ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে ফেরা।
হ্যালো..!!
আমার সুপ্রিয় বন্ধুরা,
আমি @aongkon বাংলাদেশের নাগরিক।
আজ- ৭ ই মার্চ, শুক্রবার, ২০২৫ খ্রিঃ।
আমি আশা করি, আপনারা সবাই সুস্থ এবং সুন্দর আছেন। আমার মাতৃভাষা বাংলার একমাত্র ব্লগিং কমিউনিটি আমার বাংলা ব্লগ এর ফাউন্ডার, এডমিন প্যানেল, মডারেটর প্যানেল এবং সকল সদস্য ও সদস্যাদের আমার অন্তরের অন্তরস্থল থেকে প্রাণঢালা শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন রইল।
কভার ফটো
কয়েকটি ফটোগ্রাফি একত্রিত করে সুন্দর একটি কভার ফটো তৈরি করে নিয়েছি।
আমি আজকে আপনাদের সামনে নতুন একটি পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি প্রতিনিয়ত আমার বাংলা ব্লগে নতুন নতুন পোস্ট শেয়ার করতে আমার অনেক বেশি ভালো লাগে। গ্রামীণ প্রাকৃতিক পরিবেশ আমার কাছে অনেক বেশি ভালো লাগে তাই তো মাঝেমধ্যে গ্রামে ছুটে আসি। আমার কাছে শহরে জীবন খুবই বিরক্তিকর লাগে। আসলে শহরে পড়ে আছি ইউনিভার্সিটি লেখাপড়ার কারণে। গত সপ্তাহে আমার ইউনিভার্সিটি পরীক্ষা শেষ হয়েছে। প্রতিবারের মতো এবারেও পরীক্ষা শেষ করে বাড়িতে আসার খুব ইচ্ছা করছিল। ইচ্ছা করলে কি হবে! আমি কয়েকদিন আগে নতুন "ইয়ামাহা ভার্সন ২" বাইক কিনেছি এখনো রেজিস্ট্রেশন কমপ্লিট হয়নি। আর এই কারণেই পুলিশের ভয়ে বাড়িতে যেতে পারছিলাম না। আমি যেহেতু বর্তমানে ঢাকাতে থাকি তাই ঢাকা থেকেই বাইকটা নিয়েছিলাম। আর মনে মনে ভেবে রেখেছিলাম যে, বাইকের রেজিস্ট্রেশন নাম্বার পাওয়ার পরেই এটা নিয়ে বাড়িতে যাবো। কয়েকদিন ধরে রেজিস্ট্রেশনের জন্য বেশ অপেক্ষা করছিলাম। গতকালকে দুপুরে হঠাৎ করেই ফোনে মেসেজ আসলো রেজিস্ট্রেশন কমপ্লিট হয়েছে। তারপরেই মিরপুরে ইয়ামাহা শোরুমে গিয়ে বাইকের রেজিস্ট্রেশন পেপার নিলাম। আর গতকালকেই প্ল্যানিং করলাম যে, আজকে সকালে ঘুম থেকে উঠে নতুন বাইক নিয়ে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেব। যাই হোক আজকে আমি নতুন বাইক নিয়ে গ্রামের বাড়িতে আসার মুহূর্ত আপনাদের সাথে শেয়ার করবো।
আজকে যেহেতু বাইক নিয়ে বাড়িতে আসবো তাই গতকালকেই ব্যাগ পত্র গুছিয়ে রেখেছিলাম। প্রতিবার বাড়িতে আসার আগে অবশ্য একই কাজ করি। গতকালকে রাতে আমার নতুন ফোনে ৫:৪৫ এ এলার্ম দিয়ে রেখেছিলাম। কিন্তু আজকে সকালে হঠাৎ করে ঘুম থেকে উঠে দেখি ৬: ৩৫ বেজে গেছে। তখন বুঝতে পারলাম যে, এলার্ম সঠিকভাবে দেওয়া হয়নি। তারপর তাড়াতাড়ি করে ফ্রেশ হয়ে ব্যাগ পত্র নিয়ে বের হলাম।
