অনলাইনে ক্লাস করার পর,, অনলাইন ক্লাস নিয়ে আমার কিছু অভিঙ্গতা......
আসসালামু আলাইকুম,
সবাই কেমন আছেন? আশা করি আপনারা সকলে খুব ভালো আছেন। হাজির হয়ে গেলাম, আপনাদের সামনে আমার নতুন একটা লেখা নিয়ে। আমরা এখন ডিজিটাল দিকে বেশি মন দিয়ে কাজ করি। সকল কাজই ডিজিটাল পদ্ধতিতে করার চেষ্টটা করি। আগে যে ছাত্রকে কোনো মোবাইল ফোন হাতে নিতে দেওয়া হতো না। আজকে সে ঘন্টার পর ঘন্টা মোবাইল বা ল্যাপটোপের সামনে বসে অনলাইন ক্লাস করছেন। আমি নিজে একজন ডিপ্লোমার স্টুডেন্ট। এই করোনা মহামারির সময়ে অন্য সকল জেনারেল ছাত্রদের অটোপাশ বা অ্যাসাইনমেন্ট এর মাধ্যমে মূল্যায়ন করলেও আমাদের জন্য ভিন্ন বিষয়। আমাদেরকে কিছুদিন আগেই স্বাস্থ্য বিধি মেনে নেওয়া হলো পর্ব সমাপনী পরিক্ষা। এখন আবার শুরু হয়েছে নতুন পর্বের অনলাইন ক্লাস। আজকে আমি আপনাদের সাথে অনলাইনে ক্লাস করার বিষয়ে আমার যে অভিঙ্গতা হয়েছে সেটা আপনাদের সাথে শেয়ার করার চেষ্টটা করব। আশা করি আমি আপনাদেরকে বিষয়টা বোঝাতে পারব। চলুন শুরু করি--
প্রথমে আমাদের যে বিষয়টা জানতে হবে সেটা হলো, অনলাই ক্লাসটা মূলত কি। আমার মতে অনলাই ক্লাস হলো, নিজ নিজ বাসায় থেকে কোনো একটা ইলেকট্রনিক ডিভাইসের সাহায্যে ডিজিটাল পদ্ধতিতে সবার সাথে কথা বলা মত বিনিময় করা, এবং তাদের কর্মকান্ডগুলো পর্যবেক্ষণ করা। এখন যেহেতু এটা ছাত্রদের বিষয়, তাই এখানে বেশির ভাগ কথাগুলোই পড়াশুনার বিষয়ে হয়ে থাকে। এখানে একজন শিক্ষক তার ডিভাইসের মাধ্যেমে ক্লাসটা শুরু করেন এবং সকল ছাত্রদের কাছে তার ক্লাসের লিংকটা দিয়ে দেন। যেটা দিয়ে সকল ছাত্ররা বাসায় বসে সরাসরি ক্লাসে যোগদান করতে পারেন।
তবে এই ক্লাস করার জন্য প্রযোজন একটা ভালো কোয়ালিটির মোবাইল বা ল্যাপটোপ এবং ভালো মানের নেট কানেকশন। কারণ ভালো নেট বা ডিভাইস না হলে সঠিক ভাবে ক্লাস করা যাবে না। এখানে একজন শিক্ষক বিভিন্ন পরিস্থিতির কারণে অনলাইনে ক্লাস নিতে বাধ্য হন।যার ফলে সকল শিক্ষার্থীকে এই অনলাইন ক্লাসে যোগদান করতে হয়। বেশির ভাগ অনলাইন ক্লাসগুলো জুম অ্যাপের মাধ্যমে হয়ে থাকে। তবে এর বিকল্প পদ্ধতিতেও অনেক ক্লাস নেওয়া হয়।
ছবি এখান থেকে নেওয়া হয়েছে।
