বড়পুকুরিয়া কয়লা ভিত্তিক তাপ ও বিদ্যুৎ কেন্দ্র
আমি @riyadx2 বাংলাদেশ থেকে
বৃহস্পতিবার, ১১ ই অক্টোবর ২০২৪ ইং
বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি কয়লা ভিত্তিক তাপ ও বিদ্যুৎ কেন্দ্র রয়েছে। এরমধ্যে উত্তরবঙ্গের বড়পুকুরিয়া কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র অন্যতম। এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মাধ্যমে উত্তর বঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলায় বিদ্যুৎ পরিচালিত হয়। এখানে কয়লা উত্তোলনের পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়, এটা বেশ ভালো একটি দিক।আর বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে প্রায় ৪১০ মিলিয়ন টন কয়লা রয়েছে।আর তারা সেখানে প্রতিনিয়ত এই কয়লা খনন কাজ করছে। তারা প্রতিবছর ০.৮ মিলিয়ন টন কয়লা উত্তোলন করতে সক্ষম হন।আর এই কয়লা খনির পুরো কয়লা উত্তোলন করতে তাদের প্রায় ৫১০ বছর কিংবা তাঁর একটু কম বেশি সময় লাগতে পারে। এটা থেকেই বোঝা যাচ্ছে এখানে প্রচুর পরিমাণ কয়লা মজুদ রয়েছে। বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় চার হাজার টন কয়লা উত্তোলন করা হয়।
আমরা সেদিন তিন জন বন্ধু সহ এই কয়লার খনির মধ্যে ঘুরতে গিয়েছিলাম। সেখানে যাওয়ার জন্য আগে থেকে কোন পরিকল্পনা ছিল না। হঠাৎ করেই এমন একটি পরিকল্পনা করে যাওয়া হয়েছিল। আমাদের বাসা থেকে বড়পুকুরিয়া কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রর দূরুত্ব প্রায় ৮০ কিলোমিটার হবে। আমরা মূলত তিনজন একটি বাইক নিয়ে এতোদূর রাস্তা গিয়েছিলাম। আমাদের যেতে প্রায় দুই ঘণ্টা সময় লেগেছিল। আমাদের বাসা থেকে শুরু করে কয়লা খনির পুরো রাস্তা একদম ফাঁকা ছিল।আর এই রাস্তার মধ্যে তেমন একটা যানজট হয় না। তবে, বিভিন্ন ধরনের উৎসবের সময় একটু ভীড় জমে।তবে, সেটি শুধু মাত্র সিমীত সময়ের জন্য হয়। যাইহোক, আমরা প্রথমে কয়লা খনির একদম সামনের দিকে চলে গেলাম।
সেখানে গিয়ে দেখতে পারলাম কয়লা খনন করার পুরো এলাকা টি প্রাচীর দিয়ে ঘেরা।আর চারদিকে সেনাবাহিনী দ্বারা পরিচালিত। আমরা প্রথমে ভিতরে ঢোকার জন্য গেইটের সিকিউরিটি গার্ডের কাছে থেকে পারমিশন চেয়েছিলাম কিন্তু তারা আমাদের কে পারমিশন দেয়নি। তবে, যারা বড় ধরনের সোসাল ইনফ্লুয়েন্সার তারা চাইলে ভিতরে প্রবেশ করতে পারবে এবং তারা ১৪০০ ফিট নিচের দিকে ও যেতে পারবে। যাইহোক, তারা যেহেতু আমাদের কে ভিতরে প্রবেশ করতে দেয়নি তাই আমরা কয়লা খনির চারদিকে ঘোরাঘুরি করে দেখছিলাম সব কিছু।তবে, বাহির থেকে প্রাচীরের উপর দিয়ে কয়লার বড় বড় পাহাড় গুলো দেখা যাচ্ছিল।বড় বড় ট্রাক গুলো এসব পাহাড়ের উপর কয়লা নিয়ে উঠা নামা করছিল সেটা আমরা খুবই সুন্দর ভাবে দেখছিলাম।
