প্রাইমারিতে ক্লাস ফাঁকি দিয়ে আখ খেতে যাওয়ার গল্প

in আমার বাংলা ব্লগ3 months ago


আসসালামু আলাইকুম
আমার বাংলা ব্লগে সকলকে স্বাগতম


IMG_20250113_090727.jpg

Photography device: Huawei P30 Pro-40mp


গল্প


প্রাইমারি স্কুলে ছাত্র-ছাত্রীরা অধিক পরিমাণ চিল্লাপাল্লা করে। মনে হয় যেন শালিকের ঝোইঝগড়া লেগেছে। শিক্ষকরা ধামকি দিয়ে যতটুক নিয়ন্ত্রণ করে থাকে কিন্তু পরবর্তীতে আবার সেই বাচ্চাদের চেঁচামেচি। এইজন্য শিক্ষকরা অনেক সময় বিরক্ত হয়ে হাল ছেড়ে দেয়। এমনি একটা দিন। আমাদের সাথে পড়া ছেলেরা সন্ধান পেয়েছে স্কুল থেকে বেশ দূরে একটি আখের জমিতে, খন্ড খন্ড আখ কেটে ফেলে রাখছে, মালিকেরা এমনিতেই আখ খেতে দিচ্ছে। অনেক ছেলেরা সেখানে উপস্থিত হয়েছে। জামা অথবা টি-শার্টে কোচ করে, কোচ ভর্তি আখের খন্ড কুড়িয়ে এনেছে এবং স্কুলের আশেপাশে দাঁড়িয়ে বসে ছোকলা তুলে চিবিয়ে রস খাচ্ছে।

তাদের এমন আখ খেতে দেখে, আমাদের কয়েকজন বান্ধবীর খুব লোভ হল। কয়েকজন ছেলেদের কাছে চাইলো। তারা বলল রাস্তার পাশে একটা জমিতে আখ লাগাচ্ছে, সেখানে ছোট ছোট আখেরখণ্ড অনেক ফেলে দিয়েছে। ভালো তা। ওখান থেকে নিয়ে আসলে অনেক খেতে পারা যাবে। ততক্ষণে তারা যে সমস্ত আখেরখণ্ড এনেছিল। সেই খন্ডগুলোর মধ্যে প্রায় খেয়ে শেষ হয়ে যাওয়ার পথে। তাদের এমন কথা শুনে আমার বান্ধবীদের অনেক লোভ হলো। তারাও খেতে চাই, তাই বন্ধুদের সাথে সাথে আমরা সবাই হাটা শুরু করলাম সেখানে। বন্ধুদের হাত থেকে কয়েকটা নিয়ে বান্ধবীরা খেতে শুরু করল। এতে সবার মধ্যে একটু বেশি বেশি লোভ হতে থাকলো। আখ বলে কথা, মিষ্টি জিনিস। লোভ তো সবারই কম বেশি হওয়ার কথা।

IMG_20250113_090724.jpg


সব সময় আমার বাপ চাচাদের জমিতে আখ থাকতো। তবুও ওইদিন বন্ধু-বান্ধবীদের আখ খাওয়ার লোভে সাথে চলে যেতে হল। স্কুল থেকে বেশ অনেক দূর। আমাদের স্কুলের বিভিন্ন ক্লাসের ছেলে মেয়েরা ততদূর যাচ্ছে এবং আখের দণ্ডগুলো পকেটে কোচে যে যার মত সংরক্ষণ করে নিয়ে আসছে। কয়েকজন পথের মধ্যে বলতে থাকলো জোরে যা অনেকেই নিয়ে ফুরিয়ে ফেলছে। আমারা আরো দৌড়ানো শুরু করলাম। দৌড়াদ দৌড়াতে কাঁচা রাস্তায় কয়েকবার পড়েও গেলাম। আবার উঠে দৌড়াতে থাকলাম। এরপর সেখানে পৌছালাম। উপস্থিত হয়ে দেখলাম সত্যি আখের খন্ড জায়গায় জায়গায় কেটে ফেলে রেখেছে। প্রয়োজনীয় অংশটুকু কেটে নিয়ে তারা জমিতে লাগাচ্ছে। কিছু কিছু জমিতে পানি কাঁদার জন্য অনেক সমস্যা হচ্ছিল। তবুও আখ খাওয়ার লোভ। আমরা সবাই যে যার মত অনেকগুলো করে আখ এর দণ্ড কুড়িয়ে নিলাম। সেখানে কয়েকটা খাওয়ার চেষ্টা করলাম। কিন্তু দ্রুত আখের ছোবড়া তুলে খাওয়াটাও বেশ দুষ্কর।

