পিছনের গল্প( পর্ব-৩)!!
আমার বাংলা ব্লগে,সবাইকে স্বাগতম।
আমি @emon42.
বাংলাদেশ🇧🇩 থেকে
তখন র্যাগ ডে বেশ চলছিল। এসএসসি থেকে শুরু করে একেবারে ইউনিভার্সিটি পযর্ন্ত সবাই নিজেদের শেষ দিনটাই র্যাগডে পালন করা শুরু করে। এবং এটা একপর্যায়ে গিয়ে বাজে অবস্থা সৃষ্টি করে। বাজে অবস্থা বলতে র্যাগ ডের নামে শুরু হয় উচ্চস্বরে গান বাজানো টিশার্টের উপর বাজে কথা লেখা অশ্লীলতা রঙ মাখামাখি এসব। আর আমি বরাবরই এগুলোর বিরুদ্ধে ছিলাম। এই জিনিস গুলো আমি খুবই অপছন্দ করতাম। এইজন্য আমি ছিলাম এই র্যাগডে নামক প্রহসন এর ঘোর বিরোধী। দেখতে দেখতে আমাদেরও কলেজের চারটা বছর শেষ হয়ে গেল। ইনস্টিটিউটে ছিল আমাদের শেষ সেমিষ্টার। আমার সব বন্ধুরা মিলে ঠিক করল র্যাগডে করবে। আশ্চর্যজনক হলেও দেখলাম ক্লাসের সবাই রাজি। তবে আমি শুধু এর বাইরে।
মোটামুটি আমি পরিষ্কার বলে দেয় আমি এসবের মধ্যে নেই। তোদের করতে হলে কর কিন্তু আমি এসবের মধ্যে নেই। যথারীতি সেটাই করেছিলাম আমি। কিন্তু একপর্যায়ে গিয়ে আমার বেশ কিছু বন্ধু আমাকে অনুরোধ করে। পাশাপাশি ওরা আমার চাঁদাটাও দিয়ে দেয়। ওরা বলে তুই শুধু আসবি তোকে কেউ বিরক্ত করবে না। শেষপর্যন্ত আমিও ভেবে দেখলাম হয়তো আর কখনও দেখা হবে না সবার সাথে। এইজন্য ওদের কথা রাখা উচিত। একটা দিন না হয় সবাই আনন্দ করে কাটালাম। র্যাগডের জন্য রাজি হয়ে গেলাম আমি। বলছি প্রায় ২ বছর আগের কথা। আমাদের ক্যাম্পাসে র্যাগডের প্রোগ্রাম ছিল নিষিদ্ধ। এইজন্য জায়গা ঠিক করে নির্ধারিত দিনে আমরা চলে গেলাম। ঐদিন সবাই ছিল বেশ উচ্ছসিত। ।
ক্লাসের সবচাইতে ভালো ছেলেটা থেকে খারাপ ছেলেটা সবচাইতে ভালো শিক্ষার্থী থেকে খারাপ শিক্ষার্থী কারো মধ্যে আমি কোন পার্থক্য পাইনি। মনে হচ্ছিল আজকের জন্য সবাই এক। যথারীতি সাদা গেঞ্জির উপরে সবাই সবার নাম লিখে সাইন করছিল। আমারটাতেও করেছিল সবাই। আমিও করেছিলাম অন্যদের গুলোই। তবে আমার টিশার্টের উপর আরও একটা নাম অতিরিক্ত ছিল এবং সেটা ছিল একাধিক। আমার বন্ধুরা অনেক টা ফাজলামি করেই একটা নাম লিখে দিয়েছিল। বুঝতেই পারছেন কার নাম হতে পারে। মানুষ টা আমার ক্লাসমেট ছিল যদিও তবে ঐদিন ও ওখানে উপস্থিত ছিল না। কিন্তু পরবর্তীতে সে দেখেছিল। যাইহোক এসব বলে লাভ নাই। কেক কাটা খাওয়া সবকিছুই হয়েছিল পরিকল্পনা অনুযায়ী।
তবে শেষ পর্যায়ে গিয়ে শুরু হয় রং মাখামাখি। আর আমি যেটার বিরুদ্ধে ছিলাম। ঐসময় আমি বেশ দূরে অবস্থান করছিলাম। সবার থেকে দূরে ছিলাম। কিন্তু আমি বাঁচতে পারিনি। আমার কয়েকটা ফ্রেন্ড পরিকল্পিত ভাবে এসে আমাকে রং মাখিয়ে দেয়। আমি ভাবলাম না নাচতে এসে ঘোমটা দিয়ে লাভ নেই। আমিও অংশগ্রহণ করলাম ওদের সাথে। এককথায় অসাধারণ কেটেছিল দিনটা আমাদের। সেই দিনের সব ছবিগুলো এখনও আছে। স্মৃতিগুলো এখনও তরতাজা। র্যাগডের সাদা টিশার্ট টা আমি বেশ যত্ম করে রেখে দিয়েছি। চাইলেও আর সবাইকে একসাথে পাব না হয়তো। ঐটা একটা স্মৃতি হিসেবে থাকবে আজীবন। কিছু কিছু সময় আমাদের উচিত আমাদের নিয়মের গন্ডি থেকে বের হওয়া। এতে করে বড় কোন ক্ষতি তো হয় না। কিন্তু জীবন কে উপভোগ করা যায়।
সবাইকে ধন্যবাদ💖💖💖।
অনন্ত মহাকালে মোর যাএা অসীম মহাকাশের অন্তে। যারা আমাদের পাশে আছে তারা একটা সময় চলে যাবেই, এটা তাদের দোষ না। আমাদের জীবনে তাদের পার্ট ওইটুকুই। আমাদের প্রকৃত চিরশখা আমরা নিজেই, তাই নিজেই যদি নিজের বন্ধু হতে পারেন, তাহলে দেখবেন জীবন অনেক মধুর।তখন আর একা হয়ে যাওয়ার ভয় থাকবে না।
আমি ইমন হোসেন। আমি একজন বাংলাদেশী। আমি একজন ছাএ। তবে লেখাপড়া টা সিরিয়াসলি করি না হা হা। লেখালেখি টা বেশ পছন্দ করি। এবং আমি ফুটবল টা অনেক পছন্দ করি। আমার প্রিয় লেখক হলেন জীবনানন্দ দাস। আমি একটা জিনিস সবসময় বিশ্বাস করি মানিয়ে নিতে এবং মেনে নিতে পারলেই জীবন সুন্দর।।
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.