গরমের তীব্রতায় চোখের জন্য সানগ্লাস তৈরি

in আমার বাংলা ব্লগlast year (edited)

আসসালামু আলাইকুম

হ্যালো কেমন আছেন এই প্রচন্ড গরমের তাপদাহে। আসলে কি আর বলবো মহান আল্লাহর রহমতে এই প্রচন্ড গরমে যে, আমরা ভালো আছি আর বেচেঁ আছি এই শুকরিয়াই করি। পৃথিবীতে এমনও অনেক মানুষ আছে যারা এই গরমে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে পড়ে আছে। আবার কেউ হয়তো এই গরমের তাপ সহ্য করতে না পেরে এই পৃথিবী ছেড়ে চলেও গেছেন। যাই হোক এই গরমে আমাদের ভালো থাকাটা আমাদের সবাইকে নিজেদের তৈরী করে নিতে হবে।


গতকাল আড্ডায় অনুষ্ঠানে @rme দাদা একটি মূলবান কথা বলেছেন। তা হলো এই প্রচন্ড গরমের ভারসাম্যতার জন্য এ দেশের জনসংখ্যাই বেশী দায়ী। কথাটি একদম ঠিক। পৃথিবীতে যেভাবে দিন দিন জন্যসংখ্যা বাড়ছে তাতে করে তাদের বাসস্থান করার জন্য নদীনালা খালবিল এবং গাছপালা কেটে ফেলা হচ্ছে। আর তাই কোথাও গাছ লাগানোর জায়গা নেই। আর তাই আমাদের সকল বিষয়ে এলাট থাকতে হবে। আর তাই বলে কি গাছ লাগানোও বন্ধ হয়ে যাবে? না কক্ষনই না। আর তাই আমাদের সবার বাড়ির পাশে বা ছাদে যার যতটুকু জায়গা পরে রয়েছে আমরা যেন সেই জায়গাগুলো খালি না রেখে গাছ লাগাই। এবার আসুন আমার আজকের মূল পোস্টের বিষয়ে চলে যাই।


হ্যাঁ আমার প্রিয় আমার পরিবারের সকল ভাই ও বোনেরা আজ আবারও আপনাদের মাঝে এসে হাজির হলাম আমার আরও একটি ব্লগ নিয়ে। আসলে গত রাতে অনেক টেনশনে ছিলাম। কি করা যায় হঠাৎ মাথায় এলো যেই প্রচন্ড গরম পরেছে। আর এই গরমে ডাঃ সবাইকে সাজেষ্ট করছে যেন রোদে গেলে সানগ্লাস পড়ে সবাই বের হয়। আর তাই এই চিন্তা মাথায় রেখে ভাবলাম যে, এই গরমে সানগ্ল্যাস এর ব্যবসা করবো। আর যেই টেনশন সেই কাজ তাড়াতাড়ি একটি সানগ্ল্যাস বানাতে বসে গেলাম। আর তাই প্রথমে একটি ডাই স্যাম্পল বানিয়ে আপনাদের মাঝে শেয়ার করে দেই দেখি কেমন রেসপন্স পাই। আপনাদের সবার ভালো রেসপন্স পেলেই ভাবছি সানগ্লাসের ব্যবসাটা শুরু করে দিব। আর এই উদ্দেশ্য করেই আজ আমি আপনাদের সবার মাঝে একটি সানগ্লাস ডাই পোস্ট নিয়ে এলাম। আশা করি আপনাদের সবার ভালো রেন্সপন্স পাবো। আর আমার এই সানগ্লাসের মাধ্যমে আমারও একটা কাজ হবে। আর এই গরমে সবার সেবাও করা হবে। তাহলে চলুন দেখে আসি আমার কাগজের সানগ্লাসের স্যাম্পল ডাইটি কেমন হলো।


image.png

image.png

image.png

image.png

প্রয়োজনীয় উপকরণ সমূহ

image.png

 রঙ্গিন এক পিছ কাগজ

গরমের তীব্রতায়
চোখের জন্য সানগ্লাস তৈরি

প্রস্তুত প্রণালী

ধাপ-১

image.png

প্রথমে একটি কাগজ নিয়ে নিলাম।

ধাপ-২

image.png

এবার কাগজটিকে ডানে থেকে বামে তিন কোনা করে একটি ভাজ দিয়ে নিলাম।

ধাপ-৩

image.png

এবার সেই ভাজের উপর আবারও ডান দিকের কোনা হতে বামদিকের মাথা পর্যন্ত আরও একটি ভাজ দিয়ে নিলাম।

