শিবনিবাস

in Incredible India9 days ago (edited)

নমস্কার বন্ধুরা, আশা করছি আপনারা সকলে সুস্থ আছেন।গত দুদিন আগে আমি আপনাদের সকলের সাথে শিব নিবাস যাওয়ার কথা শেয়ার করেছিলাম। শিবনিবাস এ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তর শিব লিঙ্গ রয়েছে, সেটা আগেরদিন বলেছিলাম। যাইহোক সেদিনকে পুরোপুরি ভাবে লেখা হয়নি, তাই আজকে তার পর থেকেই লিখছি।

20250117_120519.jpg

20250117_120752.jpg

মন্দিরের ভেতরে প্রবেশ করার একটু পরেই আমি আর ঈশান মিলে পূজো দিয়ে নিয়েছিলাম। তারপর এক এক করে আমার মা বাবা পুজো সারলো। ওরা অনেক কিছুই নিয়ে গিয়েছিল সাথে করে। ধাপে ধাপে বাবা পূজা করে নিল। তারপরেই আমার জেঠু এবং জেঠিন মিলে একসাথে উঠলো এবং ওরাও পুজো করে নিল। স্বামী স্ত্রীর দুই জুটি, এইভাবে পূজো করছে দেখে আমারও ভালো লাগছিল।

1000203790.jpg

1000203788.jpg

শিবলিঙ্গের মাথায় জল দেওয়ার আগে প্রথমে গৌরীপিঠের জায়গায় জল ঢালতে হচ্ছিল। ব্রাহ্মণ যিনি বসে ছিলেন তিনি আমাদের শিখিয়ে দিচ্ছিলেন। প্রথমেই গণেশ বন্দনা করে নেওয়া হচ্ছিল। আমি প্রত্যেক পুজোর ক্ষেত্রেই দেখেছি গণেশ ঠাকুরকে আগে পূজা করে নিতে হয়। এর পিছনেও একটি গল্প রয়েছে।

1000203789.jpg

গণেশ ঠাকুরের যখন মাথা কাটা পড়ে, এই মাথা কাটার উপরও একটি গল্প রয়েছে। সেটা পরের দিন বলবো। তখন পার্বতীর কান্নাকাটিতে শিব ঠাকুর একটি ছোট হাতের মাথা জোগাড় করে, গণেশের ধরের সাথে মাথাটি যুক্ত করে দিয়েছিলেন। মানব দেহের ওপর এরকম হাতির মাথা দেখতে অন্যরকম লাগছিল স্বাভাবিক। তখন ভগবান শিব ওনাকে বর দিয়েছিলেন যে সমস্ত দেবতাদের পুজো করার আগে মর্তবাসি ওনার পুজো আগে করবে । কোন দেবতাই গণেশের পূজো বিনা নিজেদের পূজা গ্রহণ করবেন না।
এই কারণেই প্রত্যেক জায়গায় সেই সিদ্ধিদাতা গণেশ ঠাকুরের আগে পূজো করা হয়।

20250117_121431.jpg

লোকেশন

যাইহোক সকলের পুজো হয়ে যাওয়ার পরে আমরা প্রদক্ষিণ করতে লাগলাম। মন্দির প্রাঙ্গণ অর্থাৎ শিবলিঙ্গের চারিদিক দিয়ে অর্ধ প্রদক্ষিণ করতে হয়।। এটাই নাকি নিয়ম। তবে এই নিয়মের ব্যাখ্যা কিন্তু আমি জানিনা। সমস্ত কাজ হয়ে যাওয়ার পরে আমরা বেরিয়ে আসলাম। আসার পরে আমি বাবা-মার এবং আমার দিদির, বাকি সবার এক এক করে ছবি তুলে দিচ্ছিলাম।

20250117_120658.jpg

আসল জুতো চোরের কাহিনী

তারপরে যখন আমি নিচে আসলাম, তখন কিছুতেই আমি আমার জুতো খুঁজে পাই না, আমার তো মাথায় হাত আমার জুতো কোথায় গেল। সব থেকে বড় কথা, তার দু-তিন দিন আগেই আমি নতুন জুতো কিনেছি। তাই আমি আরো পাগল হয়ে যাচ্ছিলাম ,এটা ভেবে যে নতুন জুত আমার হারিয়ে গেল। জুতোর দাম অনেকটা। বাবা কিছুদিন আগেই আমাকে কিনে দিয়েছে। এবার সবাই মিলে আমাকে বকবে। আর জুতোটা আমার এত পছন্দ, হারিয়ে গেলে আফসোস সবারটাই স্বাভাবিক।

এইসব ভাবতে ভাবতে আমি রীতিমত ঝামেলা করছি, কারণ মন্দিরে এসে কেউ যদি জুতো চুরি করে ,সেটা তো উচিত কাজ নয়। আশেপাশে অনেকেই বসেছিলেন তাদের কাছ থেকেও শুনছিলাম কেউ কোন কথা বলতে পারছিল না। আর আমি খালি পায়ে বেশ অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিলাম, কিছুতেই জুতো পাচ্ছিলাম না।

