গল্প :- ছোট বেলার ঈদ।
হ্যালো সবাইকে
কেমন আছেন সবাই ?আশা করি ভাল আছেন। আমিও ভাল আছি আল্লাহর রহমতে। আজকে আরও একটি নতুন পোস্ট নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি। ছোটবেলার ঈদ গল্প আজকে আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করব। আশা করি আপনাদের কাছে আমার এই পোস্টটি ভালো লাগবে।
আসলে প্রতিদিন চেষ্টা করি নতুন নতুন পোস্ট আপনাদের মাঝে শেয়ার করার। আজকের এই পোস্টটি আপনাদের মাঝে নিয়ে এলাম। গল্প করতে এবং গল্প লিখতে যদিও আমার অনেক বেশি ভালো লাগে। তবে অনেকদিন পরই আজকে আপনাদের মাঝে গল্প শেয়ার করতে এসেছি। বেশ অনেকদিন হলো আপনাদের মাঝে গল্প শেয়ার করা হয় না। কালকে পবিত্র ঈদুল ফিতর সেই উপলক্ষে ছোটবেলার ঈদে স্মৃতিগুলো ঈদের গল্প গুলোই আজকে আপনাদের মাঝে শেয়ার করতে চলে এসেছি। প্রথমে আপনাদেরকে সবাইকে জানাই ঈদুল ফিতরের অনেক অনেক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। ঈদ মোবারক আমার বাংলা ব্লগে সকল সদস্যকে। ছোটবেলার ঈদ কতই না মধুর ছিল। আর সেই ঈদের দিনগুলোর সাথে বর্তমানে ঈদের দিনের কোন মিল পাই না।
ছোটবেলার দিনগুলো যে কত মধুর কত সুন্দর আর কত অমূল্য ছিল সেটা আসলে বড় হয়ে বুঝতে পারছি। আসলে মা-বাবা যতদিন মাথার উপর থাকে ততদিনই জীবনটা অনেক বেশি সুন্দর থাকে। যেদিন থেকে বাস্তবতা এবং সংসার জীবন দুটোই নিজের কাঁধের উপর চলে আসে সেদিন থেকেই জীবনের সব আনন্দ খুশি একেবারে ধুয়ে মুছে যায়। তার উপর যদি আপনি একজন মা হয়ে যান তাহলে তো আপনাকে অন্যদেরকে খুশি করতে হবে আপনার সন্তানদেরকে খুশি রাখার চেষ্টা করতে হবে। যেখানে ছোটবেলায় আপনার মা আপনাকে খুশি রাখার চেষ্টা করেছে। আসলে ছোটবেলার সময় গুলো খুবই মধুর ছিল।
ছোটবেলায় ঈদের মুহূর্তগুলো আজকে এসে খুবই মনে পড়ছে ঈদের দিন গুলো। খুবই মিস করছি মনে হচ্ছে ছুটে যায় বাড়িতে। আর ছোটবেলার মতো ঈদে করি। তবে এটা একদমই সম্ভব নয় বর্তমানে নিজের সবকিছু হয়েছে এবং নিজের দিকটাকেই এখন সামলাতে হয় ছোটবেলায় যেভাবে কাটাতাম সেটা এখন একদমই সম্ভব না। কারণ ছোটবেলায় যাদের সাথে কাটাতাম সে মানুষগুলো এখন নেই পাড়া-প্রতিবেশিরাও নেই সহপাটিরা ও নেই। আসলে আমরা চাইলেই কোন কিছু আর ফিরে পেতে পারেনা অতীত অতীতই হয়ে যায় অতীত তার বর্তমানে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয় না। যাই হোক অনেক কথা হলো ছোটবেলায় ঈদের যেভাবে কাটাতাম সেই মুহূর্তগুলো আসলে আপনাদের মাঝে কখনো শেয়ার করা হয়নি। তাই ভাবলাম আমার এই আবেগঘন স্মৃতিগুলো আপনাদের মাঝে শেয়ার করি।
আসলে ঈদ তো শুরু হতো পুরো রমজান মাস থেকে। পুরো রোজা মাস ধরে অপেক্ষা করে থাকতাম ঈদ কবে আসবে ঈদ কবে আসবে এই নিয়ে। ঈদের শপিং নিয়ে কত কথাই না বলতাম সবাই মিলে। তারপর ঈদের ১৫ দিন আগে থেকেই তো সবাই মিলে শুধু বসে বসে এটা বলতাম যে কিভাবে ঈদের দিন কি করব সবকিছুই আমরা সব সময় বলতাম। তার ওপর যেদিন চাঁদ রাতছিল সেদিন বিকাল থেকেই তো আমাদের ঈদের খুশি শুরু হত। আমরা সব সমবয়সী সবাই মিলে অনেক মজা করতাম। ঈদের আগের দিন দুপুরে সবাই একসাথে পুকুরে গোসল করতাম। আর সবাই খুবই সাবান শ্যাম্পু কন্ডিশনের মেখে গোসল করতাম সবাই মাথায় এটাই থাকত যেদিন সবাইকে সব থেকে বেশি সুন্দর লাগতে হবে। সেই লক্ষ্যেই অনেকটা সবাই সময় নিয়ে সবাই মিলে গোসল করতাম।
