মানুষের জীবন একটা উপন্যাস!!
আমার বাংলা ব্লগে,সবাইকে স্বাগতম।
আমি @emon42.
বাংলাদেশ🇧🇩 থেকে
কিছু কিছু মানুষ আপনার জীবনে আসবে যারা আপনার পাশে তো থাকবে কিন্তু কখনও আপনার হাত ধরবে না চিরদিনের জন্য। আবার একেবারে সরাসরি না বলবে না। সে আপনাকে একটা অপশন হিসেবে রেখে দিবে। একটা সময় গিয়ে যখন সে তার প্রিয় তার সেই কাঙ্খিত মানুষ টা কে পেয়ে যাবে তার প্রতি অতীতে হওয়া সব অবিচার সে ভুলে যাবে। আবার তাকে স্বাদরে গ্রহণ করবে। এটা একধরনের মানুষের স্বভাব। বিশেষ করে বলতে গেলে মেয়ে মানুষের স্বভাব। এই মানুষগুলো আপনার সাথে এমনভাবে জড়িয়ে যাবে আপনি তাকে ভালোবেসে ফেলবেন কিন্তু সেই মানুষ টা কখনোই আপনাকে ভালোবাসবে না। শুধুমাত্র একটা অপশন হিসেবে আপনাকে রেখে দিবে। সম্প্রতি এমন একটা পরিস্থিতির স্বীকার আমি নিজেই হয়েছি। তবে মজার ব্যাপার টা অন্য জায়গাই।
এই বছরের শুরুতে একটা বই পড়েছিলাম। বইটার নাম ছিল সফর। বইটার লেখক ছিলেন ইমরান কায়েস। উনি বাংলাদেশী হলেও বাইরে থাকেন এবং পেশায় ডাক্তার হলেও বেশ ভালো একজন লেখক। এবার ঐ বইয়ের ব্যাপারে আসি। বাংলাদেশের ছেলে কৌশিকের সঙ্গে রুবিনার পরিচয় হয় কলকাতা এয়ারপোর্ট থেকে। কৌশিকের ডিভোর্স হয়েছিল সম্প্রতি এবং রুবিনার প্রাক্তন স্বামী অর্জুনও তাকে ছেড়ে দিয়েছিল। দুজনই যায় দিল্লিতে ঘুরতে। রুবিনা ইতিহাসের শিক্ষার্থী হওয়াই এবং এগুলো নিয়ে অনেক দিন কাজ করায় তার জানা ছিল অনেক কিছু। একে একে রুবিনা কৌশিক কে দিল্লির ঐতিহ্যবাহী জায়গাগুলো ঘুরিয়ে দেখাই তারপর দুজন চলে যায় রাজস্থান। পুরোটা ভ্রমণে একজন ছিল আরেকজনের সঙ্গী।
ঘোরাঘুরির মাঝে কৌশিক নিজের ফেলে আসা অতীত মৌ এর সাথে তার ডিভোর্স অতঃপর তারই বন্ধুর সাথে মৌ এর সম্পর্কের কথা বলে। রুবিনা ততক্ষণে বুঝে যায় কৌশিক ভেতর থেকে পুরোপুরি ভেঙেচুড়ে গিয়েছে। অন্যদিকে রুবিনা অর্জুনকে ভালোবাসত নিজের থেকে বেশি। কিন্তু সেই অর্জুনও তার সাথে সঠিক কাজ করেনি তাকে ছেড়ে দেয়। গল্পের একপর্যায়ে রুবিনা এবং কৌশিকের মধ্যে একটা সম্পর্ক তৈরি হয়ে যায়। হয়তো শেষ পর্যায়ে কৌশিক প্রকাশও করত। কিন্তু গল্পের শেষ দিকে হঠাৎ একদিন রুবিনার সামনে অর্জুন এসে হাজির হয়ে যায়। অর্জুনকে দেখে সবকিছু ভুলে যায় রুবিনা। রুবিনা আবার অর্জুনের হাত ধরে এবং ঐ দৃশ্য টা পাশেই দাঁড়িয়ে দেখে কৌশিক। রুবিনা ততক্ষণ কৌশিকের সাথে ছিল যতক্ষণ অর্জুন ছিল না। কিন্তু অর্জুন আসার পরেই রুবিনা মূহূর্তের মধ্যে কৌশিক কে ভুলে যায়।