আমি ডিপ্লোমা ইন-ইন্জিনিয়ারিং এর তৃতীয় পর্বের ছাত্র বর্তমানে। করোনা মহামারির কারণে আমাদের একটা সেমিস্টার লস্ হয়েছে।গতকাল থেকে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশ মতে, সকল সরকারি এবং বেসরকারি পলিটেকনিক, তাদের ছাত্রদের অনলাইনে ক্লাস নেওয়া শুরু করেছেন। আমাদের কলেজ থেকেও কাল থেকে অনলাইনে ক্লাস শুরু হয়েছেন। তবে আমি করোনা মহামারির শুরু দিকেও কিছু দিন অনলাইনে ক্লাস করেছিলাম। তাই অনলাইনে ক্লাস করার বিষয়ে কিছুটা হলেও আমার অভিঙ্গতা আছে।আমাদের কলেজ থেকে আমাদেরকে একটা অনলাইন ক্লাস রুটিন দেওয়া হয়েছে। যেখানে দিনে কখন কখন কোন ক্লাস হবে তার সকল কিছু দেওয়া আছে এবং কোন স্যার অনলাইনে ক্লাস নিবে তার নাম, জুম আইডি এবং পাসওয়ার্ড সহ মোবাইল নাম্বার দেওয়া আছে। যাতে আমরা তার সাথে কথা বলে আমাদের ক্লাস শুরুর করতে পারি। আমি আজকে দিয়ে দুইদিন নতুন পর্বের ক্লাস করলাম।আমাদের একটা দিনে তিনটা করে ক্লাস নেয়া হয়। প্রতিটা ক্লাস এক ঘন্টা করে। তবে প্রতিটা ক্লাস শেষ হওয়ার পর আলাদা আলাদা স্যারের আইডি এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে ক্লাসে যোগদান করা লাগে। কারণ সকল স্যারের জুম আইডি এক নয়।
আমার অনলাইনে ক্লাস করার কিছু চিত্র
আমার যেহেতু ল্যাপটোপ নাই, তাই আমি আমার ফোন দিয়েই ক্লাস করার চেষ্টটা করি। আর আমি মোবাইল ডেটা ব্যবহার করে ক্লাসে অংশগ্রহণ করি। যদিও প্রতিদিন এর জন্য আমাকে অনেক টাকায়ই গুনতে হয় এমবি কিনতে। তবুও মহামারির কারণে কলেজ বন্ধ থাকায় আমাদেরকে এভাবে ক্লাস করতে হচ্ছে।
অনলাইনে ক্লাস করার সুবিধা-অসুবিধা-
অনলাইনে ক্লাস করার তেমন বেশি কোনো সুবিধা নেয়। কারণ অফলাইনে যত কিছু শেখা যায় অনলাইনে সেটা হয় না। আর অনলাইনে বিভিন্ন ধরনের অসুবিধার সৃষ্টি হয়। কিন্তু যখন আমাদের বাইরে যাওয়ার কোনো পরিস্থিতি থাকে না তখন কার বিষয় বিবেচনায় এটা ভালো দিন রয়েছে। অনলাইন ক্লাসের অসুবিধাগুলো হলো-
১. একটা ভালো ফোন বা ল্যাপটোপ প্রয়োজন, যা অনেকেরই থাকে না।
২. ক্লাস করার জন্য প্রতিদিন প্রয়োজন মোবাইলে ডেটা বা নেট কেনা বা বাসায় ওয়াইফাই বসানো। কিন্তু সবার পক্ষে এটা সম্ভব না।
৩. অনেকের বাসায় নেট প্রব্লেম এর কারণে ক্লাস করতে অনেক অসুবিধা হয়। যার কারণে ক্লাসের পড়াগুলো সঠিক ভাবে করতে পারে না বা বুঝতে।পারে না।
৪. অনলাইনে ক্লাস করার সময় শিক্ষকরা ছাত্রদের সঠিক ভাবে চিনতে বা পড়া ধরতে পারেন না। যাতে করে ছাত্র পড়ার প্রতি আগ্রহ কমে যায়।
৫. ক্লাস করার সময় যখন সবাই এক সাথে তাদের মাইক্রোফোনটা অন করে কথা বলে, মনে হয় যেন কানের পর্দা ফেটে যাবে। যা আমাদের জন্য অসস্থিকর।
৬. বেশির ভাগ ক্লাসে ছাত্র শিক্ষকের কথাগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনতে চায় না।
