ঈদ স্পেশাল দই বড়া রেসিপি❤️
হ্যালো
কেমন আছেন সবাই। আশা করছি খুবই ভালো আছেন সুস্থ আছেন। আমিও ভালো আছি সুস্থ আছি আপনাদের আশির্বাদে ও সৃষ্টি কর্তার কৃপায়।
আমি @shapladatta বাংলাদেশ থেকে। আমার বাংলা ব্লগের একজন ভেরিফাই নিয়মিত ইউজার। আমি গাইবান্ধা জেলা থেকে আপনাদের সঙ্গে যুক্ত আছি।
আজ আমি আপনাদের সাথে ভাগ করে নেবো মজাদার মন প্রাণ জুড়ানো দই বড়া রেসিপি। আশা করছি আপনাদের ভালো লাগবে।
ঈদ মোবারক সবাইকে।শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেছে কাল পবিত্র ঈদুল ফিতর।অনেক দিনের সিয়াম ও সাধবার মাস রমজান আর এক মাস রোজা থেকে থেকে সবাই অভ্যাস্ত হয়ে গেছে। হঠাৎ তেল চর্বি জাতীয় খাবার কম খাওয়া কিংবা পরিহার করা উচিত। দিনের বেলায় যেহেতু খাবার খাওয়া হয়নি একমাস তাই খাবারে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।ঈদকে সামনে রেখে আজকের এই রেসিপি দই বড়া রেসিপি।
দই বড়া খুবই মজাদার ও সুস্বাদু পুষ্টিকর উপকারী খাবার।ঈদের সকালে কিংবা বিকেলে নাস্তার টেবিলে শোভা ছড়াবে এই দুই বড়া রেসিপি।দুই বড়া খেলে শরীর ঠান্ডা রাখে।কোষ্টকাঠিন্য, ডায়রিয়া, কোলন ক্যান্সার ও অন্ত্রের সমস্যা দূর করতে কার্যকর দই। নিয়ন্ত্রিত মাত্রায় দই খেলে দেহের ওজন কমে।যে খাবার সুস্বাদু বেশি সেই খাবার তৈরি করতে বেশ অনেক সময় লাগে।
সেরকমই দই বড়া তৈরি করতে আমার অনেক সময় লেগেছে কিন্তুু একটি দই বড়া মুখে দেয়ার পর সব পরিশ্রম ভুলে গেছি। কারণ এতোই সুস্বাদু রেসিপিটি।
তো চলুন দেখা যাক দই বড়া রেসিপি টি কেমন
১.মাসকলাইয়ের ডাল |
---|
২.টক দই |
৩.ধনিয়া পাতা |
৪.তেঁতুল |
৫.ঝুড়ি চানাচুর |
৬.চিনি |
৭.লবন |
৮.মেথি |
৯.মৌরি |
১০.চাট মসলা |
১২.জিরা |
১৩.শুকনা মরিচ |
১৪.ধনিয়া |
১৫.কাঁচা মরিচ |
১৬.আদা |
প্রথম ধাপ
প্রথম মাসকলাইয়ের ডাল মানে বিউলির ডাল তিন চার ঘন্টা ভিজিয়ে রেখেছি।
দ্বিতীয় ধাপ
তিন ঘন্টা পর যখন ডাল গুলো নরম হয়ে এসেছে তখন তা ব্লেন্ডারের সাহায্যে ব্লেড করে নিয়েছি।
তৃতীয় ধাপ
এখন ব্লেন্ড করা ডাল গুলো ফ্যাটিয়ে নিতে হবে একটি পাত্রে।ব্লেড করা ডাল গুলো হাতের সাহায্যে এক পাশে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে ফ্যাটাতে হবে মানে জিকজাক করে ঘুরিয়ে ফ্যাটানো যাবে না।দশ থেকে পনেরো মিনিট ফ্যাটাতে হবে।
চতুর্থ ধাপ