ধাপ-৪

image.png

image.png

এবার কাগজটিকে খুলে নিলাম এবং বাম সাইট হতে তিনকোনা করে আরও একটি ভাজ দিয়ে নিলাম।

ধাপ-৫

image.png

আবার কাগজটিকে খুলে বাম দিক থেকে ডানে ওপরে দুই চোখের মত সুন্দর করে আরও একটি ভাজে ভাজ দিয়ে নিলাম।

ধাপ-৬

image.png

image.png

এবার নিচ থেকে কাগজটিকে আরও দুইটি ভাজে ভাজ দিয়ে নিলাম।

ধাপ-৭

image.png

image.png

এভাবে কয়েকটি ভাজে কাগজটিকে ভাজ করে নিলাম।

শেষ-ধাপ

image.png

এবার সানগ্ল্যাসের চোখের সামনের দুই সাইডের কাগজ একটু করে ভেঙ্গে দিলাম যেন সানগ্ল্যাটি দাড়ঁ করানো যায়। আর সানগ্ল্যাসের ডাটের দুই সাইটে পরিমান মতো ভেঙ্গে দিলাম।

উপস্থাপন

image.png

image.png

image.png

আর এভাবে আস্তে আস্তে সম্পূর্ন শেষ করে নিলাম আমার আজকের গরমের জন্য সানগ্লাস ডাই টি। আর এর উপস্থাপনাও সমাপ্তি করলাম। জানিনা কেমন হয়েছে আমার আজকের সানগ্লাস ডাই টি। তবে আমি চেষ্টা করেছি আপনাদের মাঝে একটি নতুন আঙ্গিকে নতুন পোস্ট শেয়ার করতে। ইনশাল্লাহ্ আগামীতেও করবো। আজ ডাই টি কেমন হলো জানার অপেক্ষায় থেকে এবং আপনাদের সবার সুস্থতা কামনা করে আমার আজকের ব্লগটি এখানেই শেষ করছি। সবাই ভালো থাকবেন। আর ও হ্যাঁ আজ আমার পোস্টের লেখাটি ছিল কিন্তু আপনাদের বিনোদন দেবার জন্য।হিহিহি।

পরিচিতি

আমি মাহফুজা আক্তার নীলা আমার ইউজার নাম @mahfuzanila আমার পছন্দ ঘোরাঘুরি ভ্রমন করা ,ছবি আঁকা, বিভি ন্ন ধরনের মজার মাজার গল্পের বই পড়তে, ফটোগ্রাফি,ডাই প্রজেক্ট বানাতেও দারুণ পছন্দ করি। আর বেশী পছন্দ করি মজার রেসিপি করতে,মন খারাপ থাকলে গান শুনতে ও গান গাইতে আর সবচেয়ে বেশী ঘুমাতে।

❤️ধন্যবাদ সকলকে❤️

Sort:  
 last year 

আজকে যখন আমি মোটরসাইকেল রান করে বাজারের দিকে যাচ্ছিলাম ঠিক ওই মুহূর্তে খুব অনুভব করছিলাম সানগ্লাসের। স্বাভাবিক যে কোন একটি চশমা কাছে থাকলেই ভালো হতো কিন্তু এতটাই তাপ চোখ যেন হিট লেগে ঝলসে যাচ্ছিল। একদম সময় উপযোগী একটি পোস্ট আপনি আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন। আপনার এই সানগ্লাস তৈরি করা দেখেও বেশ ভালো লাগলো।

