শিবরাত্রির ব্রত পালন
নমস্কার বন্ধুরা। আশা করছি আপনারা সকলে সুস্থ আছেন। আজকে আমি আপনাদের সকলের সাথে শেয়ার করতে চলেছি শিবরাত্রির বাকি মুহূর্তগুলো। গতদিনে পোস্ট করার সময় শিবরাত্রি নিয়ে পোস্ট করেছিলাম। আমার প্রথমবার শিবরাত্রি উপলক্ষে ব্রত পালন সম্পর্কে জানিয়েছিলাম। আজ তারপর থেকেই শুরু করছি।
বাড়ির পূজো সেরে চলে গিয়েছিলাম মায়ের সাথে মন্দিরে। মন্দিরে গিয়ে দেখি লাইন পড়ে গেছে। আমরা দাঁড়াতে দাঁড়াতেই আরও লাইন বড় হতে থাকলো। সবাই এসেছে সেদিনকে বাবা জলেশ্বর এর মাথায় জল ঢালতে। ছোট থেকে বড় সকলেই পুজো করতে এসেছে। ছোট ছোট বাচ্চারা শাড়ি পরলে অনেক কিউট দেখতে লাগে। এরকমই দুটো বাচ্চাকে দেখলাম শাড়ি পড়ে সুন্দর করে সেজেগুজে ,হাতে ফুলের সাজিতে করে দুধ, গঙ্গা জল, ফুল সমস্ত কিছু নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে আছে মায়ের সাথে।
যেহেতু অনেকটা সময় পার হয়ে গিয়েছিল তাই আমার আর খাবার প্রতি কোনো রকম ইচ্ছা ছিল না। কথাতে আছে বেশিক্ষণ না খেয়ে থাকলে খিদে মরে যায়। আমার সাথেও সেটা হয়েছিল আমার তখন মনে হচ্ছিল আমি যেন সারাটা রাত অর্থাৎ চার প্রহর শিবরাত্রি পালন করতে পারব।। প্রথম প্রহরের জল ঢালা মোটামুটি নটা অব্দি ছিল। তারপর থেকেই দ্বিতীয় প্রহরের জল ঢালা শুরু। এইভাবে ভোর সাড়ে ছটা অবধি চতুর্থ প্রহরে জল ঢালা ।তবে চতুর্দশী ছিল সাড়ে আটটা অবধি। অর্থাৎ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে আটটা।
যাইহোক পাড়ার সকলের সাথে এরকম পুজোর দিনে পুজো দিতে আসলে দেখা হয়। এ কারণে মন্দিরে দাঁড়িয়ে আমি আর মা সকলের সাথে গল্প করছিলাম। ওদিকে বারোয়ারির আরেকটি কোনায় ভোগের পায়েস রান্না হচ্ছিল। এইভাবে আস্তে আস্তে লাইন এগিয়ে যাওয়ার পরে আমি আর মা মিলে আরো কিছু জনের সাথে প্রবেশ করলাম মন্দিরের ভিতর । তারপর দেখলাম ঠাকুরমশাই ওখানে আছেন ।ঠাকুর মশাই সমস্ত কিছু বলে দিচ্ছেন এবং মন্ত্র জপ করছেন ,সাথে অঞ্জলিও দিয়ে দিচ্ছেন।
আমরাও এক এক করে দুধ, গঙ্গা জল ঢাললাম ।ঘি, মধু মাখিয়ে ফুল, বেল পাতা দিয়ে প্রণাম করলাম। বানিয়ে নিয়ে যাওয়া মালাটা পরিয়ে দিলাম ।তারপর ব্রাহ্মণ অঞ্জলি মন্ত্র জপ করল ।উনার সাথে সাথে আমরাও মন্ত্র বলতে লাগলাম। ভক্তি ভরে পূজো দিয়ে বেরিয়ে আসলাম।
এরপর বাইরে বসে থাকা শিব ঠাকুরের বাহন অর্থাৎ নন্দীকে দুধ গঙ্গা জল দেওয়া হলো ।নন্দী অর্থাৎ ষাঁড় ,তাই ওনার মাথা ঠান্ডা করার জন্য দুধ গঙ্গাজল দেওয়া হয়। উনাকেও পুজো করা হলো। তারপর প্রদীপ ধূপকাঠি আর মোমবাতি দিয়ে আরতি করে মাকে প্রণাম করে আমি আর মা মিলে বাড়ির দিকে আসলাম।।