আমি যখন আজকে সকালে বাইক নিয়ে বের হলাম তখন ঘড়ির কাঁটায় সাতটা পনেরো বাজে। যেহেতু আজকে প্রথমবারের মতো নতুন বাইক নিয়ে বাড়িতে যাচ্ছি তাই মনের ভিতরে বেশ ভালো লাগা কাজ করছিল। সত্যি বলতে এটা আমার অনেক দিনের স্বপ্ন ছিল এভাবে বাইক নিয়ে বাড়িতে যাওয়া। আমি ছোটবেলা থেকেই বাইক লাভার মানুষ বাইকে ভ্রমণ করতে অনেক বেশি পছন্দ করি। অবশ্য মাঝে মধ্যে আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করতাম যে, বাইকে ভ্রমণ করতে ভীষণ ভালো লাগে।
আজকে নতুন বাইক নিয়ে আসা আমার জন্য প্রথম দিন ছিল তাই আগে থেকেই ব্রেইনে সেটআপ করে নিয়েছিলাম যে, সাবধানে বাইক চালিয়ে বাড়িতে যেতে হবে। আর নতুন বাইকে ব্রেকিং পিরিয়ড চলাকালে সর্বোচ্চ গতি সীমা ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার প্রতি ঘন্টায় চালানোর নিয়ম। যদিও এই নিয়মটা আসলে বেশিরভাগ মানুষই ফলো করে না। তবে আমার এখন পর্যন্ত এই নিয়মটা ফলো করেছি। এই ব্রেকিং পিরিয়ড চলাকালীন যত বেশি নিয়মগুলো ফলো করবো তত বাইক ভালো থাকবে।
আমি আসার সময়ে প্রতি বেশ কয়েক জায়গায় দাঁড়িয়ে ছিলাম। এর কারণটা ছিল নতুন ভাইকে একটা না ড্রাইভ করা উচিত না কারণ ইঞ্জিন হিট করে। আসার সময় যেসব জায়গাগুলো একটু বেশি সুন্দর সেখানেই দাঁড়িয়ে আমি নিজেও রেস্ট নিয়েছিলাম বাইকের ও রেস্ট দিয়েছিলাম। এভাবে পাটুরিয়া ফেরিঘাট পাওয়ার আগে কয়েক জায়গায় দাঁড়িয়ে রেস্ট নিয়েছিলাম। পাটুরিয়া ফেরিঘাটে আসার সাথে সাথেই ফেরিতে উঠে পড়ি। আমি যখনই ঢাকা থেকে বাড়িতে যাই নদী পারাপারের সময় এই মুহূর্তটা অনেক সুন্দরভাবে উপভোগ করি। কারণ নদীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আমার কাছে অনেক বেশি ভালো লাগে।
যাই হোক মোটামুটি ৪০ মিনিটের মধ্যেই ফেরি পার হয়ে এপারে চলে আসি। নদী পার হওয়ার মুহূর্তটা খুব সুন্দর ভাবে উপভোগ করেছিলাম। নদী পার হয়ে যখন এপারে চলে আসি তখন মনে হয় যে, নিজের এলাকাতে চলে এসেছি। আসলে নিজের এলাকাতে আসলে মনের ভেতর আলাদা ভাললাগা কাজ করে। এদিকে রাস্তাগুলো খুব চেনা আর আপন মনে হয়। এমনিতেও দৌলতদিয়া টু কুষ্টিয়া রোড অনেক সুন্দর বাইক চালানোর জন্য এক কথায় দারুন।
যদি পার হয়ে বাড়িতে আসার সময়েও বেশ কয়েক জায়গা দাঁড়িয়েছিলাম আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করেছিলাম। ঘড়ির কাঁটায় যখন সকাল সাড়ে এগারোটা বাজে তখন বেলগাছি পৌঁছেছিলাম। তারপর বেলগাছিতে একটা ধর্মীয় অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম। অনেকদিন পরে এ ধরনের অনুষ্ঠানে গিয়ে বেশ ভালো লাগছিল। অনুষ্ঠান শেষ করে বাড়িতে আসতে রাত দশটা বেজে গিয়েছিল। যেহেতু নতুন বাইক নিয়ে প্রথমবারের মতো বাড়িতে এসেছি তাই বাড়ির সবার মিষ্টিমুখ করানোর জন্য মিষ্টি কিনে এনেছি। আপনাদেরও সবার মিষ্টি খাওয়ার নিমন্ত্রণ রইল।
