বড়ই চুরি সাথে মজার এক ঘটনা.........
হে লো আমার বাংলা ব্লগ বাসী। কেমন আছেন সবাই। আশা করি ভালো আছেন। আমিও অনেক ভালো আছি। আবার ও হাজির হলাম একটি পোস্ট নিয়ে। আশা করি সবার ভালো লাগবে।
সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে শুরু করছি আমার আজকের পোস্ট। দিন কাল কেমন যাচ্ছে আপনাদের? গরমে খুব একটা ভালো যাচ্ছেনা। কারণ গরম আমি একদমই সহ্য করতে পারিনা। নিউজ এ দেখলাম কাল থেকে আবার হিট এলার্ট জারি করেছে কিছু বিভাগ এ। সেখানে আমাদের ঢাকা বিভাগ ও আছে। আবার কিছু দিন কষ্ট করতে হবে বুঝা যাচ্ছে। কবে যে আবার এমন ঠান্ডা পরবে কে জানে। তো আজ আপনাদের সাথে শেয়ার করবো বড়ই চুরি ও তার পরের এক মজার ঘটনা।
সেদিন আমরা ৩ বন্ধু বাইক নিয়ে ঘুরতে বের হয়েছিলাম। কথা ছিলো পুর্বাচল এড়িয়া তে ঘুরতে যাবো। তবে কোথায় যাবো এটা আমি জানতাম না। তো ৩০০ ফিট রোড হয়ে আমরা নীলা মার্কেট এর এইদিকের রাস্তায় এসে পরলাম। যেহেতু ওরা আগেই ঠিক করে রেখেছিলো কোথায় যাবে সেহেতু আমরা পুর্বাচল এর দিকে মোড় দিলাম। যেখান থেকে মইজুদ্দিন চত্তর হয়ে যাবো। তো আমরা রাড করে যাচ্ছি। আমার বন্ধু সজিব আমার পিলিয়ন হিসেবে বসেছিলো। তো পথিমধ্যে কিছু বড়ই গাছ দেখতে পেলাম। যেগুলোতে ছোট ছোট বড়ই ধরেছে। আরো একটু সামনে যেতেই দেখি আমার বন্ধু শুভো বাইক রেখে দাঁড়িয়েছে। আমিও বাইক স্লো করে দাঁড়ালাম। এরপর দেখি সে বড়ই বাছতেছে। আমি আর সজিব ও নেমে বড়ই পারা শুরু করলাম। বড়ই গুলো যদিও ছোট ছিলো। তবে খাওয়ার উপযোগি। একটু পর দেখি ওরা বড়ই আনতে আনতে কই যেনো হারিয়ে গেলো। বাইক আছে ওরা নাই আমি একটু ভয় পেয়ে গেলাম রীতিমত। পরে দেখি ওরা একটা প্লট ছিলো সেটার ভিতর ঢুকে বড়ই পারতেছে। এরপর আমি ওদের সাথে যুক্ত হলাম। এবার বড়ই গুলা খাওয়া যাচ্ছে। রাস্তার পাশে যেগুলো ছিলো সেগুলো নিয়েছিলাম ঠিক তবে খাওয়ার কথা ছিলো ধুয়ে। কারণ রাস্তার ধুলো জমা ছিলো বড়ই গুলোতে।
ভেতরের গাছ গুলো রাস্তা থেকে বেশ কিছুটা দূরে হওয়াতে এগুলো একদম পরিষ্কার ছিলো। আমরা বড়ই পেরে সেখানেই খাওয়া শুরু করলাম। ভেতরের বড়ই গুলো বেশ মিস্টিও ছিলো। আমাদের খাওয়া হলে এবার শুরু করলাম পরে খাওয়ার জন্য নেওয়া। সবাই সবার পকেট ভর্তি করলাম। এবার অন্য দিকে আসার সময় দেখলাম কিছু পাকা বড়ই নিচে পরে আছে। আমরা এবার বড়ই কুড়ানো শুরু করলাম। শুভো সাথে করে ব্যাগ এনেছিলো সেগুলোতে রাখতেছিলাম। তবে আমি কিছু খাওয়ার জন্য আমার পকেটেও পুরেছিলাম। শুভো গাছেও উঠতে চেয়েছিলো। পরে আমরা না করি দেখে আর উঠেনি। এরপর আর কি আমরা পকেট ভর্তি করে আড্ডা যেখানে দিবো সেখানে রওনা দিলাম। বড়ই চুরির ঘটনা তো পরের হিসেব। আগে আড্ডা তারপর বাকি সব। খুবই সুন্দর একটি যায়গায় যেয়ে বসলাম। আমরা কিছু ছবি নিলাম সেখানে। বাতাস থাকাতে বেশ ভালো লাগছিলো। আড্ডা মারতে মারতে কখন যে সন্ধ্যা হয়ে যায় বুঝিও না। যেহেতু ঘটনা রোজার ও অনেক আগে তো তখন অনেক দ্রুতোই আলো কমে যেতো। তো আলো কম দেখে আমি চলে যেতে চাইলাম। যেহেতু নির্জন একটা যায়গা আর আমাদের নিজেদের এলাকাও না।