 last year 

ধন্যবাদ ভাইয়া সুন্দর করে মন্তব্য করে পাশে থাকার জন্য।

 last year 

আসলে আমাদের দেশের জনসংখ্যা এরকম অবস্থার জন্য দায়ী এটা একেবারে সত্য। প্রত্যেকটা জায়গার গাছপালা কেটে ফেলা হচ্ছে প্রতিনিয়ত কারণে অকারনে। এটা একেবারেই উচিত হচ্ছে না। জনসংখ্যার পরিমাণ অনেক বেশি বৃদ্ধি পাচ্ছে আস্তে আস্তে। সবাই গাছ কাটার পাশাপাশি যদি নতুন করে আবারো গাছ রোপন করে, আর গাছ লাগানোর জন্য এগিয়ে আসে, তাহলে হয়তো এরকম অবস্থার সম্মুখীন হতে হবে না আমাদেরকে। এই গরমের সময় কিন্তু বাইরে বের হলে অবশ্যই চশমার ব্যবহার করা লাগবে। আপনি তো দেখছি রঙিন কাগজ ব্যবহার করি অনেক সুন্দর করে চশমার তৈরি করেছেন। আপনার চশমা পরলে তো মনে হয় না বাহিরে কোন কিছু দেখা যাবে না। যাইহোক মজা করলাম। অনেক সুন্দর লাগলো চশমাটা দেখতে।

 last year 

আমিও তো তাই ভাবছি রঙিন কাগজের চশমা দিয়ে তো সব কিছুই রঙিন লাগবে। কি আর দেখবো। ধন্যবাদ এমন সুন্দর মন্তব্য করার জন্য।

 last year 

গরমের তীব্রতা তো দিন দিন বেড়েই চলেছে। কোন কাজই ঠিকভাবে করা যাচ্ছে না প্রচন্ড গরমের জন্য। আপনি সুন্দর ভাবে নিজের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে এই চশমাটা তৈরি করেছেন। চশমাটা আমাকে গিফট করে দেন আপু। বাইক চালাতে অনেক কষ্ট হয় এই গরমে এবং রোদের জন্য। সানগ্লাসটা কিন্তু আমার অনেক বেশি পছন্দ হয়েছে। সানগ্লাস তৈরি করা খুব সহজেই শিখে নিলাম আপনার উপস্থাপনা ভালোভাবে দেখে। আমি তো ভাবতেছি রোদের হাত থেকে বাঁচার জন্য সানগ্লাস তৈরি করবো। যাই হোক সব মিলিয়ে অসাধারণ হয়েছে আপনার তৈরি করা সানগ্লাসটা।

 last year 

ধন্যবাদ ভাইয়া আমার তৈরি সানগ্লাস এর এমন প্রশংসা করার জন্য।

 last year 

দাদা একদমই ঠিক বলেছেন আপু জনসংখ্যার কারনেই জলবায়ুর এতোটা পরিবর্তন। আপনি গরমের কথা চিন্তা করে খুব সুন্দর একটি সানগ্লাস বানিয়েছেন রঙ্গিন কাগজ দিয়ে। চমৎকার সুন্দর হয়েছে আপনার সানগ্লাসটি।ধাপে ধাপে সানগ্লাস তৈরি পদ্ধতি চমৎকার সুন্দর করে আমাদের সাথে ভাগ করে নিয়েছেন। ধন্যবাদ আপনাকে সুন্দর চশমাটি বানিয়ে আমাদের সাথে ভাগ করে নেয়ার জন্য।

 last year 

আপনাকেও ধন্যবাদ সুন্দর করে মন্তব্য করে পাশে থাকার জন্য।

 last year 

এই গরমে টিকে থাকা খুবই মুশকিল হচ্ছে। অনেক কষ্টে দিন পার করতে হচ্ছে। যাই হোক আপু অনেক সুন্দর একটি সানগ্লাস তৈরি করেছেন। রঙিন কাগজ দিয়ে দুর্দান্ত একটি সানগ্লাস তৈরি করা দেখে ভীষণ ভালো লাগলো। খুবই আকর্ষণীয় একটি সানগ্লাস তৈরি করেছেন আপু। খুবই নিখুঁতভাবে প্রতিটা ধাপ তুলে ধরেছেন। ধন্যবাদ আপু সুন্দর একটি পোস্ট শেয়ার করার জন্য।