মেয়েরা ঠিক এমনই হয়। শুধু মেয়েদের বললে ভুল হবে। একধরনের মানুষই আছে এমন। যারা আপনার জীবনে ততক্ষণই থাকবে যতক্ষণ না তার প্রিয় মানুষ টা তার জীবনে আসছে। ততক্ষণ তারা আপনাকে দ্বিধায় রাখবে তারা না আপনার হাত ধরবে না আপনাকে যেতে দেবে। এগুলো নিদারুণ বাস্তবতা। তারা একপ্রকার আমাদের অ্যাবউজ করে। আপনি কিন্তু তাদের কিছু বলতেও পারবেন না। কারণ তারা কখনোই বলে না আমি সারাজীবন তোমার সাথে থাকব। সম্প্রতি এমন কিছু আমার সাথে ঘটে গিয়েছে। এবং কয়েক মাস আগেই সফর বইটা আমি পড়েছিলাম। দুইটা কাহিনী যেন এখানে মিলেমিশে একাকার। আসলে আমাদের জীবন কখনও কখনও নাটক সিনেমা উপন্যাস এর চেয়েও রোমাঞ্চকর হয়ে উঠে। এই উপন্যাস গুলো এই বইগুলো তো কারো না কারো জীবনের গল্প কে কেন্দ্র করেই লেখা।
সবাইকে ধন্যবাদ💖💖💖।
অনন্ত মহাকালে মোর যাএা অসীম মহাকাশের অন্তে। যারা আমাদের পাশে আছে তারা একটা সময় চলে যাবেই, এটা তাদের দোষ না। আমাদের জীবনে তাদের পার্ট ওইটুকুই। আমাদের প্রকৃত চিরশখা আমরা নিজেই, তাই নিজেই যদি নিজের বন্ধু হতে পারেন, তাহলে দেখবেন জীবন অনেক মধুর।তখন আর একা হয়ে যাওয়ার ভয় থাকবে না।
আমি ইমন হোসেন। আমি একজন বাংলাদেশী। আমি একজন ছাএ। তবে লেখাপড়া টা সিরিয়াসলি করি না হা হা। লেখালেখি টা বেশ পছন্দ করি। এবং আমি ফুটবল টা অনেক পছন্দ করি। আমার প্রিয় লেখক হলেন জীবনানন্দ দাস। আমি একটা জিনিস সবসময় বিশ্বাস করি মানিয়ে নিতে এবং মেনে নিতে পারলেই জীবন সুন্দর।।
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
আসলেই এমন মানুষ অহরহ দেখা যায় আমাদের মাঝেই। এর পেছনে অনেক কারণ ই থাকতে পারে, তার সবচেয়ে বড় কারণ হচ্ছে মানুষ একা থাকতে পারে না! দুর্বল মুহুর্ত গুলো একা থাকলে মানুষের মাঝে নানা রকমের চিন্তা চলে আসে। তবে এটা ঠিক যে যারা দুঃসময়ে পাশে থাকে, তাদের শুধুমাত্র নিজেদের প্রয়োজনে কাজে লাগানোটা অন্যায়! আপনার জন্যও শুভকামনা রইলো ভাই।
মানুষের জীবন নিয়েই গল্প,উপন্যাস, নাটক তৈরি করা হয়।একটি বই সেদিন পড়লেন।আর সেই বইয়ের সাথে জীবনের মিলটা হয়ে গেলো এই মিলটা ভালো ই মিলে গেলো। জীবনটা সত্যি ই নাটকের চেয়েও বেশী নাটকীয়।