গল্প- অপেক্ষার প্রহর||

in আমার বাংলা ব্লগ11 days ago

আসসালামু আলাইকুম/নমস্কার


আমি @monira999 বাংলাদেশ থেকে। গল্প লিখতে আমার ভালো লাগে। তাই মাঝে মাঝে গল্প লিখি। আজকেও আমি একটি সুন্দর গল্প লিখে আপনাদের মাঝে শেয়ার করবো।আশা করছি আমার লেখা গল্প সবার ভালো লাগবে।


অপেক্ষার প্রহর:

people-2600583_1280.jpg

Source


অপেক্ষার প্রহর যেন মৃত্যু দিয়ে শেষ হলো। মেয়েটি বড্ড ভালোবাসত তার স্বামীকে। কিন্তু লোকটি কেন জানি মেয়েটিকে মেনে নিতে পারছিল না। অসহায় মেয়েটি দিনের পর দিন অপেক্ষা করেছিল তার স্বামীর জন্য। কিন্তু সে ফিরে এলোনা। মেয়েটির নাম মায়া। গ্রামের সহজ সরল মেয়ে দেখতে যেমন মায়াবতী তেমনি ছিল অনেক গুণের অধিকারিনী। মায়া বড্ড ভালো মেয়ে। তাই সজলের বাবা-মা মায়াকে তাদের সজনের জন্য পছন্দ করেছিল।


সজল শহরে পড়াশোনা করত। এরপর যখন পড়াশোনা শেষ হয় তখন একটি ভালো কোম্পানিতে চাকরি হয়ে যায় সজলের। বাড়ি থেকে বিয়ের জন্য তোড়জোড় শুরু করে। কিন্তু সজল কিছুতেই বিয়ে করতে রাজি হচ্ছিল না। একদিন হঠাৎ করে সজলের বাবা ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়ে। সজল বাধ্য হয়ে তার বাবাকে দেখতে আসে। সজল বাড়ি ফেরার পর বুঝতে পারে তার বিয়ের আলাপ আলোচনা চলছে। বিষয়টি স্বজন মেনে নিতেই পারছিল না। একদিকে বাবার অসুস্থতা অন্যদিকে সে বিয়ে করতে রাজি ছিল না।


অবশেষে পারিবারিক চাপে সজল বিয়ে করতে রাজি হয়ে যায়। মেয়েটিকে একবার দেখতেও চায়নি সজল। মায়ার সাথে সজলের বিয়ে হয়ে যায়। পরদিন সকালবেলায় সজল চলে যায় শহরে। এরপর থেকে আর সেভাবে খোঁজখবর রাখেনি সজল। মেয়েটি অসুস্থ শশুরের সেবা করে চলেছিল। শাশুড়িকে ভালোবেসে আগলে রেখেছিল। সবসময় সান্তনা দিতো তাদের। বলতো একদিন ঠিক তাদের ছেলে ফিরে আসবে। এভাবে দেখতে দেখতে মাস কেটে যায় বছর কেটে যায় কিন্তু সজল আর ফিরে আসে না।


সময়ের সাথে সাথে মায়া নিজেও অনেকটা অসহায় হয়ে পড়ে। অপেক্ষা করতে করতে বড্ড বেশি ক্লান্ত হয়ে পড়ে। হঠাৎ একদিন মায়া ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাকে শহরে নিয়ে যায়। কিন্তু তখনও সজল তাদের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেনি। সজলের বাবা-মা স্বজনকে ফোন দিয়ে জানিয়েছিল বিষয়টি। কিন্তু সজল একবারের জন্য মায়াকে দেখতে হসপিটালে আসেনি। দীর্ঘ সময় তাদেরকে হসপিটালে থাকতে হয়েছিল। মায়ার ক্যান্সার ধরা পড়েছে।


জীবনের শেষ কয়েকটা দিন মায়া তাঁর প্রিয় মানুষটির সাথে কাটাতে চেয়েছিল। অপেক্ষা করেছিল হয়তো মৃত্যুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত সে অপেক্ষা করেছিল। সজল মায়াকে একটিবার দেখতে আসেনি। সজল হয়তো মায়াকে কখনো আপন ভাবতেই পারেনি। অবশেষে মায়ার অপেক্ষার অবসান ঘটে। পরপারে পাড়ি জমায় মায়া। সজল এসেছিল শেষবার তাকে দেখার জন্য। কিন্তু সজলের বাবা-মা তাকে আর মায়াকে দেখতে দেয়নি। এমনকি তার কবরে এক মুঠো মাটি দিতেও দেয়নি। সেদিন সজলের চোখে দু ফোটা জল এসেছিল। হয়তো মায়ার জন্য করুণা হয়েছিল তার কিংবা অনুশোচনা হয়েছিল।



আমার পরিচয়

photo_2021-06-30_13-14-56.jpg

আমি মনিরা মুন্নী। আমার স্টিমিট আইডি নাম @monira999 । আমি ইংরেজি সাহিত্যে অনার্স ও মাস্টার্স কমপ্লিট করেছি। গল্প লিখতে আমার ভীষণ ভালো লাগে। মাঝে মাঝে পেইন্টিং করতে ভালো লাগে। অবসর সময়ে বাগান করতে অনেক ভালো লাগে। পাখি পালন করা আমার আরও একটি শখের কাজ। ২০২১ সালের জুলাই মাসে আমি স্টিমিট ব্লগিং ক্যারিয়ার শুরু করি। আমার এই ব্লগিং ক্যারিয়ারে আমার সবচেয়ে বড় অর্জন হলো আমি "আমার বাংলা ব্লগ" কমিউনিটির একজন সদস্য।