবাই মিলে রেডি হয়ে গাড়িতে করে প্রথম অবস্থায় তাদেরকে নিয়ে আপনার একটা রেস্টুরেন্টে চলে গেছেন তারপর ভরপেট খাওয়া দাওয়া করেছেন আপনি একেবারেই ঠিক বলেছেন মানুষ কিছু পছন্দ করুক বা না করুক তার পছন্দের খাবার খেতে অনেক বেশি পছন্দ করে আর আপনারা যেহেতু বাড়ীর জন্য কিছু খাবার নিয়েছেন তাই আপনাদের বিল অনেক বেশি এসেছে যাইহোক সবার সাথে কাটানো আনন্দঘন মুহূর্তটা আমাদের সাথে তুলে ধরার জন্য ধন্যবাদ।