একুশে বইমেলা( পর্ব- ৭ )!!
আমার বাংলা ব্লগে,সবাইকে স্বাগতম।
আমি @emon42.
বাংলাদেশ🇧🇩 থেকে
বাতিঘর প্রকাশনীতে তখন আমি বই দেখতে ব্যস্ত। হঠাৎ দেখি আমার পেছনে কয়েকজন একজনের সাথে ছবি উঠছে অটোগ্রাফ নিচ্ছে। পরে দেখি উনি হচ্ছেন জুবায়ের ইবনে কামাল। যে পাখি দেয় ধরা বইটার লেখক উনি। ইতিমধ্যে বইটা আমি কিনেছিলাম। আর অপেক্ষা না করে উনার কাছে চলে গেলাম। কিছুক্ষণ কথা বললাম। এরপর উনার থেকে একটা অটোগ্রাফ নিলাম বইয়ের উপর। অটোগ্রাফ দেওয়ার আগে বইয়ের উপর সুন্দর একটা ম্যাসেজ লিখে দিল উনি। "প্রিয় ইমন আপনার সামনে নুইয়ে পড়ুক কাঁটাতার"। উনার অটোগ্রাফ নেওয়ার পরে উনার সাথে কয়েকটা ছবি উঠলাম। উনি একজন নতুন লেখক। এটা উনার তৃতীয় বই। আমাকে বলল বইটা পড়ার পড়ে ইমেইলে একটা রিভিউ দিয়ে দিতে। সেটা আমি পড়ে দিয়ে দিয়েছিলাম।
এরপর দেখি টমাস হ্যারিস এর দুইটা বই। দুইটা বই অনুবাদ করা। যার একটা অনুবাদ করেছে ইফতেখারুল ইসলাম। এবং অন্য টা অনুবাদ করেছে মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন। বই দুইটার স্টোরি লাইন পড়ি। কিন্তু ঐ দুইটা আমি ক্রয় করিনি। শুধুমাত্র কৌতূহল থেকে হাতে নিয়ে দেখেছিলাম। এর পাশেই ছিল নাবিল মুহতাসিম এর লেখা বাজি এবং বাজিমাত। নাম দুইটা কাছাকাছি হলেও লেখক একজন হলেও দুইটা ভিন্ন বই। এই দুইটা থ্রীলার। থ্রীলার আমার পছন্দের। তবে সবার থ্রীলার পড়ার প্রতি আগ্রহ খুজেঁ পাই না একেবারেই। বই দুইটা নিয়ে কিছুক্ষণ দেখে রেখে দেয়। কারণ ততক্ষণে আমার বাজেট প্রায় ফুরিয়ে এসেছে। চাইলেও আমি আর বই কিনতে পারতাম না।
জাপানের বিখ্যাত একজন লেখক কিয়েগো হিগাশিনো। উনি সাধারণত থ্রীলার এর জন্য বিখ্যাত। উনার কয়েক বই আমি পড়েছি। দেখি উনার বেশ কিছু বই সাজানো রয়েছে। উনার বেশ কিছু বই আমি কিছুটা উল্টে পাল্টে দেখি। বেশ ভালো লাগছিল দেখে। সাধারণত সালমান হক এর অনুবাদ আমার সবচাইতে বেশি ভালো লাগে। উনার ম্যালিস বইটা আমি পড়েছি। কিন্তু তারপর অন্য বই সংগ্রহে না থাকায় আর পড়া হয়ে উঠেনি। এর পাশেই ছিল কৌশিক জামান এর অনুবাদ করা একটা বই। কৌশিক জামান বইয়ের প্রচ্ছদ তৈরি করে থাকে। পাশাপাশি উনি একজন ভালো লেখক এবং অনুবাদক। এই বইটা উনার অনুবাদ করা। এর পাশেই ছিল মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিনের আলোচিত একটা বই।
