আলহামদুলিল্লাহ,আমাদের পুকুর পাড়ে এবার শিম গাছে অনেক শিম উৎপাদন হয়েছে। যেহেতু মোট পাঁচটা বান রয়েছে পুকুরপাড়ে, তাই কিছুদিন আগে সেই বানের গাছগুলো থেকে শিম উত্তোলন করলাম। শিম উঠাতে উঠাতে হয়ে গেল ৪৩ কেজি। তাই চিন্তা করলাম গাংনীর শাকসবজির আড়তে দিয়ে আসব। তাই উত্তোলন করে নিয়ে আসার পর আমার রুমের মধ্যে রেখে একটু হাত বাচ করে নিলাম। বাড়িতে খাওয়ার জন্য আত্মীয়-স্বজনের দেওয়ার জন্য রেখে মোট ৩১ কেজি নিয়ে গেলাম গাংনী আড়োতে। আর আড়তের শিম দিতে আমরা দুই ভাই বাইকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত। তাই বড় একটি মাছের খাবারের বস্তার মধ্যে শিম গুলো পুরে মোটরসাইকেলের চড়ে আড়তের দিকে রওনা দিলাম সকাল ৭টার সময়।

Photography device: Infinix hot 11s
Location
প্রায় কুড়ি মিনিট পর পৌঁছে গেলাম গাংনী বাজারে। আর এই আরতের সবচেয়ে আমার সুপরিচিত আড়তদার নাজমুল ভাই। তার রুমে উপস্থিত হলাম। দেখলাম বিভিন্ন শাকসবজি বেশি বেচাকেনা চলছে। আমি আমার শিমগুলো নিয়ে তার কাছে রাখলাম। উনি আমাকে বললেন ভাই রুমের মধ্যে বসুন আমরা বিক্রয় করে দিচ্ছি।

Photography device: Infinix hot 11s
Location
দেখলাম এই মুহূর্তে বসে থাকা ঠিক হবে না। তাই কয়েকটা ফটোগ্রাফি করে নেওয়ার চেষ্টা করলাম। পাশাপাশি নাজমুল ভাইয়ের নম্বরটা আমার কাছে ছিল না, তাই মেমোতে থাকা নম্বর থেকে ফটো তুলে নিলাম। যাইহোক এরপর বিভিন্ন প্রকার শাকসবজি গুলো আমি চেষ্টা করলাম একটু ঘুরে ঘুরে ফটোগ্রাফি করতে। লক্ষ্য করে দেখলাম বাজারে তেমন কোন শিম নেই। আর মাঠে চাষ করার শিমের চেয়েও বানের শিম অনেক সুন্দর হয়ে থাকে। তাই সাথে সাথে অনেক মানুষজন জোগাড় হয়ে গেল, যারা শাকসবজি বিক্রি করেন বাজারে। তারা প্রশ্ন করল কত করে আজকের শিমের বাজার চলছে। নাজমুল ভাই বলল ৩০ টাকা কেজি। অনেকে বলল ২৫ করে দিতে হবে 40 করে বাজারে বিক্রি করি আমরা বাজার কমে যাচ্ছে দিন দিন। তখন নাজমুল ভাই বললো এই শিম তৈরি করা আর খাটাখাটনি করে তুলে আনার দাম হবে না। পারলে অন্য জায়গা থেকে নেওয়ার চেষ্টা কর গা, বাজার অতো পড়ে যায়নি যে দাম এত কম দিয়ে বিক্রয় করে আমার কাস্টমার নষ্ট করবো।




Photography device: Infinix hot 11s
Location
অবশেষে ৩০ টাকা কেজি শিম গুলো বিক্রয় করা হয়ে গেল। নাজমুল ভাই আমার হাতে দুইটা স্লিপ দিয়ে দিল, যারা শিমগুলো নিল তাদের নাম আর বলে দিল ভিতরে যেয়ে ক্যাশিয়ারের কাছে স্লিপ দুটা দেন, টাকা দিয়ে দিবে আপনার হাতে। আমি জায়গামতো চলে গেলাম এবং স্লিপ দুইটা হাতে ধরিয়ে দিলাম। উনি হিসাব করে ৯০০ কত টাকা জানি আমার হাতে দিয়ে দিলেন। যেহেতু কেজি বাবদ আড়তে তো কিছু কেটে নেয়। তারপরে ও 900 কত টাকা আমার হাতে দিয়ে দিলেন। মাত্র 5 থেকে 10 মিনিটের মধ্যে বিক্রয় কাজ সম্পন্ন করে আবার বাড়ির দিকে রওনা দিলাম। আর এভাবেই সম্পূর্ণ হলো আমার পুকুরপাড়ের শিম গাছ থেকে শিম তোলা আর বিক্রয়ের কার্যক্রম।



Photography device: Infinix hot 11s
Location
এতক্ষণ সাথে থাকার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

