নার্সারিতে ঘুরতে যাওয়ার অনুভূতি। (শেষ পর্ব)
শুভ দুপুর 🌅
আজ ৩০ ই ডিসেম্বর,
রোজ সোমবার ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ।
আসসালামু আলাইকুম,
আমি @nazmul01 ময়মনসিংহ জেলা, বাংলাদেশ থেকে।
হ্যালো "আমার বাংলা ব্লগ" পরিবার। কেমন আছেন সবাই? আশাকরি আপনারা সকলেই আল্লাহর রহমতে ভালো আছেন। আমিও আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহর রহমতে ভালো আছি। আজকে আমি আপনাদের মাঝে হাজির হলাম নার্সারিতে ঘুরতে যাওয়ার অনুভূতি পোস্ট নিয়ে। আশাকরি আপনাদের সবার ভালো লাগবে। চলুন তাহলে শুরু করি।
আমার বাসার পিছনে বেশ কিছু খালি জায়গা পড়ে ছিল। তাই আমি চিন্তা করেছি খালি জায়গায় কিছু শাকসবজি রোপন করবো। শীতকালে শাক-সবজি ফলন খুব ভালো হয়। তাই আমি গত দুই সপ্তাহে আগে গিয়েছিলাম নার্সারিতে চারা কেনার জন্য। সেখান থেকে আমি বেগুন, টমেটো, কাঁচা মরিচ এর বেশ কিছু চারা কিনে নিয়ে এসেছিলাম। এবং বিভিন্ন গাছের চারা উৎপাদনের বিভিন্ন কৌশল সম্পর্কে জানতে পেরেছি। গত সপ্তাহে আমি প্রথম পর্ব শেয়ার করেছিলাম, আজকে আপনাদের মাঝে শেষ পর্ব নিয়ে হাজির হয়েছি। এই পর্বে আমি আপনাদের মাঝে নার্সারিতে চারা উৎপাদন ও বিভিন্ন চারা সম্পর্কে কিছু বিষয় শেয়ার করেছি। শাকসবজি চাষাবাদের জন্য নার্সারি থেকে চারা কিনলে ফলন অনেক ভালো হয়। কেননা কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট এর বিভিন্ন কার্যক্রম এবং কৌশল অবলম্বন করে আধুনিক প্রযুক্তিতে চারা উৎপাদন করা হয়। আজকে সে সম্পর্কে কিছু তথ্য জানানোর চেষ্টা করব।
ছবির অবস্থান :- ময়মনসিংহ সদর, বাংলাদেশ।
কাঁচা মরিচ ও ফুলকপি চারার পাশে পেঁপে গাছের চারা দেখতে পেয়েছিলাম। পেঁপে গেছের চারাগুলো আমার কাছে ভীষণ ভালো লেগেছে। প্রতিটি চারা একটি করে ওয়ান টাইম কাপের ভিতর রোপন করা হয়। তাই খুব সহজেই আলাদা আলাদা অবস্থায় চারাগুলো বেড়ে ওঠে। নার্সারিতে একটি পেঁপে চারার দাম ছিল ২০ টাকা করে। আমি সেখান থেকে পাঁচটি পেঁপে চারা বেছে কিনে নিয়েছিলাম। তার পাশেই বেডে ছিল বিভিন্ন ধরনের ফুলকপি ও কাঁচা মরিচের চারা। সেগুলো সম্পর্কে গত পোস্টে শেয়ার করেছিলাম। একসঙ্গে অনেক গুলো চারা দেখতে অনেক সুন্দর লাগে।
ছবির অবস্থান :- ময়মনসিংহ সদর, বাংলাদেশ।
নার্সারির অন্য পাশে গ্রীন হাউজ ঘরে আরোও বিভিন্ন শাকসবজি চারা রোপন করা হয়েছে। সেগুলো এখনো অঙ্কুরিত হয়নি। সবুজ কাপড় দিয়ে মাটির উপরে ঢেকে দেয়া হয়েছিল। তাই খুব অল্প সময়ের ভিতরে চেরাগুলো অঙ্কুরিত হবে জানিয়েছিল নার্সারি কর্তৃপক্ষ। আমার ফটোগ্রাফি গুলো দেখলে আপনার খুব সহজে বুঝতে পারবেন অনেক বড় এরিয়া নিয়ে নার্সারিটি তৈরি করা হয়। আমি অল্প কিছু চারা কেনার জন্য এসেছিলাম। নাসারির ভিতরে প্রবেশ করে আমি রীতিমতো অবাক হই এবং চারা রোপন এবং পরিচর্যা সম্পর্কে অনেক বিষয়াদি সম্পর্কে জানতে পারি।
