ঈদে নিজের হাতে মেহেদী আর্ট।
কেমন আছেন সবাই ?আশা করি ভাল আছেন। আমিও ভাল আছি আল্লাহর রহমতে ।আজকে একটি ভিন্ন ধরনের নতুন পোস্ট নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি। আজকে আমি পোস্ট করছি একটি আর্ট। আজকে আমি আর্ট মেহেদি ডিজাইন। ঈদে আমি কিভাবে এবং কোন ধরনের ডিজাইন আমার হাতে আর্ট করেছিলাম সেটাই আজকে আপনাদের মাঝে শেয়ার করব।আশা করি আপনাদের কাছে আমার আর্ট টি ভালো লাগবে।
প্রথমে আপনাদের সবাইকে জানাই অনেক অনেক ঈদের শুভেচ্ছা। ঈদ মোবারক। ঈদ মানেই চাঁদ রাত আর চাঁদ রাত মানে অনেক হাসি খুশি অনেক মজা এবং হাতে মেহেদি পড়ার একটি সুন্দর মুহূর্ত। ছোটবেলা থেকেই ঈদ মানে হাতে মেহেদি পড়তেই হবে। সেই থেকে মেহেদি প্রতি অনেক আকর্ষণ আর মেহেদি ডিজাইন করতে আমার কাছে অনেক বেশি ভালো লাগে। আমি নিজের হাতে নিজে মেহেদী আর্ট করতে অনেক পছন্দ করি। যদিও প্রতিবছর ঈদে অনেকেই মেহেদি লাগিয়ে দি ঈদের আগের দিন রাতে। সবাইকে নিয়ে লাগিয়ে নিতে আমার কাছে বেশ ভালো লাগে। কিন্তু এ বছরটা একটু ভিন্ন কেটেছে মেহেদি লাগিয়ে দিতে পারেনি কারণ বাড়িতে ছিলাম না। শুধুমাত্র আমার ভাই এবং পাশের বাসার ভাবিকে মেহেদি লাগিয়ে দিয়েছিলাম তারপরও বেশ ভালো লেগেছে।
নিজে মেহেদি লাগানোর কথা আর কি বলবো। ঈদের আগের দিন রাতে ঈদের জন্য বিভিন্ন ধরনের রান্নাবান্নার প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। সেগুলো সেরে তাড়াতাড়ি করে বিছানায় আসলাম একটু মেহেদি লাগিয়ে ঘুমিয়ে পড়বো। তখনই ঘুম থেকে উঠে পরে আরুশ বাবু আর সে ঘুম থেকে ওঠার পর ঘুমিয়ে ছিল রাত দুইটা বাজে। আর এরই মধ্যে আমাদের ঘুমে বেহাল অবস্থা কখন যে ঘুমিয়ে গিয়েছিলাম সেটা নিজেও বুঝতে পারেনি। এরপর পরদিন সকালবেলা অর্থাৎ ঈদের দিন বিভিন্ন ধরনের কাজকর্ম বিভিন্ন জায়গায় ঘুরাঘুরি এসব নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম মেহেদি লাগানোর সময় পায়নি। রাতের বেলা ভেবেছিলাম একটু মেহেদি লাগাবো কিন্তু আগের দিন রাতে যেহেতু বেশি ঘুমোতে পারিনি সেজন্য আর ঈদের দিন রাতে মেহেদি লাগাতে পারিনি। আজকে দুপুরবেলা আরুশ বাবুকে ঘুম পাড়িয়ে বসেছি মেহেদি লাগাতে। একটু লাগানোর পরে সে ঘুম থেকে উঠে পরে এখন অর্ধেক লাগানো মেহেদী নিয়ে পড়লাম বিপদে। কি আর করবো তাকে পাশে বসিয়ে এটা ওটা খেলা দিয়ে মেহেদি লাগানোর একটু চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু কিছুক্ষণ পরপরই সে এসে আমার হাত থেকে মেহেদি টা টেনে নিয়ে চলে যায়। এভাবেই অনেক কষ্ট করেই মেহেদী ডিজাইনটা করেছিলাম। তাহলে চলুন আজকে মেহেদী ডিজাইনটা দেখা যাক।