৭. একটা ক্লাস নেওয়া শুরু আগে সবাইকে ক্লাসে এডমিট করতে অনেকটা সময় চলে যায়। যার ফলে পড়ানোর সময়টা নষ্ট হয়।
এছাড়াও আরো বিভিন্ন ধরনের অসুবিধা রয়েছে অনলাইন ক্লাস করতে গেলে। তবে আমরা এখন পরিস্থিতির কারণে অনলাইনের মাধ্যমে কিছুটা হলেও শেখার চেষ্টটা করছি। যাতে আমাদের শিক্ষা লেভেলটা নিচে নেমে না যায়। অনলাইনে ক্লাস যে খারাপ আমি কিন্তু সেটা বোঝায় নাই। আমি আপনাদেরকে বোঝানোর চেষ্টটা করেছি। অনলাইনে আসলে ক্লাসের কি অভিঙ্গতা সেটা আমার জীবন থেকে আপনাদেরকে বোঝানোর চেষ্টটা করেছি। আমরা প্রতিদিব প্রায় অনলাইনে ৭০/৭৭ জন ক্লাস করি এক সাথে।
আজকে আমি আমার অনলাইন ক্লাস করার অভিঙ্গতা নিয়ে আপনাদের সাথে কিছু কথা শেয়ার করলাম। আশা করি আপনাদের সবার কাছে ভালো লাগবে। আমি এখানে অনলাইনে ক্লাস করাকে খারাব হিসেবে তুলে ধরি নাই। আমি আমার অভিঙ্গতাটাকে আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম। তাই আপনারা কেউ আমার লেখাটাকে বিপরিত দিকে ভাববেন না।সবাই ভালো থাকবেন-সুস্থ থাকবেন।
আমি @rasel72 অঙ্গিকার করছি যে, উপরের সকল লেখা এবং কথা আমার নিজের ব্যক্তিগত চিন্তা থেকে লেখা।
সবাইকে অনেক ধন্যবাদ আমার আজকের পোষ্টটা পড়ার জন্য।
আপনার অভিব্যক্তি থেকে অনলাইন সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পারলাম ভাই। আপনাকে ধন্যবাদ
আপনাকেও ধন্যবাদ ভাইয়া। আমার পোষ্টটা পড়ার জন্য।
আমাদের ভার্সিটিতে কিছুদিন অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার পরে সেটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়। আবার মাঝখানে আমাদের অনলাইনে পরীক্ষা হয়েছিল সেখানে মাত্র 40 শতাংশ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করতে পেরেছিল। বর্তমানে বাংলাদেশের যে নেটের অবস্থা এবং সবার কাছে স্মার্ট ডিভাইস না থাকায় অনেক সমস্যা হয়েছিল। আপনার উপস্থাপনা অনেক ভালোছিলো। ধন্যবাদ আপনাকে।
আপনাকেও ধন্যবাদ।
♥
আমাদের আজকে ইলেকট্রিক্যাল ডিপার্টমেন্টের ৫ম পর্বের ক্লাস শুরু হলো।ক্লাসের অভিজ্ঞতা পড়ে ভালো লাগলো ভাই।
ধন্যবাদ ভাইয়া।
আপনার অভিব্যক্তি থেকে অনলাইন সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পারলাম ভাই। আপনাকে ধন্যবাদ
আপনাকেও ধন্যবাদ।
আপনার সম্পর্কে জেনে ভালো লাগল।অনলাইন সম্পর্কে লেখাটা ভালো হয়েছে।ধন্যবাদ আপনাকে।
ধন্যবাদ বোন।
অনেক কিছু শিখলাম ভাই। আপনার এই ব্লগ থেকে