'সাজানো সংসার গল্পের প্রথম পর্ব'
হ্যালো বন্ধুরা,
আপনারা সবাই কেমন আছেন? আশা করি, আপনারা সবাই ভাল আছেন সুস্থ আছেন। আজ আমি আপনাদের মাঝে নতুন গল্প উপস্থাপন করছি। আশা করি, গল্পের প্রথম পর্বটি আপনাদের সবার ভালো লাগবে। তাই বিলম্ব না করে আমার পোস্ট লেখাটি শুরু করছি।
মধুরাম পুরের ছোট্ট গ্রামে বসবাস করতো রাকেশ। রাকেশের পরিবারে সদস্য ছিল মাত্র চারজন বাবা, মা রাকেশ ও তার ছোট ভাই প্রদীপ। ছোটবেলা থেকেই রাকেশ সংসারের হাল ধরে কারণ তার বাবা একা সংসার সামলাতে পারছিল না। যার কারণে রাকেশ তেমন একটা পড়াশোনা করতে পারেনি। প্রদীপ ছিল খুব মেধাবী যার কারণে প্রদীপের পড়াশোনার ভার বহন করে রাকেশ। রাকেশ ও তার বাবা দুজনে সকালে ঘুম থেকে উঠে পান্তা ভাত খেয়ে বেরিয়ে পড়তো কাজে। রাকেশের বাবা রিক্সা চালাত আর রাকেশ রাজ মিস্ত্রির হেল্পার ছিল। খুব ভালোই দিন কাটছিল তাদের কিন্তু হঠাৎ রাকেশের বাবা অসুস্থ হয়ে পড়ে। কারণ রাকেশের বাবার অনেক বয়স হয়েছে তাই এখন তেমন একটা কষ্ট করতে পারে না। রাকেশের বাবাকে ডাক্তার দেখানোর পর ডাক্তার তাকে বিশ্রামে থাকতে বলে। রাকেশ তার বাবাকে বলে, সে একাই সংসার চালাতে পারবে। কিন্তু বাবারা একটু অন্যরকম হয়ে থাকে ছেলের কষ্ট কখনো বাবারা সইতে পারে না। তারা না পারলেও মুখে একটা কথাই বলবে আমিতো এখনো তোদের মাঝে রয়েছি।
কিন্তু রাকেশ তার বাবাকে জানায় তার এখন বয়স হয়েছে এখন বিশ্রামের সময়। ছোট ভাই দেখল দাদার অনেক কষ্ট হয়ে যাচ্ছে তাই একদিন প্রদীপ তার দাদাকে জানায় সে আর লেখাপড়া করবে না। এটা শুনে রাকেশ রাগান্বিত কন্ঠে প্রদীপ কে বলে, তোর পড়াশোনা করতে হবে তোকে আমি বড় অফিসার করব। তখন প্রদীপ তার দাদাকে জানায় তোমার অনেক কষ্ট হয়ে যাবে আমাদের মতন পরিবারের ছেলেদের পড়াশোনা করাটা শোভা পায় না। আর পড়াশোনা করেও বা কি হবে গরিবের কখনো চাকরি হয় না। চাকরি করতে গেলে প্রচুর টাকার প্রয়োজন হয় সেই টাকা আমাদের কাছে নাই। রাকেশ প্রদীপ কে বলে, যত টাকা লাগুক আমি দিবো যদি আমার দুটো কিডনি বিক্রি করতে হয় তাও আমি করব। কিন্তু আমি তোকে মানুষের মত মানুষ করে তুলবো। প্রদীপ আবারও কথা বলতে চায় তখন ধমক দিয়ে রাকেশ বলে, অনেক বড় হয়ে গিয়েছিস দাদার মুখের উপর কথা বলছি। চুপচাপ ঘরে যে পড়তে বস তুই শুধু পড়ায় মনোযোগ দে বাকিটা আমি সামলে নিব।
দিন যত যেতে থাকে রাকেশের মাথায় চাপ বেড়ে যেতে শুরু করে। বাবার ওষুধের টাকা,ছোট ভাইয়ের টিউশনির টাকা, সংসারের টাকা। রাকেশ চিন্তা করে সে রাতে অবার ডিউটি করবে। রাত দিন জুড়ে সে পরিশ্রম করতে থাকে একদিন তার মা রাকেশকে বলে, রাকেশ তুই যে এত কষ্ট করছিস আমাদের জন্য।একটাবার নিজের শরীরের দিকে তাকিয়ে দেখেছিস কি হাল হয়েছে। রাকেশ মুচকি হেসে তার মাকে বলে, মা গো এ কষ্ট কিছুই না যখন বাড়ি এসে তোমাদের মুখে একটু হাসি দেখি তখন আমার কষ্ট দূর হয়ে যায়। মা বলে, আমি বলেছি কি তোর ছোট ভাইকে কাজে নিয়ে যা তাহলে তোর কষ্টটা একটু কম হবে এত পড়াশোনা করে কি হবে। রাকেশ বলে, মা গো তুমি এ কি বলছো, আমি টাকার অভাবে পড়াশোনা করতে পারিনি কিন্তু আমি তার বড় ভাই হয়ে তার পড়াশোনাকে বন্ধ করে দিতে পারি না। আমি ওর মাঝে আমার স্বপ্নটা পূরণ করব। তুমি দেখো মা আমাদের প্রদীপ একদিন অনেক বড় অফিসার হবে। তখন দেখবে আমাদের এই অভাবটা আর থাকবে না। মা বলে, তোর ভাইয়ের জন্য এত করছিস ও যখন বড় হয়ে চাকরি করবে তখন যদি....। রাকেশ বলে, না মা না তুমি যা ভাবছো সেটা হবে না প্রদীপ আমার ভাই ও কখনো বেইমানি করতে পারবে না। তুমি দেখেছো মা, আমি যতই রাত করে বাড়ি আসি না কেনো প্রদীপ আমার জন্য জেগে থাকে আমাকে এসে বলে আমি খেয়েছি কিনা। প্রদীপ কখনো এমনটি করবে না তুমি দেখে নিও। মা বলে, ভগবানের কাছে প্রার্থনা করি তোর ছোট ভাই তোর কষ্টের মূল্য যেন দেয়।