মালটার রস দিয়ে জাম্বুরা ভর্তা রেসিপি।।
পরম করুনাময় অসীম দয়ালু, মহান সৃষ্টিকর্তার নামে শুরু করছি-
হ্যালো আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটির সদস্য বন্ধুরা। আপনারা সবাই কেমন আছেন। আশা করি আপনারা সবাই আল্লাহর রহমতে অনেক ভালো আছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় অনেক ভালো আছি,আলহামদুলিল্লাহ। আজকে আমি আপনাদের সাথে নতুন একটি ব্লগ নিয়ে হাজির হয়েছি। আজকে আমি অনেক দিন পর জাম্বুরা ভর্তা করে খেয়েছি। জাম্বুরা টক জাতীয় ভিটামিন যুক্ত একটি ফল। বিশেষ করে গ্রামের বাড়িতে এই গাছ গুলো বেশি দেখা যায়। গ্রামের দিকে জাম্বাুরার দামও কম। এখন জাম্বুরা ভর্তা খাওয়ার অনুভূতি আপনাদের মাঝে শেয়ার করবো। আর সাথে জাম্বুরা ভর্তা বানানোর রেসিপি ও শেয়ার করব।
আমার হাজব্যান্ড জাম্বুরা খেতে খুবই পছন্দ করেন। তাই তিনি প্রায়ই জাম্বুরা নিয়ে আসেন। আবার তিনি ঝাল পছন্দ করেন না। আমি আবার জাল খেতে পছন্দ করি। তিনি আবার সব রকমের ভর্তা পছন্দ করেন না। তাই আমি সব রকমের ভর্তা তৈরিও করি না। যেহেতু তিনি জাম্বুরা ভর্তা পছন্দ করেন আমিও খাই সেহেতু তিনির জন্য একটু মজা করে ভর্তাটা তৈরি করলাম। আজ জাম্বুরা ভর্তা তৈরি করার সময় ভাবলাম যেহেতু ঘরে মালটা আছে,তাই মালটার রস দিয়ে জাম্বুরা ভর্তাটা তৈরী করি। যেই চিন্তা সেই কাজ হল। মালটা দিয়ে জাম্বুরা ভর্তা বানালাম। ভর্তাটা এতটাই মজা হয়েছিল যে, আমার হাজব্যান্ড পুরাটাই খেয়ে ফেলেছে। আমি মাত্র দু চামচ খেয়েছি। যাইহোক যেহেতু এটা ওনার পছন্দের একটি ভর্তা সেহেতো উনি একটু বেশিই খাবেন। তবে ভর্তাটা এত মজা হবে ভাবিনি। আর জাম্বুরাটা তেমন লাল ছিল না। যদি আর কিছুদিন পরে গাছ থেকে পারতো তাহলে ভিতরের কোয়া গুলো লাল হতো। যাইহোক মানুষ টাকার জন্য অপুক্ত ফল গাছ থেকে পেড়ে বিক্রি করে দেয়। আর আমরা ক্রেতারা তার ভুক্তভোগী হয়। চলুন তাহলে ভর্তা বানানোর সেই মজাদার রেসিপিটি আপনাদের মাঝে তুলে ধরি।
জাম্বুরা | একটি |
---|---|
মালটা | অর্ধেকটা |
শুকনো মরিচ | তিনটি |
চিনি | পাঁচ চামচ। |
লবন | পরিমান মত |
বিট লবন | পরিমান মত |
ভর্তা বানানোর প্রক্রিয়া
আমি সবগুলো উপকরণ আগে সুন্দর করে একটি প্লেটের রেখে তারপর ফটোগ্রাফি করেছি। যেহেতু ঘরে ছোট মেয়ে আছে বেশি ফটোগ্রাফি করার সময় পায়নি। আগে জাম্বুরাটা ভালো করে খোসা ছাড়িয়ে নিয়ে তারপর জাম্বুরার ভেতরের অংশটা একটি প্লেটে রেখে দিয়েছি। আর প্রয়োজনীয় উপকরণগুলো আরেকটি ট্রেতে রেখে দিয়েছি। প্রথমে তিনটি শুকনো মরিচ একটি কড়াইতে দিয়ে হালকা টেলে নিয়েছি। হালকা হালকা পুড়ে গেলে আমি মরিচগুলো নামিয়ে নিয়েছি।