 last year 

ধন্যবাদ আপু সুন্দর একটি মন্তব্য করে উৎসাহিত করার জন্য।

 last year 

আরে বাহ!! এই গরমে রোদ থেকে বাঁচার জন্য চোখের সুরক্ষায় যেহেতু সানগ্লাস ব্যবহার করার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে, সেই বিষয় কে মাথায় রেখে নিজেই বানিয়ে ফেললেন একটি রঙিন সানগ্লাস! 😎 আপনার ডাই সানগ্লাস টি কিন্তু হেব্বী হয়েছে। আমার তো ভীষণ পছন্দ হয়েছে আপু! দারুণ! শুভকামনা রইলো আপনার জন্য।

 last year 

হি হি হি। আচ্ছা দেখি পাঠানো যায় নাকি। ধন্যবাদ দিদি সুন্দর মন্তব্যের জন্য।

 last year 

এটা একদম ঠিক বলেছেন আপু এই গরমে সানগ্লাস ছাড়া বাহিরে যাওয়া ভীষণ মুশকিল। আর আপনার তৈরি করা কাগজের সানগ্লাসটি দেখেই তো চোখে দিতে ইচ্ছে করছে। আপু আপনি অনেক সুন্দর করে সানগ্লাস তৈরি করেছেন এবং সানগ্লাস তৈরির পদ্ধতি তুলে ধরেছেন এজন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

 last year 

ধন্যবাদ আপু আপনার উৎসাহ মূলক মন্তব্যের জন্য।

 last year 

আসলে আপু যেভাবে জনসংখ্যা বাড়তেছে সামনে পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়ে যাবে। এখন চারদিকে শুধু বাড়িঘর গাছপালা নেই বললে চলে। তবে আজকে আপনি খুব সুন্দর একটি সানগ্লাস তৈরি করেছেন। তবে রঙিন কাগজের সানগ্লাস অসাধারণ হয়েছে। তবে আপনার এই সানগ্লাস দিয়ে রাস্তা বাইর হলে রাস্তার মধ্যে আর থাকবে না মানুষ বাইরে পড়ে যেতে হবে। তবে এই গরমের মধ্যে সানগ্লাস দিয়ে বাহির হলে খুব ভালো হয়। আর আপনার এই সানগ্লাস চোখে দিয়ে সামনে কিছু দেখাও যাবে না অনুভব করা যাবে না। যাই হোক খুব সুন্দর সানগ্লাস তৈরি করে আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন তাই ধন্যবাদ।

 last year 

আরে না আপু রাস্তার মানুষ তখন নতুন দৃশ্য দেখার জন্য দাড়িঁয়ে থাকবে। ধন্যবাদ সুন্দর মন্তব্য করে পাশে থাকার জন্য।

 last year 

এই গরমে সবাই সানগ্লাস ব্যবহার করা দরকার। আপনি দেখতেছি কাগজ দিয়ে সানগ্লাস তৈরি করেছেন। তবে কাগজের সানগ্লাস দিয়ে বাইর হওয়া যাবে না। আপনার কাগজের সানগ্লাস তৈরি অসাধারণ হয়েছে। তবে চেষ্টা করলে গরমের সময় ভালো সানগ্লাস তৈরি করে বিক্রি করতে পারবেন। আপনার কাগজের সানগ্লাস খুব সুন্দর করে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বানিয়ে আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন।

 last year 

সেটাই তো ট্রাই করলাম। ধন্যবাদ সুন্দর মন্তব্য করে পাশে থাকার জন্য।

 last year 

চোখের সুরক্ষার জন্য চশমা পরে বাইরে বের হলে অন্তত চোখ ভালো থাকবে।আপনি এই গরমে ডাক্তারের কথা শুনে চমৎকার চশমা তৈরি করলেন।আপনার রঙিন কাগজের চশমাটি কিন্তু দারুন হয়েছে আপু।আপনি চমৎকার ভাবে ধাপে ধাপে তুলে ধরেছেন। আমার কাছে কিন্তু দারুন লাগলো চশমাটি।এতে করে আপনার সৃজনশীলতার প্রকাশ ঘটলো।ধন্যবাদ আপু শেয়ার করার জন্য।

 last year 

ধন্যবাদ আপু এমন সুন্দর মন্তব্য করে ‍উৎসাহিত করার জন্য।