এখন মূল কথা হচ্ছে কয়লা গুলো পাওয়ার প্ল্যান্ট কিংবা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মধ্যে কিভাবে নিয়ে যাওয়া হয়? আপনারা উপরের ফটোগ্রাফির মাধ্যমে যে দৃশ্য দেখতে পারছেন, এটি মূলত একটি সাইলো।আর এই সাইলোর মাধ্যমে কয়লা খনি থেকে কয়লা গুলো বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মধ্যে চলে যায়।আর এই কয়লা গুলো থেকে বিদ্যুৎ ও তাপ উৎপাদন করা হয়। এখন কথা হচ্ছে, যখন কয়লা খনি থেকে একটু বেশি কয়লা উত্তোলন করা হয় এবং সেই কয়লা গুলো কয়লা খনির মধ্যে পড়ে থাকে কেন? এই কয়লা গুলো পড়ে থাকার মূল কারণ হলো তাপ ও বিদ্যুৎ কেন্দ্র তাদের অতিরিক্ত কয়লা গুলো নিতে পারে না। কিন্তু তাপ ও বিদ্যুৎ কেন্দ্র তবুও তাদের পুরো কয়লা কিনে নিয়ে স্টোকে রেখে দেয়। যখন আবার তাদের কয়লার খুব বেশি প্রয়োজন হয় তখন আবার তারা স্টোকিং করা কয়লা গুলো সাইলোর মাধ্যমে তাপ ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মাধ্যমে নিয়ে যায়।
অনুরুপ ভাবে আমরা আবার চলে গেলাম তাপ ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মধ্যে।তাপ ও বিদ্যুৎ কেন্দ্র টি কয়লা খনির একদম পাশেই অবস্থিত। কিন্তু সেখানে গিয়ে দেখতে পারলাম তারা কয়লা খনির থেকে ও আরো বেশি সিকিউরিটি গার্ডের সিস্টেম করছে।তাই আমাদের সেখানে ও প্রবেশ করা সম্ভব হয়নি।সব মিলিয়ে সেদিন আমাদের যাওয়া একদম বৃথা হয়েছিল। শুধু মাত্র বাহির থেকে কিছু কিছু দৃশ্য দেখার সুযোগ হয়েছে। যাইহোক, আমরা বাহির থেকে খুবই সুন্দর সুন্দর দৃশ্য দেখছিলাম। বেশ কিছুক্ষণ সময় ঘোরাঘুরি করার পর আমরা আবার বাসায় চলে আসি।
সবাই কে অনেক অনেক ধন্যবাদ।
Device | Redmi 10C |
---|---|
Camera | 48 MP |
County | Bangladesh |
Location | Rangpur, Bangladesh |
Vote@bangla.witness as witness
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
এই স্থানটার নাম শুনেছি এই বিষয়ে অনেক পড়েছি কিন্তু স্বচক্ষে দেখার সুযোগ দেখানো হয়নি। অনেক অনেক ভালো লাগলো আপনার আজকের এই পোস্ট পড়ে বেশ কিছু জানার মধ্য দিয়ে। আশা করব এই নিয়ে আরো অনেকগুলো পোস্ট আমাদের মাঝে শেয়ার করবেন।
প্রত্যেকদিন চার হাজার টন কয়লা উত্তোলন করা হয় বড়পুকুরিয়া থেকে। আসলে বিশাল ব্যাপার। এমন যদি বাংলাদেশে আরো কিছু খনিজ থাকত তাহলে আমাদের দেশ আরো উন্নত হয়ে যেত।
কয়লা ভিত্তিক তাপ ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দারুন ফটো ধারণ করেছেন। এবং খুব সুন্দর ভাবে বর্ণনা দিয়েছেন।সাইলোর মাধ্যমে কয়লা খনি থেকে যে কয়লা গুলো বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মধ্যে চলে যায়। এটা আমি শুনেছি তবে আজকে আপনার ফটোগ্রাফির মাধ্যমে কিছুটা দেখে বুঝতে পারলাম। আপনার সম্পূর্ণ পোস্ট পড়ে খুবই ভালো লাগলো ভাইয়া। শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।