হ্যালো বন্ধুরা,
আপনারা সবাই কেমন আছেন? আশা করি, সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমতে অনেক অনেক ভালো রয়েছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় অনেক ভালো রয়েছি। 'আমার বাংলা ব্লগ'এর সকল ভাইবোন বন্ধুদেরকে আমার পক্ষ থেকে সালাম এবং অভিনন্দন জানিয়ে শুরু করতে যাচ্ছি আজকের নতুন একটি পোস্ট। আবারো আপনাদের মাঝে উপস্থিত হলাম পুকুর পাড়ের কুল গাছ থেকে ছোট্ট ছোট্ট ছেলে-মেয়েদের কুল পাড়ার অনুভূতি নিয়ে। আশা করি সুন্দর এই পোস্ট আপনাদের ভালো লাগবে এবং অতীতের সে ফেলে আসা দিনগুলো স্মরণ করার মধ্য দিয়ে আনন্দ পাবেন।

আপনারা জানেন আমাদের এলাকাব্যাপী শুধু পুকুর আর পুকুর। তাই পুকুর পাড়গুলোতে অনেকে আমার মত শাকসবজি উৎপাদন করে। আবার অনেকে ফলের গাছ লাগিয়ে ফল খাওয়ার চেষ্টা করে। বিভিন্ন প্রকার ফলের গাছ পুকুরপাড় এর জায়গাতে দেখা যায়। তবে এমন কিছু ফল গাছ রয়েছে যেগুলো এমনিতেই জন্ম নিয়ে ফল হয়। ঠিক তার মধ্যে কুলগাছ অন্যতম। ২০১১ সাল থেকে মাঠে পুকুরে মাছ চাষ করছি। আর সে থেকে লক্ষ্য করে গেলাম সবচেয়ে ফ্রি ভাবে দুইটা গাছ পুকুর পাড়ে জন্মায়,তা হচ্ছে কুলগাছ আর খেজুর গাছ। কুল গাছগুলোতে কুল ধরলে ঠিক এমনই ছেলেমেয়েদের আগমন ঘটে কুল পাকার আগ মুহূর্তে। আর প্রায় পুকুর পাড়ে এমন কুল গাছ বিদ্যামান। আমি একদিন পুকুরপাড়ের কলা সংরক্ষণ করার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলাম চাচাদের পুকুর পাড় দিয়ে। লক্ষ্য করলাম খুবই ছোট ছোট ছেলে মেয়ে কুল পাড়ার উদ্দেশ্যে এখানে এসে উপস্থিত। ঘরবাড়ি থেকে পুকুরগুলো বেশ কিছুটা দূরত্বে আছে। আর এতটুকু ছোট বাচ্চারাও এখানে আশা বড় রিক্স। যেমন অনেক সময় কুকুরে কামড় দেওয়ার ভয় রয়েছে। আবার ছোট বাচ্চারা পুকুরের মধ্যে পড়ে ডুবে মারা যাওয়ার ভয় রয়েছে। তবে যেইদিন আমি এই ফটো ধারণ করলাম বেশ হতাশ হলাম কোনরকম কথা বের হয়েছে, হাঁটতে শিখেছে তারাও চলে এসেছে বড় সাথীদের সাথে।



Photography device: Infinix hot 11s
সোর্স
কোন গার্জিয়ান কে লক্ষ্য করলাম না যে বাচ্চাদের দেখাশোনার জন্য খোঁজ নিচ্ছে। আমি যখন কুল গাছের দিকে অগ্রসর হলাম,বেশ কয়েকজন ছেলে মেয়ে ভয় পাচ্ছিল আমি তাদের বকব কিনা সে চিন্তা করে। এদিকে লক্ষ্য করলাম দূরে একটি কুল গাছ থেকে বড় তিনটা ছেলে এদের ভয় দেখাচ্ছিল। কারা ওখানে, কুল পাড়ছে? ধরতো! এমন এমন কথা বলছিল। এই মুহূর্তে আমার উপস্থিত দেখে তারা ভয় পেয়েছিল,মনে হয় আমি তাদের মারবো। একটা বাচ্চা তো ভয়ে কান্না শুরু করে দিয়েছিল। আমি শান্ত মনে কোমল অনুভূতি দেখিয়ে তাদের বললাম বাবুরা ভয় পেয়ো না। আমি তোমাদের কুল ছুড়িয়ে দেবো গাছ থেকে। এরপর যাই হোক তাদেরকে শান্ত করলাম, গাছ থেকে কুল পড়া শুরু করলাম। যারা একটু বড় ছিল তারা কিন্তু ভয় পাচ্ছিল না। ছোটদের সান্ত্বনা দিল। বলল উনি মারবে না,তোমরা কান্না করো না, ভয় পেয়ো না। এরপর সবাই মিলে কমবেশি কুল বা বরুই পাড়তে থাকলাম। তাদের বললাম সবাইকে নেওয়ার সুযোগ দাও। ছোট বাচ্চারা আমার হাতে কুল পেয়ে বেশ খুশি।




