ছোট ভাইদের সাথে ছিপ দিয়ে পুকুরে মাছ ধরার অনুভূতি।
প্রিয় আমার বাংলা কমিউনিটির ভাইবোন বন্ধুরা,
তো আমি যখন ছোট ছিলাম তখন নানি বাড়ি গেলেই ছিপ দিয়ে মাছ ধরতাম। তো এবারে যখন নানি বাড়ি গিয়েছিলাম তখন মামানি বলছিল ছিপ দিয়ে পুকুরে মাছ ধরতে। যেহেতু আমার ছিপ দিয়ে মাছ ধরতে ভালো লাগে তাই চলে গেলাম মাছ ধরতে। আমার সাথে আরও দুইজন গিয়েছিল। আমি আমার মামাতো ভাই শুয়াইব ও তার বন্ধু রাফিদ। বাই দা ওয়ে ওরা দুজনেই কিন্তু আমার থেকে অনেক ছোট।
যাই হোক প্রথমে আমরা সবকিছু জিনিস গুছিয়ে নিয়ে চলে গেলাম পুকুর পাড়ে। তারপর প্রথমে একটু ধানের গুঁড়া পানি দিয়ে ভিজিয়ে পুকুরে ফেলে দিলাম। যেন এগুলো দেখে মাছগুলো সব চলে আসে। এরপর বড়শিতে আটা লাগিয়ে পুকুরের মধ্যে ফেলে দিলাম। আরে হ্যাঁ আমরা এখানে যে ছিপ ব্যবহার করেছিলাম এটা গ্রামের সাধারণ ছিপ। এই ছিপটা বানাতে তেমন কিছুই লাগেনা একটা পাঠ কাটির আগায় সুতা বেঁধে তারপর সুতার আগায় বড়শি বেঁধে দিয়ে এবং মাছ আটকেছে কিনা তা পর্যবেক্ষণ করার জন্য সাথে একটা পাঠ কাঠির নল ব্যবহার করে মূলত ছিপটি বানানো হয়। আর মাছ ধরার জন্য যে আটা ব্যবহার করছিলাম এটা মূলত গমের আটা ছিল।
যাইহোক এবারে আমরা পানিতে ছিপ ফেলে দিলাম কিছুক্ষণের মধ্যেই দেখলাম পাট কাঠির নলটা একটু নাড়াচাড়া করছে। বুঝতে পারলাম নিশ্চয়ই বড়শিতে মাছ আটকেছে। তখনই ছিপ তুলেই দেখি সত্যিই একটা মাছ চলে এসেছে। তখন আমরা সেই মাছটাকে ছাড়িয়ে আবার পানিতে ছিপ ফেলে দিলাম।
যাই হোক এভাবে তিনজন মিলে অনেকগুলো মাছ ধরেছিলাম। মাঝে মাঝে মাছ উঠতে দেরি হয়ে যাচ্ছিল তার জন্য অনেকক্ষণ ধরে পাটকাঠি টাকে স্থির ভাবে ধরে রাখতে হয়েছিল। একবার লক্ষ্য করে দেখলাম পাটকাঠি টা কে স্থির ভাবে ধরে রাখার কারণে এর ওপর ফড়িং এসে বসেছিল।
যাইহোক মাছ ধরতে ধরতে কিছু মজার ঘটনা ঘটে যাচ্ছিল। ওই পুকুরটাতে কচুরিপানা ছিল তাই মাঝে মাঝে মাছের বদলে কচুরিপানা উঠে যাচ্ছিল। এছাড়াও একবার দেখি মাছের মুখে বরশি না গেথে। ছিপটাকে জোরে টান মারার কারণে চোখের সাইডে বড়শি গেথেই মাছ উঠে চলে এসেছে। আবার একবার জোরে টান মারার কারণে মাছটি সোজা আমার হাতের কাছে এসেছিল আর তখন দেখি মাছটি আমার হাতে কাঁটা ফুটিয়ে দিয়েছে।
যাইহোক এভাবে মাছ ধরতে ধরতে অনেকগুলো মাছ ধরে ফেলেছিলাম । তাই ভাবলাম এবার বাড়ির দিকে যাওয়া যাক। তখন রাফিদ বললো কয়টা মাছ হয়েছে আমি গুনবো। তখন আমি বললাম তোর ইচ্ছে হলে গুনতে পারিস সমস্যা নেই। ও তারপর একে একে মাছগুলোকে গুনতে থাকল আর গুনে দেখল আমরা তিনজন মিলে ৪৫টা মাছ ধরেছি। যাহোক ৪৫ টা মাসের মধ্যে প্রায় ২৫ টা মাছ আমি ধরেছি। আর প্রায় ১৫ টা মাছ রাফিদ ধরেছে। আর বাকি মাছগুলো শুয়াইব ধরেছে। আসলে ও এত মাছ ধরতে পারছিল না। আর আমি যখন মাছ ধরছিলাম তখন ও আমার বড়শি থেকে মাছ ছাড়াচ্ছিল তাই ও বেশী ধরতে পারিনি।