পোস্টের ছবির বিবরন
ক্যামেরা: ১০৮ মেগাপিক্সেল
তারিখ: ৭ ই মার্চ ২০২৫ খ্রিঃ
লোকেশন: ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রিয় বন্ধুরা,
আমি স্টিমিট প্ল্যাটফর্মে আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটিতে প্রতিনিয়ত আমার সৃজনশীলতা দিয়ে ভালো কনটেন্ট শেয়ার করে এই কমিউনিটিকে সমৃদ্ধ করতে চাই এবং উচ্চতার শিখরে নিয়ে যেতে চাই। আমার ব্লগটি কেমন হয়েছে আপনারা সবাই কমেন্টের মাধ্যমে অবশ্যই মন্তব্য করবেন, সামান্য ভুল ত্রুটি অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন এবং সুপরামর্শ দিয়ে পাশে থাকবেন। আবার দেখা হবে নতুন কোনো পোস্ট নিয়ে শীঘ্রই, ততক্ষণে সবাই নিজের খেয়াল রাখবেন সুস্থ এবং সুন্দর থাকবেন এটাই কাম্য করি।
আমি কে !
আমি অংকন বিশ্বাস, আমার ইউজার নেম @aongkon। আমি মা, মাতৃভাষা এবং মাতৃভূমিকে সব থেকে বেশি ভালোবাসি। আমি হৃদয় থেকে ভালবাসি সৃষ্টিকর্তা ও তার সকল সৃষ্টিকে। আমি বর্তমানে ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটিতে সিভিল টেকনোলজিতে বি.এস.সি ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে লেখাপড়া করছি। আমি ভ্রমণ করতে, গান গাইতে ও শুনতে, কবিতা লিখতে ও পড়তে, আর্ট করতে, রান্না করতে ও ফটোগ্রাফি করতে খুবই পছন্দ করি। "আমার বাংলা ব্লগ" আমার গর্ব "আমার বাংলা ব্লগ" আমার ভালোবাসা। আমার নিজের ভেতরে লুকায়িত সুপ্ত প্রতিভাকে বিকশিত করার লক্ষ্যে "আমার বাংলা ব্লগে" আমার আগমন। এই স্বল্প মানব জীবনের প্রতিটা ক্ষণ আমার কাছে উপভোগ্য। আমি মনে করি, ধৈর্যই সফলতার চাবিকাঠি।
@aongkon


বন্ধু নতুন গাড়ির মিষ্টি কিন্তু এখনো খাইনি অবশ্যই কালকে কিন্তু গাড়ি কেনা উপলক্ষে ইফতারের সময় মিষ্টি খাওয়াবে।
আসলে গ্রামে আসার মজাটাই অন্যরকম। আপনি ঢাকা থেকে গ্রামে এসেছেন এবং যাত্রাপথে সৌন্দর্যময় ফটোগ্রাফি গুলো আমাদের মাঝে শেয়ার করেন। দেখে ভালো লাগলো।
গ্রামে যেমন সুন্দর পরিবেশ পাওয়া যায় শহরে তা কখনোই পাওয়া যায় না। তাই শহর থেকে গ্রামে যাওয়ার মজাই আলাদা। আপনার ফটোগ্রাফি গুলা বেশি বেশ ভালো লাগলো। ধন্যবাদ আপনাকে।
নিজের বাড়িতে যাওয়ার অনূভুতি টাই একেবারে আলাদা। মনের মধ্যে অন্যরকম এক আনন্দের সৃষ্টি হয়। দারুণ লাগল আপনার পোস্ট টা। এবং ফটোগ্রাফি গুলো বেশ সুন্দর ছিল। ধন্যবাদ ভাই আমাদের সাথে পোস্ট টা শেয়ার করে নেওয়ার জন্য।।