"১৯৫২" নিছক কোন সংখ্যা নয়। এই বইটা এবার বইমেলায় বেশ আলোচনায় ছিল। বইটা আমি বেশ কিছুক্ষণ দেখি। এবং ঐটা আমি অনলাইন পেইজ থেকে নিব এইজন্য আর নেয়নি। সবমিলিয়ে আরও অনেক টা সময় কাটিয়ে ফেলি বাতিঘর এর স্টলে। কিন্তু লেখক নাজিম উদ্দিনের দেখা নেই। ঐদিকে আমার বন্ধু আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারছে না। স্টল কতৃপক্ষ আর নিশ্চিত হয়ে কিছু বলতে পারছে উনি লেখক কখন আসবে আদেও আসবে কীনা। প্রায় দুইঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকার পর আমি হাল ছেড়ে দেয়। সিদ্ধান্ত নেয় মেলা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার। কারণ ততক্ষণে আমার বাজেট শেষ। ঘোরাঘুরি করে আর লাভ নাই। যদিও ভেবেছিলাম আরও একদিন যাব বইমেলায়। কিন্তু আফসোস যাওয়া আর হয়নি। আবার একবছর অপেক্ষা করতে হবে।
সবাইকে ধন্যবাদ💖💖💖।
অনন্ত মহাকালে মোর যাএা অসীম মহাকাশের অন্তে। যারা আমাদের পাশে আছে তারা একটা সময় চলে যাবেই, এটা তাদের দোষ না। আমাদের জীবনে তাদের পার্ট ওইটুকুই। আমাদের প্রকৃত চিরশখা আমরা নিজেই, তাই নিজেই যদি নিজের বন্ধু হতে পারেন, তাহলে দেখবেন জীবন অনেক মধুর।তখন আর একা হয়ে যাওয়ার ভয় থাকবে না।
আমি ইমন হোসেন। আমি একজন বাংলাদেশী। আমি একজন ছাএ। তবে লেখাপড়া টা সিরিয়াসলি করি না হা হা। লেখালেখি টা বেশ পছন্দ করি। এবং আমি ফুটবল টা অনেক পছন্দ করি। আমার প্রিয় লেখক হলেন জীবনানন্দ দাস। আমি একটা জিনিস সবসময় বিশ্বাস করি মানিয়ে নিতে এবং মেনে নিতে পারলেই জীবন সুন্দর।।
Daily task
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
বইমেলা মানেই যেন এক অন্যরকম অনুভূতি নতুন বইয়ের গন্ধ, প্রিয় লেখকদের সন্ধান, আর সীমিত বাজেটের সঙ্গে যুদ্ধ! লেখকের কাছ থেকে সরাসরি অটোগ্রাফ পাওয়া দারুণ এক স্মৃতি, যা বইয়ের পাতায় নয়, মনে গেঁথে থাকে। কিছু বই হয়তো কেনা হলো না, কিছু লেখকের দেখা মেলেনি, তবু যে অভিজ্ঞতা হলো, সেটাই তো সবচেয়ে বড় পাওয়া। মেলায় কাটানো প্রতিটি মুহূর্ত যেন একেকটি গল্প, যা আগামীর জন্য আরও অপেক্ষার দরজা খুলে দেয়! ধন্যবাদ ভাইয়া একুশে বইমেলার পর্ব- ৭ শেয়ার করার জন্য।
আপনার এই পোস্ট গুলোর মাধ্যমে কিছু ভালো ভালো বইয়ের সন্ধান পাচ্ছি। যদিও বাংলাদেশ থেকে হয়তো এই বইগুলি আমার হাতে এসে পৌঁছানো সম্ভব নয়, তবুও অনেক বইয়ের ব্যাপারে জানতে পারলে সেই ধরনের তথ্যসমৃদ্ধ বই এখান থেকেও সংগ্রহ করা যায়। তাই আপনার এই ধরনের প্রত্যেকটি পোষ্ট আমি মন দিয়ে পড়তে আসি। এই পোস্টেও আপনি বিশেষ কিছু ভালো বইয়ের খবর আমাদের সঙ্গে শেয়ার করেছেন।