IMG_20250113_090715.jpg


অনেকে মেলাগুলো সংরক্ষণ করে নির্দিষ্ট একটাই জায়গায় রেখে খাওয়া শুরু করে দিয়েছে। আবার অনেকেই রয়েছে অনেকগুলো করে সংরক্ষণ করে স্কুলে না বাড়ির দিকে হাঁটা শুরু করেছে। তখন আমার মনে হল আমি যদি আখের খন্ডগুলো নিয়ে বাড়িতে যায় তাহলে তো আমাকে মারবে। আমি স্কুল ফাঁকি দিয়ে রোদ গরমে বন্ধু বান্ধবীদের সাথে মাঠে এসেছি, আবার এই আখের খণ্ড সংরক্ষণ করেছি। আমাদের কি জমিতে আখ কম আছে। কিন্তু কি করার চলে এসেছি তাদের সাথে। এমন ভাবতে ভাবতে স্কুলের দিকে এগিয়ে আসছি। এমন সময় পথের মধ্যে ভাইয়ার সাথে দেখা। ভাইয়া আমার এমন আখের দন্ড সংরক্ষণ করতে দেখে রেগে গেলেন। সে রেগে বলতে থাকলো, বাবার জমিতে আখ নাই নাকি? স্কুল ফাঁকি দিয়ে এতদূর পথে আখ কুঁড়াতে এসেছো? এই বলে অনেক ধমক আর রাগ দেখাতে থাকলো। আমিতো ভয় পেয়ে গেছিলাম। আমার সংরক্ষণ করা সব আঁখগুলো ভাইয়া ফেলে দিল। বলল ওগুলো খেতে হবে না। ওগুলো নষ্ট তা। আমাদের জমিতে রয়েছে, আমি এনে দেবো।

সেই সময় আমাদের জমিতেও আখ লাগানো হয়েছিল। আবার অনেক জায়গাতে পুরাতন আখ রয়েছে। এরপর স্কুলে উপস্থিত হয়ে দেখলাম স্কুল ছুটি হয়ে গেছে। বই খাতা গুছিয়ে স্কুল থেকে বাড়িতে চলে আসলাম। কখন জানি ভাইয়া বাড়িতে আমার এই কথা বলে দিয়েছে। বাড়িতে আব্বু আম্মুর তো এই কথা শুনে রেগে রয়েছে। তার কিছুক্ষণ পর দেখছি ভাইয়া মাঠে ফসলের জমি থেকে আখ কেটে এনে বাড়িতে রাখল। এরপর অনেক ভালো খাওয়ার মত আঁখ বিনিময়ে দিল এবং আমাকে খাইয়ে দিল। সেই থেকে বুঝতে পারলাম ভাইয়ার ভালোবাসা। আরো বুঝতে পারলাম রোদ গরমে বন্ধু বান্ধবীদের কথা শুনে কোথাও নাও যাওয়াটা উত্তম। স্কুলে গেছি স্কুলের ক্লাস শেষ করে সোজা বাড়িতে আসাটাই ভালো। ওই গরমে গরম লেগে আমার সর্দি জ্বর হয়েছিল। সেই সর্দি জ্বর ভাইয়ার স্নেহ ভালোবাসা সব মিলে যেন আমাকে অনেক শিক্ষা দিয়েছিল।

PB8ro82ZpZP35bVGjGoE93K3E4U5KX8KtMBJ2rhmkyLqtRRZvVw9YH8hEBg7DJQKSJLWf7VJRhnjGRYSDmuGDMSHAPBRbiRis5HV4ATHTF7QvLHc.png


পোস্টটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ



received_434859771523295.gif


পোস্ট এর বিবরণ


বিষয়গল্প
ফটোগ্রাফি ডিভাইসHuawei P30 Pro-40mp
ক্রেডিট@jannatul01
W3w locationsource
দেশবাংলাদেশ
ব্লগারআমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটি


আমার পরিচয়


আমার নাম মোছাঃ জান্নাতুল ফেরদৌস শশী। আমার বাসা গাংনী মেহেরপুর, বাংলাদেশ। আমি আপনাদের সুপ্রিয় বিদ্যুৎ জিরো ওয়ান এর পরিবার। আমি একজন গৃহিণী। স্বামী সন্তান সহ আমাদের যৌথ পরিবার। আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটির চারজন সদস্য রয়েছে আমাদের পরিবারে, তার মধ্যে আমি একজন। এইচএসসি পাশ করার পর বিয়ে হওয়ার মধ্য দিয়ে আমার লেখাপড়া স্থগিত হয়। আমার ইচ্ছে আমি এই কমিউনিটিতে দীর্ঘদিন ব্লগ করব। পাশাপাশি আমার নিকটস্থ প্রিয়জনদের সহায়তা করব এই কমিউনিটিতে কাজ করার জন্য।


2N61tyyncFaFVtpM8rCsJzDgecVMtkz4jpzBsszXjhqan9xBEnshRDSVua5J9tfneqYmTykad6e45JWJ8nD2xQm2GCLhDHXW9g25SxugWCoAi3D22U3571jpHMFrwvchLVQhxhATMitu.gif



99pyU5Ga1kwqSXWA2evTexn6YzPHotJF8R85JZsErvtTWXkFkcDg5ibdZCen8p3uDxVoV5q1NZLwPPeBug1jepgK3e2Zdtv5gFKAP1J8S7nez1ced4GsXM4bVpnBb88Np6.png


Sort:  
 3 months ago 
 3 months ago 

আজকের কাজ সম্পন্ন

Screenshot_20250113_093333.jpg

Screenshot_20250113_093130.jpg

Screenshot_20250113_091144.jpg

 3 months ago 

সবার ছোটবেলায় এরকম কিছু গল্প থাকে। আপনার গল্পটা বেশ ইন্টারেস্টিং। বান্ধবীদের সাথে আখ খেতে গিয়ে ভাইয়ের সাথে দেখা, বকা খেলেন। দিন শেষে কি হল আপনার নিজেদেরই অনেক ভালো আখ ছিল। বেশ মজাদার ছোট গল্প শেয়ার করলেন আপনার। সব মিলে আমার রোমাঞ্চকর লেগেছে। আর ভাইরা তো এমনই হয় সব সময় আগলে রাখে বোনদের।

 3 months ago 

এখানে লিখতে পেরে ছোটবেলার স্মৃতি স্মরণ করতে ভালো লাগে।

 3 months ago 

ছোট বেলায় কতোই না মধুর স্মৃতি থাকে আমাদের জীবনে।বড়ো হয়ে সেই স্মৃতি গুলো ভীষন ভালো লাগে।আপনিও বান্ধবীরা মিলে আঁখ খেতে যাওয়ার ঘটনাটি বেশ ভালো লাগলো।আসলে নিজেদের যতই থাক তবুও অন্যরটা খেতে মন চায়।বেশ ভালো লাগলো আপনার পোস্ট টি আপনার ভাইয়া আঁখ কেটে এনে বোনকে খাইয়েছে জেনে ভালো লাগলো।ধন্যবাদ পোস্ট টি ভাগ করে নিয়েছেন জন্য।

 3 months ago 

এটা একদম ঠিক বলেছেন।

 3 months ago 

আপু আপনার আখ গাছের ফটোগ্রাফি দেখে মনে হচ্ছে জায়গাটি চেনা। যাই হোক আমরাও প্রাইমারি স্কুল থাকতে আমাদের ওইখানে স্কুলের পাশে একটা আখের রস তৈরি করা মেশিন ছিল ওখানে চলে যেতাম চুরি করে রস খেতে। আজকে আপনার গল্পটি পড়তে পড়তে ভীষণ মনে পড়ছিল। ভালো লাগলো আপু আপনার গল্পটি ধন্যবাদ।

 3 months ago 

পরিচিত জায়গা থেকে ফটো ধারণ।

 3 months ago 

আপু স্কুল জীবনে বন্ধু-বান্ধবের সাথে তাল মিলিয়ে অনেক সময় অনেক কিছু করে ফেলে। যেমনটি আপনি স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীর সাথে গেলেন আখ খেতে। তবে এটি ঠিক বান্ধবীদের সাথে তাল মিলিয়ে কোথাও যাওয়া ঠিক না। কারণ গরমের মধ্যে গিয়ে যেমন আপনার জ্বর সর্দি হয়েছে। তেমনি বন্ধু-বান্ধবের সাথে তাল মিলিয়ে অনেক অনেক ধরনের বিপদে পড়ে যায়।
ভালো লাগলো আপনার প্রাইমারিতে আখ খাওয়ার গল্প পড়ে।

 3 months ago 

হ্যাঁ এইজন্য তো ভাইয়ার বকা খেয়েছিলাম