Photography device: Infinix hot 11s
সোর্স
ওই মুহূর্তে আমি ভাবলাম, আমিও যদি তাদের সাথে ধমকের সুরে কথা বলতাম, না জানি ছোট ছোট বাচ্চারা কতটা ভয় পেয়ে কষ্ট পেত। আর ছোট ছোট মুখের হাসি গুলো আমাকে এতটা শান্তি দিল তা আপনাদের বলে আমি বোঝাতে পারবো না। আমিও যেন তাদের সাথে মেতে উঠলাম। ফিরে পেলাম আমার সেই শৈশবের দিনগুলো। বন্ধুদের সাথে খেলতে যেতাম। কত কিছুতেই ব্যস্ত হতাম। কোথায় হারিয়ে গেছে সেই ছেলেবেলা। তবে এই মুহূর্তটা ক্ষণিকের জন্য আমাকে অতীতে নিয়ে গেছিল। আমিও যেন ছোট বাচ্চাদের সাথে বাচ্চায় পরিণত হলাম। তারা প্রথমে ভেবেছিল আমি তাদের সাথে খারাপ আচরণ করব। কিন্তু পরবর্তীতে তারা দেখলো আমিও তাদের মত একজন। তারা আনন্দের সাথে কুল ছুড়াতে থাকল ও খেতে থাকলো। একে অন্যের হাতে তুলে দিতে থাকলো।


Photography device: Infinix hot 11s
সোর্স
এখানে পরিচিত অপরিচিত বেশ অনেক বাচ্চা ছিল। তবে তাদের মুখের হাসি আমাকে মুগ্ধ করলো। ক্ষণিকের জন্য তাদের যে আমি মুখে হাসি আনতে পেরেছি এতে আমার সুখ। এরপর আমি তাদেরকে বললাম বাবুরা ছোটদেরকে হাতে ধরে বাড়িতে নিয়ে যাবে। আশেপাশে অনেক পুকুর না জানি কোথায় উঁচুট খেয়ে পড়ে যায়। সবাই দলবদ্ধভাবে বাড়ি যাবে। এদিকে ওদিকে অনেক কুকুরের আগমন। এমনিতেই শীতের সময় কুকুর ক্ষেপে যায় মানুষকে পেলে কামড় দেয়। তারা সবাই আমার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনলো। আরো বলে দিলাম এভাবে তোমরা ছোট বাচ্চাদের সাথে করে আনবে না। যদি কুল খাওয়ার প্রয়োজন হয়, এখানে চার পাঁচটা কুলের গাছ রয়েছে, আমাদের পুকুরের দুইটা গাছ রয়েছে, বড় ভাই বোনদের অথবা তোমাদের দাদা-দাদীদের বলবা এসে নিয়ে যেতে কিন্তু তোমরাই ভাবে আর আসবে না। আরো একটু ভয় দেখিয়ে বললাম এরপর যদি তোমাদের এখানে উপস্থিত হতে দেখি আমি কিন্তু মারবো। মারার কথা শুনে ছোটটা একটু ভীত হলো। তবুও তাদের ভালোর জন্য একটু ভয় জাগিয়ে আদরের ছলে বলে দিলাম যেন তারা না আসে। আর এদের মধ্য থেকে আমাদেরই চাচাতো ছোট ভাই মাহিন, কুল গাছের পাশে থাকা গাঁদা ফুলের গাছ থেকে একটি ফুল এনে আমার হাতে দিল। সে কথাবার্তায় একটু পাকা। বলে বসলো, জ্ঞান দেয়ার জন্য ধন্যবাদ। বন্ধুরা স্মরণ করুন আপনাদের ছোটবেলায় খেলার সাথীদের মধ্যে পাকা বা চালাক চতুর ছিল কোন ব্যক্তি, তার নাম কি? এখানে তো চালাক চতুর হিসেবে মাহিনকে লক্ষ্য করলাম। যাইহোক এরপর আমি তাদেরকে বাড়ির রাস্তা দেখিয়ে দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকলাম, তারা বাড়ির দিকে চলে গেল এরপর আমি আমার কাজে অগ্রসর হলাম।


Photography device: Infinix hot 11s
সোর্স
বিষয় | বরুই সংরক্ষণ |
ফটোগ্রাফি ডিভাইস | Infinix Hot 11s |
লোকেশন | গাংনী-মেহেরপুর |
ব্লগার | @sumon09 |
দেশ | বাংলাদেশ |
পোস্টটি পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