এখন ব্লেড করা ডালে গোটা জিরে,মৌরি ও লবন দিয়েছি।চুলায় কড়াই বসিয়েছি ও তেল হালকা গরম হয়ে গেলে ব্লেড করা ডালের বড়া ভেজে নিয়েছি। একদমই কম আচে ভাঁজতে হবে বড়া গুলো।
পঞ্চম ধাপ
এখন ঠান্ডা জলে লবন দিয়ে শিরা বানিয়েছি ও ভাঁজা বড়া গুলো একে একে সব লবন মিশ্রিত শিরায় দিয়েছি।
ষষ্ঠ ধাপ
চুলায় আবারও কড়াই বসিয়েছি ও তাতে আদা কুচি ও মৌরিও জিরা ফোঁড়ন দিয়েছি এবং জলে ডুবানো বড়া গুলোতে দিয়েছি।এতে করে দুই বড়ায় খুবই সুন্দর ফ্লেভার যুক্ত হবে।
সপ্তম ধাপ
এখন দই বড়ার জন্য তেঁতুলের চাটনি বানিয়ে নেয়ার জন্য প্রথমে চুলায় কড়াই বসিয়েছি ও পরিমান মতো চিনি দিয়েছি।
অষ্টম ধাপ
এরপর চিনি গুলো অনবরত নারাচারা করে করে গুলিয়ে ফেলেছি এবং লাল কালার হয়ে আসলে তাতে তেঁতুলের গোলা দিয়েছি।
নবম ধাপ
এখন তেঁতুলের চাটনিতে চাট মসলা ও মরিচের গুড়া দিয়ে নারাচারা করে নামিয়ে নিয়েছি। দই বড়ার জন্য তেঁতুলের চাটনি রেডি।
দশম ধাপ
এখন দই বড়ার জন্য যে গ্রিন চাটনি টা দেয়া হয় তা এখন বানিয়ে নেয়ার জন্য ধনে পাতা,কাঁচা মরিচ,তেঁতুল ও আদা কুঁচি নিয়েছিও ব্লেন্ডারে দিয়ে তাতে লবন ও সামান্য পরিমাণে জল দিয়ে ব্রেড করে মজাদার গ্রিন চাটনি বানিয়ে নিয়েছি।
একাদশ ধাপ
এখন দই বড়ার জন্য চাট মসলা বানিয়ে নেয়ার জন্য কড়াইয়ে গোটা শুকনা মরিচ, জিরাও ধনিয়া ভেঁজে নিয়েছি ব্লেন্ডারে গুড়া করে নিয়েছি।
দ্বাদশ ধাপ
এখন দই ফ্যাটিয়ে নিয়েছি দই ফ্যাটানোর সময় দইয়ে বরফের টুকরা দিয়েছি কারণ তাহলে দই ফ্যাটানোর পর আর জল কেটে দেবে না।আমার বরফের অল্প পরিমাণ ছিলো আমি সেগুলোই দিয়েছি দইয়ে এবং ফ্যাটিয়ে নিয়েছি ভালো করে।
ত্রয়োদশ ধাপ
এখন আগে থেকে জলে ডুবিয়ে রাখা ডালের আড়া গুলো চেপে চেপে জল ঝড়িয়ে তুলে নিয়েছিও ফ্যাটানো দই গুলোতে বড়া গুলো সব ডুবিয়ে দিয়েছি ও আধা ঘন্টার জন্য রেষ্টে রেখে দিয়েছি ফ্রিজে নরমালে।
চতুর্দশ ধাপ
এখন আধা ঘন্টা পর বের করে নিয়েছি দই বড়া গুলো এবং প্লেটে সাজিয়ে নিয়েছি।
পঞ্চদশ ধাপ
এখন দই বড়ার উপরে তেঁতুলের চাটনি দিয়েছি।
ষষ্ঠদশ ধাপ
এখন তেঁতুলের চাটনির উপরে গ্রিন চাটনি দিয়েছি। গ্রিন চাটনি দেয়াতে দই বড়ার প্লেট টি দারুণ লাগে দেখতে।
সপ্তদশ ধাপ
এখন চানাচুরের ঝুড়ি ভাজা দই বড়ার উপরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে দিয়েছি।
অষ্টদশ ধাপ
এখন আগে থেকে বানিয়ে রাখা চাট মসলা দই বড়ার উপরে ছড়িয়ে দিয়েছি।
পরিবেশন
