হঠাৎ মামারবাড়ী
মানুষের কখন কোথায় যাওয়া লেখা থাকে, মানুষ নিজেই জানে না । সদ্য একটা ঘটনা আপনাদের সাথে শেয়ার করি, আমার মামার বাড়ি যাওয়া হয় না মোটামুটি দু বছর হয়ে গেছে । আসলে দু বছরে ব্যক্তিগত কারণে এবং কাজের চাপেও কোনোভাবেই মামার বাড়ির দিকে যাওয়া হয়ে ওঠেনি । তবে যেহেতু আমি মামার বাড়িতেই হয়েছি, আমার কিন্তু প্রতি সময়ে ওই বাড়ির উপর একটা বিশাল টান কাজ করে।
আমি নিজের বাড়ি যতটা ভালোবাসি, মামার বাড়ির ভিটে বাড়িটা ঠিক ততটাই ভালবাসি। দুই বছরে বারবার ভেবেছি কবে যে সব ঠিকঠাক হয়ে সময় সুযোগ করে মামার বাড়ি যেতে পারব। আসলে যেহেতু অনেকটা দূর ৩২০ কিলোমিটার রাস্তা ।তাই একটু বেশি সময় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়।
যাওয়া তারপর ফিরে আসা একটা বিশাল বড় ব্যাপার। যাই হোক আমার হাতের সমস্যার কারণে আমি কদিন ছুটি নিয়েছিলাম যেহেতু ডান হাত দিয়ে কোন কাজ করতে পারছিলাম না। ছুটির শেষের মুহূর্তে এসব হয়। তবে আমি কিন্তু ওই সময় বাড়িতে তিনদিন ধরে জেদাজেদী করেছি এই বলে, যেন আমাকে মামার বাড়ি নিয়ে যাওয়া হয়। বাবা ওই সময় ভীষণ কাজে ব্যস্ত ।আবার কোন মতেই বাসে বা ট্রেনে আমাদের একা পাঠাবে না। তাই যেতে দেয়নি।
আমাদের গাড়ি যিনি চালায় সেও অসুস্থ। এ কারণে কিভাবে যে যাওয়া হবে ,এই নিয়ে একটা বিশাল চিন্তায় পড়ে গিয়েছিল আমার মা। কারণ আমি যখন মামার বাড়ি যাওয়ার কথা তুললাম সবার আগে আমার মা আমাকে হেল্প করলো। যাই হোক অন্য ড্রাইভার নিয়ে একা একা আমাদেরকে ছাড়বে না। তাই বাবাকেই যেতে হবে।
তিন দিন ধরে জেদ করার পর অবশেষে হার মানলাম ।কারন কিছুতেই হচ্ছিল না। এর মধ্যেই আমার সেজপিসি বাড়ীতে আসে ।সে তো বাবাকে বুঝিয়ে সাজিয়ে এমন কি করল, ভগবান জানে। আমি ভাবতে পারিনি, সেদিনকে এক দু ঘণ্টার মধ্যে আমরা রেডি হয়ে বেরিয়ে যাবো।
মা সকাল থেকে যেভাবে রান্না করে চা করে ,বাড়ির কাজ করে, সেগুলোই করছিল। আমি আমার মতন পড়াশোনা করছিলাম। ভাইও সকালবেলায় পড়ে উঠেছে। ওই সময় হঠাৎ দেখি বাবা রাজি হয়ে গেল। বাবা বলল দু'ঘণ্টার মধ্যে যা গোছ করার করে নাও , আমরা রায়গঞ্জের দিকে রওনা দেব ।আমার এক ড্রাইভারের সাথে কথা হয়ে গেছে সে নিয়ে যাবে। আমি গাড়িতে থাকব ।চিন্তা নেই ।তবে হ্যাঁ ,আমি কিন্তু তোমাদের নামিয়ে কালকে সকালে কৃষ্ণনগর ব্যাক করব।
পরবর্তীতে যখন তোমাদের আনতে যেতে হবে, তখন যদি যেতে পারি তখন একদিন গিয়ে থেকে আসব। কথা শোনা মাত্রই আমার মা আর আমি তো লাফালাফি শুরু করে দিলাম ।কারণ মাথার মধ্যে চলতে থাকলো বোনদের জন্য জামা কাপড় কিনতে হবে। আমার ওখানে টোটাল ছটা বুনু। তাদের জামা কাপড় কিনতে হবে ।সব এই দু ঘন্টার মধ্যে গোছ করে নিতে হবে ।
আর মা রান্না বান্না করে ফেলেছিল।। সেগুলোর কি হবে ।অবশেষে মা রান্না বান্না যা করেছিল, সেগুলো পাশের বাড়ির কাকিমাকে দিয়ে দিল। আর আমি মোটামুটি এক ঘন্টার মধ্যে সমস্ত কিছু কেনাকাটা করে নিলাম।। সাথে বোনেদের জন্য আবির রং কিনেছিলাম। সবকিছু করে বাড়ি চলে এসে রেডি হয়ে নিলাম।
আর তারপর আমাদের বেরোতে বেরোতে মোটামুটি দুপুর হয়ে গেছিল। আমরা দুটো নাগাদ বার হয়েছিলাম। রাস্তায় তখন ভীষণ রোদ। টানা গাড়ি চলল। আর আমরা ভুলে গেছিলাম সরপুরিয়া নিতে । কৃষ্ণনগরে যেহেতু সব থেকে ফেমাস মিষ্টি সরপুরিয়া , তাই জন্য আমি যখনই মামার বাড়ি যাই অথবা আমাদের কৃষ্ণনগরের মানুষজন যখন বাইরে যায় ,আত্মীয়-স্বজন কিংবা বন্ধুবান্ধবদের জন্য নিয়ে যায়।