এখন টেলে রাখা শুকনো মরিচ গুলো ও প্রয়োজনীয় উপকরণগুলো জাম্বুরা ভর্তা বানানোর প্লেটে রেখে দিলাম। এগুলো খুবই সতর্কতার সাথে করেছি। কারন তখন বাবু ঘুমিয়ে ছিল। জেগে থাকলে সব উলটপালট করে ফেলতো।
তারপর মাল্টার রস উপর দিয়ে চেপে দিয়ে দিলাম। তারপর সবগুলো উপকরণ হাত দিয়ে সুন্দর করে মাখিয়ে নিলাম। এভাবেই তৈরি হয়ে গেল আমার মজাদার মালটা দিয়ে জাম্বুরা ভর্তা। ভর্তাটা অনেক অনেক মজা হয়েছিল। আপনারাও ট্রাই করে দেখতে পারেন।
🤤পরিবেশন😋
জাম্বুরা খাওয়া নিয়ে আমাদের ছোট সময় অনেক স্মৃতি রয়েছে। যদিও এখন আমাদের গ্রাম আর আগের মত নেই। শহরে পরিনত হয়েছে। যার ফলে সবার বাড়িতেই বাউন্ডারী দেওয়া। তাই আগের মত কার বাড়িতে কি ফলের গাছ আছে দেখা যায় না। কারো বাড়িতে যে কোন ফল দেখলেই আমরা কিনে এনে খেতাম। সে নিয়ে বান্দবীদের সাথে অনেক স্মৃতি রয়েছে। সেই স্মৃতি অন্য একদিন শেয়ার করবো। আজকে বিদায় নিতে হবে।
বন্ধুরা আজ এ পর্যন্তই। কেমন হলো আমার এই ভর্তা রেসিপি অবশ্যই কমেন্টসের মাধ্যমে জানাবেন। সবার জন্য শুভকামনা ও দোয়া রইল। এ প্রত্যাশা রেখে এখান থেকে বিদায় নিয়েছি। আল্লাহ হাফেজ।
সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ,আল্লাহ হাফেজ।।
ফটোগ্রাফির বিবরণ:
ডিভাইস | মোবাইল |
---|---|
মডেল | রেডমি নোট-৮ |
শিরোনাম | মালটার রস দিয়ে জাম্বুরা ভর্তা রেসিপি ।। |
স্থান | নিজবাসা, নারায়নগঞ্জ,ঢাকা,বাংলাদেশ। |
তারিখ | ২৩-০৮-২০২৪ |
কমিউনিটি | আমার বাংলা ব্লগ |
ফটোগ্রাফার | @titash |
আমার পরিচিতি
আমি মোছাঃ মুসলিমা আক্তার নীলা। স্টিমিট প্লাটফর্মে আমি @titash নামে পরিচিত। আমার জন্মস্থান চট্রাগ্রাম বিভাগের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ভাদুঘর গ্রামে। আমি বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি মহিলা কলেজে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে বাংলা বিভাগ নিয়ে পড়াশোনা করতেছি। আমি বিবাহিত,আমার একটি কন্যা সন্তান আছে। আমি আমার হাসবেন্ডের সাথে ঢাকা বিভাগের অন্তর্গত নারায়নগঞ্জ জেলায় বসবাস করছি। আমি আমার হাসবেন্ডের মাধ্যমে স্টিমিট প্লাটফর্ম সম্পর্কে জানতে পারি। প্লাটফর্মটার বিষয়ে জেনে আমি এখানে কাজ করার আগ্রাহ প্রকাশ করি। তারপর ২০২৩ সালের ফ্রেব্রুয়ারী মাসে আমার বাংলা ব্লগের মাধ্যমে স্টিমিট প্লাটফর্মে যুক্ত হয়। আমি ভ্রমন করতে,মজার মজার রেসিপি করতে,বই পড়তে, নতুন নতুন বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করতে ও সৃজনশীল জিনিষ তৈরী করতে ভালোবাসি। আমি বাঙ্গালী জাতি হিসাবে ও আমার বাংলা ব্লগের সদস্য হতে পেরে নিজেকে নিয়ে গর্ববোধ করি।
Thank you, friend!


