পেছনের গল্প( পর্ব: ৪ )!!
আমার বাংলা ব্লগে,সবাইকে স্বাগতম।
আমি @emon42.
বাংলাদেশ🇧🇩 থেকে
এসএসসি পরীক্ষার সময় যেদিন শেষ স্কুলে গিয়েছিলাম ঐদিন আমার খুব একটা কিছু মনে হয়নি। খুব একটা খারাপও আমার লাগেনি। তবে অনেকের নাকী অনেক খারাপ লেগেছিল তখন শুনেছিলাম। আমার কোন অনূভুতি না হওয়ার কারণ ছিল যখন ইচ্ছা স্কুলে আসতে পারব। আর সব বন্ধুরা যেহেতু একই শহরের দেখা হবে প্রায়ই। এবং হয়তো অনেকেই একই কলেজে ভর্তি হবো। এসব ভেবেই আমার খারাপ লাগেনি। কিন্তু চার বছর পরে যখন কলেজের শেষ দিনটা উপস্থিত হলো তখন অন্যরকম একটা অনূভুতি হচ্ছিল। আমার স্কুল জীবনের চেয়ে কলেজ লাইফ টা ছিল বেশ আনন্দদায়ক। কলেজের সময় টা আমি সবচাইতে সুন্দর সময় বলব। এইজন্যই হয়তো আমার খারাপ লাগছিল অনেক বেশি।
বিশেষ করে বলতে হয় কয়েকজন পছন্দের স্যার ম্যামের কথা। তাদের ক্লাসে আমি বেশ ফাজলামি করতাম। বিশেষ করে রোকেয়া ম্যাম এর ক্লাসে আমি একটু অতিরিক্ত প্রশ্ন করতাম। এইজন্য বেশ কয়েকবার অবশ্য ম্যাম আমাকে ক্লাস থেকে বের করে দেয়। ম্যাম জানত বিষয়টা আমি জানি তারপরও প্রশ্ন করছি। এর উপরে ক্লাসে আমি অন্য বন্ধুদের পেছনে বেশ লাগতাম। সবাইকে নিয়ে একটু মজা নেওয়াতে আমি ছিলাম পটু। দেখতে দেখতে চারটা বছর শেষ হয়ে গেল। একসঙ্গে ক্লাস করা আর হবে না। ক্লাসের ফাঁকে মাঠে বসে আড্ডা দেওয়া অথবা কলেজের গ্রুপে কোন বিষয় নিয়ে তর্কে জড়িয়ে পড়া এসব কিছুই আর হবে না ভাবতেই বেশ খারাপ লাগছিল আমার। এইজন্য অফিশিয়াল শেষ দিনটাই আমার মনটা বেশ খারাপ ছিল।
ততদিনে সপ্তম সেমিষ্টারের তাত্ত্বিক বিষয়ের পরীক্ষা শেষ। বাকি ছিল শুধু ব্যবহারিক পরীক্ষা। ঐদিন ছিল আমাদের শেষ ব্যবহারিক পরীক্ষা। ঐটা দিয়েই আমরা চলে যাব যে যার ঠিক করা ইন্ডাস্ট্রি তে ট্রেনিং নিতে ৪ মাসের জন্য। আবার দেখা হবে তবে ঐরকম পরিবেশে হয়তো হবে না। পরীক্ষার পরে বেশ কিছুটা সময় আমরা ক্লাসে ছিলাম। আমরা বলতে সবাই ছিলাম। আমাদের থাকার কারণ ছিল একটা। তবে ঐসময় টা আমরা নষ্ট করিনি। সবাই গল্প করছিলাম আড্ডা দিচ্ছিলাম। আবার সুযোগ পেলেই একজনের সাথে অন্যরা মজা নিচ্ছিলাম। ছবির মধ্যে সেরকম বেশ কিছু মূহৃর্ত উঠে এসেছে। বেশ কয়েকটা ছবি রয়েছে যেখানে আমরা বেশ কয়েকজন বন্ধু একসঙ্গে হয়ে গল্প করছি। মাহফুজ, সাঈম, মেহেদী, সাগর আমি এবং আরও কয়েকজন ছিলাম ছবিতে।
ঐসময় টা যেন স্থির হয়ে গিয়েছিল। আবার ক্লাসের মধ্যে পরীক্ষার সময় আমার বন্ধু রাসেল সবাইকে একটা ফ্রেমে নিয়ে একটা ছবি উঠেছিল। ঐটাও হারিয়ে যাওয়া একটা মূহূর্ত। হাসিব ছেলেটা বেশ শান্তশিষ্ট সেই প্রথম সেমিষ্টার থেকেই। প্রথম থেকে ওর সাথে আমার ভালো বন্ধুত্ব। ও এসে নিজে থেকেই বলে বন্ধু তোমাকে অনেক মিস করব। কথাটা শুনে মনটা খারাপ হয়ে যায় আমার। ওর সাথে তোলা সেই সিঙ্গেল ছবিটা দেখলেই ছেলেটার সরলতার কথা মনে পড়ে যায়। পরীক্ষা শেষ করে যখন সবাই বেরিয়ে যাব তখন কলেজের মেইন গেইটে আমরা দাঁড়িয়ে যায় । তবে কোন মেয়ে ছিল না। সবাই একসঙ্গে একটা ছবি উঠি। মোটামুটি ঐটাই ছিল ঐদিনের পূর্ণাঙ্গ একটা ছবি। এখন ওদের কে বেশ মিস করি। একসঙ্গে ক্লাস করা আর হয় না। হয়না ক্লাস শেষে আড্ডা দেওয়া।
সবাইকে ধন্যবাদ💖💖💖।
অনন্ত মহাকালে মোর যাএা অসীম মহাকাশের অন্তে। যারা আমাদের পাশে আছে তারা একটা সময় চলে যাবেই, এটা তাদের দোষ না। আমাদের জীবনে তাদের পার্ট ওইটুকুই। আমাদের প্রকৃত চিরশখা আমরা নিজেই, তাই নিজেই যদি নিজের বন্ধু হতে পারেন, তাহলে দেখবেন জীবন অনেক মধুর।তখন আর একা হয়ে যাওয়ার ভয় থাকবে না।
আমি ইমন হোসেন। আমি একজন বাংলাদেশী। আমি একজন ছাএ। তবে লেখাপড়া টা সিরিয়াসলি করি না হা হা। লেখালেখি টা বেশ পছন্দ করি। এবং আমি ফুটবল টা অনেক পছন্দ করি। আমার প্রিয় লেখক হলেন জীবনানন্দ দাস। আমি একটা জিনিস সবসময় বিশ্বাস করি মানিয়ে নিতে এবং মেনে নিতে পারলেই জীবন সুন্দর।।
Daily task
https://x.com/Emon423/status/1906982699061088444?t=DEw8v81-Rmdq-7rRmbT1MA&s=19
https://x.com/Emon423/status/1906983110270664777?t=Ztns_7cJZl2ZkE6NaIEiLQ&s=19
https://x.com/Emon423/status/1906983303707836529?t=OsjdHWSVjWDmu6KcS4ndSQ&s=19
https://x.com/Emon423/status/1906983409127465078?t=SNsjkdQcm67fG03z_GPDUA&s=19
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.