পুনরায় কথা হবে পরবর্তী কোন পোস্টে, ততক্ষণ ভালো থাকুন সবাই। আল্লাহ হাফেজ। |

ভাই আপনি আজকে আমাদের মাঝে খুবই দারুন একটি অনুভূতি শেয়ার করেছেন। আপনি শেয়ার করেছেন পুকুর পাড়ে ছোটদের সাথে কুলপাড়ার খুবই দারুণ একটি অনুভূতি। আসলে ভাইয়া এভাবে কলপাড়ার অনুভূতিটা খুবই দারুণ। বিশেষ করে ছোটদের সাথে কুলপেড়ে খেলে বেশ ভালো লাগে। ধন্যবাদ আপনাকে শেয়ার করার জন্য।
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
২০১১ সাল থেকে মাছ চাষ করছেন তাহলে তো বলা যাই আপনি সফল চাষি! যাইহোক বাচ্চাদের কুল পেড়ে দেওয়ার মুহূর্ত গুলো দেখে আমার অনেক ভালো লাগলো আসলে আপনার মত মানুষ খুবই কমই আছে খুব সুন্দর মনোভাব আপনার ধন্যবাদ আপনাকে আপনার মুহূর্তগুলো শেয়ার করার জন্য।
চেষ্টা করেছিলাম তাদের সাথে ভালো ব্যবহার করতে।
বাচ্চাদের সাথে এমন নমনীয় কমল আচরণ দেখে আমার কাছে খুবই ভালো লাগলো ভাই। প্রথমে আপনাকে দেখে ভয় পেলেও পরবর্তীতে আপনার কথাবার্তায় তারা স্বস্তি খুঁজে পেয়েছে। বাচ্চাগুলার ভেতরে দেখছি আমার বোনের ছেলেও আছে। মাহিনের কথা আমার অনেক ভালো লাগেছে। আসলেই সে অনেক চালাক। জ্ঞান দেয়ার জন্য ধন্যবাদ হা হা হা😃
হ্যাঁ সে তো এমনই কথা বলা লোক। হ্যাঁ আমাদের কানিজের ছেলে ছিল।
হ্যা ভাই সেটাই আমি খেয়াল করলাম।
আসলেই কুল গাছগুলো পুকুর পাড়েই জন্মায়,আর বাচ্চাদের কুলের প্রতি আলাদা ঝোঁক থাকে।তবে আসলেই এটা খুবই ঝুঁকি বাচ্চাদের জন্য।আপনি ওদের না বকে ওদের বুঝিয়ে বলেছেন এটা খুবই ভালো লাগলো জেনে।সবসময় বকাঝকা করে সব সমস্যার সমাধান হয় না।ধন্যবাদ ভাইয়া।
একদম মনের মত কথা বলেছেন আপু।
পুকুর পাড়ে ছোট ছোট বাচ্চাদের আগমন খুব ভয়ানক। বড়ো বাচ্চারা কুল পারতে ব্যাস্ত থাকায় ছোট বাচ্চাদের পুকুরে পরে যাওয়ার সম্ভেনা রয়েছে। কথা শেখে নি এমন বাচ্চাদের ও আগম ঘটেছে পুকুর পাড়ে।আপনাকে দেখে ভয় পেয়েছে কিন্তুু আপনি তাদের ভয় ভেঙ্গে দিয়ে কুল পেড়ে দিয়ে খুশিতে মনটা ভরিয়ে দিয়েছে জেনে বেশ ভালো লাগলো।আবার আপনি তাদের কে সবধানে যেতে বলেছেন এবং আরো নানা রকম উপদেশ দিয়েছেন জন্য আপনার চাচাত ভাই আপনাকে পুকুর পাড় থেকে গাদা ফুল তুলে উপহার দিয়েছে জেনে ভালো লাগলো।ধন্যবাদ আপনাকে সুন্দর কিছু বাচ্চাদের কুল পাড়ার মূহুর্তের ফটোগ্রাফি করে আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য।
হ্যাঁ, এতোটুকু ছোট বাচ্চাদের এমন জায়গায় ছাড়তে নেই।
আমরা যখন ছোট ছিলাম তখন এভাবে বিভিন্ন গাছ থেকে কুল পেড়ে খেতাম। গ্রামে থাকলে এই অনুভূতি গুলো ফিল করা যায়। গ্রামের প্রায় পুকুর পাড়েই কুল গাছ দেখা যায়। আপনার অনুভূতি গুলো দারুন ছিল। ধন্যবাদ।
সুন্দর মন্তব্য করার জন্য ধন্যবাদ ভাই।