I'm @steem.history, who is steem witness.
Thank you for witnessvoting for me.
please click it!
(Go to https://steemit.com/~witnesses and type fbslo at the bottom of the page)
The weight is reduced because of the lack of Voting Power. If you vote for me as a witness, you can get my little vote.
মালটার রস দিয়ে জাম্বুরা মাখার রেসিপি নতুন লাগলো আমার কাছে।জাম্বুরা কে আমরা বাদাম বলে থাকি।এটা ঝাল পেয়াজ আর লবন দিয়ে মাখালে খুবই দারুন লাগে।ধন্যবাদ শেয়ার করার জন্য।
জাম্বুরা ভর্তা একটু ঝাল ঝাল করে খেতে খুবই ভালোই লাগে। আর নতুন জানতে পারলাম যে আপনাদের এখানে এটাকে বাদাম বলে। ধন্যবাদ ভাইয়া।
শুকনো মরিচ এবং লবণ দিয়ে জাম্বুরা মাখা আমার খুবই পছন্দ। তবে মালটার রস দিয়ে এভাবে কখনো মেখে খাওয়া হয়নি। খুব লোভনীয় একটা রেসিপি শেয়ার করেছেন। দেখে মনে হচ্ছে খুবই সুস্বাদু হয়েছে। ধন্যবাদ আপনাকে এত দারুন একটা রেসিপি আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য। খুব সুন্দর ভাবে পরিবেশন করেছেন।
আপু মালটা রস দেওয়ার কারণ হচ্ছে, একটির ঘ্রাণ খুবই ভালো লাগে, তাছাড়া জাম্বুরা ভর্তা তে মালটার রস মিশালে বোঝা যায় না যে জাম্বুরা ভর্তা খাচ্ছি। ধন্যবাদ আপু।
এত মজা করে তৈরি করেছেন কিন্তু আপনার ভাগ্যে মাত্র দুই চামচ জুটলো আপনার হাসবেন্ডই সব খেয়ে ফেলেছে । খাবে না কেন অনেক মজা করে তৈরি করেছেন দেখছি । মাল্টার রস দিয়ে এভাবে কখনো জাম্বুরা মাখানো হয়নি । আমারই তো দেখে খেতে ইচ্ছা করছে ।
আপু আমার ভাগ্যে মাত্র দু চামুচি জোটে ছিল হাহাহা।একটু বেশি মজা হয়েছিল তাই। আপু আপনিও তৈরি করে খেতে পারেন। ধন্যবাদ আপু ।
যার যেই খাবার পছন্দের থাকে আর সেই খাবার তৈরি করলে একটু মজা হলেই সে সম্পূর্ণ খেতে চায়। আপনার হাজবেন্ড ও তাই করেছে। এঁকে তো পছন্দের খাবার তারমধ্যে আবার এত সুস্বাদু হয়েছে। যাই হোক আমি আবার জাম্বুরা খেতে পারি না। তাই খুব বেশি খাওয়াও হয় না। মাল্টার রস দেওয়াতে আলাদা ফ্লেভার এসেছে যার জন্য আপনারা এত মজা পেয়েছেন। ধন্যবাদ আপু লোভনীয় রেসিপি শেয়ার করার জন্য।