আমাদের সরস্বতী পূজো ২০২৫ খ্রিঃ।
হ্যালো..!!
আমার প্রিয় বন্ধুরা,
আমি @purnima14 বাংলাদেশী,
আজ- ০৩ এপ্রিল,বৃহস্পতিবার, ২০২৫ খ্রিঃ।
কভার ফটো
কয়েকটি ছবি একত্রিত করে সুন্দর একটি কভার ফটো তৈরি করে নিয়েছি।
আমি আশা করি, আপনারা সবাই সুস্থ এবং সুন্দর আছেন। আমি নিজেও ভালো আছি। আমি সবসময় চেষ্টা করি নিজেকে হাসি খুশি রাখার। আমি "আমার বাংলা ব্লগের" মাধ্যমে আপনাদের সামনে আমার ক্রিয়েটিভিটি তুলে ধরবো।আমি বিভিন্ন ধরনের পোস্ট আপনাদের সাথে শেয়ার করে থাকি। আজকেও হাজির হয়েছে নতুন একটি পোস্ট নিয়ে। প্রতিদিন নিত্যনতুন বিষয় দিয়ে পোস্ট সাজিয়ে আপনাদের সাথে শেয়ার করতে বেশ ভালো লাগে। আজ আমি আপনাদের সাথে এবছরের সরস্বতী পুজো কিভাবে কাটলো সেটাই শেয়ার করব।
ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে শ্রী শ্রী সরস্বতী পূজা হয়েছিল। অনেকদিন ধরে ভাবছিলাম পোস্টটা আপনাদের সাথে শেয়ার করব। কিন্তু কিছুতেই শেয়ার করা হচ্ছিলো না। আজ হঠাৎ মনে হলো আপনাদের সাথে বিষয়টা শেয়ার করি। তাই শেয়ার করা।
সরস্বতী পূজা হলো বাঙালির আবেগ। সরস্বতী পুজোকে ঘিরে সবারই নতুন নতুন ভাবনা চিন্তা থাকে। বিশেষ করে স্টুডেন্টরা সরস্বতী পূজা নিয়ে বেশি মাতামাতি করে। আমরাও সেরকমই করি। প্রত্যেক বছর সরস্বতী পুজোর জন্য অপেক্ষা করি। আমাদের কাছে সরস্বতী পুজো মানে ভরপুর খাওয়া দাওয়া আর আড্ডার আসর। যদিও এ বছর সেসব কিছুই হয়নি। আমরা সকলেই জানি সরস্বতী হলো বিদ্যার দেবী। তাই আমরা স্টুডেন্টরা সরস্বতী প্রজনয়ে আলাদাই আশা নিয়ে থাকি।
যাইহোক এবার শেয়ার করা যাক এবছরের সরস্বতী পুজো কেমন কাটালাম।
কলেজে ওঠার পর থেকে প্রতিটি দিন কাটে ব্যস্ততায়। সরস্বতী পুজোর জন্য কলেজ একদিন ছুটি দেওয়া হয়েছিল। একদিনে বাড়ি এসে আবার যাওয়া সম্ভব নয়। যদিও আমি সরস্বতী পুজোতে বাড়ি আসি না কখনোই। এর আগের বার তো কলেজেই পুজো কাটিয়েছিলাম। বেশ মজাই হয়েছিল বটে। কিন্তু এবারে গিয়েছিলাম পিসিমনির বাসায়।
এবার তিন তারিখ এবং চার তারিখ দুই দিন ই সরস্বতী পূজার তিথি ছিল। আমাদের কলেজে পুজো হয়েছিল ৪ তারিখে। চার তারিখ পুজো উপলক্ষে আমাদের কলেজ ছুটি দেওয়া হয়েছিল। শুধু আমাদের না পুরো বাংলাদেশ ৪ তারিখ ছোট ছিল। কিন্তু আমাদের বাসার পূজো হয়েছিল ৩ তারিখে। প্রতিদিনের মতো ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে নিলাম। আমার কোচিং এর সময় ছিল সকাল সাড়ে দশটায়। ভেবে রেখেছিলাম কোচিং শেষ করে একবারে পিসিমণি বাসায় পৌঁছাতে যাব। আগে দেন পিসিমণি,কাকু এবং জেঠু আমাকে বলে রেখেছিল সকাল সকাল যেন চলে যায়। কিন্তু প্রাইভেট টা মিস হয়ে গেলে আমার পড়ার ক্ষতি হয়ে যেত। সেজন্য আমি ঠিক করি প্রাইভেট শেষ করে তারপর যাবো। যেমন ভাবনা তেমন কাজ প্রাইভেট শেষ করে ঝটপট রুমে চলে আসি।