খোঁজ খোঁজ করতে করতে হঠাৎ করেই ঈশানকে দেখি, দূর থেকে হেঁটে আসতে। আর ওকে এই সমস্ত কথা বলতে বলতে ,ওর পায়ের দিকে তাকিয়ে দেখি ও আমার জুতো পড়ে রয়েছে। আমি তখন যেমন স্বস্তি পেলাম, তার থেকেও আমার রাগ হলো ওর ওপর বেশি। ও দুষ্টুমি করে আমার জুতো পড়ে আগে থেকে গিয়ে গাড়িতে উঠে বসে ছিল।

বাচ্চাদের এইসব মন্দির কিংবা যে কোন অনুষ্ঠানে এসে কিছুতেই মন বসতে চায়না। বাচ্চারা নিজেদের তালে নিজেদের মতো করে খেলতে থাকে ।আর ঈশানকে নিয়েও হয়েছে সেই সমস্যা, ওকে মন্দিরে নিয়ে যাওয়া হোক অথবা, কোন অনুষ্ঠানে বাড়িতে, নিয়ে যাওয়া হোক। ও নিজের মতন করে খেলতে থাকে। আর এরকম ছোট্ট খাটো দুষ্টুমি গুলো করতে থাকে। আর আমরা পড়ে যাই ঝামেলাতে। সে আমাদের সাথে সাথে ঘোরাঘুরি করে না ,একসাথেও থাকে না।

নিজের মতন এদিক ওদিক খেলতে ব্যস্ত থাকে। আর তাই কোথাও ঘুরতে গিয়েও শান্তি পাওয়া যায়না। সবসময় আমাদের খোঁজ লেগে থাকে, ঈশান কোথায় গেল, ঈশান কোথায় গেল। ও এতটা বড় হয়ে গেছে, ক্লাস সেভেনে পড়ে, তারপরও এই আচরণ গুলো ওর ভেতর থেকে যাচ্ছে না ।তাই এখনো আমার মা বোধহয় ওকে পুচকি বলেই ডাকে।

20250117_122158.jpg

20250117_125557.jpg

জুতো পেয়ে যাবার পরে ওখান থেকে বেরিয়ে পড়লাম। তারপর গাড়ি বার করে নিয়ে এসে আমরা একটি দোকানে ছেড়া পরোটা আর তরকারি আর মিষ্টি খেলাম। ওই জায়গাতেই আমার এক বান্ধবীর বাবার সাথে আমার হঠাৎ দেখা। তিনি সরকারি হোমিওপ্যাথি ডাক্তার ,ওই জায়গায় উনি পোস্টিং আছে ,আমি জানতাম না।

20250117_125756.jpg

হঠাৎ করে দেখা হওয়াতে কাকু বলেই উঠল যে ,দেখেছিস পৃথিবীটা গোল ,ঠিক কোন না কোন ভাবে দেখা হয়ে গেল।। আসলেই তাই। পৃথিবীতে আসলেই গোল ।কখন যে কার সাথে দেখা হয় ,ঠিক ঠিকানা থাকে না।। যাইহোক যেহেতু কাকুকে পেয়ে গিয়েছিলাম সামনাসামনি ,তাই কাকুকে বললাম আমাদের সকলের একটা গ্রুপ ছবি তুলে দিতে। আর কাকুর সাথেও একটা ছবি তুলে নিলাম। আমার বান্ধবীকে দেখাবো বলে।

20250117_125726.jpg

সমস্ত কাজ সারা হয়ে যাওয়ার পরে আমরা তাড়াহুড় করে বাড়ির দিকে রওনা দিলাম ।কারণ এর পরে আমাদের আরো একটা কাজ ছিল। সেটা নিয়ে আমি আপনাদের সাথে পরের দিন পোস্টে শেয়ার করব।

Sort:  
Loading...
Loading...
 2 days ago 

আপনারা শিবনিবাসে গিয়েছেন এবং সেখানে গিয়ে পুজো দিয়েছেন এটা আপনার আরো একটা পোষ্টের মধ্যে আমি পড়েছিলাম কিন্তু সেখানে গিয়ে আপনি ঝামেলায় পড়েছেন এটা আমার জানা ছিল না আসলে ছোট বাচ্চারা একটু দুষ্টামি করে এটাই স্বাভাবিক।

তবে নিজের পছন্দের কিছু বা প্রিয় মানুষের দেওয়া উপহারগুলো যখন হঠাৎ করে হারিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে তখন এত পরিমানে খারাপ লাগে কি আর বলব আপনার কাছেও ঠিক তাই লিখেছে যাই হোক অবশেষে আপনি যে আপনার যেহেতু ফিরে পেয়েছেন এটা দেখেই ভালো লাগলো ভালো থাকবেন।