"টাঙ্গুয়ার হাওর ভ্রমণ- ওয়াচ টাওয়ার থেকে তাহিরপুরের উদ্দেশ্যে"
হ্যালো..!!
আমার সুপ্রিয় বন্ধুরা,
আমি @aongkon বাংলাদেশের নাগরিক।
আজ- ৩১ ই মার্চ, রবিবার, ২০২৪ খ্রিঃ।
আমি আশা করি, আপনারা সবাই সুস্থ এবং সুন্দর আছেন। আমার মাতৃভাষা বাংলার একমাত্র ব্লগিং কমিউনিটি আমার বাংলা ব্লগ এর ফাউন্ডার, এডমিন প্যানেল, মডারেটর প্যানেল এবং সকল সদস্য ও সদস্যাদের আমার অন্তরের অন্তরস্থল থেকে প্রাণঢালা শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন রইল।
কয়েকটি ফটোগ্রাফি একত্রিত করে সুন্দর একটি কভার ফটো তৈরি করে নিয়েছি।
ডিভাইস: স্যামসাং গ্যালাক্সি এফ-৫৪
লোকেশন: সুনামগঞ্জ, সিলেট
তারিখ: ৩০ শে আগস্ট ২০২৩
আমাদের হাতে যেহেতু সময় কম ছিল তাই আমরা ওয়াচ টাওয়ারে পৌঁছানোর একটু আগেই স্নান করার জন্য আমাদের মাঝি আমাদেরকে রেডি হওয়ার জন্য বলে। আমরা মাঝিকে আগেই বলে রেখেছিলাম যে, ওয়াচ টাওয়ারে গিয়ে আমরা শুধুমাত্র স্নান করে আবার তাহিরপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দিব। টেকের ঘাট থেকে ওয়াচ টাওয়ারে পৌঁছাতে আমাদের দেড় ঘন্টা সময় পার হয়ে গিয়েছিল। এই ওয়াচ টাওয়ার কে কেন্দ্র করে এখানে বিভিন্ন পর্যটকরা ভ্রমণ করতে আসে। বড় নৌকা নিয়ে টাঙ্গুয়ার হাওরের ভেতরে এসে থাকার জন্য এই ওয়াচ টাওয়ার সেভ জায়গা।
ডিভাইস: স্যামসাং গ্যালাক্সি এফ-৫৪
লোকেশন: সুনামগঞ্জ, সিলেট
তারিখ: ৩০ শে আগস্ট ২০২৩
আমরা যেহেতু আগেই স্নানের জন্য রেডি হয়েছিলাম তাই ওয়াজ টাওয়ারে পাশে এসে বেশি সময় লেট না করে স্নানের জন্য সবাই টাঙ্গুয়ার হাওরের নীল জলে নেমে পড়লাম। আহা কি শান্তি, শীতল জলের স্পর্শে সারাদিনের ক্লান্তি যেন এক নিমিষেই দূর হয়ে গেল। যদিও হঠাৎ টাঙ্গুয়ার হাওরের অচেনা জায়গায় এসে স্নান করতে একটু কেমন কেমন লাগে তারপরেও সারাদিন পর স্নান করতে ভীষণ ভালো লাগছিল। তবে আমরা সবাই স্নান করার আগে লাইফ জ্যাকেট পড়ে নিয়েছিলাম। সবাই অবশ্য সাঁতার জানি তারপরেও লাইফ জ্যাকেট নেওয়াটা উচিত। আমরা স্নান করার সময় দেখতে পেলাম নৌকাতে করে ভ্রাম্যমান দোকানে চা বিক্রি করছে।
ডিভাইস: স্যামসাং গ্যালাক্সি এফ-৫৪
লোকেশন: সুনামগঞ্জ, সিলেট
তারিখ: ৩০ শে আগস্ট ২০২৩
আমরা সেই ভ্রাম্যমান চা দোকানদারকে ডেকে আমাদের মাঝিসহ আমরা সবাই চা খেলাম। টাঙ্গুয়ার হাওরের স্নান করার সাথে সাথে চা খেতে মনটা বেশ সতেজ হয়ে গেল। সত্যি বলতে টাঙ্গুয়ার হাওরের এই জায়গাটিতে এসে আমরা এতটা সুন্দর সময় অতিবাহিত করব আমরা সেটা কল্পনাতেও ভাবি নি। তবে ভ্রমণের সময় সারাদিন ধরে ইচ্ছা করছিল যে, কোন এক জায়গায় স্নান করতে আমাদের প্রথম টার্গেট ছিল যে, নীলাদ্রির নীল জলের স্নান করার কিন্তু সময় কম থাকাতে সেখানে আমরা স্নান করতে পেরেছিলাম না। আর তাই আমরা একবারে টাঙ্গুয়ার হাওড়ে এসে স্নান করি।
