"প্রিয় শিক্ষকের প্রতি ভালবাসা"
হ্যালো..!!
আমার সুপ্রিয় বন্ধুরা,
আমি @aongkon বাংলাদেশের নাগরিক।
আজ- ২৫শে নভেম্বর, শনিবার, ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দ।
আমি আশা করি, আপনারা সবাই সুস্থ এবং সুন্দর আছেন। আমার মাতৃভাষা বাংলার একমাত্র ব্লগিং কমিউনিটি আমার বাংলা ব্লগ এর ফাউন্ডার, এডমিন প্যানেল, মডারেটর প্যানেল এবং সকল সদস্য ও সদস্যাদের আমার অন্তরের অন্তরস্থল থেকে প্রাণঢালা শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন রইল।
কয়েকটি ছবিকে একত্রিত করে সুন্দর একটি কভার ফটো তৈরি করে নিয়েছি।
আজকে আমি আপনাদের সামনে নতুন একটি পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছে প্রতিনিয়ত আমার বাংলা ব্লগে নতুন নতুন পোস্ট শেয়ার করতে আমার অনেক বেশি ভালো লাগে। আমি মনে করি পৃথিবীতে যতো পেশা আছে সব থেকে সম্মানের পেশা হলো শিক্ষকতা পেশা। শিক্ষাকে জাতির একটি জাতির মেরুদণ্ড হিসেবে গণ্য করা হয়। আরে এই শিক্ষা যিনি প্রদান করেন তিনি হচ্ছেন শিক্ষক। তাই আমাদের সমাজে শিক্ষকের মর্যাদা ও সম্মান সবার থেকে বেশি। কিছুদিন আগে আমাদের ইউনিভার্সিটির সিভিল ডিপার্টমেন্টের একজন প্রিয় শিক্ষকের নন ক্যাডারে চাকরি হওয়াতে আমাদের গ্রুপের শিক্ষার্থীরা মিলে সেই প্রিয় শিক্ষককে সসম্মানে বিদায় দিয়েছিলাম। আমাদের এই প্রিয় শিক্ষকের বিদায়ের মুহূর্ত গুলো এখন আপনাদের সাথে শেয়ার করবো।
আমাদের ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি'র সিভিল ডিপার্টমেন্টের সিনিয়র শিক্ষক মোহাম্মদ আব্দুল হাকিম স্যার। আমাদের ইউরোপিয়ান সিভিল ডিপার্টমেন্টের জন্য উজ্জ্বল নক্ষত্র। তিনি আমাদের সবার প্রিয়। আমি ইউনিভার্সিটি লাইফে এই দুই বছরে অনেক শিক্ষকের সান্নিধ্যে লেখাপড়া করেছি কিন্তু মোঃ আব্দুল হাকিম স্যারের মত শিক্ষক খুবই কম মেলে। একজন ছাত্রের কাছে তার শিক্ষক উত্তম পথপ্রদর্শক।
আমাদের ক্লাসে স্যার এমনভাবে আমাদেরকে শিক্ষা দিতেন যেনো তিনি আমাদের অত্যন্ত কাছের বন্ধু। আমাদের সবার সাথে খুব মিশতেন আর আমাদের কোথায় কোথায় সমস্যা আছে সেটা স্যার আগেই বুঝে যেতেন। একজন ছাত্রের দুর্বলতা যে শিক্ষক বুঝতে পারেন সেই শিক্ষক কই সেই ছাত্রকে সঠিক শিক্ষা দিতে পারেন। হঠাৎ করে এই আমাদের এই প্রিয় স্যারের নন ক্যাডারে চাকরি হতে আমরা সবাই অনেক খুশি।
বর্তমান যুগে বাংলাদেশের সরকারি চাকরি হওয়াটা বেশ দুষ্কর। আমাদের মোঃ আবুল হাকিম স্যারের যে ট্যালেন্ট তাতে করে তার কাছে সরকারি চাকরি পাওয়া খুব একটা কঠিন কিছু না। আমাদের এই প্রিয় শিক্ষকের চাকরি টা হওয়ার পরেই তিনি জানালেন যে ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটিতে আর তিনি শিক্ষকতা করবেন না। তারপর থেকে আমাদের মনটা একটু খারাপ কারণ তার মতো শিক্ষক পেয়ে আমরা ধন্য হয়ে গেছিলাম।