তো প্রিয় আমার বাংলা কমিউনিটির ভাই বোন বন্ধুরা, এই ছিল আমার আজকের পোস্ট। আজকের লেখাগুলো আপনাদের কাছে কেমন লেগেছে অবশ্যই কমেন্টে জানাবেন। আজকের মত এটুকুই। আবারো খুব শীঘ্রই নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হবো আপনাদের মাঝে ইনশা-আল্লাহ। ততক্ষণ সবাই ভাল থাকবেন সুস্থ থাকবেন নিজের খেয়াল রাখবেন।
বরশি দিয়ে মাছ ধরার সময় যদি মাছ অনেক দ্রুত ওঠে তাহলে ভালো লাগে। আর যদি এক একটা মাছ উঠতে অনেক বেশি সময় লাগে তাহলে বিরক্তি চলে আসে পুকুরে দেখছি অনেক মাছ ছিল অনেকগুলো মাছ আপনারা তিনজনে মিলে ধরতে পেরেছেন। ছোট জনও দেখছি পাঁচটি মাছ ধরেছে। পাটকাঠি দিয়ে যে বড়শি বানিয়েছেন বড়শিতে বড় মাছ ধরলেই তো পাটকাঠি ভেঙ্গে যেত তখন আফসোস করতেন। যাই হোক বেশ ভালো মাছ ধরেছেন। ভালো লাগলো দেখে।
আসলে পাটকাঠির বরশি হলেও যদি ভালোভাবে টানতে পারেন তাহলে ভাঙবে না। ওই যে পাঁচটার মত মাছ ধরেছে সে ভালোভাবে টানতে পারছিল না তাই ওর ছিপ তিন চারবার ভেঙে গিয়েছিল। ধন্যবাদ আপনাকে সুন্দর ভাবে গুছিয়ে মন্তব্যটি করার জন্য।
Thank you, friend!


I'm @steem.history, who is steem witness.
Thank you for witnessvoting for me.
please click it!
(Go to https://steemit.com/~witnesses and type fbslo at the bottom of the page)
The weight is reduced because of the lack of Voting Power. If you vote for me as a witness, you can get my little vote.
ছোট বেলায় বরশি দিয়ে অনেক মাছ ধরতাম।আপনার পোস্ট পড়ে সেই ছোট বেলার কথা অনেক মনে পড়ে গেছে।আপনি ছোট ভাইয়ের সাথে ছিপ দিয়ে অনেকগুলো মাছ ধরেছেন দেখে অনেক ভালো লেগেছে আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
ধন্যবাদ আপনাকে সুন্দর মন্তব্যটি করার জন্য।
আসলে সচরাচর এ ধরনের মাছ ধরা গুলো গ্রাম অঞ্চলে বেশি দেখা যায়। ছোটকালে আমরাও এ ধরনের মাছ অনেক ধরেছি এখন সেভাবে সময় হয়ে ওঠে না তাই মাছ ধরা হয় না। আপনি ছোট ভাইদের সাথে অনেক সুন্দর কিছু মুহূর্ত মাছ ধরার সাথে কাটিয়েছেন। আপনি দেখছি অনেকগুলো মাছ ধরেছেন। আর যে মাছগুলো উঠেছে সবগুলো তেলাপিয়া মাছ। যাইহোক মাছ ধরার সাথে সুন্দর একটি মুহূর্ত কাটানো ও শেয়ার করার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
ঠিক বলেছেন এরকম ভাবে মাছ ধরতে বেশিরভাগ গ্রাম অঞ্চলেই দেখা যায়। আপনার মন্তব্যটি পড়ে ভাল লাগল। ধন্যবাদ আপনাকে সুন্দর ভাবে গুছিয়ে মন্তব্যটি করার জন্য।
দারুন একটি পোস্ট আমাদের মাঝে তুলে ধরেছেন আপনি। একদম ছোটবেলা থেকে এভাবে মাছ ধরে আসছি পুকুর থেকে। কিন্তু আফসোস কেউ ফটোগ্রাফি করে দেয় না তাই পোস্ট করতে পারি না। আপনি তো দেখছি অনেকগুলো তেলাপিয়া মাছ ধরতে পেরেছেন শিপ দিয়ে। পুকুরটা দেখেও চেনা চেনা মনে হচ্ছে। পুকুরের মধ্যে পড়ে থাকা খাজুর গাছের মোটা টাও যেন চেনা মনে হচ্ছে।
পুকুরটা তো চেনা চেনা লাগারই কথা কারণ পুকুরটা যে আপনাদের দের গ্রামের। ধন্যবাদ সুমন ভাই আপনাকে সুন্দরভাবে গুছিয়ে মন্তব্যটি করার জন্য।
