ছেলের কিছু আনন্দের মুহূর্ত
আসসালামু আলাইকুম
কেমন আছেন আপনারা? আশা করি মহান সৃষ্টিকর্তার সহায়তায় ভালো আছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় ভালো আছি। আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটিকে ভালোবেসে উপস্থিত হলাম সুন্দর একটি পোস্ট উপস্থাপন করার জন্য। আজকে আমি আমার বাবুর বিভিন্ন প্রকার রেনডম ফটোগ্রাফি আপনাদের মাঝে শেয়ার করব। মনে করি, আমার বাবুর এই ফটোগ্রাফি আপনাদের ভালো লাগবে।
রাজ বাবুর ফটোগ্রাফি
প্রত্যেকটা পিতা মাতার কাছে তার সন্তান কলিজার ধন। প্রত্যেকজন পিতা-মাতা চায় তার সন্তান হাসিখুশি থাকুক। বাচ্চাদের হাসিমাখা মুখগুলো সব সময় মনটাকে খুশি রাখে। যখন বিভিন্ন অসুখ তাদেরকে অসুস্থ করে রাখে তখন তাদের চেয়ে যেন নিজেদের মনটা আরো বেশি অসুস্থ থাকে কষ্টে। আর যখন বাচ্চারা সুস্থ অবস্থায় হাসিখুশি থাকে এবং কিছুটা পাগলামি করে দেখায় এতে জানটা ভরে যায়। ঠিক এখানে দেখতে পাচ্ছেন আমার রাজ বাবু অনেক সুন্দর ভাবে কাদা নিয়ে খেলছে। ব্যস্ততার মাঝে হঠাৎ তার দিকে লক্ষ্য করে দেখি সে চেয়ারে বসে কাদা দিয়ে ললিপপ তৈরি করছে। প্রায় দোকান থেকে তার দাদা ভাই চকলেট ললিপপ চিপস ইত্যাদি কিনে দেয়। বাবু ললিপপ টা অনেক বেশি পছন্দ করে। তাই সে সেই আইডিয়া থেকেই নিজের চেষ্টা করছিল ললিপপ জাতীয় কিছু তৈরি করে দেখানোর। অনেক ভালো লাগছিল যখন সে এটা তৈরি করে আমাকে দেখাচ্ছিল এবং বলছিল মা অলিপপ! আগে তার কথা স্পষ্ট হয়নি। যেকোনো জিনিস দেখলেই প্রশ্ন করে এটা কি এটা কি। যদি তার নাম বলে দেওয়া হয় তখন সে বলার চেষ্টা করে। পরবর্তীতে দেখা যায় তার নতুন নাম দিয়ে বসে আছে। তবে এটা সত্য তারা নতুন কিছু দেখাদেখি শেখার চেষ্টা করে। কোন কিছু পারুক বা না পারুক, সে বিষয়ে চেষ্টা করাটা বড় জিনিস।
এখানে আপনারা দেখছেন আমার বাবু ইয়া বড় একটি সাপ তৈরি করে বসে আছে। আসলে আমি রান্না ঘরে যখন রান্না কাজে ব্যস্ত ছিলাম তখন সে টিউবওয়েল পাড়ে কাঁদা নিয়ে খেলছিল। ঠান্ডা সময় সবেমাত্র সর্দি জ্বর থেকে উঠলে। আমি তাকে বলেছিলাম বাবু আমার এখানে বসে খেলো। তাকে রান্নাঘরে একটি মাদুর বিছিয়ে বসতে দিয়েছিলাম। কিন্তু সে কিছুতে হাত থেকে কাঁদার দলাটা ফেলছিল না। যখনই আমি ঠান্ডা কাঁদার দলা ফেলে দিতে চেয়েছিলাম সে কান্না করছিল। পরবর্তীতে আমি আর কিছু বলছিলাম না। হঠাৎ লক্ষ্য করে দেখি সে আমাকে ডাকছে মা ছাপ ছাপ! আমি হঠাৎ ভয়তে চুমকি উঠি। এরপর ওর দিকে তাকিয়ে দেখি সে লম্বা করে কাদা তৈরি করেছে এবং সেটাকে সাপ হিসাবে উপস্থাপন করছে। তখনই বুঝতে পারলাম টিভিতে সে সাপের ভিডিও গুলো দেখে সেই দেখে সে অনুকরণ করতে শিখেছে। এটা কিন্তু তাদের প্রতিভা। বাচ্চারা ছোট থেকে যা দেখে তাই শিখার চেষ্টা করে পারার চেষ্টা করে এটাই সত্য।
আমার বাবু বিভিন্ন রকমের ফল খেতে অনেক পছন্দ করে। তবে সকল ফলের মধ্যে ডাবের জল আর ডাবের সাস বেশি পছন্দ করে থাকে। নারিকেল হয়ে গেলে সেগুলো এত বেশি পছন্দ করে না। কিন্তু আধা মালা হয়েছে এমন নরম সাস গুলো সে বেশি পছন্দ করে। দো মালা ডাবের পানি আর সাস গুলো কিন্তু অনেক সুস্বাদু হয়। আমার কাছেও বেশ ভালো লাগে। তবে আমার বাবু যেন একটু বেশি পছন্দ করে। অন্যরকম রেডি করে তার হাতে মালা ধরিয়ে দিতে পারলেই হয়। ফটো দেখে বুঝতে পারছেন কতটা আনন্দিত।