আমাদের সেটা নিয়ে যাওয়ার কথা মাথায় ছিল না। সেই দোকান পাড়ও হয়ে গেছে ।যেহেতু গাড়িটা বেশ টান টান চলেছে, অবশেষে ধুবুলিয়াতে এসে একটা বিখ্যাত মিষ্টি নেয়া হলো। ক্ষীরসাগর মিষ্টির নাম। ক্ষীরসাগর বলে এই মিষ্টিটা ধুবুলিয়ার ফেমাস মিষ্টি। এটা অনেকটা রসমালাই এর মতন।
যাই হোক তারপরে পুরো টানটান গাড়ি চলল। দেড় ঘন্টার মধ্যে আমরা বহরমপুর পাস করে ফেললাম। বহরমপুর বাইপাস দিয়ে আগে যাওয়া হতো। কিন্তু বরমপুর ব্রিজটা হয়ে যাওয়ার পরে আরো তাড়াতাড়ি আমরা ক্রস করতে পারি।
অবশেষে ফারাক্কার আগে পাপ্পু ধাবা বলে একটি রেস্টুরেন্টে আমরা দাঁড়ালাম ।এই রেস্টুরেন্টে আমরা যখনই উত্তরবঙ্গের দিকে যাই ,তখন এখানে দাঁড়াই,এখানকার খাবার খুবই ভালো। এদের দুটো রেস্টুরেন্ট ।পুরোনোটাতেও খুব ভালো খাবার হয়। আর এই নতুন টাতেও । তবে নতুন টা বেশি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ।তাই আমরা এটাই ব্যবহার করি । এতটা দূরের জার্নিতে ওয়াশরুমে যেতেই হয়।
ওখানে একটু রুটি তড়কা খেয়ে কোলড্রিংস খেয়ে বাইরে বেরিয়ে আসতেই দেখি কত সুন্দর সুন্দর ফুল গাছ লাগানো ।ফুল গাছগুলো দেখে আমি সাথে সাথে একটু ফটোগ্রাফি করে নিলাম। তারপর আবার গাড়িতে টানটান মামার বাড়ির দিকে রওনা দিলাম। মামার বাড়ি ঢুকতে ঢুকতে আমাদের সাড়ে সাতটা বেজে গিয়েছিল। প্রায় ছয় ঘন্টা মত, কারণ কালিয়াচকের ওখানে একটু জ্যাম ছিল। আর রাস্তায় সকাল বেলায় মেইন রোডের উপর এত ব্যারিগ্রেড দেয়া থাকে, জায়গায় জায়গায় ,যে গাড়ির স্পিড কমে যায় ।
আমার মামার বাড়ির দেশের বাড়ি হল কমলাই, কিন্তু আমি প্রথমে রায়গঞ্জ শহরের একটি মামার বাড়িতে উঠেছিলাম ।কারণ ওখানে সেদিন আমার মামাতো বোনের জন্মদিন ছিল।সকাল বেলায় যখন ডিসিশন নেয়া হয় এবং আমরা জানতে পারি ওখানে জন্মদিন। আমরা জানিয়েছিলাম যে বিনা নিমন্ত্রনেই আসছি, খাবার যেন রেডি রাখে। ওরা শুনে ভীষণ খুশি হয়েছিল। তাই সেই জন্যই আমরা ওদের বাড়িতে গিয়ে প্রথমে উঠেছিলাম।
তাহলে ১২ ই মার্চ হঠাৎ করেই আমার ইচ্ছা পূরণ হলো। আমি মামার বাড়ি পৌঁছে গেলাম।আজকে এখানেই শেষ করছি, পরবর্তী পোস্টে বাকি কথা শেয়ার করব।
অনেকদিন বাদেই আবার মামার বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলে। আসলে মামার বাড়ির প্রতি সকলেরই একটা বিশেষ টান থেকেই যাই। তোমার মত আমিও আমার বাপের বাড়ি থেকে মামার বাড়ি বেশি পছন্দ করি। আমিও বেশ কিছুদিন বাড়ি ছিলাম না তাই জানতাম না তোমরা মামার বাড়ি গিয়েছো। সেদিন দুপুর বেলাতেও আমি ঈশানকে রাস্তায় ঘুরে বেড়াতে দেখেছি তারপরে এসে দেখছি তোমাদের গেটে তালা ঝুলছে। যাই হোক পাশের বাড়ি থেকে পরে জানতে পারলাম তোমরা সকলে মিলে মামার বাড়িতে গিয়েছো। এ বছরে হুটহাট করে ভালই ঘুরে বেড়াচ্ছো। তবে হঠাৎ করে এরকম কোথাও যেতে বেশ মজাই হয়। আমারও ইচ্ছে আছে তোমার সাথে একবার তোমার মামার বাড়ি ঘুরতে যাওয়ার।
বড় হওয়ার পর মামার বাড়িতে যাওয়ার মুহূর্তটা তেমন আর হয়ে ওঠে না তবে আপনারা হঠাৎ করেই মামার বাড়িতে গিয়েছেন যেটা দেখে ভালো লাগলো পথের মধ্যে আবার ডাবার মধ্যে বসে খাবার খেয়েছেন সবাই মিলে অনেক বেশি আনন্দ করেছেন এতদূর পর্যন্ত গাড়ি চালালে তো অসুস্থ হবে এটাই স্বাভাবিক যাইহোক অসংখ্য ধন্যবাদ হঠাৎ করে মামার বাড়িতে যাওয়ার মুহূর্ত আমাদের সাথে তুলে ধরার জন্য ভালো থাকবেন।