এই ছিলো আমার আজকের চমৎকার সুন্দর ও সুস্বাদু দই বড়া রেসিপি।আশা করছি আপনাদের ভালো লাগবে।আজকের মতো এখানেই শেষ করছি। আবারও দেখা হবে অন্য কোন পোস্টের মাধ্যমে।
সে পর্যন্ত সবাই ভালো থাকুন সুস্থ ও নিরাপদ থাকুন।
টাটা
পোস্ট | বিবরণ |
---|---|
পোস্ট তৈরি | @shapladatta |
শ্রেণী | রেসিপি |
ডিভাইস | OppoA95 |
লোকেশন | বাংলাদেশ |
আমি হৈমন্তী দত্ত। আমার স্টিমিট আইডিরঃshapladatta. জাতীয়তাঃ বাংলাদেশী। শখঃবাগান করাও নিরবে গান শোনা,শপিং করা। ভালো লাগে নীল দিগন্তে কিংবা জোস্না স্নাত খোলা আকাশের নিচে বসে থাকতে।কেউ কটূক্তি করলে হাসি মুখে উড়িয়ে দেই গায়ে মাখি না।পিছু লোকে কিছু বলে এই কথাটি বিশ্বাস করি ও সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি।বিপদকে ও অসুস্থতার সাথে মোকাবেলা করার সাহস রাখি সহজে ভেঙ্গে পরি না। সবাইকে নিয়ে ভালো থাকার চেষ্টা করি আর মনে প্রাণে বিশ্বাস করি পর হিংসা আপন ক্ষয়। ধন্যবাদ ।
https://x.com/DattaShapla/status/1906416438774247655?t=ETSrNa5r8SHExqX6uM3qRw&s=19
https://x.com/DattaShapla/status/1906417056179990913?t=8QnfIdjK_OejVEzsqWc55w&s=19
ভীষণ লোভনীয় দেখতে হয়েছে তোমার তৈরি করা দই বড়াটি। এখানেও ওরকম তেঁতুলের চাটনি আর গ্রিন চাটনি দিয়ে বানায় তবে আমার ব্যক্তিগতভাবে অনেক চাটনি খেতে ভালো লাগে না তাই আমি যখন দই বড়া রান্না করি এসব দিই না। গরমের দিনে দইবড়ার জুড়ি মেলা ভার। খুবই ভালো লাগে এই রেসিপি।
অনেকেই চাটনি খেতে ভালো বাসে না চাটনি ছারাও খেতে খুবই ভালো লাগে দই বড়া।ঠিক বলেছো গরমের দিনে দই বড়ার জুড়ি মেলা ভার।
https://x.com/DattaShapla/status/1906426741218025697?t=k61yv3rbBXbcviJ22RdBNA&s=19
https://x.com/DattaShapla/status/1906428327692484752?t=xAsniL5-3iJD5EMSo6eDlg&s=19
চমৎকার দইবড়া রেসিপি শেয়ার করে নিয়েছেন দিদি। রেসিপিটি দেখেই তো লোভ লেগে যাচ্ছে। দইবড়া নাম অনেক শুনেছি কিন্তু দই বড়া কখনোই খাইনি। রেসিপিটি আপনার থেকে শিখে নিলাম। খুব চমৎকার করে ধাপে ধাপে রেসিপিটি আমাদের সাথে শেয়ার করেছেন। পরিবেশনটা চমৎকার হয়েছে দিদি। দেখে খেতে ইচ্ছে করছে। চমৎকার রেসিপিটি এতো সুন্দরভাবে শেয়ার করে নেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।
আমার দই বড়া রেসিপিটি আপনি শিখে নিলেন জেনে খুবই ভালো লাগলো।ধন্যবাদ সুন্দর মন্তব্য করার জন্য।