পরিস্থিতি যেমনই হোক মেনে নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে
হ্যালো আমার বাংলা ব্লগ পরিবার। আপনারা সবাই কেমন আছেন? আশা করছি আপনারা সকলেই অনেক ভালো আছেন। আলহামদুলিল্লাহ আমিও আল্লাহ তাআলার অশেষ রহমতে ভালো আছি তবে গতকাল রাত থেকে খুব একটা বেশি ভালো নেই। কারণ আর গতকাল রাতে আমার ছোট দাদি ইহকালের মায়া ত্যাগ করে পরকালে গমন করেছেন। যার জন্য আমাদের পরিবারের সকলেই অনেকটাই শোকাহত।
আমি এবং আমার পরিবার সকলেই অনেক চিন্তিত ছিলাম এই বিষয় নিয়ে। কারণ এই তো কিছুদিন আগেই আমার বিবাহ অনুষ্ঠিত হয়ে গেল আমরা সকলেই তাদের জন্য অনেক টেনশন করছিলাম কারণ দাদি অনেক অসুস্থ ছিল এবং আমিও ব্যক্তিগতভাবে চাইছিলাম আমার বিয়েতে দাদি যেন আমাদের সকলকে দোয়া করতে পারে এবং আমাদের সকলের মঙ্গল কামনা করতে পারেন। সেই সাথে আমরাও তাদের জন্য প্রচুর দোয়া করেছিলাম, যেন এই সময়টা তিনি ঠিকঠাক থাকেন এবং সব পরিবারের সাথে একত্রিত থেকে আনন্দ উপভোগ করতে পারেন।
আল্লাহ তায়ালা সেই আশাটা আমার পূর্ণ করেছেন। সেজন্য আল্লাহতালার কাছে অশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ অসুস্থ ছিলেন এবং প্রায় সব কিছুই অন্যের উপর নির্ভরশীল ছিল। সবমিলিয়ে তারও এখানে অনেকটাই কষ্ট হতো কিন্তু আমাদের বিয়েতে তিনি আমাদের সকল অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এবং সকল বিষয়গুলো তিনি খুব ভালোভাবে এনজয় করেছেন। যে বিষয়টা আমারও অনেক ভালো লেগেছে। আমাদের পরিবারের একজন মুরুব্বি সদস্য ছিলেন এবং তিনি সকল সদস্য সাথেই অনেক ভালোভাবেই মিশতেন, যা সত্যি বর্তমান সমাজের খুব একটা বেশি দেখতে পাওয়া যায় না।
গতকাল রাতে হঠাৎ করেই দাদীর শরীর খারাপ হয়ে ওঠে। তাড়াহুড়ো করে আমরা সকলে মিলে দাদিকে হাসপাতালে নিয়ে যাই কিন্তু হাসপাতালে যাওয়ার পর ডাক্তার মৃত হিসাবে ঘোষণা করে দেন। এরপর থেকেই আমাদের পরিবারের সকলের যেন শোকাহতর ঝড় বইতে থাকে। আজ দুপুর বেলা দাদিকে দাফন করে এলাম এবং পরিবারের মধ্যে এখনো সেই শোকটা কাটেনি। যতই তার বয়স থাকুক না কেন একটি পরিবারের সদস্য যখন পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় কষ্ট সবারই অনুভূতি হয় এবং সেই কষ্টটা এখন আমাদের পরিবারের সকলেই ভোগ করছে।
নিজের পরিবারের কোন সদস্যের মৃত্যুর সংবাদ কোনভাবেই মেনে নেওয়া কঠিন। আমার তো এখনো বিশ্বাস হচ্ছে না দাদী আর আমাদের মাঝে নেই কিন্তু তারপরও সব কিছু বিবেচনা করে আমার কাছে এটাই মনে হয়েছে তার জীবনযাত্রা টা খুবই কষ্টকর ছিল। নিজে খাওয়া দাওয়া করতে পারতো না, টয়লেটে যেতে পারতো না, এমনকি হাঁটাচলাও করতে পারতেন না। সব মিলিয়ে কয়েকটি বছর তার অনেক কষ্ট হয়েছিল। একটাই প্রার্থনা করছি তিনি যেখানেই থাকেন না কেন সৃষ্টিকর্তা যেন তাকে ভালো রাখেন। যাইহোক আজকের মত এখানে শেষ করছিস আপনারা সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন ধন্যবাদ।
VOTE @bangla.witness as witness
