শিবরাত্রি - ১ম পর্ব

in Incredible Indialast month

নমস্কার বন্ধুরা। আশা করছি আপনারা সকলে সুস্থ আছেন। আজকে আমি আপনাদের সকলের সাথে শেয়ার করতে চলেছি শিবরাত্রির কিছু মুহূর্ত।
হিন্দু ধর্মে প্রত্যেক মাসে মাসে অনেক ধরনের পুজো লেগে থাকে। একটা পুজো শেষ হয়ে গেলে আর একটা পুজোর শুরু হয়। এই ধরুন শিবরাত্রি চলে গেল ,এবার আসতে চলেছে দোল যাত্রা। পরপর এরকমভাবেই কিছু না কিছু লেগে থাকে।

20250226_175142.jpg

হিন্দু ধর্মে শিব চতুর্দশী পালন করাই হলো শিবরাত্রি পালন করা । অর্থাৎ একাদশীর পরে যে চতুর্দশী আসে সেদিন কেই পালন করা হয়ে থাকে। আর এটা সাধারণত ফাল্গুন মাসেই হয়। হিন্দু ধর্মে বলা হয়, এই দিন অর্থাৎ এ রাতে শিব পার্বতীর বিবাহ সম্পন্ন হয়েছিল। এই কারণেই প্রত্যেক বাঙালি হর গৌরীর এই দিনটিকে শুভদিন হিসেবে পালন করে থাকে।

বিবাহিত নারীরা যেমন পূজো দিয়ে থাকে ,তেমন অবিবাহিত নারীরদের ভালো বর পাওয়ার জন্য শিবরাত্রির উপোস করার একটি প্রচলন রয়েছে। কিন্তু আমার ক্ষেত্রে এ সমস্ত কিছুই প্রযোজ্য নয়। আমার নিজের ইচ্ছা এবং মনের ভালবাসা থেকে আমি পুজো করে থাকি ।

20250301_222714.jpg

শিবরাত্রি বা শিব চতুর্দশী আমি কোনদিন পালন করিনি এর আগে । এদিন এর আগে কখনো উপোস থাকতাম না ।আমার বাড়িতে শিবলিঙ্গ আছে ।তাই সোমবার করে শিবের পুজো করা হয়। সেটা আমি মাঝেমধ্যেই করে থাকি। কিন্তু এছাড়া শিবের পুজো সেরকম করতাম না। আমার বাড়ির পাশে শিবতলা বারোয়ারি থাকার সত্বেও আমার চিরকাল ভক্তি ছিল মা এর প্রতি। দেবী মায়ের পূজার সময়গুলোতেই সাধারণ উপোস করে থাকতাম।

20250226_181420.jpg

তবে বিগত দু'বছর ধরে খেয়াল করছি আমার ভেতরে এক অদ্ভুত টান শিব ঠাকুরের প্রতি কাজ করে ।বাবার স্থানে গিয়ে যে অনুভূতিটা প্রথমে আগে অনুভব করতে পারতাম না, সেটা এখন খুব ভালোভাবেই পারি ।আমার কাছে সব দেবতাই এক। আমার পূজো করতে বেশ ভালো লাগে ,আর ঈশ্বরের নাম গান গাইতে আমার সত্যিই অনেক পছন্দ ।আমার মনে হয় এটা আমার মনকে অনেকটা শান্ত রাখে ।

20250226_175229.jpg

যাইহোক শিবরাত্রি আসার বেশ অনেকদিন আগে থেকেই আমি ভেবে রেখেছিলাম এবার শিবরাত্রি আমি পালন করব এবং সকলে যেমন ব্রত রাখে সেরকম ভাবেই উপোস পালন করব। যেহেতু আমার লো প্রেসার আর খাওয়া-দাওয়ার দিকে সবসময় আমাকে ঠিক ভাবে নজর রাখতে ডাক্তার বলেছে ।তাই আমার মা প্রথম থেকেই বারণ করছিল। মা বলছিল পুজো করে এসে খাওয়া-দাওয়া করে নিবি ।

20250226_182556.jpg

কিন্তু আমি মাকে বলেছিলাম, যদি অসুবিধা না হয় তাহলে আমি সারাদিন নির্জলা উপোস থাকবো । এর আগেও পোষ্টের মাধ্যমে শিবের পুজোর অনেকগুলোই লেখা আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করেছি। তবে উপোস করা ব্যাপারটা আমার কাছে নতুন নয়। সারা বছর ধরে বাড়িতে যেহেতু নানান পুজো লেগে থাকে, তাই উপস আমাকে করতেই হয়। এর সাথে জগদ্ধাত্রী পুজোর সময় আমি উপোস করতাম নির্জলা। তাই সেরকম উপোস করা নিয়ে আমার অসুবিধা হয় না।

20250226_182559.jpg

বুধবার দিন বেশ সকালবেলায় ঘুম থেকে উঠি নি ।একটু দেরি করেই ঘুম থেকে উঠেছি। তারপর স্নানটাও করেছিলাম দেরি করে। সকাল থেকেই নির্জলা উপস ছিলাম। আর নিজের মন মত আমার বিএড এর প্র্যাকটিকাম এর কাজ করছিলাম ।কাজের মধ্যে ব্যস্ত ছিলাম বলেই খিদেটাও পায়নি। আর স্নান করলে অর্থাৎ মাথায় জল পড়লে ,খিদে তাড়াতাড়ি পেয়ে যায়। তাই সেদিনকে আমি প্রায় দুপুর দুটোর পরে স্নান করেছি। বিকেল বেলার দিকে অসুবিধা হলেও ,সেটাকে সামলে নিতে পেরেছি।

