Better Life with Steem||The Diary Game|| 16th August 2025
![]() |
---|
Hello Steemians,
যদিও সকাল নয়টার দিকে ঘুম থেকে উঠেছিলাম তবে এটা আমার কাছে অনেক বেশি সকাল। কারন আমি সাধারণত সকল দশটার পরে ঘুম থেকে উঠি। মূলত, বাজারে যাওয়ার প্রয়োজন ছিল কারণ আজ মহা জন্মাষ্টমী। অন্যান্য বছরের মতো আমাদের পাড়ার মন্দিরে জন্মাষ্টমী উদযাপন করা হচ্ছে না। যে কারণে একটু বিষন্নতা অনুভব হচ্ছিল।
জন্মাষ্টমীর এই দিনটা আমরা পাড়ার সকলে মিলেমিশে উদযাপন করি। অন্যান্যবছরের মতো এই বছর সেদিনটা আর উপভোগ করার সুযোগ হচ্ছে না এটা ভাবতেই খারাপ লাগছে। আমার এক দিদা রয়েছেন যিনি নেতৃত্ব দিয়ে জন্মাষ্টমী পালন করেন সকলের সাথে। অথচ এই বছর তিনি প্রচন্ড অসুস্থ যেটা আরো দুঃখজনক যে আমি মাত্র দুই দিন আগে সেইটা জানতে পেরেছি।
যাইহোক সকাল সকাল তেমন কোনো কাজও ছিল না। তাই ব্রাশ হাতে নিয়ে রাস্তার দিকে পা বাড়িয়েছিলাম। হঠাৎ মা ডেকে ওষুধও খাওয়ার কথা বলায় আমি ফিরে এসেছিলাম। সকালের সকল কাজ শেষ করে খাবার খেয়েছিলাম। জন্মাষ্টমীর জন্য আজ বাড়িতে নিরামিষ রান্না করা হয়েছিল যে কারণে খাবার দেখে আমার খিদে পালিয়ে গিয়েছিল।
![]() |
---|
রাস্তায় বেরিয়ে দেখলাম আমাদের বাড়ির সামনের একটা পুকুরে নির্দিষ্ট একটা জায়গায় কিছু কাঠ জড়ো করে রাখা হয়েছে। প্রতিবছর এই পুকুর থেকে ৫/৭ কেজি ওজনের ভেটকি মাছ ধরা হয়। এই কাঠগুলো শুধুমাত্র ভেটকি মাছের স্বার্থেই দেয়া হয়েছে। যদিও এক মুহূর্ত অনেক ভালো লেগেছিল কারণ আজ জন্মাষ্টমী কোনো কিছু চুরি করাতে কোনো সমস্যাই নেই। তবে পরক্ষণেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করলাম।
![]() |
---|
সকালে খাওয়ার পরে রাস্তায় বেড়ানোর উদ্দেশ্য ছিল জ্যাঠাবাবুর বাড়িতে যাওয়া। ঐ যে বড় মায়ের কথা প্রায় আমি লেখাতে বলি যিনি ক্যান্সারে আক্রান্ত। বড়মা সম্প্রতি আবার ভারত থেকে বাংলাদেশে এসেছেন যে কারণে এই মুহূর্তে জন্মাষ্টমীর ছোটখাটো আয়োজন করা হয়েছে বাড়ির মন্দিরেই।
অন্যান্যবছর জন্মাষ্টমীর সময় মন্দিরে হোক বা কোনো বাড়িতে আমরা সকলে আমরা দল বেঁধে আয়োজনে ও অংশগ্রহণ করি। কিন্তু এবার যেন ঘর থেকেই কেউ বের হচ্ছিল না, কেন জানিনা পাড়ার লোকজন মানসিকভাবে ভালো নেই।
ইচ্ছা শক্তিটা সবচাইতে বেশি দরকার, আমার মনে হয় অজুহাতটা ক্রমশ বৃদ্ধি পেয়েই চলেছে। আমাদের পাড়ায় পরিবারের সংখ্যা খুব বেশি তা নয় কিন্তু এমনও পরিবার রয়েছে যারা প্রতিবছর কয়েক লক্ষ টাকা ধর্মীয় কাজে ব্যয় করতে পারে। বিগত কয়েক বছর ধরে দেখে আসছি সেখানে তাঁদের কোনো অংশগ্রহণই নেই।
![]() |
---|
![]() |
---|