পুনরায় কথা হবে পরবর্তী কোন পোস্টে, ততক্ষণ ভালো থাকা হয় যেনো। আল্লাহ হাফেজ। |

আপনার পুকুর পাড়ের তো অনেক শিম হয়েছে ভাইয়া।বেশ ভালো লাগলো ফটোগ্রাফি তে শিম বিক্রির অনুভুতি দেখে।আসলে নিজের গাছের লাগানো সবজি খেতে যেমন সুস্বাদু হয় দেখতেও অনেক সুস্বাদু হয়ে থাকে।সব মিলিয়ে চমৎকার ভালো লাগলো পোস্ট টি ধন্যবাদ আপনাকে পোস্ট টি আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য।
হ্যাঁ আপু অনেক শিম হয়েছে এবার
বেশ ভালো শিম হয়েছে আপনার পুকুর পাড়ে। আত্মীয়-স্বজনদেরকে দিয়ে আবার বিক্রিও করেছেন। নিজেদের গাছের শিম খাওয়ার মজাই আলাদা। সিম গুলো দেখে খুবই টাটকা এবং সুস্বাদু মনে হচ্ছে সেগুলো রান্না করে খেতে বেশ ভালোই লাগে। যাইহোক আত্মীয়-স্বজনকে দেওয়ার পরেও ৯০০ টাকা বিক্রি করেছেন জেনে ভালো। ধন্যবাদ সুন্দর একটি পোস্ট শেয়ার করার জন্য।
হ্যাঁ আপু বলতে গেলে পরে পাওয়ার টাকার মত
অনেক ভালো লাগলো শুনে আপনার শেষ করা সবজি বাজারের আড়তে বিক্রি করলেন। সত্যি আপনার সবজি চাষ করা সার্থক হয়েছে। আমার কাছেও বেশ ভালো লাগে যেহেতু আপনি নিজের ঘরে চাষ করে সবজি গুলো বিক্রি করলেন। একসাথে ঘরের চাহিদা ও পূরণ হয়ে গেল। অন্যদিকে আপনার খরচের টাকাও হয়ে গেল। অনেক ভালো লেগেছে আপনি আমাদের সাথে বিস্তারিত শেয়ার করলেন।
জীবনে প্রথম নিজের উৎপাদিত শিম এত বিক্রয় করলাম
ভাইয়া আজ আপনার নিজের হাতের সবজি সিম বাজারে বিক্রি করলেন। আপনার পোস্টের মাধ্যমে দেখে বেশ ভালো লাগলো। আসলে নিজের হাতের কোন সবজি কাউকে দিতেও যেমন আনন্দ লাগে।আবার নিজেদের খেতেও যেমন ভালো লাগে। সেইভাবে বিক্রি করতেও আনন্দ লাগে। আমি ঢাকায় থেকেও সেই অনুভূতি কিছুটা পেয়েছি।আমরা যখন ঢাকার যাত্রাবাড়ী ছিলাম তখন নিজের হাতে লাউ কুমড়ো গাছ লাগাতাম। আমার মায়ের হাতের মাশাল্লাহ প্রচুর লাউ আর কুমড়ো হয়েছিল। সবাইকে দিয়ে নিজেরা খেয়ে বাজারে প্রায় ৫০ থেকে ৬০টি করে লাউ কুমড়ো বিক্রি করেছি।কিন্তু এখন গাছ লাগানোর ইচ্ছে থাকলেও গাছ লাগানোর জায়গা নেই। ধন্যবাদ ভাই আপনাকে। আপনি নিজেরগাছের সবজি বিক্রি করার পোস্টি আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য।
তবে চেষ্টা করতে হবে নিজে উৎপাদন করার মধ্যে আনন্দ রয়েছে আপু
সব মিলিয়ে ৪৩ কেজি শিম হয়েছে তার মানে তো যথেষ্ট বেশি। তবে আমার কাছেও ২৫ টাকা করে প্রতি কেজির দাম অনেক কম মনে হয়েছে। এক কেজি শিম উৎপাদন করতে যে কষ্ট হয় তার দাম মোটেও ২৫ টাকা নয়। তবে শেষ পর্যন্ত যে ৩০ টাকায় প্রতি কেজি বিক্রি করেছেন, সেটাও আমার কাছে পর্যাপ্ত দাম মনে হয়নি। তারপরও যেহেতু বিক্রি করতে হবে, কি আর করা যাবে। যাইহোক, শেষ পর্যন্ত সমস্ত শিম বিক্রি করে ৯০০ টাকা হল যা যদিও আমার কাছে একটু কম মনে হয়েছে, তবে কি আর করা যাবে ভাই। যেহেতু নিজেদের বাড়িতে তৈরি করা, তাই যা হবে সেটাই লাভ।
বর্তমান আড়তের দাম কম ভাই
আড়তে কম দাম দেয়, সেটা তো জানি ভাই । এইগুলো যদি খুচরা ভাবে বিক্রি করতেন তাহলে আরো অনেক বেশি দামে বিক্রি করতে পারতেন।
এটা আমার পক্ষে সম্ভব নয় ভাই