গোলে ( প্রজিতা/গিনি)
নমস্কার বন্ধুরা, আশা করছি সকলে সুস্থ আছেন। বিএড এর প্রচন্ড পরিমাণে চাপ ।এ কারণে আমার পোস্ট এত গ্যাপ যাচ্ছে। আমি নিজেই হাঁপিয়ে যাচ্ছি । তার ওপরে হাতের একজিমা বেড়ে গেছে। এতটা যন্ত্রণা হয় এবং হাত বেশিরভাগ সময় খারাপ থাকে বলে খুব অসুবিধা হচ্ছে সব কাজ করতে। তাই প্রথমেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।
গিনির যখন ৭ মাস বয়স
গত পোস্টে আপনাদের সাথে শেয়ার করেছিলাম হঠাৎ করেই মামার বাড়ি যাওয়ার কথা। জানিয়েছিলাম মামার বাড়ি যেদিনকে আমরা গিয়েছি সেদিনকে মাত্র দু ঘন্টার মধ্যে ডিসিশন নিয়ে সমস্ত কিছু গোছগাছ করে যেতে হয়েছে। যেহেতু অনেকটা দূরে তাই ভেবেছিলাম যদি বেশিদিন থাকতে পারতাম ,কিন্তু আমার ছুটি বেশিদিন ছিল না।
আমি ছুটি অনেকদিন আগে থেকে নিয়ে থাকলেও বাড়িতে রাজি হচ্ছিল না দেখে দোটানায় পড়ে গিয়েছিলাম সবাই ।অবশেষে পাঁচ দিনের জন্য মামার বাড়ি থাকার প্ল্যান হল ।পৌঁছে উঠেছিলাম বাবাই মামার বাড়িতে। সেদিন কে বাবাই মামার মেয়ের জন্মদিন ।গিয়ে দেখি বাড়িতে অনেক লোক । আমার নিজের ছোট মামা আর বড় মামীরা সবাই এসেছে ।বাবাই মামা হল আমার মায়ের মামাতো ভাই।।
যাবার সাথে সাথে সবাইকে এত বছর পরে দেখে খুবই ভালো লাগছিল। ছোট মামার ছোট মেয়েটা কত বড় হয়ে গেছে। এর আগে যখন এসেছিলাম দু'বছর আগে ও তখন অনেক ছোট ছিল। এখন ওর বয়স আড়াই বছর ।আর আমরা যখন গিয়েছি তখন মোটামুটি ৭ মাস বয়সের ছিল।সারাদিন ও শুধু আমার কাছেই থাকতো। আমার সাথে খেলতো আর ঘুমতো। আর এখন এতটাই দুরন্ত হয়েছে, এক জায়গায় চুপ করে বসে থাকতে পারে না।
আপনাদের সাথে ওর পুরনো ছবি কয়েকটা শেয়ার করি ।২০২৩ সালে ঠিক মার্চ মাসেই আমরা গিয়েছিলাম আর ওকে নিয়েই আমরা সবাই মেতে থাকতাম। তখন ওরা রায়গঞ্জে থাকতো না ।তখন ওরা এই গ্রামের বাড়িতেই থাকতো। আমরা চলে আসার পরেই কয়েক মাস পরে ওরা রায়গঞ্জে শিফ্ট করেছিল। এই পোস্ট শেয়ার করার সময় পুরনো ছবিগুলো যখন চোখে আসলো, তাই ভাবলাম আপনাদের সাথে গিনির পুরোনো ছবিগুলো শেয়ার করি।
সাত মাস বয়সে গিনি আমার মায়ের সাথে
আমি যাবার সাথে সাথে একটু ফ্রেশ হয়ে নিলাম। যদিও সারাক্ষণ গাড়িতেই ছিলাম ।শুধু মাঝ পথে একবার খেতে নামা হয়েছিল। ছোট মামার ছোট মেয়েটা, যার কথা আমি বলছি ,ওর ভালো নাম প্রজিতা ।আর ওকে সবাই গিনি বলে ডাকে। আর আমি ওকে বলে ডাকি গোলে। আসলে ছোটবেলায় ও এত নাদুসনুদুস ছিল, তাই আমি ওকে গোলে নাম দিয়েছিলাম।
ওর কি আর অত মনে আছে! একটু সময় লাগলো আমাদের দুজনার বন্ধুত্ব হতে। বারবার ওকে দেখে ওর ছোটবেলাকার কথা মনে পড়ছিল। তারপর যখন বন্ধুত্ব হয়ে গেল তখন মেয়ে তো খুব কথা বলে, ওর মুখে এত পাকা পাকা কথা শুনে ওকে মনেই হচ্ছিল না ও আড়াই বছরের বাচ্চা। মনে হচ্ছিল পাকা বুড়ি ।ওর সাথেই অনেকটা সময় কাটিয়েছি ,যতক্ষণ না খেতে বসেছি। তারপর আমার শরীরটা ছেড়ে দিচ্ছিল। কিছুতেই আর পারছিলাম না ।