এখানে দেখছেন আমাদের রাজ বাবু এবং বিউটি বাবু কত সুন্দর করে খেলা করছে। বাচ্চাদের এমন হাসি আনন্দের মুহূর্তগুলো জান ভরিয়ে দেয়। এরা নিষ্পাপ মাসুম বাচ্চা। এরা দুষ্টামি করবে হাসি আনন্দ করবে এগুলো মন থেকে মেনে নিতে হবে। সব সময় দোয়া করতে হবে বাবুরা যেন সুস্থ থাকে হাসি আনন্দে থাকে। তারা হাসি আনন্দের মাঝে বেড়ে ওঠার সুযোগ পেলে তাদের মন মস্তিষ্ক ভালো থাকবে। যখন বাবুরা দুইজন একসাথে খেলা করে তখন খুবই ভালো লাগে দেখতে। ভাই বোনের এমন দৃশ্য স্মৃতি হয়ে থাকবে সারা জীবন।
বেশ অনেকদিন পর কিছুদিন আগে পুকুরে মাছ বিক্রয় করা হলো। বাবু তো মাছ ধরা দেখার জন্য একান্ত রেডি। পুকুরে না নিয়ে গেলে সে কান্না করতে থাকে। এরপর তাকে কোনোভাবে পুকুরে নিয়ে যাওয়া হয় এবং শান্ত করা হয়। তাকে দেখে তার দাদুভাই বেশ আনন্দ করছিল। তুই কেমন একটা মুহূর্তে পুকুরপাড় থেকে ধারণ করেছিলাম ফটো। বাবু আমার খুবই আনন্দের ছিল পুকুরপাড়ে মাছ ধরতে দেখে। ততক্ষণে জেলেরাও পানির মধ্যে ছিল, ছোট বড় বিভিন্ন সাইজের মাছ পানের মধ্য থেকে লাফ দিয়ে উঠছিল। এদিকে বাবু অনেক আনন্দ করছিল। এভাবে মাছ ধরার মুহূর্ত টাই আমার ছেলে অনেক আনন্দে ছিল।
ডিভাইস | Huawei P30 Pro-40mp |
---|---|
বিষয় | রাজ বাবুর আনন্দের ফটোগ্রাফি |
লোকেশন | গাংনী- মেহেরপুর |
ক্রেডিট | @jannatul01 |
দেশ | বাংলাদেশ |
পোস্টটি পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
আমার নাম মোছাঃ জান্নাতুল ফেরদৌস শশী। আমার বাসা গাংনী মেহেরপুর, বাংলাদেশ। আমি আপনাদের সুপ্রিয় বিদ্যুৎ জিরো ওয়ান এর পরিবার। আমি একজন গৃহিণী। স্বামী সন্তান সহ আমাদের যৌথ পরিবার। আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটির চারজন সদস্য রয়েছে আমাদের পরিবারে, তার মধ্যে আমি একজন। এইচএসসি পাশ করার পর বিয়ে হওয়ার মধ্য দিয়ে আমার লেখাপড়া স্থগিত হয়। আমার ইচ্ছে আমি এই কমিউনিটিতে দীর্ঘদিন ব্লগ করব। পাশাপাশি আমার নিকটস্থ প্রিয়জনদের সহায়তা করব এই কমিউনিটিতে কাজ করার জন্য।
X--promotion
আজকের কাজ সম্পন্ন
বাচ্চাদের এমন খেলাধুলা গুলো আমার কাছে খুব ভালো লাগে। আমার ভাইয়ের মেয়েটা অনেক সুন্দরভাবে খেলাধুলা করে হাড়ি পাতিল নিয়ে। এখানে একটা বিষয় অনেক ভালো লাগলো আপনার ছেলে অনুকরণ প্রিয়। যেটা দেখেছে সেটা তৈরি করার চেষ্টা করছে। এর মধ্যে কিন্তু সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ লুকিয়ে রয়েছে।
ভালো লাগে যেন খুশি হলাম
সন্তানের মুখে এমন হাসিখুশি দেখলে সত্যি অনেক ভালো লাগে। আপনার বাচ্চা দেখছি খুবই আনন্দের সাথে খেলা করছে। দোয়া করি সব সময় এমন হাসিখুশি থাকুক। বাবু পুকুরে মাছ ধরতে দেখে আরো বেশি খুশি হয়েছিল এটার জন্য খুবই ভালো লাগলো। আমার কাছেও পুকুরে মাছ ধরা দেখতে খুবই ভালো লাগে।
মন্তব্য করার জন্য ধন্যবাদ।