আর্টের বিবরণ:-
•মেহেদি
ধাপ:-১
প্রথমে আমি ছোট ছোট দুইটা ফুল একসাথে আর্ট করলাম মেহেদি দিয়ে।
ধাপ:-২
এরপর আমি হাতের নিচের দিকে মেহেদি দিয়ে বড় বড় দুইটা বক্স আর্ট করে সেই বক্সের ভিতরে অনেকগুলো ফুলের ডিজাইন যোগ করলাম।
ধাপ:-৩
এরপর বক্সগুলোর আশেপাশে দুই সাইডেই আমি অনেকগুলো ছোট ছোট ফুল এবং পাতার ডিজাইন করেছি। উপরের দিকে একটা ডিজাইন করলাম।
ধাপ:-৪
ডিজাইনটির পাশে আমি আরো কয়েকটি পাতা আর্ট করেছি এবং হাতের অন্য সাইডে আমি অনেকগুলো ছোট ছোট ফুল করেছি।
ধাপ:-৫
ফুলগুলোর পাশে আরো কিছু পাতার ডিজাইন করলাম এবং সাথেই একটা বক্সের ডিজাইন করেছি।
ধাপ:-৬
এরপর সাথে আমি আরো কিছু ডিজাইন যোগ করলাম এবং একটা আঙ্গুলের মধ্যে পুরো ডিজাইন করে নিলাম।
ধাপ:-৭
আরে একই ভাবে আমি বাকি আঙুলগুলোর মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন কিছু ডিজাইন আর্ট করেছি।
শেষ ধাপ:-
এভাবে আমি মেহেদি ডিজাইন দিয়ে আর্ট শেষ করলাম। আশা করছি আমার আজকের এই ঈদের মেহেদী ডিজাইনটি আপনাদের কাছে ভালো লাগবে।
শ্রেণী | আর্ট |
---|---|
আর্টিস্ট | @fasoniya |
ডিভাইস | Vivo Y15s |
লোকেশন | বাংলাদেশ |
আমার পরিচয়
আমার নাম ফারজানা আক্তার সোনিয়া। আমি বাংলাদেশী।আমি বর্তমানে লেখাপড়া করি আমি একজন স্টুডেন্ট। আমি আর্ট করতে ভালোবাসি আর যখনই সময় পাই তখনই আর্ট করি। আমি ফটোগ্রাফি করতে খুবই ভালোবাসি । যখনই কোথাও খুব সুন্দর কিছু আমার চোখে পড়ে আমি ফটোগ্রাফি করে ফেলি। এছাড়াও আমি ক্রাফট তৈরি করে থাকি । বিভিন্ন ধরনের রান্না করে থাকি রান্না করতে অনেক পছন্দ করি। আমি আমার পরিবারের সবচেয়ে বড় মেয়ে । আমার ছোট ছোট দুইটা ভাই আছে। আমার অনেক স্বপ্ন রয়েছে যেগুলো স্টিমিট এ কাজ করে পূরণ করতে চাই।
বেশ কষ্ট করে মেহেদী আর্ট করেছেন দেখছি আপু। সবাই ঈদের আগের দিন মেহেদী পড়ে আপনি দেখছি নানান ব্যস্ততার কারণে ঈদের দিন মেহেদী পড়েছেন। ছোট বাচ্চা থাকলে আরো অসুবিধা। যাইহোক আপু শেষমেষ আপনি মেহেদী পড়তে পেরেছেন এটাই অনেক। মেহেদী আর্ট কিন্তু চমৎকার হয়েছে। অনেকটা সময় লেগেছে দেখে মনে হচ্ছে। ধাপে ধাপে খুব সুন্দর করে দেখালেন। আপনার মেহেদী আর্ট ভালো লাগলো আপু। সুন্দর করে শেয়ার করে নেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।।
ঈদে কম বেশি সবাই হাতে মেহেদি দেয়। আপনি নিজের হাতে খুব সুন্দর মেহেদী দিয়েছেন। খুবই ভালো লাগলো আপনার আজকের মেহেদী ডিজাইন দেখে। দারুন ছিল আপনার আজকের মেহেদি ডিজাইন টা। এত সুন্দর একটা মেহেদি ডিজাইন শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।