ছবির অবস্থান :- ময়মনসিংহ সদর, বাংলাদেশ।
নার্সারিতে চারা উৎপাদন সম্পর্কে আমি একটি বিষয় খুব ভালোভাবে জানতে পারি। বীজ থেকে চারা উৎপাদনের জন্য এক ধরনের বিশেষ মাটি কিনে আনা হয়। সে মাটিতে বিভিন্ন ওষুধ মিশ্রিত করে স্যার প্রয়োগ করা হয়। সঙ্গে কিছু গোবর মাটি ও সেখানে ব্যবহার করা হয়। তারপর ডিমের কেসের মত বিভিন্ন প্লাস্টিক সেডে মাটি ভরাট করে সেখানে বীজ রোপণ করা হয়। এই ধরনের আধুনিক পদ্ধতিতে চারা উৎপাদন করলে চারাগুলো খুব সহজেই বেড়ে ওঠে এবং পরিপক্ক হয়। আমি কিছু মরিচের চারা কিনেছিলাম তখন দেখতে পেলাম হাত দিয়ে অল্প টান দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চারাগুলো উঠে এসেছিল। মাটি গুলো দেখতে হালকা বাদামি এবং খয়রি বর্ণের। আমি যেখানে যাই চেষ্টা করি সে সম্পর্কে কিছু জ্ঞান নেওয়ার জন্য। নার্সারিতে ভ্রমণ করে আমি বিভিন্ন চারা সম্পর্কে ও রোপণ সম্পর্কে অনেক জ্ঞান লাভ করি। এবং সেই পদক্ষেপ অনুযায়ী যারা রোপন করি। এখন আমার রোপন করা চারাগুলো খুব সুন্দর ভাবে বেড়ে উঠেছে। তারপর আমি যেসব চারা গুলো কিনেছিলাম সেগুলোকে নিয়ে বাসায় চলে আসি। যাইহোক এই ছিল আমার আজকের আয়োজন। আশাকরি আমার পোস্ট আপনাদের কাছে ভালো লেগেছে। কেমন লেগেছে তা অবশ্যই জানাবেন? আপনাদের সবার মতামত আশা করছি। আজকের মত এখানেই বিদায় নিলাম। সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকুন আল্লাহ হাফেজ।💞
বিভাগ | ভ্রমণ পোস্ট। |
---|---|
ডিভাইস | শাওমি রেডমি ৯। |
বিষয় | নার্সারিতে ঘুরতে যাওয়ার অনুভূতি (শেষ পর্ব)। |
লোকেশন | আকুয়া বাইপাশ র্যাব অফিস মোড়, ময়মনসিংহ সদর, বাংলাদেশ। |
রাইটার | @nazmul01। |
আমি মোঃ নাজমুল হাসান, আমি বাংলাদেশের নাগরিক এবং ঢাকা বিভাগের ময়মনসিংহ জেলায় থাকি। আমার সবচেয়ে বড় পরিচয় আমি বাঙালি। বাঙালি হিসেবে পরিচয় দিতে আমি গর্ব বোধ করি। আমি একজন শিক্ষার্থী এবং ডিগ্রিতে অধ্যয়নরত। আমি বর্তমানে বাংলাদেশে একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করছি। ফটোগ্রাফি করতে আমার অনেক ভালো লাগে। তাছাড়া কবিতা,আর্ট করা,ঘুরতে যাওয়া এবং রান্না করা আমার খুবই প্রিয়। প্রিয়জনদের সাথে ঘুরতে যাওয়া এবং বাহিরে খাবার খেতে আমার অনেক ভালো লাগে। নতুন রেসিপি শেখার আমার খুব আগ্রহ রয়েছে। আমি ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে স্টিমিটে জয়েন হয়েছি। "আমার বাংলা ব্লগ" কমিউনিটি একটি পরিবারের মতো। আর এই পরিবারের একজন সদস্য হতে পেরে আমি অনেক খুশি। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন। আমার পক্ষ থেকে আপনাদের জন্য শুভকামনা রইল।
ডিসকর্ড চ্যানেলে জয়েন করার জন্য | এখানে ক্লিক করেন |
---|
X-Promotion