শিক্ষা তো সকল শিক্ষকই দেয় কিন্তু সুশিক্ষা খুব কম শিক্ষকই দিয়ে থাকে। আর আমাদের এখনকার দিনে শিক্ষার্থীকে সুশিক্ষা পাওয়াটা অনেক জরুরী। স্যারের চাকরি হয়েছে তাই স্যারকে তো আর আটকে রাখা সম্ভব হবে না। তাই আমরা সব শিক্ষার্থীরা মিলে স্যারকে সম্মান দেওয়ার জন্য স্যারের জন্য একটি ফুলের তোড়া একটি ঘড়ি কিনেছিলাম আর স্যারের চাকরি উপলক্ষে মিষ্টি মুখ করানের ব্যবস্থা করেছিলাম।
তারপর পরীক্ষার আগে স্যার আমাদের "প্রিন্সিপাল অব সয়েল মেকানিক্স" শেষ ক্লাস নেয়ার দিনে ক্লাস শেষ হওয়ার পরে আমরা সবাই মিলে প্রথমে ফুলের তোড়া দিয়ে স্যারকে অভিনন্দন জানাই। তারপর আমাদের তরফ থেকে একটি ছোট্ট উপহার সারকে দিলাম। আসলে এটা শুধু একটা উপহার না এটা আমাদের গ্রুপের সকল শিক্ষার্থীর স্যারের প্রতি ভালোবাসা ও সম্মান।
তারপর স্যারকে সবাই মিলে মিষ্টিমুখ করালাম। আসলে স্যার আমাদের থেকে এরকম সম্মান পেয়ে নিজেও অনেক খুশি। সব শেষ স্যারকে বললাম যে, যদি আমাদের জন্য কিছু দিকনির্দেশনা দিতেন তাহলে খুব ভালো হতো। তখন স্যার আমাদেরকে অনেক দিকনির্দেশনায় দিলো, আর বললো যে, জীবনে লেখাপড়া আর বিকল্প আর কিছুই নেই, জীবনে মানুষের মতো মানুষ হতে, আর আমাদের ভেতর যাতে এরকম বন্ধুত্বের সবসময় অটুট থাকে। স্যারের এরকম সুন্দর দিকনির্দেশনা পেয়ে আমরা সবাই অনেক খুশি ছিলাম। আমাদের এই প্রিয় স্যারের প্রতি ভালোবাসাটা থেকে যাবে আজীবন।
পোস্টের ছবির বিবরন
ডিভাইস | স্যামসাং গ্যালাক্সি এফ-৫৪ |
---|---|
ক্যামেরা | ১০৮ মেগাপিক্সেল |
তারিখ | ১৪ ই অক্টোবর ২০২৩ |
লোকেশন | ঢাকা, বাংলাদেশ |
প্রিয় বন্ধুরা,
আমি স্টিমিট প্ল্যাটফর্মে আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটিতে প্রতিনিয়ত আমার সৃজনশীলতা দিয়ে ভালো কনটেন্ট শেয়ার করে এই কমিউনিটিকে সমৃদ্ধ করতে চাই এবং উচ্চতার শিখরে নিয়ে যেতে চাই। আমার ব্লগটি কেমন হয়েছে আপনারা সবাই কমেন্টের মাধ্যমে অবশ্যই মন্তব্য করবেন, সামান্য ভুল ত্রুটি অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন এবং সুপরামর্শ দিয়ে পাশে থাকবেন। আবার দেখা হবে নতুন কোনো পোস্ট নিয়ে শীঘ্রই, ততক্ষণে সবাই নিজের খেয়াল রাখবেন সুস্থ এবং সুন্দর থাকবেন এটাই কাম্য করি।