ডিভাইস: স্যামসাং গ্যালাক্সি এফ-৫৪
লোকেশন: সুনামগঞ্জ, সিলেট
তারিখ: ৩০ শে আগস্ট ২০২৩
ওয়াচ টাওয়ারে এসে আমরা মোটামুটি ত্রিশ মিনিট মতো সময় ব্যয় করি। আমাদের স্নান করা কমপ্লিট হয়ে গেলে আমরা মাঝিকে বলি যে, তাহেরপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দিবে। কারণ সেই সময়টাতে ঘড়ির কাটায় ঠিক সাড়ে পাঁচটা বাজে। আর টাঙ্গুয়ার হাওরের ওয়াচ টাওয়ার থেকে তাহেরপুর যেতে এক ঘন্টা সময় লাগে অর্থাৎ আমাদের তাহেরপুর যেতে যেতে সাড়ে ছয়টা বেজে যাবে। আর আমরা যে, টাইমে গিয়েছিলাম আগস্ট মাসের শেষের দিকে এ সময়টাতে সাড়ে ছয়টার দিকেই সন্ধ্যা নেমে আসে।
ডিভাইস: স্যামসাং গ্যালাক্সি এফ-৫৪
লোকেশন: সুনামগঞ্জ, সিলেট
তারিখ: ৩০ শে আগস্ট ২০২৩
আমি দেখলাম পুরো টাঙ্গুয়ার হাওরের বেশিরভাগ অঞ্চল জুড়েই কোন না কোন গ্রাম রয়েছে। আর এখানকার প্রতিটি গ্রামেই মানুষের বসবাস রয়েছে। যদিও বর্ষার সময় গ্রামগুলো প্রায় নিমজ্জিত অবস্থায় থাকে তারপরেও মানুষ তাদের ভিটেবাড়ি ছেড়ে কোথাও যায় না এখানেই অতি কষ্টে জীবন জীবিকা নির্বাহ করে। আমি আমাদের নৌকা থেকে দেখতে পেলাম প্রতিটি বাড়িতে তাদের নিজস্ব নৌকা রয়েছে। টাঙ্গুয়ার হাওরের ভিতরে যাদের বাড়ি তারা অবশ্য বড়লোক নয় কেউই তাদের জীবন সংগ্রামের জীবন।
ডিভাইস: স্যামসাং গ্যালাক্সি এফ-৫৪
লোকেশন: সুনামগঞ্জ, সিলেট
তারিখ: ৩০ শে আগস্ট ২০২৩
টাঙ্গুয়ার হাওর ভ্রমণের প্রতিটি মুহূর্ত আমাদেরকে মনোমুগ্ধকর করে যাচ্ছিল। আমাদের সব থেকে ভালো সিদ্ধান্ত ছিল যে সকালবেলা টাঙ্গুয়ার হাওর ভ্রমণ না করে বিকাল বেলাতে টাঙ্গুয়ার হাওরে ভ্রমণ করা। কারণ বিকালবেলা টাঙ্গুয়ার হাওরের সৌন্দর্য দেখলে আপনাকে মুগ্ধ হতেই হবে যদি পরিবেশ অনেক আপনাকে মুগ্ধ হতেই হবে যদি সেই দিনটা অনেক সুন্দর থাকে। আমি আর আমার বন্ধু রাহুল নৌকার এক পাশে বসে টাঙ্গুয়ার হাওরের বিকালের প্রাকৃতিক মনোমুগ্ধকর উপভোগ করছিলাম।
ডিভাইস: স্যামসাং গ্যালাক্সি এফ-৫৪
লোকেশন: সুনামগঞ্জ, সিলেট
তারিখ: ৩০ শে আগস্ট ২০২৩