বড়শি দিয়ে মাছ ধরার এই অনুভূতিটা জানতে পেয়ে খুবই ভালো লাগছে। সত্যিই আমারও খুব ইচ্ছা করছে। বড়শি দিয়ে মাছ ধরতে আপনি খুবই সুন্দর মুহূর্ত উপভোগ করেছেন। ফটোগ্রাফি গুলো অসাধারণ হয়েছে।
ধন্যবাদ আপনাকে এই সুন্দর মন্তব্যটি করার জন্য।
এভাবে বরশি দিয়ে মাছ ধরতে মনে হয় ভালোই লাগে। পাটকাঠির সাথে বড়শি বেঁধে টান দিলে পাটকাঠি ভেঙ্গে যায় না? আর সুন্দর তো একে একে মাছগুলো উঠে আসছে। মাছের পরিবর্তে কচুরিপানা উঠে এসেছিল শুনে সত্যিই হাসি পেল। আর আপনারা তিনজন মিলে ৪৫টি মাছ ধরেছিলেন অনেক গুলা। মাছগুলো কি ছোট না বড় বুঝতে পারছি না। আর এগুলো কি মাছ ? পুকুরের মাছ বড়শি দিয়ে ধরে খাওয়ার মজাই আলাদা।
আসলে ভালোভাবে টানতে পারলে পাটকাঠি ভাঙ্গে না। আর হ্যাঁ মাছগুলোর সাইজ খুব একটা বড় না খুব একটা ছোট না আর এই মাছগুলোর নাম হচ্ছে তেলাপিয়া। ধন্যবাদ আপনাকে সুন্দর মন্তব্যটি করার জন্য।
আসলে বরশি দিয়ে মাছ ধরার আনন্দটাই আলাদা। আপনারা তিন জনে মিলে ৪৫ টা মাছ ধরেছেন শুনে সত্যিই আমি অবাক হয়ে গেলাম এতগুলো মাছ বসে দিয়ে কিভাবে ধরলেন। মাছের বদলে বশির সাথে কচুরি ফেনা উঠে এসেছে দেখে সত্যি খুব হাসি পেলাম। পুকুরের মাছ খেতে আমার কাছে খুবই ভালো লাগে। কিছুদিন আগে আমিও গ্রামের বাড়িতে গিয়ে পুকুরের মাছ খেয়ে এসেছি। ধন্যবাদ ভাইয়া আপনার মাছ ধরার অনুভূতিটা আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য।
ঠিক বলেছেন বড়শি দিয়ে মাছ ধরার মজাই আলাদা। আসলে যখন মাছের বদলে কচুরি পানা উঠে যাচ্ছিল তখন বিষয়টা বেশ মজাদার লাগছিল। ধন্যবাদ আপনাকে সুন্দর ভাবে গুছিয়ে মন্তব্যটি করার জন্য।
আপনার কাছে বড়শি দিয়ে মাছ ধরতে ভালো লাগে জেনে আমার কাছেও ভীষণ ভালো লাগলো। আপনিও দেখছি ছোটবেলায় বড়শি দিয়ে মাছ ধরতেন। তিনজনে মিলে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। আপনার নানুর বাড়ির এই পুকুরটিতে মনে হয় প্রচুর পরিমাণে মাছ রয়েছে তারা মনে হয় এখানে মাছ চাষ করে। কারণ যেভাবে দেখতে পাচ্ছি তিনজনে মাছ ধরলেন তাও ৪৫ টা এটা জেনে তো আমি কিছুক্ষণের জন্য অজ্ঞান হয়নি। সবগুলোই তো দেখছি একই মাছ। ছোট বড় মিলিয়ে ৪৫ টা ধরলেন আপনারা তিনজন। এরকম একটি মজার বিষয় শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।
আসলে পুকুরটাতে এবারে আমাদের বড় ভাই @murufhh মাছ দিয়েছিল। যেহেতু আমাকে মাছ ধরতে বলা হয়েছিল তাই ইচ্ছে মতো মাছ ধরে নিয়ে চলে এসেছিলাম। ধন্যবাদ আপনাকে সুন্দরভাবে গুছিয়ে মন্তব্যটি করার জন্য।
খুবই মজাদার একটি পোস্ট আপনি আমাদের সাথে শেয়ার করেছেন। ছিপ দিয়ে মাছ ধরতে আপনার খুবই ভালো লাগে জেনে খুবই ভালো লাগলো। আমার কাছে মাছ ধরতে অনেক বেশি ভালো লাগে। এতগুলো মাছ ধরেছেন সেটা ভাবতেই পারছি না। ৪৫ টা মাছ ধরেছেন তার মধ্যে ২৫ টাই আপনি ধরেছেন। খুবই ভালো মাছ ধরতে পারেন বুঝতেই পারছি।
আসলে ছিপ দিয়ে মাছ ধরতে বরাবরই আমার বেশ ভালো লাগে। ধন্যবাদ আপনাকে সুন্দর ভাবে গুছিয়ে মন্তব্যটি করার জন্য।