আমি অংকন বিশ্বাস, আমার ইউজার নেম @aongkon। আমি মা, মাতৃভাষা এবং মাতৃভূমিকে সব থেকে বেশি ভালোবাসি। আমি হৃদয় থেকে ভালবাসি সৃষ্টিকর্তা ও তার সকল সৃষ্টিকে। আমি বর্তমানে ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটিতে সিভিল টেকনোলজিতে বি.এস.সি ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে লেখাপড়া করছি। আমি ভ্রমণ করতে, গান গাইতে ও শুনতে, কবিতা লিখতে ও পড়তে, আর্ট করতে, রান্না করতে ও ফটোগ্রাফি করতে খুবই পছন্দ করি। "আমার বাংলা ব্লগ" আমার গর্ব "আমার বাংলা ব্লগ" আমার ভালোবাসা। আমার নিজের ভেতরে লুকায়িত সুপ্ত প্রতিভাকে বিকশিত করার লক্ষ্যে "আমার বাংলা ব্লগে" আমার আগমন। এই স্বল্প মানব জীবনের প্রতিটা ক্ষণ আমার কাছে উপভোগ্য। আমি মনে করি, ধৈর্যই সফলতার চাবিকাঠি।
@aongkon


প্রতিটা বিদায় মুহূর্তই কষ্টকর। কিন্তু ভালো লাগে যখন কেউ সামনের দিকে এগিয়ে যায়। বিদায় দিনে শিক্ষকের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ পেয়েছে আজকের এই পোস্টে।
হ্যাঁ ভাই প্রতিটা বিদায়ের মুহূর্তে অনেক কষ্টকর হয় কিন্তু যখন কেউ সামনের দিকে এগিয়ে যায় তখন তাকে বিদায় দিতে ভালোই লাগে। অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই সুন্দর মন্তব্য থাকবো করার জন্য।
আসলে আমাদের জীবনে শিক্ষকদের গুরুত্ব অপরিসীম। তারা সর্বদাই আমাদের মঙ্গলের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যান। আসলে এভাবে শিক্ষকদের বিদায় দেওয়া কষ্ট কার। তবে বর্তমানে বাংলাদেশের সরকারি চাকরি পাওয়া খুবই কঠিন। তার মধ্যে যারা যোগ্য ব্যক্তি তারাই চাকরি পাচ্ছে তার জন্য শুভকামনা রইল।
হ্যাঁ ভাই শিক্ষকরা সর্বদাই আমাদের মঙ্গলের জন্য শিক্ষা বিলিয়ে দেয়। জীবনের প্রতিটি মুহূর্তেই শিক্ষকদের প্রতি আমাদের সম্মান রাখতে হবে। অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই সুন্দর মন্তব্য করে সবসময় পাশে থাকার জন্য।
শিক্ষকের প্রতি আপনার এত সুন্দর ভালোবাসা, সম্মান দেখে অনেক ভালো লাগলো ভাই। এছাড়া প্রিয় শিক্ষক নিয়ে খুব সুন্দর ভাবে কথাগুলো লিখেছেন। এমন একজন প্রিয় শিক্ষক আমারও ছিল কলেজে থাকাকালীন সময়ে। আপনার এই কথার সাথে আমিও একমত ভাই, শিক্ষা হয়তো অনেকেই দিয়ে থাকে তবে সুশিক্ষা সবাই দিতে পারে না । এমন কম শিক্ষকই আছে যারা আমাদের সুশিক্ষা দিয়ে জীবন চলার সঠিক পথ প্রদর্শন করতে পারে। আপনার শিক্ষকের দেওয়া সুন্দর দিকনির্দেশনা গুলো আমাদেরকেও উৎসাহ প্রদান করবে।
এমন সুন্দর শিক্ষক আপনার কলেজ জীবনে ছিলো জেনে ভালো লাগলো দাদা। আসলেই শিক্ষা সকল শিক্ষকই দেয় কিন্তু সুশিক্ষাটা খুব কম শিক্ষকই দেয়। অসংখ্য ধন্যবাদ দাদা সুন্দর মন্তব্য করে সবসময় পাশে থাকার জন্য।