পিরিত
সদর দরজার সামনে যে অবলা প্রাণী থাকে, রাত-বিরাতে অপলক দৃষ্টিতে প্রায়শই সে আমার আগমন দেখে ক্রমাগত মাথা নিচু করে আশেপাশে ঘুরঘুর করে নতুবা মৃদু সুরে গোঁ গোঁ করে ব্যস্ত হয়ে ওঠে । ওর ভালোবাসা পাওয়ার জন্য তেমন কিছুই করতে হয়নি !
তবে যা করতে হয়েছিল, তা শুধু মানুষের ভালোবাসা পাওয়ার জন্য। তবে সেই ক্ষেত্রে বারংবার ব্যর্থ হয়েছি।
রোজ বাড়ির অবশিষ্ট খাবারেই ও সন্তুষ্ট , সেটাও নিয়ম করে দিতে পারিনা। তবে ওর কোন অভিযোগ থাকে না বরং আমাকে স্বচক্ষে না দেখলেই গোঁ গোঁ শব্দ যেন আরো বেড়েই যায়। এমনও হয় যেন সদর দরজা ভেঙে আমাকে দেখতে পারলে, ও বাঁচে। কি অদ্ভুত চোখ জোড়া , যা কিনা আমাকে দেখার জন্য ব্যাকুল হয়ে থাকে।
আচ্ছা, ও কি আমায় ভালোবাসে নাকি ভক্তি দেখায় ! এই প্রশ্নের গভীরে কখনো যাওয়ার চেষ্টা করিনি, তবে এতোটুকু বুঝেছি যেখানে মানুষের ভালোবাসা পেতে আমি অপারগ , সেখানে হয়তো ওর মনে ঠিকই জায়গা করতে পেরেছি।
আজকাল বিনিময়ের পৃথিবীতে মানুষ নামক অদ্ভুত জীবের সঙ্গে কোনভাবেই পিরিত জমছে না, জমলেও তা টিকছে না। অসুস্থ বিনিময় যেখানে মুখ্য বিষয়, সেখানে অন্য সবকিছুই পরিত্যাজ্য। দিন দিন ভক্তি-প্রেম-স্নেহ-সুপরামর্শ বড্ড নিস্ক্রিয় হয়ে যাচ্ছে কুটিল চক্রান্তের কাছে।
কোথায় নেই এই নোংরামি, সর্বত্র সবখানেই এর ছায়া বিরাজমান। কেউ সহজেই খালি চোখে তা দেখতে পারছে কেউবা দেখেও না দেখার ভান ধরছে।
এত কিছুর মাঝেও অপলক দৃষ্টির মায়ায় আমি ঠিকই আকৃষ্ট হয়েছি, তবে নিদারুণ সত্য কথা কি জানেন, সেই চোখ জোড়া কিন্তু মানুষের না, বাড়ির সদর দরজার সামনের অবলা প্রাণীর।
ডিসকর্ড লিংক
https://discord.gg/VtARrTn6ht
250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |

VOTE @bangla.witness as witness

OR
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.