যেই আমরা বাইক স্টার্ট দিতে নিবো তখনই দেখলাম একটা বাইকে ৩ জন লোক আসলো। এসে বললো বাইক থেকে নামতে। আমি একটু ভয় পেয়ে গেছি যে ছিন্তাইকারী কিনা। পরে শুনি ওনারা পুলিশ। আমাদের চেক করবে। যেহতু নির্জন এড়িয়া ছিলো। তাই তারা খোজ করতে এসেছে। তবে শুরুতেই আমরা তাদের পরিচয় পত্র দেখতে চাইলাম। তারা দেখালো। এরপর তাদের হাত দেখে শিওর হয়ে নিলাম কিছু নাই। এবার আমাদের চেক করা শুরু করলো। তবে আমরা পরিচয় দেওয়ার পর আর আমাদের চেক করলোনা তেমন ভালো ভাবে। এবার পুলিশ আমাদের সেই ব্যাগ থেকে বড়ই নিলো কিছু খাওয়ার জন্য। হাহা এটা দেখে তো আমি হাসতে হাসতে শেষ। অনেক গুলো বড়ই নিলো তারা। শুভ বলে ছিলো এগুলো রাস্তার পাশের গাছ থেকে নেওয়া। তবুও নিলো খাওয়ার জন্য। যাক আমাদের অপরাধের ভাগ পুলিশ রাও নিলো। 😂😂😂
তো আজ এই পর্যন্তই। আশা করি ভালো লেগেছে। কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেননা। ভালো থাকবেন সবাই। আবার দেখা হবে নতুন এক পোস্ট এ।
░▒▓█►─═ ধন্যবাদ ═─◄█▓▒░
আমি রাজু আহমেদ। আমি একজন ডিপ্লোমা ইন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। বি.এস.সি ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছি সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটি থেকে। আমি বাঙ্গালী তাই বাংলা ভাষায় লিখতে ও পড়তে পছন্দ করি। ফোন দিয়ে ছোটখাট ছবি তোলাই আমার সখ। এছাড়াও ঘুরতে অনেক ভালো লাগে।

VOTE @bangla.witness as witness

OR
পুলিশ ও তাহলে চুরি করা বড়ই খায় হা হা হা। আবার বড়ই খাওয়া শেষে বাসায় নিয়ে যাওয়ার জন্য পকেট ভরেছেন 😁 গল্পটা পড়ে অনেক মজা পেলাম ভাই শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।
হ্যা ভাই বলতে গেলে চুরির মাল পুলিশ সহ খেয়েছি 🤣🤣🤣।
এটা তো চোরের উপর বাটপারি হয়ে গেলো ভাইয়া।আপনারা বন্ধুরা মিলে বড়াই পেরেছেন আর পুলিশ আপনাদের কে চেক করে খাওয়ার জন্য কিছু বড়াই নিলেন সত্যি হাস্যকর।আসলে বড়াই দেখে পুলিশ লোভ সামলাতে পারেনি🙂।ভালো লাগলো সম্পূর্ণ পোস্ট টি পড়ে।ধন্যবাদ আপনাকে বড়াই চুরি করার সুন্দর পোস্ট টি ভাগ করে নেয়ার জন্য।
পুলিশ আসলেই লোভ সামলাতে পারেনি৷
আমি শুনেছিলাম যারা বাইক চালায় কিংবা যাদের বাইক আছে তারা নাকি এমন একটু চোর টাইপের হয়, কারো গাছে ফল দেখলে সেটা পেরে নিয়ে চম্পট দেয়, সেটার প্রমান পেলাম আজ, হি হি হি।
ঘটনা সত্য। তবে আমি কিন্তু চুরি করিনি। আমি কুরাইছিলাম। তবে হ্যা সামনে কাঁঠাল চুরির প্ল্যান আছে। যদি আনতে পারি আপনাদের সাথে নিয়ে খাবো হিহিহি 😂😂।