রুমে এসে ঝটপট স্নান করে রেডি হয়ে নি।তবে একটু মন খারাপ হয়ে গিয়েছিল। প্রতিবছর সরস্বতী পূজায় আমি শাড়ি পড়ি। সারা বছর শাড়ি পরা হোক বা না হোক সরস্বতী পূজাতে শাড়ি পড়তে হবে। কিন্তু এবারে আর শাড়ি পড়তে পারিনি। নিজে নিজে শাড়ি পরতে পারিনা আর যেতে অনেকটা দেরি হয়ে গিয়েছিল সে যেন কে পরিয়ে দেবে এটা ভেবে করা হয়নি। একটা থ্রি পিস পড়েই গিয়েছিলাম এবার। একটা রিক্সা করে পিসি মনির বাসায় পৌঁছে যায়। পুজো হওয়ার কথা ছিল দুপুর ২ টার সময়। আমি যখন যাই তখন দুপুর ২ টা বেজে গিয়েছিল। কিন্তু পৌঁছে দেখি ঠাকুর মশাই এখনো আসেনি। ঠাকুরও আনা হয়নি। আমি যাবার কিছুক্ষণ পরেই ঠাকুর আনা হলো।প্রত্যেকবার তো সবার সাথে হাতে হাতে আমিও কাজ করি। কিন্তু এবার কোন কাজ করাই হয়নি। গিয়ে দেখি আমার বোনেরা এবং কাকিরা মিলে খুব সুন্দর করে জায়গাটি সাজিয়ে তুলেছে। অনেক কিছু আয়োজনও করেছেন। ছোট বোন খুব সুন্দর করে আলপনা দিয়েছে। সবকিছু দেখে ভালো লাগছিল তবে একটু মন খারাপ লাগছিল। এটা ভেবে যে, নিজে কিছুই করতে পারলাম না।
বাড়ির অন্য কাজ করা হয়ে ওঠেনা আসলে করতে ইচ্ছে করে না। কিন্তু পূজার কাজ করতে অনেক বেশি ভালো লাগে। তাই একটু মন খারাপ হচ্ছিলো।তারপরে বসে বসে সবাই মিলে গল্প করছিলাম। তারপর হাতে হাতে যতটুকু পারছিলাম একটু কাজও করছিলাম। এরকম দেখতে দেখতে কিছুক্ষণের মধ্যে ঠাকুর মশাই চলে আসলেন। ঠাকুর মশাই আমাদের পরিচিত। আমরা সবাই আঙ্কেল বলে ডাকি থাকি। আঙ্কেল আমাদের সবাইকে খুব স্নেহ করেন। আমাকে দেখেই আংকেল বলল, কেয়া এসেছো? অনেকদিন পরে দেখলাম তোমাকে। আমি আঙ্কেলের সাথে একটু কথা বললাম। তারপর আঙ্কেল আমাকে বলেন আমার পাশে বসে সব এগিয়ে দাও। তারপর আমি আঙ্কেলের কথামতো সবকিছু গুছিয়ে দিলাম। তখন একটু ভালই লাগছিল।
তারপর আঙ্কেল পূজাতে বসলেন। আস্তে আস্তে সবাই রেডি হয়ে পুজোর জায়গায় উপস্থিত হলেন। আমরা সবাই একসাথে থাকি সে জন্য সবকিছুই বেশ মজা করে পালন করা হয়। বিভিন্ন নিয়ম নীতি অনুসরণ করে ঠাকুরমশাই পূজা করতে লাগলেন। আমরা সবাই সেখানে বসে সেগুলো দেখছিলাম এবং মাতা সরস্বতী আরাধনা করছিলাম। এবার অনেককে নিমন্তন্ন করা হয়েছিলো।প্রত্যেকের অফিসের কলিগেরা এসেছিল। অনেক মানুষ হয়েছিল এবার। সবার সাথে কথা বলতে খুব ভালো লাগছিল। প্রত্যেকে অনেক মিশুক ছিল। কিছুক্ষণ পর এলো অধিক অপেক্ষা কৃত অঞ্জলি। অঞ্জলি দেওয়ার সময় আমরা যেন উদগ্রীব হয়ে গেছিলাম। আমার ছোট ভাই তো ঘুমিয়ে পড়েছিল। তারপর তাকে উঠিয়ে কোন মতো অঞ্জলি দেওয়ানো হয়েছে। তারপর সবাই মিলে অঞ্জলি দেওয়া শেষ করি।
তারপর আঙ্কেল অর্থাৎ ঠাকুর মশাই পূজার বাকি কর্মসূচি গুলো আস্তে আস্তে সেরে নিতে থাকেন। আমরা সবাই সেখানে বসে মায়ের আরাধনায় ব্যস্ত। অনেকদিন পর সবাই একসাথে হয়ে বেশ ভালো লাগছিল। তারপর যজ্ঞ করার জন্য কাঠগুলো আমরা বোনেরা মিলে এগিয়ে দিলাম। আমি আর বড়মা মিলে বেল পাতাগুলো সব বেছে দিলাম। এভাবে সবাই মিলে পুজোর সম্পূর্ণ করলাম। পুজো শেষে সবাই মাকে প্রণাম করে সেখান থেকে উঠে গেলাম। কিছুক্ষণের জন্য ঘর বন্ধ রাখা হয়েছিল। তারপর বড় জেঠু এসে সবার জন্য প্রসাদ মাখালেন। তারপর হাতে হাতে সবাই প্রসাদ নিয়ে উপস ভঙ্গ করলাম।