প্রতিবছর এই দিনে বাবা মন্দিরের ব্রাহ্মণকে বলে রাখে, যে ব্রাহ্মণ পূজো দিচ্ছিল মন্দিরে ,তাকে। সেই ব্রাহ্মণ এসেই আমাদের বাড়ির শিবলিঙ্গটা পুজো করে দিয়ে যায় ।আমরা আসার পর চরণামৃত আনতে ভুলে গিয়েছিলাম। তাই ঈশানকে আবার পাঠাতে হলো। এরপরে আমি বারবার জেদ করছিলাম যে আমি না খেয়ে সারারাতটা কাটাবো ,চারটে প্রহর করবো। কিন্তু মা বারণ করল আর পরে ভেবে দেখলাম, পরেরদিন কে স্কুলের টিচিং আছে। এভাবে না খেয়ে পড়ে থাকলে সত্যিই অসুবিধা হতে পারে ।তাই ডাবের জল খেয়ে নিলাম চরণামৃত খাওয়ার পর।
রাতে সাবুদানা কলা দিয়ে দুধ দিয়ে খেয়েছি। সাথে খেলাম ফল ।তারপর রাতটা চলে যাওয়ার পরেই। পরের দিন সকাল বেলায় চতুর্দশী থাকা অবস্থাতেই অর্থাৎ বৃহস্পতিবারে আবার পুজো দিয়ে আসলাম। ঘুম থেকে উঠে স্নান করে সমস্ত কিছু গুছিয়ে নিয়েছিলাম ।যেহেতু বৃহস্পতিবার ছিল। মা বাড়ির পুজোতে ব্যস্ত ছিল। মা ব্যস্ত না থাকলে মাও আমার সাথে যেত ।কিন্তু সেই সময় প্লান মাফিক আমি আর আমার পার্টনারের বাড়ির লোকজন সবাই চলে এসছিল মন্দিরে।
সকালবেলাতেও খুব শান্তি ভাবে সুন্দর করে পূজো দিলাম। আর এভাবেই এবারের শিবরাত্রির ব্রত আমার পালন করা হয়েছে।। স্কুলে যাবার পরে শরীরটা খারাপ লাগছিল ।সেটা বুঝতে পারছিলাম। আমি বেশ অনেকক্ষণ চুপচাপ শুয়ে ছিলাম। আগের দিন অসুবিধা না হলেও পরের দিন সত্যি শরীরটা সমস্যা হচ্ছিল। প্রেসার অনেকটাই লো হয়ে গেছিল ,বুঝতে পারছিলাম।
সকলে ভালো থাকবেন ,আজকের মত এখানেই শেষ করলাম।
💦💥2️⃣0️⃣2️⃣5️⃣ This is a manual curation from the @tipu Curation Project
@tipu curate
Upvoted 👌 (Mana: 4/8) Get profit votes with @tipU :)
এ বছরে শিবরাত্রির উপোস করতে পারিনি বলে আমার সকাল থেকেই ভীষণ মন খারাপ ছিল। তাই তোমার সাথে কোন রকম যোগাযোগ করার চেষ্টা করিনি। তুমি শুভরাত্রি উপোস করবে সেটা আমি আগে থেকেই শুনেছিলাম। আমার মন খারাপ করবে বলে আমি আর তোমার কাছে যাইনি। তুমি খুব সুন্দর ভাবে পুজো দিয়েছো। পুজো দেওয়ার পর নিরামিষ খাবার খেয়েছো। আমি হয়তো পুজো দিলে অনেকটা রাতেই দিতাম। তোমার সুন্দরপুর শেয়ার করার জন্য তোমাকে ধন্যবাদ।
শিবরাত্রিতে আপনাদের ব্রত রাখতে হয় যেটা আপনার পোস্ট পরিদর্শন করে বুঝতে পারলাম মন্দিরের পূজা শেষ করে বড় মন্দিরের পূজা দিতে গিয়েছিলেন এই সময় আসলে সবাই যেহেতু পূজো দিয়ে থাকে তাই আপনাদের সবার লাইন ধরে কাজ করতে হয়েছে অসংখ্য ধন্যবাদ আপনার একটা শিবরাত্রির পুজো এবং তার বিষয়ে আমাদের সাথে আলোচনা করার জন্য ভালো থাকবেন।