আমরা কোন বাধা বিপত্তি ছাড়া টাঙ্গুয়ার হাওর পাড়ি দিয়ে তাহিরপুর নৌকা ঘাটে চলে আসলাম। টেকের ঘাট থেকে ওয়াচ টাওয়ারে আসতে আমাদের সময় লেগেছিল দেড় ঘন্টা তারপর ওয়াচ টাওয়ারে ৩০ মিনিট মতো দেরি করেছিলাম তারপর ওয়াচ টাওয়ার থেকে তাহিরপুর আসতে আমাদের সময় লাগলো এক ঘন্টা। মোটামুটি আজকে পুরো টাঙ্গুয়ার হাওর ভ্রমণ করতে আমাদের তিন ঘন্টা মত সময় লেগেছে। এরকম একটা অ্যাডভেঞ্চার ভ্রমণ শেষ করতে পেরে নিজেদের কাছে ভীষণ ভালো লাগছিল। তবে আমাদের সবাইকে টাঙ্গুয়ার হাওরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আকৃষ্ট করেছে। আমাদের সবার ইচ্ছা আছে আবার টাঙ্গুয়ার হাওরের এরকম সৌন্দর্য উপভোগ করার।
প্রিয় বন্ধুরা,
আমি স্টিমিট প্ল্যাটফর্মে আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটিতে প্রতিনিয়ত আমার সৃজনশীলতা দিয়ে ভালো কনটেন্ট শেয়ার করে এই কমিউনিটিকে সমৃদ্ধ করতে চাই এবং উচ্চতার শিখরে নিয়ে যেতে চাই। আমার ব্লগটি কেমন হয়েছে আপনারা সবাই কমেন্টের মাধ্যমে অবশ্যই মন্তব্য করবেন, সামান্য ভুল ত্রুটি অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন এবং সুপরামর্শ দিয়ে পাশে থাকবেন। আবার দেখা হবে নতুন কোনো পোস্ট নিয়ে শীঘ্রই, ততক্ষণে সবাই নিজের খেয়াল রাখবেন সুস্থ এবং সুন্দর থাকবেন এটাই কাম্য করি।
আমি অংকন বিশ্বাস, আমার ইউজার নেম @aongkon। আমি মা, মাতৃভাষা এবং মাতৃভূমিকে সব থেকে বেশি ভালোবাসি। আমি হৃদয় থেকে ভালবাসি সৃষ্টিকর্তা ও তার সকল সৃষ্টিকে। আমি বর্তমানে ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটিতে সিভিল টেকনোলজিতে বি.এস.সি ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে লেখাপড়া করছি। আমি ভ্রমণ করতে, গান গাইতে ও শুনতে, কবিতা লিখতে ও পড়তে, আর্ট করতে, রান্না করতে ও ফটোগ্রাফি করতে খুবই পছন্দ করি। "আমার বাংলা ব্লগ" আমার গর্ব "আমার বাংলা ব্লগ" আমার ভালোবাসা। আমার নিজের ভেতরে লুকায়িত সুপ্ত প্রতিভাকে বিকশিত করার লক্ষ্যে "আমার বাংলা ব্লগে" আমার আগমন। এই স্বল্প মানব জীবনের প্রতিটা ক্ষণ আমার কাছে উপভোগ্য। আমি মনে করি, ধৈর্যই সফলতার চাবিকাঠি।
@aongkon


টাঙ্গুয়ার হাওর ভ্রমণ করতে গিয়ে টাঙ্গুয়ার হাওরের নীল জলে বন্ধুরা বেশ সুন্দর সময় অতিবাহিত করেছেন দেখে মনে। ওয়াচ টাওয়ার থেকে তাহেরপুরে আসতে কত সময় লেগেছে এবং পুরো ভ্রমণটা অনেক সুন্দর ভাবে আমাদের সাথে শেয়ার করেছেন। আপনার পোস্ট পড়েও দেখে খুবই ভালো লাগলো ভাইয়া। ধন্যবাদ।
টাঙ্গুয়ার হাওরের নীল জলে গোসল করার মুহূর্তটা সত্যিই দারুন ছিল আপু। সুন্দর গঠনমূলক মন্তব্য করার পাশে থাকার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ আপু।