এবার শুরু হলো খাওয়া দাওয়ার পর্ব। প্রত্যেক বছর যে কোন পুজোতে আমাদের অনেক ঝড়ের আইটেম করা হয়ে থাকে। এবারেও খাবারে অনেক কিছু ছিল। আমার কাছে তো পুজোর দিনে খিচুড়ি আর সাথে সবজি বেশি ভালো লাগে। এবারের আয়োজনে অনেক কিছুই ছিলো।পোলাও খিচুড়ি, বাঁধাকপির সবজি, বেগুন ভাজি, চিপস ভাজি, লুচি, সুজি, চাটনি, দই, মিষ্টি, আরো অনেক ধরনের ফল। আইটেম এবার নানার কিছু ছিল। আমি কোন মত একটা খাবারের পিক তুলে নিলাম। কাকু বলল সবাইকে খেতে দাও। কাকুর কথা শুনে আমিও খালা এনে সবার সাথে আস্তে আস্তে অতিথীদের খাবার দিতে থাকলাম। তারপর সবার খাওয়া শেষ হয়ে গেলে আমরা বাচ্চারা খেতে বসে পড়লাম। তারপরে তো বড়রা। সবাই খাওয়া দাওয়া শেষ করলাম। তারপর সবাই মিলে আড্ডা দিলাম। রাত্রে আরও অনেক ধরনের মজা করা হয়েছিল কিন্তু আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম না।আমার ব্যস্ততার কারণে আমি সেদিনই চলে এসেছিলাম।
তবে সবার সাথে পূজার মুহূর্ত উপভোগ করতে বেশ ভালো লেগেছিল।
আজ এই পর্যন্তই।
ছবির বিবরণ
ক্যামেরা: ৫০ মেগাপিক্সেল
তারিখ: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ খ্রিঃ
লোকেশন:কুষ্টিয়া
প্রিয় বন্ধুরা,আমার আজকের ব্লগটি কেমন হয়েছে আপনারা সবাই কমেন্টের মাধ্যমে অবশ্যই মন্তব্য করবেন, সামান্য ভুল ত্রুটি হলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন এবং সুপরামর্শ দিয়ে সবসময় পাশে থাকবেন। আবার দেখা হবে নতুন কোনো পোস্ট নিয়ে শীঘ্রই, ততক্ষণে সবাই সুস্থ ও সুন্দর থাকবেন।
আমি কে !
আমি পূর্ণিমা বিশ্বাস, আমার ইউজার নেম @purnima14। আমি আমার মাতা-পিতা এবং নিজের মাতৃভূমি ও মাতৃভাষাকে ভালবাসি। আমি হৃদয় থেকে ভালবাসি সৃষ্টিকর্তা ও তার সকল সৃষ্টিকে। আমি বর্তমানে কুষ্টিয়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে সিভিল টেকনোলজিতে ডিপ্লোমা ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে লেখাপড়া করছি। আমি ভ্রমণ করতে, কবিতা লিখতে ও আবৃত্তি করতে, গান শুনতে, যেকোনো ধরনের রেসিপি তৈরি করতে ও প্রাকৃতিক দৃশ্যের ফটোগ্রাফি করতে অনেক পছন্দ করি। "আমার বাংলা ব্লগ" কমিউনিটিতে কাজ করতে পেরে আমি গর্বিত।
@purnima14


https://x.com/PurnimaBis34652/status/1908031982451536073?t=TsvVmh6hV0OIB0NrZ_9p0A&s=19
https://x.com/PurnimaBis34652/status/1908033152318366121?t=5Yky28R-5EmVIRkqIh_mww&s=19
https://x.com/PurnimaBis34652/status/1908035035837641124?t=KEEzhZYEvCV2Q69LLOsP1g&s=19
https://x.com/PurnimaBis34652/status/1908037288522879203?t=Sdk-toIgMsdfdDazH7F2pw&s=19
0.00 SBD,
0.00 STEEM,
0.00 SP
কি সুন্দর সরস্বতী পূজা হয়েছে আপনার পিসিমণির বাসায়। সরস্বতী পূজা আমরাও শাড়ি পড়ে থাকি এবছর বইমেলার কারণে কোথাও সরস্বতী পূজা অ্যাটেন্ড করতে পারিনি। তবে আপনাদের কলেজে যে সরস্বতী পূজা হয় তা জেনে খুবই ভালো লাগলো। আমাদের এদিকে ও প্রতিটি কলেজের স্কুলে বাড়িতে সরস্বতী পুজো হয় কারণ আপনি তো লিখেইছেন যে সরস্বতী হলে বিদ্যার দেবী। আমাদের গানের স্কুলগুলোতেও হয়। আপনাদের বিরাট আয়োজন দেখে মনটা ভরে গেল।
এই বছর শাড়ি পড়তে পারেন নি তো কি হয়েছে, পরের বছর অবশ্যই পরবেন।এই একই সমস্যার সম্মুখীন আমিও হই দিদি।যাইহোক বেশ জমজমাটভাবে পূজা করা হয়েছে দেখেই বুঝতে পারছি, খুব সুন্দর হয়েছে মায়ের মূর্তিটি।ধন্যবাদ আপনাকে।