ভাই আপনি নার্সারিতে গিয়ে অনেক সুন্দর সুন্দর ফটোগ্রাফি শেয়ার করেছেন দেখে খুব ভালো লাগছে। বাড়ির পাশে এরকম সুন্দর একটি জায়গাতে সবজি চাষ করবেন জেনে খুব ভালো লাগলো। অনেক সুন্দর একটি পোস্ট আমাদের সাথে বিস্তারিতভাবে শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
আমি চেষ্টা করেছি ভাই, শীত মৌসুমে কিছু চাষাবাদ করে স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খাওয়ার জন্য। ধন্যবাদ আপনাকে সুন্দর মন্তব্য শেয়ার করার জন্য।
আপনি যে নার্সারিতে ঘোরাফেরা করেছেন সেটা তো অনেক বড় নার্সারি দেখলাম। লাখ লাখ গাছের চারা দেখা যায়। তারাই গ্রিন বাংলাদেশ গড়ার কারিগর। ধন্যবাদ।
জি ভাই অনেক বড় নার্সারি। কিছুদিন ধরে নতুন তৈরি হয়েছে। নিঃসন্দেহে তারাই গ্রিন বাংলাদেশ গড়ার কারিগর। ধন্যবাদ ভাই আপনাকে।
গ্রীন হাউজ ঘরে বিভিন্ন ধরনের সবজির চারা রোপণ করেছে দেখে খুবই ভালো লাগলো। নার্সারিতে ঘুরতে গিয়ে অনেক সুন্দর সুন্দর ফটোগ্রাফি আমাদের সাথে শেয়ার করেছেন ভাইয়া। নার্সারীর ভেতরের সবুজ সবুজ ছোট ছোট চারা গুলো দেখে আমার ভীষণ ভালো লাগলো। শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ ভাইয়া।
আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ আপু, আমার পোস্ট ভিজিট করে গঠনমূলক আলোচনা শেয়ার করার জন্য।
নার্ছারিতে ঘুরতে যাওয়ার অনুভূতি শেয়ার করার পাশাপাশি অনেক সুন্দর সুন্দর ফটোগ্রাফিও আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন ভাই। প্রকৃতি ছোয়া পেতে কার না ভালো লাগে। সবুজে সমারোহ দেখে চোখ জুড়িয়ে গেলো। ধন্যবাদ ভাই এত চমৎকার একটি মূহুর্ত শেয়ার করে নেওয়ার জন্য।
আপনাকেও অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই, আমার পোস্ট ভিজিট করে গঠনমূলক মতামত দেওয়ার জন্য। আপনার জন্য শুভকামনা রইল ভালো থাকবেন ভাই।
এই বিরাট নার্সারির ছবিগুলি দারুন সুন্দর তুলেছেন ভাই। চারপাশ যেন একেবারে সবুজ আর সবুজ। আর এমন সবুজের সমারোহতে সময় কাটাতে খুব ভালো লাগে। আপনি তো নার্সারি থেকে অনেক ধরনের গাছ সংগ্রহ করে এনেছেন বাড়ির জন্য। আর সঙ্গে ছবি তুলে আমাদের সঙ্গে শেয়ার করলেন বলে ধন্যবাদ।
ধন্যবাদ দাদা আপনাকে, আমার পোস্ট ভিজিট করে গঠনমূলক কমেন্ট শেয়ার করার জন্য।
কিছুদিন আগে আমি নিজেও নার্সারি বাগানে গেলাম গাছের চারা কিনতে। তবে এটি শুনে ভালো লাগলো আপনি খালি জায়গায় বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি গাছের চারা কিনতে নার্সারি বাগানে গেলেন। আসলে নার্সারি বাগানে গেলে বিভিন্ন ধরনের চারা গাছ দেখলে মন চায় সব কিনে নিতে। এবং নার্সারি বাগানে ঘুরতে যাওয়ার শেষ পর্বটি আমাদের মাঝে সুন্দর করে শেয়ার করেছেন।
নার্সারির পরিবেশ খুবই সুন্দর ছিল, চারিপাশে শুধু সবুজ আর সবুজ, মনোমুগ্ধকর পরিবেশ। ধন্যবাদ আপু আপনাকে সুন্দর মন্তব্য শেয়ার করার জন্য।