কারও পৌষ মাস,কারও সর্বনাশ 😒
হ্যালো",
আমার বাংলা ব্লগ বাসি, সবাই কেমন আছেন? আশা করছি সবাই ভালো আছেন এবং সুস্থ আছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় এবং আল্লাহর রহমতে ভালো আছি। সবার সময় ভালো কাটুক এই কামনাই করছি।
সবাইকে আমার নতুন একটি ব্লগে স্বাগতম। আজকে একদমই নতুন একটা বিষয় নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি। হয়তো অনেকেই এই ঘটনার সঙ্গে পরিচিত হয়ে থাকবেন কিংবা শুনে থাকবেন। ইদানিং আশেপাশে যে ঘটনাগুলো ঘটছে সেগুলো দেখে সত্যি বাহিরে বের হওয়ার ইচ্ছেটা অনেকটাই কমে গিয়েছে। বিশেষ করে টাকা পয়সা নিয়ে বাহিরে বের হওয়া তো একদমই মুশকিল। আজকাল তো বাজারে যেতেও ভয় পাই আমি। এতদিন শুধু ঘটনা গুলো আমি অন্যের কাছে শুনেছি তবে আজ যে ঘটনার সাক্ষী হব এটা বুঝতেই পারিনি।
আসলে বগুড়া শহরে গিয়েছিলাম কেনাকাটা করতে সেটা শেয়ার করেছি। তবে আরো কিছু টুকটাক কেনাকাটা ছিল বলতে গেলে গরীবদের জন্য কেনাকাটা করতে গিয়েছিলাম। যদিও এসব কথা বলতে হয় না যেহেতু সবকিছু শেয়ার করি এখানে তাই বলছি আর কি। কি কিনেছি সেটা না হয় আরেকদিন শেয়ার করব। আজকে যে ঘটনাটা শেয়ার করব সেটা শুনে অনেকের গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠবে।
কেনাকাটার মাঝ পর্যায়ে এক মহিলা দৌড়ে এসে আমাদের সামনে কান্নাকাটি শুরু করে দিয়েছে। আমরা সবাই জিজ্ঞেস করলাম যে ওনার কি হয়েছে। তখন উনি বললেন ওনার ব্যাগ থেকে ৭ হাজার টাকা হারিয়ে গিয়েছে। হয়তো অনেক কষ্ট করে টাকাটা জোগাড় করে মহিলা কেনাকাটা করতে এসেছিলেন। আর ওনাকে দেখে মনে হচ্ছিল খুব বেশি সচ্ছল অবস্থা নয় ওনাদের। তখন মার্কেটের মধ্যে অনেকটা হই হই রই পড়ে গেল কি আর করার যে টাকা নিয়েছে সে কি ততক্ষণে মার্কেটে ছিল সে তো চলেই গিয়েছে। সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করলাম ।সবাই আশেপাশে উনাকে বোঝানোর চেষ্টা করল।
আমি জানতাম মার্কেটে অনেক ভিড় হবে এজন্য বাবুকে বাসায় রেখে গিয়েছিলাম আমার ছোট বোনের কাছে। যাইহোক সেই ঘটনাটা একটু ভুলে গেলাম। আমি আবারো কেনাকাটায় ব্যস্ত হয়ে পড়লাম। এবার যে ঘটনার সাক্ষী হলাম সেটার জন্য মোটেই প্রস্তুত ছিলাম না আমি। দেখলাম এক মহিলা বারবার অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছে। অনেক ভিড় জমেছে সেখানে। এক পা দু পা করে এগিয়ে গিয়ে দেখি মহিলা মাত্রই গহনা কিনেছিল দেড় ভরির মত। শুধুমাত্র দোকান থেকে গহনা নিয়ে বের হয়েছে এর মধ্যেই উনি গহনা হারিয়ে ফেলেছেন। একটা বার ভাবতে পারছেন কত কষ্ট করে এই টাকাটা জমিয়ে উনি গহনা কিনেছিলেন বা হয়তো একটু একটু করে জমানো টাকা দিয়ে।
আমি শুধু নীরব হয়ে সেই ঘটনাটা দেখে ওখান থেকে চলে এসেছি। আর ভাবছিলাম মানুষ কত খুশি নিয়ে কেনাকাটা করতে এসেছে আর এর মধ্যে কিছু মানুষ তাদের স্বার্থ হাসিলে ব্যস্ত। কেউ তার সর্বস্ব হারিয়ে হায় হায় করছে আর কেউ লুটে নিয়ে বিজয়ের হাসি হাসছে। কিন্তু এ হাসি কতক্ষণ? কারো সর্বনাশ করে কেউ কখনো ভালো থাকতে পারেনি।হয়তো সাময়িকভাবে কিছুদিন ভালো থাকবে কিন্তু দিন শেষে যাহা লাউ, তাহাই কদু।
শুনলাম এটা নাকি শয়তানের নিঃশ্বাস। কিছুক্ষণের জন্য কিছু একটা শুকিয়ে অন্যকে নিজের আয়ত্তে আনে সেই অসাধু লোকগুলো। এবং তাদের সর্বস্ব লুটে নেয়।বিশ্বাস করুন এই ঘটনাগুলো নিজের চোখে দেখার পর খুবই ভয় হচ্ছে। যারা এভাবে টাকা-পয়সা সোনার গহনা লুট করতে পারে তারা ছোট ছোট বাচ্চাকে লুট করবে না তার কোন গ্যারান্টি নেই। প্রশাসনকে এই ব্যাপারে অনেক সচেতন হওয়া উচিত। আপনারা যারা এখনো ঈদের কেনাকাটা করছেন তারা অবশ্যই সাবধানে থাকবেন। আর বাহিরে যাওয়ার সময় অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করবেন।
আজ এখানেই বিদায় নিচ্ছে দেখা হবে পরবর্তীতে নতুন কিছু নিয়ে। সবাই ভালো থাকবেন এবং সুস্থ থাকবেন। ধন্যবাদ সবাইকে।
❤️আমার পরিচয়❤️
আমি হাবিবা সুলতানা হীরা । জাতীয়তাঃ বাংলাদেশী। পেশাঃ গৃহিণী। শখঃ নতুন নতুন রেসিপি বানাতে ভালো লাগে। তাছাড়া গান গাওয়া, আর্ট করা, ফটোগ্রাফি করা ও বাগান করতে আমি বেশ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। আমি স্টিমিটে ২০২০ সালের নভেম্বর মাসে যুক্ত হই।
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
পোষ্ট টা পরে সত্যিই খারাপ লাগলো ৷ আসলে বর্তমান পরিস্থিতি খুব খারাপ আপু ৷ ঈদ কে সামনে রেখে মানুষের কত পরিকল্পনা ৷ অথচ কিছু দুষ্ট প্রকৃতির লোক তাদের স্বার্থ হাসিল করছে সত্যি ব্যাপার টা দুঃখজনক ৷
আপনার পোষ্ট পরে আশা করি সবাই সর্তক থাকবে আমার বাংলা ব্লগের সকলে ৷
https://x.com/HiraHabiba67428/status/1903495958950039817?t=hXsOlG0AnHNZu2quX01xXw&s=19