20250226_182606.jpg

বিকেল পেরিয়ে যখন সন্ধ্যে সন্ধ্যে লাগবে। তখন আবার ফ্রেস হয়ে শুদ্ধ বস্ত্র পড়ে নিলাম। একটা চুড়িদার পড়ে নিয়ে ঠাকুর ঘরে ঢুকলাম।। ততক্ষণে মা বেশ সুন্দর করে সমস্ত কিছু গুছিয়ে রেখেছে। ভেবেছিলাম সবার মতন একটু সেজেগুজে শাড়ি পরবো। কিন্তু আমার বিএড এর প্রেসারে মন মেজাজ কোন কিছুই ভালো লাগছিল না। কারণ সকাল থেকে যে প্রাক্টিকাম লিখেছিলাম অত খাটনি করে, সেটা পুরোটাই কেটে দিয়েছে স্যার। অনলাইনে দেখে।

20250226_182616.jpg

যাইহোক, বাড়িতে যেহেতু শিবলিঙ্গ রয়েছে তাই তাকে পুজো করতে হবে আগে এবং তারপরেই এখানে শিবের মাথায় জল ঢেলে তারপরে বারোয়ারি তলায় যাব।
সেই মতোই আমি প্রথমে আমার বাড়ির শিবলিঙ্গ কে একটি জায়গায় নামিয়ে সুন্দরভাবে পরিষ্কার করলাম। তারপর শিবলিঙ্গের ওপর দুধ গঙ্গা জল ঢাললাম। এর সাথে ঘি, মধু মাখিয়ে দিলাম ।আবার গঙ্গাজল দিয়ে পরিষ্কার করে ,কাপড় দিয়ে পুছে নিলাম ।

20250226_183045.jpg

তারপর সুন্দর করে সাজিয়ে দিলাম। আকন্দ ফুল আর বেল পাতা দিয়ে মা খুব সুন্দর করে মালা গেঁথেছিল, সেটাও পরিয়ে দিলাম। আতব চাল আর বাতাসা দিলাম লিঙ্গের মাথায়। এরপর প্রদীপ, ধুপ, ধুনো দিয়ে আরতি করে নিলাম। আর মৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র জপ করছিলাম।

কষ্টিপাথরের এই শিবলিঙ্গটি বেশ কিছু বছর আগে আমার বাবা রাজস্থান থেকে আনিয়ে ছিল। এইটুকু শিবলিঙ্গের অনেক টাকা দাম পড়েছিল। তারপর একদিন বারোয়ারি থেকে শিবরাত্রির দিন পূজো করে, শুদ্ধ করে নিয়ে আসার পরেই বাড়িতে এই শিবলিঙ্গ স্থাপন করা হয়েছে। তারপর থেকে এই শিবলিঙ্গকে নিত্য পুজো করা হয়। আমি মনে করি বাড়িতে ঠাকুর রাখলেই শুধু হয় না। এর সাথে নিয়ম-কানুন মেনে তার পূজো করতে হয়। আর না হলে স্বাভাবিকভাবে বিপদ হতে পারে। কারণ এগুলো ছেলে খেলার জিনিস না।

20250226_183048.jpg

যাইহোক বাড়ির পুজো শেষ করে আমি আর মা মিলে চলে গেলাম শিবতলা বারোয়ারি তে। মাও আমার সাথে নির্জলা উপস করে ছিল। মায়ের বয়স হচ্ছে বলে ,মায়ের একটু সমস্যা হচ্ছিল। আমি সকাল থেকেই মাকে বলেছিলাম, মা যেন কিছু খেয়ে নেয়। কিন্তু মা জল অব্দি খায়নি। তখন বাজে প্রায় সাতটা , অর্থাৎ প্রথম প্রহরের জল ঢালা শুরু হয়ে গেছে। পঞ্জিকায় দেখেছিলাম প্রথম প্রহরের জল ঢালা ছটার পর থেকেই শুরু হয়েছে। এইভাবে সারারাত চার প্রহর ধরে জল ঢালা চলে।

বারোয়ারিতে গিয়ে দেখি বেশ ভিড় ।রাতে হোম হবে বলে ,সুন্দর করে যজ্ঞের জায়গাটা সাজানো হয়েছে। লাইন দিয়ে সবাই একে একে মন্দিরে ঢুকছে পুজো দিতে ।আমিও দাঁড়িয়ে পড়লাম। তার আগে আপনাদের সাথে শেয়ার করব বলে কিছু ছবিও তুলে নিলাম।
আজকের মত এই অব্দি শেষ করছি। পরের পোস্টে এরপর থেকে লেখালেখি করব। শিবরাত্রি সম্পর্কে পরের দিন আরও অনেক কিছু তথ্য জানাবো।

মন্দিরের লোকেশন

Sort:  
Loading...
Loading...
 last month 

আমি অনেক মুভি কিংবা নাটকের মধ্যে দেখেছিলাম শিবরাত্রিতে শিবের পূজা করা হয়ে থাকে আজকে আপনার পোস্ট পরিদর্শন করে বিষয়টা সম্পর্কে আরো ক্লিয়ার হয়ে গিয়েছে যাদের বিয়ে হয়েছে তারা তাদের স্বামীর ভালোর জন্য উপোস করে থাকে আবার যাদের বিয়ে হয়নি তারা ভালো বর পাওয়ার জন্য উপোস করে থাকে বিষয়টা আমার কাছে অনেক বেশি ইন্টারেস্টিং লেগেছে যাইহোক অসংখ্য ধন্যবাদ আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য শিবরাত্রির প্রথম পর্ব দ্বিতীয় পর্ব দেখার অপেক্ষায় রইলাম ভালো থাকবেন আল্লাহ হাফেজ।