টাঙ্গুয়ার হাওর ভ্রমণের মুহূর্ত গুলো দেখে খুব ভালো লাগলো ভাই। প্রকৃতির পরিবেশে সত্যিই দুর্দান্ত মুহূর্ত উপভোগ করেছেন। আসলে প্রকৃতির পরিবেশে মুহূর্তগুলো উপভোগ করার আনন্দটাই অন্যরকম হয়ে থাকে। বন্ধুরা সবাই মিলে বেশ সুন্দর সময় অতিবাহিত করেছেন। এত সুন্দর মুহূর্তের অনুভূতি আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই।
প্রাকৃতিক পরিবেশে ঘুরে বেড়াতে ভীষণ ভালো লাগে। টাঙ্গুয়ার হাওর ভ্রমণে সবাই বেশ দারুন সময় অতিবাহিত করেছিলাম। অনেক সুন্দর মন্তব্য করে পাশে থাকার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ভাই।
সুস্থ্য স্বাভাবিক থাকতে গেলে ভালোভাবে বাঁচতে গেলে ভ্রমণ আবশ্যক। কেননা ভ্রমণ মনকে প্রফুল্ল করে তোলে। ওয়াচ টাওয়ারে আপনারা বেশিক্ষণ থাকেননি। ঐ গোসল করতে যতটা সময় প্রয়োজন আর কী। আর ঐখানে গোসল করতে করতে চা বাহ ব্যাপার টা তো বেশ দারুণ লাগল ভাই। বেশ চমৎকার সময় কাটিয়েছেন। বিকেল বেলা তাহলে টাঙ্গুয়ার হাওর দেখতে আরও সুন্দর লাগে। ব্যাপার টা জানা থাকল।
হ্যাঁ ভাই আমাদের সুস্থ স্বাভাবিক থাকতে হলে ভ্রমণ বেশ আবশ্যক। ভাই টাঙ্গুয়ার হাওরের ওয়াচ টাওয়ারের ওই জায়গাতে গিয়ে গোসল করে অনেক বেশি মজা পেয়েছিলাম। অনেক সুন্দর মন্তব্য করে পাশে থাকার জন্য ধন্যবাদ ভাই।
টাঙ্গুয়ার হাওরে কি ওয়াচ টাওয়ারে অনেক বেশি মজা করেছিলাম। বিশেষ করে পানিতে শুয়ে শুয়ে চা খাওয়ার ব্যাপারটা বেশি ভালো ছিল। তাছাড়া আশেপাশের সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। তোমার পোস্টের মাধ্যমে আবার সেই স্মৃতিগুলো মনে পড়ে গেল।
আসলেই বন্ধু বিশেষ করে পানিতে চা খাওয়ার এই মজাটা সত্যি স্মৃতি হয়ে থাকবে। আশেপাশের সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হয়ে ছিলাম অনেক বেশি ভালো লেগেছিল। অনেক সুন্দর মন্তব্য করার জন্য ধন্যবাদ তোমাকে।
আপনার ভ্রমণের খুব সুন্দর সুন্দর কিছু পোস্ট অনেকদিন ধরে দেখে আসছি৷ আজকেও খুব সুন্দর একটি পর্ব শেয়ার করেছেন৷ খুব সুন্দরভাবে আজকে আপনার এই ফটোগ্রাফির মাধ্যমে এবং বর্ননার মাধ্যমে খুব সুন্দর কিছু বিষয় এখানে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন যা দেখে খুব ভালো লাগছে। আপনার অনেকে মিলে একসাথে এখানে অনেক মজাও করেছেন৷
ভ্রমণ বিষয়ক পোস্ট করতে আমার অনেক ভালো লাগে ভাই তাই তো মাঝেমধ্যে ভ্রমণ বিষয়ক পোস্ট করি। আমার পোস্টটি আপনার কাছে ভালো লেগেছে জেনে খুশি হলাম। অনেক সুন্দর মন্তব্য করে পাশে থাকার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই
আপনার মতো আমারও ভ্রমন পোস্ট করতে ও দেখতে ভালো লাগে। অনেক নতুন কিছু দেখতে পাই৷