রায়গঞ্জে থাকার জায়গা প্রচুর ।ওখানে আমার মাসির বাড়ি আছে ।ছোট মামার বাড়ি। এছাড়াও বাবাই মামার বাড়ি। সবাই সবার বাড়িতে ডাকছে থাকার জন্য সেই রাতটাই। এদিকে আমার খালি মন টানছে দেশের বাড়ির দিকে অর্থাৎ গ্রামের বাড়ির দিকে। অবশেষে ঠিক করলাম ছোট মামার বাড়ি একবার ঘুরে তারপর গ্রামের বাড়ির দিকে যাব।
নতুন জামা পেয়ে গিনি খুব খুশি
যেহেতু জার্নি করেছিলাম তাই বেশি দেরি করলাম না, খাওয়া-দাওয়া সেরে নিলাম। অনেকদিন পর এই মামার বাড়ির দেশের খাওয়া-দাওয়া পেটে পড়লো আর সত্যিই মন ভালো হয়ে গেল। কারণ ওখানকার মাংস আর ওখানকার প্রত্যেকটা শাকসবজি বিশেষ করে আলুর স্বাদের কোন তুলনা হয় না।
দেখতে দেখতে মেয়েটা কতটা বড় হয়ে গেল
খাওয়া দাওয়া করে আমরা ছোট মামার বাড়ির দিকে রওনা হলাম। ওখানে গিয়ে প্রজিতার দিদির জন্য অর্থাৎ মিঠাইয়ের জন্য আর প্রজিতার জন্য যে জামাগুলো কিনেছিলাম সেগুলো দিলাম। গিনি অর্থাৎ প্রজিতা জামা দুটো পেয়ে তো ভীষণ আনন্দ দুটো জামাই পরপর পড়ে পড়ে দেখতে লাগলো যে ওকে কেমন লাগছে ।
তখন ওকে গ্লাসে কেউ জল দিচ্ছিল না বলে, ও ভীষণ রাগ করছিল
আমি ছবি তুলছি দেখে ক্যামেরার সামনে এসে সুন্দর ভাবে পোজ দিতে লাগলো। বাবাই মামার মেয়ের জন্যও সেদিনজামা কিনে নিয়ে গিয়েছিলাম ,যেহেতু ওর জন্মদিন। কৃষ্ণনগরে দু ঘন্টার মধ্যে কেনাকাটা করছিলাম, তখন এত তাড়াহুড়তে ছিলাম যে কেনাকাটার কোন ছবি আমি রাখতে পারিনি।
মোটামুটি ১৫ থেকে ২০ মিনিট ছোট মামার বাড়িতে থাকার পরে আমি বেরিয়ে আসলাম। আমার সাথে ঈশান ও জেদ ধরলো যাবে বলে। আসলে ওরও গ্রামের বাড়ি বেশি পছন্দের। তবে ছোট মামা ,মিঠাই আর পুচকিটা মন খারাপ করবে বলে ,মা থেকে গেল সেই রাতটুকু ওখানে।।
আর আমি, ঈশান ,বাবা আর আমাদের ড্রাইভার দাদা আমাদের গ্রামের বাড়ি দিকে রওনা হলাম।। যে ছোট্ট মেয়েটাকে সাত মাস বয়সে আমি মামার বাড়িতে রেখে এসেছিলাম ।সে আজকে কতটা বড় হয়ে গেছে। পোস্ট করতে করতে যখন দুটো ছবির মধ্যে ডিফারেন্স বুঝতে পারছি। আমি খুব ইমোশনাল হয়ে যাচ্ছি। আগের বারেও ওকে রেখে আসার সময় খুব কান্না পাচ্ছিল ,এবারও তাই হয়েছিল। আসলে বাচ্চাদের মত পবিত্র কিছু হয় না। আর এদের সাথে হয়তো এজন্যই এতটা মায়ার বন্ধন তৈরি হয়ে যায়।
@isha.ish আপনি বোধহয় কোলে লিখতে চেয়েছিলেন আপনার লেখার শীর্ষক এ কিন্তু ওটা গোলে হয়ে গেছে!
না দিদি, তুমি ভুল বুঝছো।ওকে আমি গোলে বলে ডাকি।ও যেহেতু অনেক নাদুস নুদুস ছিল। তাই ছোটবেলায় আমি এই নাম রেখেছিলাম। পোস্টে মেনসন করেছি।
তাহলে শীর্ষক দিতে হতো গোলে ওরফে প্রজিতা
We support quality posts and good comments Published in any community and any tag.
Curated by : artist1111
আরে বাহ হঠাৎ করেই যখন আপনারা মামার বাড়িতে গিয়েছিলেন তখন ছোট্ট সেই গিনি সে হয়তো আপনার মামাতো বোন হবে তার সাথে আপনার অনেক সুন্দর মুহূর্ত পার করেছেন দেখতে দেখতে সে অনেক বড় হয়ে গেছে আসলে সময়ের ব্যবধানে সবকিছুই যেমন পরিবর্তন হয় ঠিক তেমনি ছোট্ট শিশু বড় হয় আবার বড় মানুষ বৃদ্ধ হয়ে যায় এটাই প্রকৃতির নিয়ম যাই হোক অসংখ্য ধন্যবাদ ভাল থাকবেন।