![]() |
---|
সেখানে আমার তেমন বিশেষ কোনো কাজ ছিল না, তবে অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্যে করা বাজারের তালিকাটি সাথে মিলিয়ে দেখলাম। শুধুমাত্র পঞ্চমিষ্টিতে একটু সমস্যা হয়েছিল। প্রায় দুপুর একটার দিকে বড়মার বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলাম।
জ্যাঠাবাবু এবং আমার ছোট ঠাকুরদা তখন ঐ বাড়িতে উপস্থিত ছিল। আমরা সমসাময়িক কিছু বিষয় এবং আগামীকালকের মনসা পূজা নিয়ে কথা বলছিলাম। এ বছর আমাদের এলাকায় কয়েকটি গাভীর মৃত্যু হয়েছে সাপের কামড়ে, অন্যদিকে আমাদের পাড়ার এক ভাইয়ের ছেলে প্রায় এক মাসের মত মৃত্যুর সাথে লড়াই করেছিল।
এ প্রসঙ্গেই মূলত কথাটা শুরু হয়েছিল, কারণ বিগত বছর মনসা পূজার সময় বৃষ্টি বা মেঘের কোনো আওয়াজ শোনা যায়নি। সেই ছোটবেলা থেকে শুনে আসছি যে মনসা পূজোর সময় যদি মেঘ ডাকে তাহলে সাপের ডিম নষ্ট হয়ে যায়। জানিনা এসবের কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা আছে কিনা এবং এটার কোনো সত্যতা আছে কিনা। পাশাপাশি এটা আমি বিশ্বাস করি যেহেতু অনেক পূর্ব থেকে এই কথাটা প্রচলিত তাহলে এটার মধ্যে কোনো না কোনো সত্যতা বা কারণ রয়েছে।
![]() |
---|
বাড়িতে ফিরতে ফিরতে প্রায় দুপুর ২ টা বেজেছিল, আর বারান্দায় উঠতেই দেখলাম বড় একটি বেলে মাছ। এই বড় সাইজের বেলে মাছ অনেকদিন দেখার সৌভাগ্য হয়নি। এটা ছবিতে ওইভাবে বোঝা যাচ্ছে না যে কতটা বড়? তবে বাবা বললো এটা বিক্রি করলে ৫০০ টাকার মত মূল্য পাওয়া যেত।
আমি দ্রুত স্নান সেরে বাজারে গিয়েছিলাম। মূলত জন্মাষ্টমী উপলক্ষে কিছু ফল ও মিষ্টি কেনার দরকার ছিল। আকাশে মাঝেমধ্যেই মেঘ ভেসে আসছিল তাই দুপুরের খাবার না খেয়েই আমি বাজারে গিয়েছিলাম। বাজারের কাজ সেরে আমি বাড়িতে ফিরে এসেই খাবারের কথা বলে আবার স্নানে গেলাম। কারণ ভ্যাপসা গরম ও রাস্তার ধুলোবালিতে ভীষণ বিরক্ত লাগছিল।
![]() |
---|
![]() |
---|
যদিও অনেক খিদে পেয়েছিল কিন্তু নিরামিষের কথা মনে পড়তেই খিদে পালিয়ে যাচ্ছিল। তাই মা সুযোগে টক দই, শসা, কাজুবাদাম, কাঠবাদাম, বেদানাসহ আরো কয়েকটি ফল দিয়ে একটা সালাদের মত কিছু করে দিয়েছিল। এমনিতেই পেটে অনেক খিদে ছিল তাই খেতে অনেক সুস্বাদু লাগছিল।
তখন প্রায় সন্ধ্যা হয়ে আসছিল তারপর আমি সুযোগ বুঝে আবার ও বড়মার বাড়িতে গিয়েছিলাম। সেখানে বেশিক্ষণ অতিবাহিত করার সুযোগ হয়নি কারণ সারাদিন কোনো কাজ করা হয়নি। প্রায় রাত আটটার দিকে বাড়িতে ফিরে এসেছিলাম।
এভাবেই আজকের দিনটা অতিবাহিত করেছি। আমার আজকের লেখাটি এখানেই সমাপ্ত করছি। সকলে ভালো থাকুন, সুস্থ্য থাকুন।