এরপর বিকেলবেলা সবাই মিলে বাড়িতে বাড়িতে হাটাহাটি করতাম। ঈদগাহ অনেক সুন্দর করে সাজানো হতো এবং ঈদের দোকান গুলো দেওয়ার জন্য অনেক ডেকোরেশন করা হতো। সেখানে বারবার গিয়ে দেখতাম কতটুক কি হয়েছে সে কি মজা ছিল। সেখানে বারবার দেখার মধ্যে যে আনন্দটা ছিল বর্তমানে লাখ টাকা খরচ করলেও যেন সেই আনন্দটা উপভোগ করা যায় না। এরপর সন্ধ্যে হলেই কোনমতে ইফতারিটা সেরে দৌড় দিতাম বাইরে। সেখানে বাজি পাটানো সবাই মিলিয়ে অনেক মজা করতাম। তারপর চলে যেতাম মেহেদি লাগাতে। একজন মানুষের কাছে মেহেদী লাগাতাম। সবাইকে মেহেদি লাগিয়ে দিত এবং লাইনে ধরে থাকতাম যে কখন আমার সময় আসবে কখন আমি মেহেদি লাগাবো।
এরপর যখন মেহেদি লাগানো শেষে মেহেদি শুকানো। তারপর আর মেহেদী গুলো হাত থেকে তুলতাম না একেবারে সকালবেলা গিয়ে তুলতাম এবং সকালে ঘুম থেকে উঠে সবাই মিলে সবাই মেহেদি গুলো দেখতাম। কার মেহেদি সবথেকে সুন্দর হয়েছে। যার মেহেদী একটু সুন্দর হয়নি তার থেকেই মন খারাপ আমার মেহেদী একদমই ভালো হয়নি এই নিয়ে। পুরো বছর মা ঘুম থেকে টেনে তুলতে পারত না স্কুলে যাওয়ার জন্য। আর ঈদের দিন উঠে যেতাম পাঁচটা বাজে। উঠে সবাই মিলে চলে যেতাম ঈদগাহ সেখানে খুবই সুন্দর ডেকোরেশন করা হতো সেগুলো দেখতাম।এরপর তাড়াতাড়ি সবাই মিলে গোসল করে নিতাম গোসল করেই তো সবাই রেডি হয়ে নিতাম।
রেডি হওয়ার পর সবাই সবার সাথে দেখা করতাম এবং দেখতাম কাউকে সব থেকে বেশি সুন্দর লাগছে। রেডি হওয়ার পর সবাই সবার ঘরে গিয়ে সবাইকে সালাম করতাম। সালামি জন্য বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে সবাইকেই সালাম করতাম সেটা খুবই সুন্দর মুহূর্ত ছিল। ঈদে যেতাম ঈদে গিয়ে দোকানপাটে অনেক ঘোরাঘুরি করতাম। সেই দিনগুলো আসলে আজকের দিনে এসে খুবই মিস করছি। আসলে কোন কিছু যদি সম্ভব হতো তাহলে মানুষ টাকা দিয়ে সুখ কিনতো। এখন মনে হচ্ছে আগে সেই ঈদের দিনগুলো যদি কোন ভাবে আমি একটু অনুভব করতে পারতাম। একদিন যদি সেই ভাবেই ঈদ করতে পারতাম নিজের সবটুকু দিয়ে হলেও চেষ্টা করতাম যদি কোন মাধ্যম থাকতো সেই ভাবেই ঈদ করার।
আসলে সত্যি বলতে এখন খুবই মিস করছি ছোটবেলার ঈদের সময় গুলো বাপের বাড়িতে যখন ছিলাম তখনকার ঈদের সময় গুলো। মানুষের জীবন কেন এমন হয় সেটা বুঝতে পারি না। বাস্তবতা কেন মানুষকে পিষে মেরে খায় সেটা আসলে আমার মাথায় আসে না। জীবনটা তো ছোটবেলায় সুন্দর ছিল। ছোটবেলার মতো করে যদি সারাটা জীবন পার করে দিতে পারতাম তাহলে খুবই ভালো হতো। যাইহোক আমার আবেগ কথাগুলো আশা করছি আপনাদের কাছে ভালো লাগবে।
শ্রেণী | জেনারেল |
---|---|
ফটোগ্রাফার | @fasoniya |
ডিভাইস | Vivo Y15s |
লোকেশন | বাংলাদেশ |
আমার পরিচয়
আমার নাম ফারজানা আক্তার সোনিয়া। আমি বাংলাদেশী।আমি বর্তমানে লেখাপড়া করি আমি একজন স্টুডেন্ট। আমি আর্ট করতে ভালোবাসি আর যখনই সময় পাই তখনই আর্ট করি।আমি ফটোগ্রাফি করতে খুবই ভালোবাসি । যখনই কোথাও খুব সুন্দর কিছু আমার চোখে পড়ে আমি ফটোগ্রাফি করে ফেলি। এছাড়াও আমি ক্রাফট তৈরি করে থাকি । বিভিন্ন ধরনের রান্না করে থাকি রান্না করতে অনেক পছন্দ করি। আমি আমার পরিবারের সবচেয়ে বড় মেয়ে । আমার ছোট ছোট দুইটা ভাই আছে। আমার অনেক স্বপ্ন রয়েছে যেগুলো স্টিমিট এ কাজ করে পূরণ করতে চাই।
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.