OR

250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |

আমি আল সারজিল ইসলাম সিয়াম। আমি বাঙালি হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করি। আমি বর্তমানে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিএসসি-র ছাত্র। আমি স্বতন্ত্র স্বাধীনতা সমর্থন করি। আমি বই পড়তে এবং কবিতা লিখতে পছন্দ করি। আমি নিজের মতামত প্রকাশ করার এবং অন্যের মতামত মূল্যায়ন করার চেষ্টা করি। আমি অনেক ভ্রমণ পছন্দ করি। আমি আমার অতিরিক্ত সময় ভ্রমণ করি এবং নতুন মানুষের সাথে পরিচিত হতে ভালোবাসি। নতুন মানুষের সংস্কৃতি এবং তাদের জীবন চলার যে ধরন সেটি পর্যবেক্ষণ করতে ভালোবাসি। আমি সব সময় নতুন কিছু জানার চেষ্টা করে যখনই কোনো কিছু নতুন কিছু দেখতে পাই সেটার উপরে আকর্ষণটি আমার বেশি থাকে।
বিষয়: পরিস্থিতি যেমনই হোক মেনে নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে
কমিউনিটি : আমার বাংলা ব্লগ
আন্তরিক ভাবে ধন্যবাদ জানাই এই কমিউনিটির সকল সদস্য কে, ধন্যবাদ......
আপনার দাদীর মৃত্যুর খবর শুনে খুবই খারাপ লাগলো । এমন একটি কঠিন সময়ে আপনি যে ধৈর্য এবং শক্তির সাথে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। দাদীর অসুস্থতার মধ্যেও পরিবারের সঙ্গে একত্রিত হয়ে বিয়ের অনুষ্ঠান উপভোগ করার যে সৌভাগ্য আপনাদের হয়েছে, তা এক ধরনের আশীর্বাদ। যদিও এই শোক এখনো কাটেনি, তবে আপনার দাদীর জীবনের প্রতি যে শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা আপনি প্রকাশ করেছেন, তা সত্যিই হৃদয়স্পর্শী।আল্লাহ তাকে জান্নাতবাসি করুন আমীন, এবং আপনাদের সবাইকে এই শোক কাটিয়ে উঠতে শক্তি দিন, এই প্রার্থনা রইলো ।
তোমার দাদি হয়তো তোমাদের দুজনকে আশীর্বাদ করবেন বলেই বেঁচে ছিলেন। বয়স হলে চলে যেতে হয়। আর তোমার দাদীর যেরকম অবস্থা ছিল বলছো যে সবকিছুই অন্যের উপর নির্ভরশীল তাই আমার ধারণা বেশ বয়স হয়েছে ওনার। তবে যে কোন আত্মীয় পরিজনের বিয়োগ আমাদের মনে পাহাড় প্রমাণ কষ্ট এনে দেয়। সামলে উঠো কারণ দাদা বা দাদীদের কাছে নাতি নাতনিরা বড় প্রিয় হয়। এই জায়গা থেকে তোমার মনে বোধ করি অনেক কষ্ট হচ্ছে। বাবা মার পাশে থেকো। তোমার দাদির বিদেহী আত্মা যেন স্বর্গলাভ করেন এমন কামনাই করি।
খবরটা জেনে বেশ খারাপ লাগলো ভাই। আসলে পরিবারের সদস্য মারা গেলে ভীষণ কষ্ট হয়। উনি এতটা অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও আপনাদের মাঝে যে ছিলেন, সেটাও অনেক বড় একটি ব্যাপার। এখন থেকে আপনারা উনাকে মিস করবেন এবং উনার স্মৃতি মনে পড়লেই আপনাদের খারাপ লাগবে। যাইহোক আল্লাহ তায়ালা যাতে উনাকে জান্নাত নসিব করেন,সেই কামনা করছি।
খবরটা সত্যি ই খুব কষ্টদায়ক।আপনার দাদিকে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন এটাই দোয়া করি,আমিন।আপনাদের পরিবারে সবাইকে এই কষ্ট সহ্য করার শক্তি দান করুন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন।